রাইটার্স ব্লক

আরজু মুক্তা ২২ মে ২০২১, শনিবার, ০২:২২:৩৮অপরাহ্ন সমসাময়িক ২৪ মন্তব্য

লেখালেখি নির্জনতা দাবী করে। মহামারীর কারণে বাধ্যতামূলক বিচ্ছিন্নতার দিনগুলো স্বর্ণলিপি মোড়ানো থাকার কথা ছিলো। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে তা হয়নি। এখন আমরা সৃজনশীলতার সাথে যুক্ত না হয়ে সারা পৃথিবীতে কী হচ্ছে তাই ব্রেন শুধু বুঝতে চাচ্ছে,  বিষয়টা অদ্ভুত।

আপনি একজন লেখক অথচ লেখার জন্য কোন টপিক মাথায় আসছে না। তাহলে,  আপনি রাইটার্স ব্লকে পড়েছেন।

রাইটার্স ব্লক কি?  রাইটার্স ব্লক হলো লেখা সম্পর্কিত কোন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে না আসতে পারা, লেখার কোনো গতি খুৃঁজে না পাওয়া, চরিত্রের গড়ন দিতে ব্যর্থ হওয়া, লেখার সংগতি হারানো। রাইটার্স ব্লক এর বাংলা অর্থ ” লেখকের বন্ধ্যাত্ব “। ১৯৪০ এর দশকে আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী এডমন্ড বার্গলার প্রথম রাইটার্স ব্লক শব্দ দুটি ব্যবহার করেন।

বিভিন্ন উপায়ে আমরা এই ব্লক কাটাতে পারি। যেমন :

১)  ঠাণ্ডা পানি পান করা : পরীক্ষায় দেখা গেছে যে মানব শরীরের মাত্র ১ শতাংশ পানি শূন্যতা তার সৃষ্টিশীল কার্যক্রম ও উৎপাদনশীলতাকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। সুতরাং চটজলদি বরফ শীতল পানি পান করি আর লেখা শুরু করি।

২)  একটু হেঁটে আসা : নিজেকে খুব চাপ না দিয়ে বরং খোলা হাওয়ায় খানিকটা হেঁটে আসা ভালো। ২০ মিনিট হাঁটলে মানুষের শরীরের রক্ত চলাচল বা অন্যান্য জিনিসগুলো সেই পর্যায়ে যায় যেমন সে কর্মক্ষম থাকলে হয়। এতে কিন্তু ক্লান্তি তৈরি হয় না।

৩)  ব্রেক নেয়া : আমরা অনেকক্ষণ ধরে যখন কোন কাজ করি একটা নির্ধারিত সময় পর পর আমাদের মস্তিষ্ক ধীর হতে পারে। একঘেয়েমি লাগে। তাই ব্রেক নেয়া উচিত। এতে মস্তিষ্ক নতুন উদ্যমে চিন্তা করে শব্দ বা ছন্দ খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।

৪) সৃজনশীল কাজ করা : লিখতে না পারলে ছবি আঁকা, বাথরুমে কল ছেড়ে গান গাওয়া, নতুন নতুন রান্না শেখা, বাগান করা, মেডিটেশন শেখা, ব্যায়াম করা অর্থাৎ নিজের যা ভালো লাগে তাই করা।

৫) প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকা : প্রযুক্তি আমাদের অলস এবং অন্য কাজে মনোযোগী করে তোলে। তাই কিছুদিন এসব থেকে দূরে থাকলে  আবার নব উদ্যমে কাজে ফেরা যায়।

৬ )  প্রতিদিন সময় দিন : নিয়মিত লেখার মানোন্নয়নে লেখার অভাস বাড়ান। নির্দিষ্ট সময়ে লিখুন। আগে কী লিখছিলেন তাতে একটু চোখ বুলিয়ে আসুন। এতে করে লেখার গোছানো ভাব আসবে। লেখাটা গ্রগণযোগ্য হবে।

