যুগল-৩

সাবিনা ইয়াসমিন ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, ০৯:২৮:০০অপরাহ্ন গল্প ৩১ মন্তব্য

তরু হাটছে তমালের পিছুপিছু। নিউমার্কেটে গেছে বিশেষ এক কাজে। শপিংয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকায়, তরু কিছু কিনছে না। কারন তমাল। তমালের কাছে ক্রেডিট কার্ড কয়েকটা থাকলেও নগদ টাকা বেশি নেই। আবার তরুর যা পছন্দ ওগুলো ক্রেডিট কার্ডে কেনা যায়না। বিশ-পঞ্চাশ বড়জোড় পাঁচশত টাকা দামের জিনিসগুলোর জন্যে ফুটপাতের দোকানীরা ক্রেডিট মেসিন রাখেনি। কি আর করা! 🙁

– আচ্ছা তরু, তুমি পিছুপিছু হাটছো কেন? আমার টেনশন হয়।
– টেনশনের কি আছে! আমি আসলে তোমার পিছনে হাটি যাতে তোমাকে দেখতে পারি। ভালোমতো খেয়াল রাখতে পারি।
– মানে! পিছনে থেকে দেখবে কেন? আর পিছনে থেকে কিভাবে খেয়াল রাখবে!
– দেখি, তুমি অন্যকোনো মেয়ের দিকে তাকাও কিনা। আবার ভুল করে অন্যকাউকে জান/জানু বলে ফেলো কিনা। এসবতো খেয়াল রাখতেই হয় ;
– হুম, বুঝেছি।

তরু মনেমনে হাসে। ও বলতে পারে না আসল কথাটি। তরু চায় তমাল সব সময় ওর চোখের সামনে থাকুক। একদম চোখের সামনে। পাশে নয়, চোখের আড়ালেতো নয়-ই। 🙂

কাজ শেষ, এবার বাড়ি যেতে হবে। শরতের বৃষ্টি এই আসে এই যায়। হালকা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো হঠাৎ করেই। তমাল দ্রুত রিক্সা খুঁজতে শুরু করলো। রিক্সা আছে অনেক কিন্তু পর্দা নেই। 🙁
এক,দুই,তিন,চার,পাঁচ নাম্বার রিক্সা বাদ দিতে হলো পর্দা না থাকার জন্যে। বরঞ্চ পর্দার কথা জিজ্ঞেস করলেই রিক্সাওয়ালারা এমনভাবে তাকালো, যেনো পর্দাওয়ালা রিক্সা খোঁজা চরম অনৈতিক ব্যাপার 😉

– তরু, ভাবতে পারো বৃষ্টির সময়ে রিক্সাওয়ালারা পর্দা নিয়ে বের হয়না! আবার চাইতে গেলে রেগে যায়! আমরাতো হ্যাজব্যান্ড-ওয়াইফ। পর্দার ভিতরে কোনো অনৈতিক কিছুকি করতে পারি? 😡
– বাদ দাও। ঐযে একজনকে পাওয়া গেছে। চলো ওটায় উঠি।
– উহু, তুমি বুঝতে পারছো না। বৃষ্টির সময়ে পর্দা রাখা খুব জরুরী। সাথে কত দরকারি জিনিস থাকে,ওগুলো ভিঁজে যেতে পারে। আর একটা পর্দার কতোই-বা দাম! এরা যে কেনো রাখেনা।

তরু আবার মনেমনে বলে, ডিয়ার তমাল তুমি আসলেই অদ্ভুদ! ফেসবুকার হলে বুঝতে পর্দার কতো দাম! ৩৭লক্ষ টাকা কি কিছু না! 😀😀

রিক্সায় বসেছে। রিক্সাওয়ালার দেয়া পর্দার বিবরণ না দিলেই না। পর্দাতো নয়, যেনো আস্ত এক তাবু! রিক্সাওয়ালা হয় প্রেমিক নয়তো তালেবান। তার দেয়া পর্দায় তরুর কল্লাটাও ঢেকে গেলো। বেচারী বৃষ্টি ভেজা ঢাকা শহর দেখার আশা বাদ দিয়ে তমালের মুখটাই দেখতে লাগলো। তমালের মুখে তখন কথার পপকর্ন ফুটছে..

