রাঁড়ি আত্মার বাড়ি

মুহম্মদ মাসুদ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, ০৯:৫৬:১৬পূর্বাহ্ন অণুগল্প ১৪ মন্তব্য

 

‘খালাম্মা, আপনি!’
‘হ, আমি। হাঁটতে হাঁটতে চলে আইলাম’
‘ভালো করছেন। আইজকা গরীবের ঘরে খাইয়া তারপর যাইবেন’
মধ্যরাত থেকেই পেটের ক্ষুধায় ভুগছে শেষ বয়সী বৃদ্ধা। ভেবেছিলেন সকাল হলেই ছোট ছেলের বউ খাবার দিয়ে যাবে। কিন্তু…। অপেক্ষায় থাকতে থাকতে দুপুর অবধি পানি খেয়েই ছিলেন। শেষমেশ কোন কুল-কিনারা না দেখে বাড়ির বুয়ার বাসায় যাওয়া।
বৃদ্ধার দুই ছেলে।
বড় ছেলের চালের ব্যাবসা বেশ জমজমাট। গ্রামের কয়েকটি পুকুরও লিজ নেওয়া আছে। আয় রোজগারের দরজা বেশ উন্নত।
ছোট ছেলে জজকোর্টের সরকারি চাকুরিজীবী। মাস গেলেই ভুঁড়ি ভুঁড়ি টাকা-কড়ি। বউয়ের শরীর ভর্তি গহনা শাড়ি।
‘খালাম্মা, আপনি! কতোদিন পরে আয়লেন।’
‘হ, আইলাম। তোর পোলাডারে দেখতে মন চায়’
‘তাইলে আইজকা আমার পোলার ঘরে খাইয়া যাইবেন’
বৃদ্ধা মনে মনে খুবই আবেগাপ্লুত। চোখের গোড়ায় অশ্রু ফোঁটা গুলো টলমল করছিলো। এ বুকের ব্যথা বহুদিনের। যেদিন প্রিয় মানুষ না ফেরার তাগিদে অন্যত্র বসবাস শুরু করেছে।
বছরের কয়েকটি মাস বৃদ্ধার কাছে অসহ্য যন্ত্রণার হা-হুতাশ রোদে পুড়া গরম ঢেউটিনের মতো। পা পড়লেই ছেদ করে ফোসকা পরে যাবে। যে ফোসকার গহীনে শত শত আক্ষেপ, শত শত অনুতাপের খন্ড চিত্র ভাসে।
বর্ষপঞ্জি ক্যালেন্ডারের কয়েকটি তারিখ বৃদ্ধার মুখস্থ। জানুয়ারি ৩১, মার্চের ৩১, মে ৩১, জুলাই ৩১, আগষ্টের ৩১, অক্টোবর ৩১ আর ডিসেম্বরের ৩১।
ফেব্রুয়ারীর ২৯ তারিখ…।

৩৭৭জন ২৯৪জন
5 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য