৭) ব্রেইন স্টর্মিং : সবচেয়ে সহজ ও প্রাথমিক উপায় এটি। মাথায় যা আসছে সেই আইডিয়া খাতায় টুকে রাখা। নিজের ধারণাগুলো মোটামুটি ক্রমানুসারে বা এলোমেলো করে লেখা। তারপর সময় পেলে স্তরে স্তরে সাজিয়ে লিখলেই হলো।

৮)  খুঁটিনাটি ধারণা যোগ : এ পর্যায়ে নতুন নতুবা আইডিয়া যোগ করবেন অথবা পুরানোগুলো ছেটে ফেলবেন। ছোট ছোট অনুচ্ছেদ করে ছোট ছোট নামও দিতে পারেন।  এরপর সুযোগ বুঝে এগুলো বিস্তৃতি করবেন। দেখবেন একটা দারুণ লেখা দাঁড়িয়েছে।

৯ ) পড়ার প্রতি মনোযোগ বাড়ান : পড়ার বইগুলো গুছিয়ে নেন। আপনি যে বিষয়ের উপর লিখবেন তার প্রাসঙ্গিক বইগুলো তালিকা করে মিলিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। তা উপন্যাস হোক, গল্প হোক বা কবিতা।

১০)  পড়াশোনার সময় বেছে নেন : প্রতিদিন কাজকর্মের সময় জেনে নিজের অবসর বেছে নেন।আবার মন যেনো ভালো থাকে তাও খেয়াল করুন। সেই সময় বই পড়ুন। যতটুকু সময় থাকেন না কেনো ; মনোযোগ দিয়ে বই পড়ুন। এতে লেখার গতিশীলতা বাড়বে। নতুন আইডিয়াও মাথায় আসবে।

”  Discipline allows magic. To be a writer is to be the very bent of assassins. You do not sit down and write everyday if force the muse to show up, you get in to the habit of writing everyday “—– Lilies St Crow.

১১)  ইতিবাচক চিন্তা : ইতিবাচক চিন্তা বা আশাবাদী চিন্তা ভাবনাগুলোকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশযোগ্য করে। তাই ইতিবাচক চিন্তা নিজের সমস্যাগুলোকে দূর করার মানসিকতা তৈরি করে দেয়। সনস্যার সমাধান খুঁজে নিজে নিজে লিখতে পারেন। এটাও ভাবেন। আস্তে আস্তে লেখার খসড়া তৈরি করেন এবং বাস্তবে রূপ দেন। নিশ্চয় আপনি সফলতা পাবেন।

রাইটার্স ব্লক এড়িয়ে চলার জন্য গ্যাব্রিয়েল গারসিয়া মার্কোস বলেছেন, ” তাড়াহুড়ো করে শেষ করার দরকার নাই। আপনি খেলছেন আপনমনে। এমন ভাবে লিখে যান। তবেই সমস্যা হবে না।”

আবার, ফকনোর বলেছেন,  ” লেখা তো আধ্যাত্মিক কিছু না। যে আজ পারবো। কাল পারবো না। এটা একটা টেকনিক। সেই টেকনিকটা রপ্ত করেন। দেখবেন আপনার কোন সমস্যা নাই। ”

তাহলে, আমরা নিজের সমস্যা বের করে উপরোক্ত নিয়ম, যেটা যার কাজে লাগবে, তা মেনে লেখা শুরু করি। সাথে থাক ধোঁয়া ওঠা কফি,  বিভিন্ন রং এর কলম, নীল কাগজ বা রাইটিং প্যাড আর গান বাজুক ” মোর ভাবনারে কে হাওয়ায় মাতালো, দোলে মন দোলে অকারণ হরষে। ” আর না হলে চলুন সেই গানটার মতো একটু হারিয়ে যাই, ” কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা, মনে মনে। মেলে দিলেম গানের সুরে এই ডানা।” তো মন ভালো হলে লিখা চলবে লেখার গতিতে।

 

 

তথ্যসুত্র : বিভিন্ন পত্রিকা আর আমার মনো জগত।

৫৫০জন ১৯৮জন
80 Shares

২৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য