বিজয়ের মাস চলছে । লাল সবুজের এই পতাকার জন্য ১৯৭১ সনে এক সাগর রক্ত দিতে হয়েছিল আমাদের। শুধু মাত্র দেশ মাতাকে মুক্ত করার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিল এই দেশের দামাল ছেলেরা। বাবা মা ভাই বোন স্ত্রীর ভালোবাসার টানকে উপেক্ষা করে ঝাঁপিয়ে পরেছিল যুদ্ধে।রণাঙ্গন থেকে মুক্তিযোদ্ধারা চিঠি দিয়েছেন তাঁদের প্রিয় জনকে। চিঠিতে যুদ্ধের অবস্থা , মুক্তিযোদ্ধাদের দেশের প্রতি ভালবাসা স্পর্শ করে যায় আমাদের ।

মুক্তিযোদ্ধাদের এমন চিঠি প্রকাশ করেছে প্রথম আলোর প্রকাশনী প্রথমা । সুন্দর এই ঐতিহাসিক বইটির মুল্য ৩০০ টাকা।

তারিখ: ২৭/০৬/১৯৭১ ইং

মা,

আমার শত সহস্র সালাম ও কদমবুসি গ্রহণ করিবেন। আব্বার কাছেও তদ্রুপ রহিল। এতদিনে নিশ্চয় আপনারা আমার জন্য খুবই চিন্তিত। আমি আল্লাহর রহমতে ও আপনাদের দোয়ায় বাংলাদেশের যেকোনো এক স্থানে আছি। আমি এই মাসের ২০ হইতে ২৫ তারিখের মধ্যেই বাংলাদেশে আসিয়াছি। যাক, বাংলাদেশে আসিয়া আপনাদের সাথে দেখা করিতে পারিলাম না। আমাদের নানাবাড়ির ও বাড়ির খবরাখবর নিম্নের ঠিকানায় লিখিবেন। আমি বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য আসিয়াছি। আশা করি বাংলায় স্বাধীনতা আসিলেই আমি আপনাদের কোলে ফিরিয়া আসিব। আশা করি মেয়াভাই ও নাছির ভাই এবং আমাদের স্বজন বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত। যাক, বর্তমানে আমি ময়মনসিংহ আছি। এখান হইতে আজই অন্য জায়গায় চলিয়া যাইব। দোয়া করিবেন।

পরিশেষে

আপনার স্নেহমুগ্ধ

ফারুক।

জয় বাংলা

চিঠি লেখক: শহীদ ওমর ফারুক। ভোলা জেলার সদর উপজেলার চরকালী গ্রামের আনোয়ারা বেগম ও আবদুল ওদুদ পন্ডিতের পুত্র। ১৯৭১ সালের অক্টোবরে গাইবান্ধার দনান্দিনায় সংঘটিত যুদ্ধে তিনি শহীদ হন।

চিঠি প্রাপক: মা আনোয়ারা বেগম, গ্রাম: চরকালী, সদর উপজেলা, জেলা: ভোলা।

চিঠিটি পাঠিয়েছেন: জহুরুল কাইয়ুম, থানাপাড়া, গাইবান্ধা ও মাহমুদ আল ইসলাম, স্টালিং ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ৬৬/১ নূর প্যালেস, ঢাকা ক্যান্ট, ঢাকা- ১২০৬।

 

