মেঘ

নাসির সারওয়ার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, বুধবার, ০৫:১৮:৪৮অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৬৩ মন্তব্য

“জানালাটা খুলে দাও, আমি মেঘ ছোঁব”। একটু হলেও যে বিমানবালা থতমত খেয়েছে, আমি নিশ্চিত। আলাপচারিতার পরে হাসি মুখে চলে গেলো এবং সাথে সাথেই একটি শুভেচ্ছা পানীয় নিয়ে হাজির। আহা, যুবাকাল!

সে সময়ে উড়োজাহাজের টিকেটে আসন নম্বরটা পাওয়া যেতোনা। ভ্রমণের সময়ে বিমান বন্দর থেকে বোর্ডিং কার্ডের সাথে দেয়া হতো যাত্রীদের পছন্দকে মাথায় রেখে। অনেক মানুষই জানালার পাশে বসতে চাইতো। আমার প্রথম উড়োজাহাজে চড়া অথচ ভাব ছিলো আমিতো ৬ নম্বর বাসের মত নিয়মিত যাত্রী। জানালার সীট না হলে যাবোইনা। প্রযুক্তির ব্যাপ্তি তখন এমন ছিলোনা। বড় একটা স্ক্রিনে মুভি আর দুএকটা গানের নব ই ভরসা। তবে কিছু ম্যাগাজিন পেলাম যা ঢাকার রাস্তায় পাওয়া যেতোনা। একটা বিজ্ঞাপনে একটা পার্কের নাম দেখে চোখ আটকে গেলো।  মালয়েশিয়ার  জেন্টিং হাইল্যান্ড (Genting Highland) যেটা সমতল থেকে প্রায় ৬০০০ ফুট উঁচুতে।  এই উচ্চতায় নিশ্চয়ই মেঘ থাকার কথা। এমন সময় সেই বিমানবালা হাসি মুখে একটা ম্যাগাজিন ধরিয়ে দিলো। “এই জায়গা হয়তো তোমার শখ মেটাতে পারে”। একি বিজ্ঞাপন অন্য আরেকটা ম্যাগাজিন।  আরো একটু জানার চেষ্টা এবং যাবার আকাঙ্ক্ষা পুষে রাখলাম।

অনেকগুলো বছর পরে সেই ক্ষণ আসলো। উত্তেজনায় ভাটি আসেনি এতোটুকুও। এর মধ্যে তথ্যের ভাণ্ডারে প্রাপ্তি জমেছে।  গাড়ীর রাস্তা এড়িয়ে ক্যাবল কার এ যাবার প্রস্তুতি নিয়ে একেবারে টান টান হয়ে হাজির জেন্টিং এ। ক্যাবল কার ষ্টেশনে এসে আমার কিছু একটা হয়েছিলো। সঙ্গী দুজনকে অস্থির দেখেও বুঝিনি সমস্যাটা কী। আপত্তি ছিল ক্যাবল কারে উঠার। অথচ আমি তাদের একটু সাহসও দিলাম না। বলতে তো পারতাম – আরে এতো ডাল ভাত, পাখি পাখি ভাব এই রাইডে। বলা হয়নি নিজের উচ্চতা ভীতি কথা।

মেঘ
মেঘ

আমি দেখছি ছোপ ছোপ মেঘের মাঝে দুটো দড়ি আঁকড়ে অনেকগুলো বাক্সের মত খাঁচা যাওয়া আসা করছে। প্রকৃতির এই মায়াময় সৌন্দর্য দেখার চোখ আমার কোথায়! এতো সুন্দর এই প্রকৃতিতে কত কিছুই না আছে নয়ন জুড়ানোর।
একটা কচ্ছপ ও নাকি তিন’শ বছর অব্দি বেঁচে থাকে!!!
আর মানুষ…!!!!!!

 

৩১২জন ৩১২জন
0 Shares

৬৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য