জামায়েত ই ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১৯৭১ সনে মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী  কাদের মোল্লার অপরাধের বিচারের রায় ঘোষিত হবে আগামীকাল ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৩। এই রায় বংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । একাত্তরের রাজাকার , আলবদর , আলশামস এর ঘৃণিত নেতাগন ্নর্বাসন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান করে নেয়। একটি রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ মদদে তারা জাতীয় পতাকা তাদের গাড়িতে উড়ানোর সুযোগ পায়। কিন্তু দেশের মানুষের আন্তরিকতার কাছে পরাজিত হয় সব অপশক্তি । এই সব অপ শক্তির বিচার প্রক্রিয়ায় ইতমধ্যে বাচ্চু রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হয়েছে। বাচ্চু রাজাকার বর্তমানে পলাতক । জেলে আটক যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে এই কাদের মোল্লার অপরাধের বিচারের রায় জাতীর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

কাদের মোল্লার নৃশংসতা
তার বিরুদ্ধে একাত্তরে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল প্রকাশিত যুদ্ধাপরাধীর তালিকার শীর্ষে তাঁর নাম রয়েছে। ১৯৯২ সালের একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত গণতদন্ত কমিশন দুই দফায় যে ১৮ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা ও তাদের যুদ্ধাপরাধ প্রকাশ করেছিল, তার মধ্যে আবদুল কাদের মোল্লাও ছিলো।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার মিরপুরে বিহারিদের নিয়ে কাদের মোল্লা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে নেতৃত্ব দেয়। ওই সময় মিরপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ‘জল্লাদ’ ও ‘কসাই’ নামে পরিচিত ছিল সে। স্থানীয় মানুষ জানিয়েছে, শিয়ালবাড়ী, রূপনগরসহ গোটা মিরপুর এলাকায় হাজার হাজার বাঙালি হত্যার প্রধান নায়ক ছিলো কাদের মোল্লা। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে কাদের মোল্লার নেতৃত্বে মিরপুরে বাঙালি হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়।

১৯৯২ সালে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত গণতদন্ত কমিশনের কাছে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের তালতলার বাসিন্দা ফজর আলী (বাবা হানিফ সরদার) জানান, তাঁর ছোট ভাই মিরপুর বাঙলা কলেজের ছাত্র শহীদ পল্লবকে (টুনটুনি) কাদের মোল্লার নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে। সে বছরের ২৯ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর স্থানীয় দালালরা রাজধানীর নবাবপুর থেকে পল্লবকে ধরে মিরপুরে কাদের মোল্লার কাছে নিয়ে আসে। পরে কাদের মোল্লার নির্দেশে তাঁর সহযোগীরা পল্লবকে মিরপুর ১২ নম্বর থেকে ১ নম্বর সেকশন শাহ আলী মাজার পর্যন্ত হাতে দড়ি বেঁধে টেনে নিয়ে যায়। পরে একইভাবে সেখান থেকে মিরপুর ১ নম্বর থেকে ১২ নম্বর সেকশনের ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে গাছের সঙ্গে দুই দিন ঝুলিয়ে রাখা হয় পল্লবকে। এরপর ঘাতকরা তাঁর হাতের আঙুল কেটে ফেলে। পরে কাদের মোল্লা তাঁর সহযোগী আখতার গুণ্ডা ও অন্যদের পল্লবকে গুলি করে মারার নির্দেশ দেয়। এমনকি প্রতিটি গুলির জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছিলো সে । পরে ৫ এপ্রিল ঘাতক আখতার গাছে ঝোলানো পল্লবের বুকে পর পর পাঁচটি গুলি করে। আবদুল কাদের মোল্লা এতটাই বর্বর ছিল যে পল্লবকে গুলি করে হত্যার পর লাশ দুই দিন গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল কেবল মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে। এরপর ঘাতকরা পল্লবের মরদেহ মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনে কালাপানি ঝিলের পাশে আরো সাতজনের সঙ্গে মাটিচাপা দেয়।

একাত্তরে মিরপুরে কাদের মোল্লার যুদ্ধাপরাধের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শহিদুর রহমান চৌধুরী (বাবা মৃত আবদুর রহমান চৌধুরী)। গণতদন্ত কমিশনের কাছে তিনি জানান, একাত্তরের অক্টোবরে কাদের মোল্লার নেতৃত্বেই রাজাকাররা মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের কবি মেহেরুন্নেসাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেখে সিরাজ নামের এক ব্যক্তি এখনো নির্বাক।
শহিদুর রহমান আরো জানান, একাত্তরের ৬ মার্চ মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের গেটের সামনে সাতই মার্চ উপলক্ষে একটি সভা চলছিল। সভায় অংশ নেওয়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে কাদের মোল্লার নেতৃত্বে তাঁর সহযোগীরা ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে তলোয়ার, দা ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র নিয়ে সভার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আহত করে অসংখ্য মানুষকে।

গণতদন্ত কমিশনের কাছে সাক্ষ্যদানকারীরা আরো জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকে কাদের মোল্লা মণিপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের অবাঙালিদের দিয়ে একটি নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী গঠন করেছিলেন। এই বাহিনীই মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে ধরে এনে শিয়ালবাড়ী, রূপনগর, বালুঘাট প্রভৃতি স্থানে গুলি করে নির্বিচারে হত্যা করে।

কাদের মোল্লার নৃশংসতা অংশটুকু এই লিংক থেকে নেয়া হয়েছে।

৪২৩জন ৪২৩জন
0 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