১৩ আষাঢ় ১৩৭৮

মহৎপুর

০১/০৭/১৯৭১

প্রিয় ফজিলা,

আমার অফুরন্ত ভালোবাসা নিয়ো। আমার এই চিঠির ওপর নির্ভর করছে তোমার আগামী দিনের (সুখ ও দুঃখ)। এই চিঠি পড়ে দুঃখ পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ জন্ম ও মৃত্যু মানুষের হাতে নয়, এটা পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার হাতে। তার নির্দেশ ব্যতীত দুনিয়ার কোনো কাজ হতে পারে না। একটা পা তুললে সে (মানে করুণাময় আল্লাহ) যতক্ষণ পর্যন্ত পা ফেলার হুকুম না দেবে ততক্ষণ কারোর ক্ষমতা নেই পা ফেলে। তাই বলছি দুঃখ করো না যে পরিস্থিতি, কখন কার মৃত্যু হয় কেউ বলতে পারে না। আমি কখন কোথায় থাকব, আমি নিজে বলতে পারি না। তাই বলছি ‘আল্লাহ যদি আমার মরণ লিখে থাকে, হয়তো কোথায় কীভাবে মরণ হবে কারুর সঙ্গে দেখা হবে না, কিছু বলতেও পারব না। মনে দুঃখ থাকবে তাই আগে থেকেই লিখে যাচ্ছি। এটা পড়ে কেদোঁ না। এই লিখছি বলে যে সত্যি সত্যি মরব তা তো নয়! যদি মরি তবে তো বলতে পারব না সেই জন্য লিখলাম। যদি মরি আমার দেওয়ার মতো কিছু নেই। আছে একটু ভালোবাসা আর একটু আশীর্বাদ আর ক-বিঘা জমি। আগেও বলেছি এখনো বলছি, ইচ্ছা যা-ই হোক, কারোর যুক্তি শুনে এক কাঠা জমি বিক্রি কোরো না। যদি কেউ বলে, ওখান থেকে বেচে এখানে ভালো জমি কিনে দেব, খুব সাবধান, তা করেছ কি মরেছ। আমি যদি মরি আমি দেখতে আসব না, সুখে আছ না দুঃখে আছ। তাই আমার আদেশ নয়, অনুরোধ করছি বারবার। আমার কথাগুলো গুনো। কারোর কথা শুনে কোনো কাজ করো না, তাই যতই ভালো কাজ হোক না কেন, তাতে দুঃখ পাবে, তখন আমার কথা মনে হবে। বাচ্চাটা বুকে নিয়ে থেকো, সুখে থাকবে। কারোর কথা শুনে কোনো কাজ করলে জমি তোমার থাকবে না। তখন কেউ দেখতে পারবে না। যে মেয়ের স্বামী মরে যায় বা নেয় না, তার বাপ- ভাই আত্মীয়স্বজন কেউ ভালো চোখে দেখে না। তাই যত আদুরে হোক না, এটা মেয়েদের অভিশাপ বেশি বলতে হবে না, পাশে অনেক প্রমাণ আছে। জমিজমা ও জিনিসপত্র থাকলে সবাই যতন করবে, তোমার পায়ের জুতো খুলে গতি হবে না। তাই বারবার অনুরোধ করছি জিনিসপত্র যা এর-ওর বাড়ি আছে, ভাই জানে, ভাইয়ের সঙ্গে সব বলা আছে। বাপের বাড়ি হোক আর (….) হোক, যেখানে হোক থেকো (…..) বেশি দিন থেকো, তোমার দেখো সবাই যত্ন করবে, তবে আমি যা বলেছি মনে রেখো। মেয়েটাকে মানুষ করো। লেখাপড়া শিখাও। মামণি যখন যা চায় তখন সেটা দেবার চেষ্টা করো। তুমি তো জানো যে একটা মেয়ে হওয়ার আমার কত আশা ছিল, আল্লাহ আমার আশা পূরণ করেছে। হয়তো নিজ হাতে সেভাবে মানুষ করতে পারব না, তবু আমার আশা আছে, তুমি যদি আমার কথা শোন তবে তুমি সেভাবে মানুষ করতে পারবে। আশা করে মামণির জন্য দোলনা করেছিলাম। দোলনায় বোধহয় মামণির দোলা হলো না। বড় আশা করে হারমোনিয়াম কিনেছিলাম মামণিকে গান শেখাব, হারমনিটা নষ্ট কোরো না, তুমি শিখাও। তোমার কানেরটা- মামণিকে দেব বলে তোমার কানেরটা করলাম, মামণির সেটা তো ডাকাতরা নিয়ে গেছে। আমার আশা আশাই থেকে গেল, আশা বোধহয় পূরণ হবে না। তাই আমার আশা তুমি পূরণ করো। আর কী লিখব, সত্যি যদি মরি আমায় ঋণমুক্ত করো। তোমার কাছে যে ঋণ আছে হয়তো শোধ করতে পারব না। হয়তো সে (….) কষ্ট পাব বা আল্লাহতাআলার কাছে দায়ী থাকব, যদি পারো মন চায় শোধ করে নিয়ো বা মুক্ত করে দিয়ো। আর কিছু লিখলাম না।

