রম্য: আমি VS পোষা-প্রাণীর ইতি কথা

মিজভী বাপ্পা ১০ এপ্রিল ২০২০, শুক্রবার, ০১:১৩:৩০অপরাহ্ন রম্য ২১ মন্তব্য

 

প্রিয় ব্লগবাসী, বাসায় তো আমরা অনেকেই শখের বসে অনেক কিছুই প্রতিপালন করি। সে কুকুর, বিড়াল, পাখি, কবুতর ইত্যাদি যাই হোক না কেন। তবে আমার ক্ষেত্রে পুরো চিত্রটাই ভিন্ন। যাই হোক সে ভিন্নতাই আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি।

ঘটনা ১ (স্কুল লাইফ): বহুকাল আগে বানর দেখিয়া মনের ভিতরে ফুড়ুৎ কইরা শখ জাগলো যে একটা বানর পাললে খারাপ হয় না। একটা সঙ্গী পাওয়া যাইবো। যাক বাবা রে বললাম, একটা বানর নিয়ে পাললে কেমন হয়?

বাবাঃ তোরে পালতাছি তাই অনেক, ঘরে দুইটা বানর পালার কোন যুক্তিকতা আমি দেখি না। এইটা আমার বাসা কোন চিড়িয়াখানা না বুঝতে পারসস বান্দর।
আমিঃ এ কৈমন বিচার!!! হে আমার মমতাময়ী মা, তোমার কাছে বিচার দিলাম।
মাঃ তোর বাবা ঠিকই কইছে, ঠিকই তো তুই সারাদিন যে বানদড়াঁমি করোস, উল্টা তোরে খাঁচায় ভইরা রাখা দরকার।
আমিঃ স্পিকারের উপ্রে যদি কিছু থাকে ঐটা হইয়া গেছিলাম।

যাক সেই থিক্কাই বানর পালার ইচ্ছা বাদ।

ঘটনা ২ (কলেজ লাইফ): অনেক কাল আগে আরে ডাইনাসোর যুগে না আর কি, যখন টিভি তে vodafone এড আসতো তখন ঐখানে পাগ প্রজাতীর কুকুর দিয়ে এড দিয়েছিলো। তখন থেকে মনে ধরছিলো একটা পাগ পালুম। কয়েকবার পশু-পাখি বিক্রয়ের দোকানে ঢুঁ ও দিছি। যদি দাম শুনিয়া হালকার উপ্রে ঝাপসা ইস্টুক করছিলাম। যাক গেলাম আমার বাবার কাছে আকুল আবেদন নিয়া, বাবা আমি একটা কুকুর পালতে চাই বলার পর,

বাবাঃ (কিছুক্ষণ কি জানি চিন্তা করার পর) কি চালাইতে চাস?
আমিঃ আরে চালামু কে কইলো, কইছি পালতে চাই?
বাবাঃ তুই আবার কি পালতে চাস? আমি তোরে পালতাছি তাই অনেক।
আমিঃ একটা পাগ পালতে চাই।
বাবাঃ পাগ কি?
আমিঃ এইটা কুকুরের আরেকটা প্রজাতি।(তৎকালীন প্রস্তর যুগে আছিলাম। ঢাকায় ২জি নেট ও খুবই কষ্ট কইরা পাইতো)
বাবাঃ কুকুরেরও এত জাত আছে নাকি? এইটা কি কুকুরের নাম নাকি কুকুরের মাসতুতো/জেঠাতো কোন প্রজাতি?
আমিঃ ঐটাই যা ভাবো আর কি!!! তা আমারে একটা কিনা দেও না বাবা।
বাবাঃ (টিভি তে এড দেখানোর পর) আমারে পেট শপে নিয়া গেলো। দাম এবং ওদের লালন পালনের সব নিয়ম জানার পর আমারে কইলো, “হয় বাসায় তুই থাকবি নইলে কুত্তা থাকবো, আমি দুইটার খরচ বহন করতে পারুম না।”
আমিঃ থাক লাগবো না কুত্তা, বাসায় চলো কালকে আমার কলেজে ক্লাশ টেস্ট আছে।
বাবাঃ আর যদি কোন দিন কইসস, তাইলে তোর একদিন কি আমার একদিন!!!