– তরু আমরা হানিমুন করতে গেলে কেমন হয়? অন্তত একটা ডেটেতো যেতেই পারি।
– হু পারি। কই নিয়ে যেতে চাও?
– ভাবছি তোমায় নিয়ে পদ্মা-পাড়ি দিবো। তুমিতো কখনো লঞ্চে উঠোনি। লঞ্চেও উঠা হবে আবার বেড়ানোও হবে।
– লঞ্চে উঠিনি এটা জানো, আর সাতার যে পারিনা ওটা ভুলে গেছো? লঞ্চ মাঝ পথে ডুবে গেলে আমার কোনো হদিশ থাকবে?
– আমি আছি না! আমি থাকতে কিসের ভয়?
– ভয়তো সেখানেই। আমাকে বাঁচাতে গিয়ে যদি তুমি ডুবে মরো, তাহলে আমার কি হবে? কিসের আশায় বেঁচে থাকবো? সমুদ্রে জাহাজ ডুবে গেলে বিদেশীরা ওটা নিয়ে মুভি বানায়, আমাদের দেশে লঞ্চ-ডুবি নিয়ে কেউ মুভি বানাবে?
– আচ্ছা, আচ্ছা লঞ্চ বাদ। চলো ট্রেনে চড়ে কোথাও ঘুরে আসি। তোমার ভালো লাগবে।
– তমাল! তুমি এটা ভাবতে পারলে! মনে নেই গতবার ট্রেনে করে ট্রেনিং নিতে যাচ্ছিলাম। তারপর ওয়াসরুমে গিয়ে বিপদে পরেছিলাম। তুমি দরজা ধরে দাঁড়িয়ে না থাকলে কি অবস্থাটাই না হতো! ভাগ্যিস তখন সেলোয়ার না পরে এলাস্টিক এর ডিভাইডার পরেছিলাম। নয়তো সেলোয়ারের ফিতাও তোমারই বেধে দেওয়া লাগতো। 😡😡
– ওহ! স্যরি স্যরি ভুলে গেছিলাম। তাহলে চলো এসি বাসে করে সাগর-পাহাড় দেখে আসি। তুমিতো পাহাড়ে দাঁড়িয়ে সাগর দেখতে ভীষণ পছন্দ করো। না বলো না জানু, এবার রাজি হও প্লিজ 😊

তরু এবার কল্পনায় দেখতে থাকে, তমালের সাথে খুব আনন্দের সাথে পাহাড়ে উঠছে। চুঁড়ায় উঠার পর অবাক নয়নে, মুগ্ধতায় উপভোগ করছে চারদিকের নীলাভ-সবুজ-সজীবতা। কোনো দিকে তার ধ্যান নেই। হঠাৎ তমালের ডাক। কাঁচুমাচু মুখ করে আছে। মুখটা লাল হয়ে আছে। পাশ দিয়ে কয়েকজন টুরিস্ট নেমে যাচ্ছে।
– কি হয়েছে তমাল?
– জানু,, ঐ যে পেস্ট কালারের ড্রেস পরা মেয়েটা..
– হু,দেখেছি। তো?
– ঐ মেয়েটা আমার বুকে কনুই দিয়ে ধাক্কা মেরেছে :/
– কি! ঐ মেয়ে তোমাকে ধাক্কা দিয়েছে মানে? মেয়েরা ছেলেদের টিজ করে নাকি? বানিয়ে বানিয়ে বলছো নাতো?
– সত্যিই ধাক্কা দিয়েছে। তুমিইতো বলো আমি খুব সুন্দর। সুন্দর মেয়েদেরকে যদি বখাটে ছেলেরা উত্যক্ত করতে পারে, তাহলে সুন্দর ছেলেদেরকে লুইচ্চা মেয়েরা টিজ করতে পারে না? জানু, আমি না খুব ব্যাথা পেয়েছি :/

আর তখনই তরুর ভাবনার সুতায় টান লাগে..
– নো নো নো তমাল, পাহাড়ে যাবো না। আর তুমিও এত উপরে চড়তে পারবেনা। অন্যকোনো প্লান করো প্লিজ।
– দেখো জানু, আমি কিচ্ছু জানিনা। আমার হানিমুন চাই। কই যাবে, কিসে যাবে, কিভাবে যাবে সব তুমিই ভেবে ঠিক করো 😡😡

* তমাল ক্ষেপেছে। এবার তরু সিরিয়াস হয়ে ভাবতে শুরু করলো…

ঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁ

পূর্বের পর্ব গুলো পড়তে চাইলেঃ
যুগল–১
যুগল-২

৩০৫জন ৩০৫জন
53 Shares

৩১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য