ইতি তোমার স্বামী

গোলাম রহমান

মহৎপুর, খুলনা।

চিঠি লেখক: মুক্তিযোদ্ধা মো: গোলাম রহমান।

ঠিকানা: গ্রাম: মহৎপুর, ডাক: ওবায়দুরনগর, উপজেলা: কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা।

চিঠি প্রাপক: স্ত্রী ফজিলা।

চিঠিটি পাঠিয়েছেন: গোলাম রহমানের ছেলে আসলামুজ্জামান।

 

তারিখ: ০৭/০৭/১৯৭১

শ্রী হেমন্দ্র দাস পুরকায়স্থ

শ্রদ্ধাস্পদেষু,

আপনাদের খবর অনেক দিন পাইনি। বাঁশতলা ক্যাম্প দেখার পর সেই ছেলেদের মুখগুলো সামনেই চোখের ওপর ভাসছে। তাদের মধ্যে যে সাহস, শৃঙ্খলা ও উদ্দীপনা দেখেছি তা আমার জীবনে এক নতুন ইঙ্গিত বয়ে এনেছে। কত লোকের কাছে যে সে কাহিনী বলেছি তা বলার নয়। তাদের কিছু জিনিস দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু শুনছি তারা শিগরিই ুড়ঁঃয পধসঢ়- এ চলে আসবে এবং সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ করা হবে। তাই আমাকে সেগুলো জোগাড় করতে মানা করা হলো।

আমি ক্যাম্পের মেয়েদের জন্য কিছু শাড়ি সংগ্রহ করেছি। আপনি প্রয়োজনমতো তা বিলি করার ব্যবস্থা করে দেবেন। কাকিমার জন্য একখানা লালপাড় শাড়ি পাঠালাম- তিনি যেন তা ব্যবহার করেন। বাচ্চাদের জন্য সামান্য কিছু কাপড়- জামা পাঠালাম। অল্প ওষুধ ও ফিনাইল পাঠালাম, আশা করি কাজে লাগবে। আমি সেলা ক্যাম্পে যাবার পর বালাট, ডাউকী, উমলারেম (আমলারেং) প্রভৃতি ক্যাম্পে ঘুরছি।

অবস্থা দুর্দশার চরম সীমায়, খালি মুক্তিবাহিনীর ছেলেরাই অন্ধকারে আশার আলো বয়ে আনে। ভগবান তাদের স্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবন দিন- এই প্রার্থনা জানাই।

আপনার শরীর কেমন আছে? কাকিমা কেমন আছেন? ক্যাম্পের ও মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা কেমন আছে? আজ এখানেই শেষ করি।

আপনারা আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম নেবেন।

ইতি

অঞ্জলি

পথের ধারের বাড়ী

 

