May be a black-and-white image of one or more people

ইন্টারভিউ নিতে আমার ভাল লাগে। পেশাগত কারণ তো বটেই, কৌতূহলের শিকার হয়েও আমি ইন্টারভিউ নিই। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে, আমার নেয়া সেইসব ইন্টারভিউ অনেকে আগ্রহ নিয়ে পড়েন। মতামত জানান। আমি সুখী হই। কিন্তু ২০২০ সালে সেই সুখ আমি পাইনি। সে সময় প্রকাশিত হয় আমার প্রথম বই ‘রাউলা’। কাজেই আমাকে ইন্টারভিউ দিতে হচ্ছিল। কি কঠিন সব প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলাম আমি! এখন ভাবলেই গাঁয়ে জ্বর ওঠে যায়। আমি কেমন ইন্টারভিউ দিই―আর্কাইভ থেকে তার একটি নমুনা দেয়া হল। একইসাথে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি কবি সাম্য রাইয়ান ও গ্রন্থগতের প্রতি। তাদের আন্তরিকতার তুলনা হয় না।

―’রাউলা’ আপনার প্রথম কবিতার বই। প্রথমেই অনুভূতি জানতে চাই৷

―আমি আসলে আশপাশের মানুষের অনুভূতি দেখছি। তাদের মধ্যে খুশি-খুশি ভাব। কয়েকজনের আচরণে মনে হল, তারা মা হয়ে গেছেন। যেন বই নয়, পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে। এখন আমাকে দৌড়ে গিয়ে বলতে হবে―মা, মা, আমি ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছি। কিন্তু একটা বইয়ের জন্য তো বাংলা সিনেমার সংলাপ বলা যায় না। মেলোড্রামা হয়ে যায়। আমি তাই ভাবছি―যদি ‘রাউলা’ পৃথিবীর শেষ বই হত, তাহলে হয়ত অন্যরকম একটা অনুভূতি পেতাম।

―প্রকাশনা সংক্রান্ত কোনো জটিলতায় পড়তে হয়েছে?

ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ গল্প-উপন্যাসে প্রচুর এপিগ্রাম লিখেছেন। একটা এপিগ্রাম এরকম― ‘জীবন সহজ নয়, জটিলও নয়। জীবন জীবনের মতই। আমরাই একে সহজ করি, আমরাই একে জটিল করি।’ এই এপিগ্রাম অনেকের পরিচিত। প্রকাশনা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরও এরকম। আমি নতুন করে রিপিট করছি। প্রকাশনা আসলে সহজ নয়, জটিলও নয়। প্রকাশনা প্রকাশনার মত। আমরা একে সহজ করি। আমরাই করি জটিল।

―কবিতাই কেন লিখছেন?

এর তো অনেক কারণ। প্রথমত, আমি কবিতার আসল নাম জানি। ‘আয়েশা আক্তার’। তিনি চুলখোলা রেখে আল মাহমুদের সাথে মক্তবে পড়তে যেতেন। দ্বিতীয়ত, জীবনানন্দ দাশের একটা কবিতা : ‘এইসব ভাল লাগে।’ স্কুল লাইফে থাকতে উইকেটকিপিং করছি―এ সময় কবিতাটা এসে আমার ওপর হামলা চালায়। আমি গুরুতর আহত হই। মাঠের বাইরে গিয়ে পড়ি। খুব সম্ভবত ইংরেজি সাহিত্যের একজন ধুতি পরা অধ্যাপক আমাকে মাঠ থেকে বের করে দিয়েছেন―এটা মেনে নিতে পারিনি। ফলে আমার বইয়ের প্রথম লেখা, যেটা ওয়ান লাইনার মূলত, সেখানে জীবনানন্দ দাশের ক্যামিও আছে। আমি তাকে ‘খাদক কবি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছি।

―আর কিছু?