যাক কুকুর পালার চিন্তাও বাদ।

ঘটনা ৩ (বর্তমান লাইফ): বিগত কয়েকমাস আগে, এক বড় ভাইয়ের বাসায় গেছিলাম। গিয়া দেখি উনার বাসায় তিনটা বিড়াল। তা তিনটার নাম রাখছে মিনি, সোনাই আর রুপাই। আমি এগুলা মনে রাখতে না পাইরা, থ্রী ইডিয়স মুভির কথা চিন্তা কইরা নাম দিয়া দিলামঃ কিলোবাইট (এইটার পিঠের দিক কালা), মেগাবাইট, গিগাবাইট (এইটা একটু বড় ছিলো)। যদিও কিছুক্ষণ পর নিজেই গুলাইয়া ফালাইছিলাম কার নাম কি দিছিলাম| কারণ এই গুলা যে পুংটার পুংটা ছিলো, আমি নিজেই গুলাই ফেলছি কার নাম কি ছিলো। তাই পরে আর নাম দেই নাই।

তা আমার ঐ সন্মানিত বড় ভাই আমারে বিড়াল পালা নিয়া অনেক জ্ঞান প্রদান করলো, যা আমার মাথার উপ্রে দিয়া গেলো। তবে বিড়াল গুলা ওয়েল ট্রেইনড আছিলো। কি বলে পটি না হাগু ট্রেনিং ও দেয়া, এইগুলার খাওয়া খাদ্যের দাম শুইনা আমি আবারো হালকার উপ্রে ঝাপসা ইস্টুক করছিলাম। আমি তো মনে করছিলাম বিড়াল মাছ আর দুধ দিলেই খুশি। কিন্তু এইগুলা ও যে ডিজুস হইয়া গেছে জানা ছিলো না। বিড়ালের জন্য নাকি আবার স্যুপ, ক্যাট ফুড ও আছে। আমি নিজেরে কই আমি কোন জগৎ তে বাস করি। বিড়ালের জন্য কত কিছু বাহির হইয়া গেলো, আর আমি তো কিছুই জানি না। এখন মনে হয়, গাধার আপডেট ভার্সনের খেতাব পামু আমি।

অতঃপর একদিন অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় বাবার কাছে বললাম,

আমিঃ বাবা, বিড়াল কি পালা ঠিক?
বাবাঃ ঠিক বেঠিক এর কি আছে?
আমিঃ না গতকাল ভাইয়ের বাসায় তিনটা বিড়াল দেখলাম তো। ভালোই আছে। বাচ্চা বিড়াল আর কি, তিড়িং-বিড়িং করে (সরাসরি বলতাছি না যে বিড়াল পালুম, যদি কই তাইলে আমারে রাস্তাতেই দৌঁড়ানি দিতো)
বাবাঃ ভালো, তা দেখসস ঠিকাছে। ঐ সব পালার কোন কাজ নাই। বাসায় মাছ, দুধ কিছুই রাখবো না। ক্ষুধা লাগলে নিজের মনে কইরা সব খাইয়া ফালাইবো। ও কাউরে কিছু জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন মনে করবো না।
আমিঃ না, দেখলাম ভাই স্যুপ খাওয়াইলো। মাছ ও খাওয়াইলো।
বাবাঃ (খানিক তাস্কিত হইয়া) হুমম খাওয়াতে পারে, তাতে তোর সমস্যা কই? তুই ও না হয় একটু টেস্ট কইরা দেখতি, বলদ কোনহানকার।
আমিঃ না এমনিই কইলাম আর কি?
বাবাঃ চুপ থাক। অফিসের কাজ তো ঠিকমত করস না। এখন আইছে বিড়ালের উপরে বিচার বিশ্লেষণ করতে। বাসায় গিয়া কাজের রিপোর্ট গুলা আমারে দিবি। নইলে আজকে তোর খানা-পিনা বন্ধ।
আমিঃ হালার কপাল রে!!! বিড়ালের লিগা আজকে আমার ওভারটাইম করা লাগবো।

তাই চিন্তা করছি আর কোন দিন কোন কিছু পালার কথা বাসায় কমু না। কারণ যদি কই তাইলে আমারে যে পালতেছে তাই বন্ধ কইরা দিবো।

বিঃদ্রঃ বাসায় থাকা পোষা প্রাণীরা তো যত্নে থাকেই। তবে বাহিরে যে কুকুর-বিড়াল গুলো থাকে তাদেরও যত্নের দায়িত্ব আমাদেরই। অনুগ্রহ করে আমরা যে যতটা পারি ওদের এই দুর্দিনে খাবার দেয়ার চেষ্টা করবো। সব কিছু বন্ধ থাকার কারণে হয়ত বা ঠিকমত খেতে পারছে না। দিন শেষে এই অবুঝ প্রাণী গুলো কিছু খাবারের আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনে।

১৫৯জন ৫৫জন
20 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য