১৫ জুলাই, ১৯৭১

মা,

পথ চলতে গিয়ে ক্ষণিকের বিশ্রামস্থল রাস্তার ধারের এ বাড়ি তোমায় চিঠি লিখতে সাহায্য করছে। বাড়ি থেকে আসার পর এই প্রথম তোমায় লিখার সুযোগ পেলাম। এর পূর্বে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কাগজ, কলম, মন ও সময় একীভূত করতে পারিনি। টিনের চালাঘরে বসে আছি। বাইরে ভীষণ বৃষ্টি হচ্ছে। ঘুটঘুটে অন্ধকার সর্বত্র প্রকৃতির একটা চাপা আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে টিনের ওপর বৃষ্টি পড়ার শব্দে শব্দে। মাগো, আজ মনে পড়ছে বিদায়বেলায় তোমার হাসিমুখ। সাদা ধবধবে শাড়িটায় বেশ মানিয়েছিল তোমায়। বর্ষার সকাল। আকাশে খন্ড খন্ড সাদা মেঘের ভেলা ভাসছিল। মেঘের ফাঁকে সেদিনকার পূর্ব দিগন্তের সূর্যটা বেশ লাল মনে হয়েছিল। সেদিন কি মনে হয়েছিল জানো মা, অসংখ্য রক্তবীজের লাল উত্তপ্ত রক্তে ছেয়ে গেছে সূর্যটা। ওর এক একটা কিরণচ্ছটা পৃথিবীতে জন্ম দিয়েছে এক একটি বাঙালি। অগ্নিশপথে বলীয়ান, স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত। মাগো, তোমার কোলে জন্মে আমি গর্বিত। শহীদের রক্ত রাঙা পথে তোমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেকে তুমি এগিয়ে দিয়েছ। ক্ষণিকের জন্যও তোমার বুক কাঁপেনি, স্নেহের বন্ধন দেশমাতৃকার ডাককে উপেক্ষা করতে পারেনি। বরং তুমিই আমাকে মুক্তিবাহিনীতে যোগদানের জন্য প্রেরণা দিয়েছ। দেশকে ভালোবাসতে শিখিযেছ। মা, তুমি শুনে খুশি হবে তোমারই মতো অসংখ্য জননী তাঁদের স্নেহ ও ভালোবাসর সম্পদ পুত্র- সন্তান, স্বামী, আত্মীয়, ঘরবাড়ি সর্বস্থ হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়নি, বরং ইস্পাতকঠিন মনোবল নিয়ে আজ অগ্নিশপথে বলীয়ান। মাগো, বাংলার প্রতিটি জননী কি তাদের ছেলেকে দেশের তরে দান করতে পারে না? পারে না এ দেশের মা- বোনেরা ছেলে ও ভাইদের পাশে এসে দাঁড়াতে? মা তুমিতো একদিন বলেছিলে, ‘সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন এ দেশের মায়ের কোলের শিশুরা মা-বাবার কাছে বিস্কুট-চকলেট চাইবে না জেনো, চাইবে রিভলবার পিস্তল।’ সেদিনের আশায় পথ চেয়ে আছে দেশের প্রতিটি সন্তান। যেদিন বাংলার স্বাধীনতা সূর্যে প্রতিফলিত হবে অধিকারবঞ্চিত, শোষিত, নিপীড়িত বুভুক্ষ সাড়ে সাত কোটি জাগ্রত বাঙালির আশা, আকাঙ্খা। যে মনোবল নিয়ে প্রথম তোমা থেকে বিদায় নিয়েছিলাম তা আজ শতগুণে বেড়ে গেছে, মা। রক্তের প্রবাহে আজ খুনের নেশা টগবগিয়ে ফুটছে। এ শুধু আমার নয়, প্রতিটি বাঙালি পাঞ্জাবি হানাদার লাল কুত্তাদের দেখলে খুনের নেশায় মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। তাই তো বাংলার প্রতিটি আনাচ-কানাচে এক মহাশক্তি ও দুর্জয় শপথে বলীয়ান মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা অনেক বেড়ে গেছে। তোমাদের এ অবুঝ শিশুগুলিই আজ হানাদার বাহিনীকে চরম আঘাত হানছে। পান করছে হানাদার পশুশক্তির