মোপাইলে

ছাইরাছ হেলাল ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, রবিবার, ০৭:২৭:০৫অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৫২ মন্তব্য

যতখানি গা’য়ে পড়া ভাব নিলে হ্যাংলামি হয় তার সামান্য বাইরে থেকে অনতিদূরবর্তী হয়ে সভয়ে অনুচ্চ কণ্ঠে জানতে চাইলাম, ‘ঢাকা যাচ্ছেন?’ উত্তর পেলাম ‘হুম’, এতে তো হচ্ছে না, উসখুস চেপে রেখে আবার জানতে চাইলাম, কোথায়? এবারে উত্তর ‘পোস্ত’, ইয়ে মানে পোস্ত কী? এবারে রাগি চোখ তুলে তাকিয়ে হাত ইশারায় তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে বিরক্ত না করার ইংগিত দিয়ে পুনঃপুন চাপতে শুরু করে দিলেন, যা তিনি এতক্ষণ ধরে করে আসছিলেন হাসিমাখা মুখে লাগাতার ভাবেই।

ঢাকার পথে যেতে সুপরিসর লঞ্চের কেবিন থেকে হেঁটে ওয়াশ রুমে যাবার পথে একবার দেখি, করিডোরের আলোআঁধারিতে বসে ব্যস্ত ছিলেন, না-না , মধুমেহ নয় যে বারে বারে হেঁটে ও অব্দি যেতে হয়েছে। একবার হাওয়া খেতে দরজায় দাঁড়িয়ে একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি দেখে সামান্য হকচকালাম, রুমে ফিরে এসে ‘ভাবে আছি ভাবে থাকি’ এই ভাব নিয়ে বন্ধুর সাথে উজির- নাজির মেরে মেরে তক্তা বানিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম পেটুক হয়ে।
ঢেকুর তুলে করিডোরে এসে টাস্কি খেলাম, একই জায়গায় একই ভাবে গ্যাঁট হয়ে চেপেই যাচ্ছেন, ভূমণ্ডলে নেই হয়ে। নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে খেয়াল করে বোঝার চেষ্টা করলাম হচ্ছেটা কী!! এভাবে কেউ টেপে!! তার বিস্তর কর্মকাণ্ড দেখে যা বুঝলাম তাতে মনে হলো তিনি কিছু লিখছেন ইঞ্চি তিনেকের মোবাইল ফোনে উজাড় হয়ে উজাড় করে, লেখার ফাঁকে ফাঁকে মনে হলো মেসেজ ও দিচ্ছেন নিচ্ছেন, এটা কি করে সম্ভব ঘুণাক্ষরে ভাবতে পারিনি, এই দেয়াদেয়িতে ও প্রকট আলস্যহীনতা (পারে কেমতে!!)। এই বোঝাবুঝিটাও সহজ ছিল না। অতি ক্ষুদে কী-বোর্ডে পোটকা আঙ্গুল তাল-লয় সহ নিপুন ভাবে নেচে বেড়াচ্ছে এক অতি বিরল ব্যবস্থাপনায়, এবারে আবার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, একটু কথা বলতে পারি? উত্তর এলো–আবার? আমি বলি হ্যাঁ। মৌনতায় সাহস নিয়ে বললাম কী লিখছেন? তড়িৎ উত্তর ব্লগে লিখছি। ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালায় এর মধ্যে এসে পড়লাম!! ভাবছি। ফোন দিয়ে এমন করে বাংলা লেখা যায় এই গতিতে? দেখতেই তো পাচ্ছেন। একই সাথে ঐ এ্যাপ গুলো ও? কেন সমস্যা কী? আপনার কী ফোন এটি? এটি খুব সাধারণ ফাত্রা Walton ফোন। আচ্ছা ব্লগে লিখে কী হয়? বেশ ট্যাকা-টুকা দেয় বুঝি?
এবারে সুপ্রভ চোখে সুবাস ছড়িয়ে সরাসরি তাকিয়ে সুমিষ্ট স্বরে জিজ্ঞেস করলেন ‘আপনি কী করেন?’ বললাম আমি এই লঞ্চের সুকানির এসিস্ট্যান্ট, ও তাই বলুন। যে একখানা কুলোপানা চক্কর ভাবলাম কেষ্টবিষ্টু কেউ হবেন, যান ভাগুন, দূরে গিয়ে …………খান।

কথোপকথন এভাবেই শেষ হতে পারত লেখাটিতে, বলা বাহুল্য তা করা গেল না।
পরে কখনো বলা যাবে পরেরটুকু।

৩৮৮জন ৩৮৮জন
0 Shares

৫২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