রাজকন্যার স্বপ্নে রাজপুত্র -(পর্ব-১)

জামান সাহেব আজ খুব খুশি অফিস থেকে দুদিনের ছুটি নিয়েছেন সকাল থেকে ঘরের সকল কাজ কর্ম নিজ হাতে করছেন।জান্নাত এখনো ঘুমাচ্ছে জামান রুমে গিয়ে কয়েকবার উঁকি মেরে দেখে আসছে। ডাকে নাই জান্নাত ঘুমাক রান্না শেষ হলে খেতে ডাকবো,নার্স পাশের রুমে টিভি দেখতে ব্যস্ত। বসে থাকতে কার ভালো লাগে বলেন তাই বেচারীকে ছেড়ে দিয়েছি থাকুক নিজের মতো করে।জান্নাতের সেবার জন্য গত দু-মাস ধরে একজন নার্স নিয়োগ দিয়েছি সেই জান্নাতের সর্বক্ষনিকের সঙ্গী।বেসিন থেকে যাচ্ছিল দেয়ালে টানানো ছবিটা দেখে জামান নিজের অজান্তে হেসে দিল পরের প্রথম দিনের ছবি। বিয়েতে খুব আনন্দ হয়েছিলো আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধব আজ সবই স্মৃতি যদিও বিয়েটা প্রেমের ছিলো। তারপরও দু পরিবারকে মানিয়ে জামান বিয়েটা করেছিলো,ওরা দুজনেই সুখি। জামান হাতের কাজ শেষ করেছে রান্নাও প্রায় শেষ, ডালটা বাকি মাথাটা ঝিমুচ্ছে এক কাপ চা হলে মন্দ হয়না।

দু কাপ চা করে সোজা জান্নাতের রুমে গেল জানু জান্নাতকে ভালোবেসেই সংক্ষিপ্ত জানু ডাকা। চেয়ারটা টেনে জান্নাতের পাশে বসল আলতু করে মাথায় হাত বুলাল ওঠ সকাল হয়ে গেছে।জান্নাত চোখ খুলল জানালার ফাঁক দিয়ে সকালের সোনা রোদ লুকিয়ে রুমে ঢুকে পড়ছে জান্নাত ওঠে বসল।আস্তে জানু তুমি কি ভুলে গেছ তোমার মাঝে আরেকজন আছে সে ব্যাথা পাবে তো। না ভুলি নাই গো সোনা অনেক বেলা হয়ে গেছে তুমি আমায় ডাকলে না কেন.? জানু টেনশন করো না আগে চা টা খেয়ে বলো কেমন হলো। জান্নাত চায়ের কাপটা হাতে নেয় চুমুত দিয়ে বলে চিনি কম হয়েছে, জামানের মুখটা কালো হয়ে যায়। আজকের চা আমি বানালান চিনি কম হয়ে গেল বলেই মন খারাপ করলো।আরে পাগল তুমি ছুঁয়ে দিলে তো সব মিষ্টি হয়ে যায় আমি মজা করলাম সত্যি চা ভালো হয়েছে।

জামান মনে তৃপ্তি নিয়ে চোখে মুখে হাসিতে বললো যাক চা টা ভালো হয়েছে,আই লাভ ইউ জানু। লাভ ইউ টু জান্নাতের হৃদয় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেল।চা শেষ করে চল ড্রাইনিং টেবিলে তোমার জন্য সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে।ওয়াও তাই নাকি! হ্যাঁ যাও ফ্রেশ হয়ে টেবিলে আস আমি যাচ্ছি। নার্স জ্বী স্যার আপনি জান্নাতকে ওয়াশরুমে নিয়ে যান আমি টেবিলে খাবার সাজাতে গেলাম।জামান ক্যালেন্ডার দেখলো আজ আগস্ট মাসের ১৫তারিখ আর দেরি নেই তার আসার সময় হয়ে গেছে। আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট অনুযায়ী আগামী ১৭ আগস্ট সে আসবে আর তার জন্যই আমাদের এত অপেক্ষা।

ভাবতে ভাবতে জামান টেবিলে খাবার সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে স্যার মেম আসছে বলেই নার্স পিচনে দাঁড়াল।হ্যাঁ আপনিও আসুন আমরা সবাই একসাথে খাব বললো জামান।সৌজন্যবোধ থেকে বললো নাহ্ স্যার আপনারা খেয়ে নিন আমি পরে খাব বলে নার্স ড্রয়িং রুমের দিকে চলে যায়।পাগলি বসো বলেই জামান চেয়ারে বসিয়ে দিল, জানু সব তো আমার পছন্দের খাবার। হ্যাঁ আমার পাগলির জন্যই আজ রান্না করলাম তুমি ঘুমাচ্ছো তাই ডাকি নাই।বুঝতে পারছি জানু। পাগলি চল আজ আমি তোমাকে ভাত খাইয়ে দিব, জামান একটা প্লেট নিল ভাত, রুই মাছের ভাজি নিল।