রক্ত। ওরা মানুষ হত্যা করে। আমরা পশু (ওদের) হত্যা করছি। এই তো সেদিন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ জেলার সদর দক্ষিণ মহকুমার কোনো এক মুক্ত এলাকায় ভালুকাতে (থানা) প্রবেশ করতে গিয়ে হানাদার বাহিনী মুক্তিবাহিনীর বীর যোদ্ধাদের হাতে চরম মার খেয়েছে। মা, তোমার ছোট্ট ছেলে বিপ্লবের হাতেই লেগে আছে বেশ কয়টা পশুর রক্ত। এমনি করে বাংলার প্রতিটি আনাচ-কানাচে মার খাচ্ছে ওরা। মাত্র শুরু। যুদ্ধনীতি ওদের নেই, তাই বাংলার নিরীহ অস্ত্রহীন কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-শিক্ষক, বৃদ্ধ, শিশু ও নারীর ওপর হত্যাকান্ডের মই চালাচ্ছে। এ হত্যাকান্ড ভিয়েতনামের একাধিক ‘মাইলাইয়ের’ হত্যাকান্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ওরা পশু। পশুত্বের কাহিনী শুনবে, মা? তবে শোনো। শত্রুকবলিত কোনো এক এলকায় আমার এক ধর্ষিতা বোনকে দেখেছিলাম নিজের চোখে। ডেকেছিলাম বোনকে। সাড়া দেয়নি। সে মৃত। সম্পূর্ণ বিবস্ত্র দেহে পাশবিক অত্যাচারের চিহ্ন শরীরের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে। বাংলার শিশু ছিল তার গর্ভে। কিন্তু তবু পাঞ্জাবি পশুর হায়না কামদৃষ্টি থেকে সে রেহাই পায়নি। সে মরেছে কিন্তু একটা পশুকেও হত্যা করেছে। গর্বিত, স্তব্ধ, মূঢ় ও কঠিন হয়েছিলাম। আজ অসংখ্য ভাই ও বোনের তাজা রক্তকে সামনে রেখে পথ চলছি আমরা। মাগো, বাংলাদেশে হানাদার বাহিনীর এমন অত্যাচারের কাহিনী শুনে ও দেখে কি কোনো জননী তার ছেলেকে প্রতিশোধের দীক্ষা না দিয়ে স্নেহের বন্ধনে নিজের কাছে আটকে রাখতে পারে? পারে না। প্রতিটি জননীই আজ তাঁর ছেলেকে দেবে মুক্তিবাহিনীতে, যাতে রক্তের প্রতিশোধ, নারী নির্যাতনের প্রতিশোধ শুধু রক্তেই নেওয়া যায়। মা, আমার ছোট্ট ভাই তীতু ও বোন প্রীতিকে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও। পারবে না আমাদের তিন ভাই-বোনকে ছেড়ে একা থাকলে? মা, মাগো। দুটি পায়ে পড়ি, মা। তোমার ছেলে ও মেয়েকে দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে ঘরে আটকে রেখো না। ছেড়ে দাও স্বাধীনাতার উত্তপ্ত রক্তপথে। শহীদ হবে, অমর হবে, গাজী হয়ে তোমারই কোলে ফিরে আসবে, মা। মাগো, জয়ী আমরা হবই। দোয়া রেখো।

জয় বাংলা।

ইতি

তোমারই ‘বিপ্লব’

চিঠি লেখক: মুক্তিযোদ্ধা বিপ্লব। চিঠি লেখকের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। মুক্তিযুদ্ধকালে এই চিঠি ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে প্রকাশিত জাগ্রত বাংলায় প্রকাশিত হয়।

চিঠি প্রাপক: মা। তাঁর পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

চিঠিটি পাঠিয়েছেন: ডা: মো: শফিকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক, চক্ষুবিজ্ঞান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

২৫৬জন ২৫৯জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য