মৈত্রেয়ী দেবীর ন হন্যতে

হালিমা আক্তার ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ১১:২৫:৩৮অপরাহ্ন বুক রিভিউ ১৬ মন্তব্য

বই রিভিউ

বই- না হন্যতে

লেখক – মৈত্রেয়ী দেবী

ন হন্যতে বাঙালি কথা সাহিত্যিক মৈত্রেয়ী দেবী লিখিত একটি আত্মজীবনী মুলক উপন্যাস। উপন্যাসটি লেখা হয় ১৯৭২ সালে। প্রকাশিত ১৯৭৪ সালে। রোমানিয়ার লেখক লিখিত “লা নুই বাঙালীর” প্রতিক্রিয়া জানাতে মৈত্রেয়ী দেবী এ উপন্যাস লেখায় হাত দেন।

মৈত্রেয়ী দেবী ১৯১৪ সালের ০১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। মৈত্রেয়ী দেবীর বাবা প্রফেসর সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তের কাছে অনেক শিক্ষার্থী পড়তে আসতো। এমনি এক শিক্ষার্থী ছিলেন রোমানিয় তরুণ মির্চা। আধুনিক শিক্ষায় অগ্রসর সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত মেয়েকে বিদেশি শিক্ষা গ্রহণের জন্য, তাঁর প্রিয় ছাত্র মির্চার সাথে লেখা পড়ায় উৎসাহ দেন। এক সাথে সময় কাটানোর সুবাদে তাদের মধ্যে অনায়াসে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যদিও মৈত্রেয়ী দেবী জানতো তাদের এ সম্পর্ক কখনো পরিনতি পাবে না। তাদের রক্ষণশীল সমাজ কখনোই মেনে নিবে না। সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত যতই আধুনিক হোন না কেন, এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। তাদের সম্পর্কের কথা যেদিন প্রকাশ পেল। সেদিনই মৈত্রেয়ী দেবীর বাবা তার প্রিয় ছাত্র মির্চাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। যা মির্চার কাছে ছিল অকল্পনীয়। উপন্যাসে দেখা যায় মির্চা ১৯৩৩ সালে “লা নুই বেঙ্গুলি” নামে একটি বই লেখেন।যা ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত হয়।এ বইয়ের বিষয়ে মৈত্রেয়ী দেবী কিছুই জানতেন না। প্রায় চার দশক পর তিনি এ বইটির কথা জানতে পারেন মির্চার এক বন্ধুর মাধ্যমে। এবং এটাও জানতে পারেন, তাদের পবিত্র সম্পর্কে বিকৃত করে তুলে ধরা হয়েছে। তখন তিনি প্রকৃত সত্য তুলে ধরার জন্য “না হন্যতে” লেখায় হাত দেন।এ বই লিখতে যেয়ে ১৯৭২ সালে দাঁড়িয়ে, তিনি বারবার ফিরে যান ১৯৩০ সালের হারিয়ে যাওয়া শৈশবের সেই দিন গুলোতে। উপন্যাসে মৈত্রেয়ী দেবী তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার চিত্র সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন।৪২ বছর যার কথা ভুলে গিয়েছিলেন, তাকে নিয়ে লিখেছেন জীবনের শ্রেষ্ঠ লেখা।এ জন্য ই বইটির নাম দিলেন – ন হন্যতে।

 

২০৩জন ৭৬জন
0 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