জান্নাতের পাশের চেয়ারে জামান বসল, তুমি আগে মুখে খাবার নেও আমি পরে খাব বললো জান্নাত।না পাগলি তুমি খাও পরে আমি খাব বলেই জান্নাতের মুখে খাবার তুলে দিতে হাত বাড়াল। তখনি জামানের মোবাইলটা বেজে ওঠল,, এই সকাল বেলায় কে ফোন দিল।যাও রিসিভ করে দেখ কে ফোন দিল আমি পরে খাব বললো জান্নাত। ওকে আমি আসছি বলেই জামান মোবাইলটা রিসিভ করে হ্যালো বললো…হ্যালো আমি ঢাকা থেকে ডিপিও মাহমুদুল হাসান বলছি।

জ্বী স্যার আসসালামু আলাইকুম।

কুশল বিনিময় করে সামান্য কিছু কথা হলো, ডিপিও সাহেব জামানের প্রশংসায় পঞ্চমূখ।সৎ ভদ্র অফিসার হিসাবে তাকে সবাই চিনে কিন্তু সততার কারনে যোগ্যতা থাকা সর্তেও প্রমোশন হচ্ছে না।

আমি আপনার সম্পর্ক অনেক কিছু জানি সত্যি এই যুগে এত সৎ মানুষ আছে আমি জানতাম না।আপনার কথা শোনার পর কথা বলার ইচ্ছে হয়েছিলো আজ কথা বলে খুশি হলাম। জ্বী স্যার আমি ১টাকাও ঘুষ নেই না যতটা সম্ভব বিনা পয়সায় যেকোন অফিসিয়াল কাজ করে দেই।আমি সবটা জানি জামান সাহেব অবশ্যই এক কাপ চা পান করার দাওয়াত রইল।ওকে স্যার, আমার পরিবারে নতুন মেহমান আসার অপেক্ষা করছি সে সুস্থ ভাবে আসুন পরে ঢাকা যাব। আপনার সাথে দেখা করে আসবো ইনশাল্লাহ্, রাখছি স্যার আসসালামু আলাইকুম।

জান্নাত জানতে চাইল কে কল দিয়েছিলো, জামান বললো আমাদের ডিপাটমেন্টে নতুন একজন ডিপিও আসছেন। ওনি আমার সততা সম্পর্কে জেনেছেন,আমি ঘুষ নেই না তাই শ্রদ্ধাবোধ থেকে মুগ্ধ হয়ে কল করেছেন।ও আচ্ছা।

আস তোমাকে খাইয়ে দেই, জামান, জান্নাত দুজনেই গল্প করতে করতে খাওয়া শেষ করলো। মাকে একটু কল দেও কথা বলবো বললো জান্নাত,আরে পাগলি রাতেই তো মায়ের সাথে ১ ঘন্টা কথা বললে। এখন আবার কি কথা বলবে পাগলি, জান্নাত হেসে বললো আমার মা দুজন। রাতে তো আম্মুর সাথে বললাম তিনি আমার গর্ভধারীনি মা, আজ বলবো শ্বাশুড়ী মায়ের সাথে।বুঝছি শোন শ্বাশুড়ী মায়ের সাথে গতকাল সকালে কথা বলছো আমার মনে আছে বলেই জামান হাসলো।শোন মা মেয়ের কথা জীবনেও শেষ হয় না তুমি আগে কল দেও, জামান মাকে কল দেয়।

হ্যালো বউমা তোমার শরীর কেমন আছে.?মা আমি ভালো,আপনি কেমন আছেন?ভালো আছি বউমা।আপনি আজকেই ময়মনসিংহে আসুন আগামীকাল আমি ক্লিনিকে ভর্তি হব মা আপনি ছাড়া আমার ভালো লাগছে না।শ্বাশুড়ী খুশিতে বললো আমি বিকালে আসবো মা, জামানকে দাও,নেন কথা বলুন।বাবা সত্যি আমি ভাগ্য করে এমন একটা মেয়ে পেয়েছি জান্নাত আমার বউমা না আমার মেয়ে বলেই মুগ্ধতার হাসি ছড়ালো।জামান খুশিতে বললো মা তোমার ছেলে তাহলে মানুষ চিনতে ভুল করে নাই! না রে বাবা। সত্যি আমার বউমা খুব ভালো পরিবারের মেয়ে তাই সে এত ভালো হয়েছে।

জান্নাত নতুন মেহমানের জন্য নকশি কাঁথা তৈরি করেছে এপর্যন্ত ৫ টি সব গুলোই চমৎকার। মেম আপনার এত গুন দেখে সত্যি আমি মুগ্ধ,আপনার কুর্শির টুপি,বেবি ফ্রগ,বেবি জুতো সব গুলো সুন্দর। নার্স আমি হাতের সব রকম কাজ পারি এগুলো বাড়তি গুন,আমার সন্তানটা যেন একটু ধর্মীক হয় দোয়া করো। নার্স খুশি হয়ে বললো মেম আমি নার্স জয়েন করেছি প্রায় ৮ বছর আপনি,স্যার এর মতো এত ভালো মানুষ পাইনি।আপনারা দুজন দুজনকে কত….

চলবে।

১৭৮জন ১৪জন
0 Shares

১৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য