কবিতা লেখার আসল কারণ হচ্ছে আমি অলস। ‘মৌরি’ নামে আমার একটা কবিতা আছে। রোমান্টিক পোয়েট্রি মূলত। আইডিয়াটা চাইলে ছোটগল্পেও ভরে দিতে পারতাম। তাতে দেড়-দুই হাজার শব্দ লিখতে হত। কিন্তু এত পরিশ্রম কে করে? আমি কবিতায় সাড়ে বারো লাইনে শেষ করে দিয়েছি। এগুলা তো অলসতাই।

―লেখালেখির প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইব।

লেখালেখির প্রস্তুতি বলতে আমি বিকাল পর্যন্ত ঘুমাই। মারজুক রাসেলের একটা কবিতা আছে এরকম : ‘আমাদের সূর্য সন্ধ্যায় উঠে’। আমি চেষ্টা করি সন্ধ্যায় উঠতে। না লিখতে। আমার কাছে একটা বাংলা অভিধান আছে। মাঝে-মধ্যে সেটা বালিশের পাশে রাখি। উল্টাই। নেড়ে-চেড়ে দেখি। উত্তরটা হালকা হয়ে যাচ্ছে। আসলে কন্টেন্ট অনুযায়ী প্রস্তুতি বদলে যায়। এটা স্পেসিফিক বলা সম্ভব না। প্রতিটি লেখা প্রথমবার লেখা হয়। তাই যতদিন ধরেই লিখি না কেন, শেষ পর্যন্ত ভার্জিন থাকছি।

May be an image of one or more people, sky and indoor

―শিল্প না পাঠক, আপনার দায়বদ্ধতা কার কাছে?
ধরুন, রাতে লুঙ্গি পড়ে ঘুমাতে গেছি। সকালে উঠে দেখি লুঙ্গি নেই। এই যে ঘুমের ভেতর লুঙ্গি হারিয়ে যাচ্ছে―এই প্রসেসটাই আমার কাছে আর্ট। এখন ‘তিন পুরুষের লুঙ্গি আমানত শাহ’ আরেকজনের কাছে আর্ট নাও হতে পারে। আর পাঠক অদৃশ্য একটা ব্যাপার। কেউ যখন আমাকে বলে, আপনার ওই লেখাটা পড়েছি। আমি বিশ্বাস করি না। ভেবে নিই, বোকা বানাবার চেষ্টা করছে। লেখকের দায় তার লেখার কাছে। একটা বাজে লেখা লিখতে চাইলে তাকে দেখতে হবে, লেখাটা ঠিকমত বাজে হয়েছে কিনা। যেন কেউ বলার সাহস না পায়, ওই লেখা আমি হলে আরও বাজেভাবে লিখতে পারতাম।

―বাংলাদেশে অধিকাংশ লেখক বইমেলা কেন্দ্র করে বই প্রকাশ করছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

এই প্রশ্নের উত্তর আমার না দেওয়া উচিত। কারণ আমার বইও বইমেলা কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয়েছে। বইমেলার ভাল-খারাপ এবং পশ্চাৎদিক অবশ্যই আছে। আমার কাছে একজন জানতে চেয়েছিলেন এ নিয়ে। আমি খুবই লজ্জা পেয়েছি। তাকে বলেছি―আমার বইটা উইপোকাদের জন্য লেখা। আমি চাই, চার-পাঁচ হাজার বইয়ের মধ্যে অন্তত একটা বই যেন তারা নিজেদের মনে করে খেতে পারে। তাদেরও চিল করার দরকার আছে।

দোহাই : শিরোনাম কবিতা

রাউলা

এই যে, আপনার বিয়েতে আসতে পারিনি, তাই উপহার হিসাবে একটা বাক্স নিয়ে এলাম। এটা দেখে খালি মনে হতে পারে। এটা খালিই—আমি স্রেফ বাতাস ভরে দিয়েছিলাম। আপনি চাইলে এখানে যা খুশি রাখতে পারেন। চাইলে স্বাধীনতা পেয়ে একটা প্রশ্নও ছুড়ে দিতে পারেন: যাকে বিয়ের দাওয়াত দেয়া হয়নি, সে কীভাবে আপনার বিয়েতে আসবে? খাবে-দাবে, ছবি তুলবে? ম্যাস কমিউনিকেশনে এগুলাকে বলা হয় হিউম্যান ইন্টারেস্ট; তাই আগেই জেনে রাখুন—দাওয়াত ছাড়াও বিয়ে, খতনা এসব অনুষ্ঠানে যাওয়া যায়। না হলে, আপনি যে পৃথিবীতে এসেছেন, কেউ কি আপনাকে দাওয়াত দিয়ে এনেছিল?

 

 

১৩১জন ৩৭জন
26 Shares

৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য