মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

নিতাই বাবু ২ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, ০৯:৪২:১৯পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩৪ মন্তব্য

আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি, স্বাধীনতাও দেখেছি
জন্ম আমার ১৯৬৩ইং জুনমাসে,
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ সারাদেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ
তা শেষ হয়েছিল নয়মাসে।

আমি তখন খুবই ছোট, ৮ বছরের অবুঝ শিশু
তবুও স্পষ্ট মনে আছে,
পাক-হানাদার বাহিনীর গনহত্যা, জ্বালাও পোড়াও ধর্ষণ
তা ইতিহাসেও লেখা রয়েছে।

তার প্রমাণ আমিও একজন, মুক্তিযুদ্ধ চলছিল যখন
গিয়েছিলাম বাবার সাথে বাজারে,
বেচাকেনা চলছিল তখন, আসলো একদল পাকবাহিনী
এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ছিল বারেবারে।

বাজারে লাগিয়ে দিল আগুন, শুরু হলো রাইফেলের বাড়ি
চলছিল অশ্লীল উর্দু ভাষা,
লাগলো জনতার দৌড়াদৌড়ি, করছিল পালানোর চেষ্টা
ছেড়ে দিয়ে জীবনের আশা।

আমি বাবাকে ধরে কাঁদছিলাম, বাবা দিলেন শান্তনা
তাতেও রক্ষা হলো না,
বাবাকে সহ ধরে ফেললো কয়েকজন, কলেমা বাতাও
বাবা কলেমা পারলো না!

যাঁরা পারলো তাঁদের কিছুই বললো না, ছেড়ে দিলো।
বাবাকে তাঁরা বেঁধে ফেললো,
ওঁরা বাবাকে বেধড়ক মারল, গুলি করার প্রস্তুতি নিলো
বাজারের একপাশে নিয়ে গেল।

আমি তাঁদের পায়ে ধরে বললাম, ছেড়ে দিন বাবাকে
নিদয়া পাকবাহিনীর দয়া হলো,
আমার কান্নায় বাবাকে গুলি করেনি, জোরে লাত্থি মারলো
তারপর বাবাকে ছেড়ে দিলো।

বাবা আর হাঁটতে পারছিল না, তবুও থামছিলাম না,
মা কাঁদছিল আমাদের দেরিতে,
আমাদের দেরি দেখে কেঁদেছিল বড়দি, শান্ত হলো সবাই
আমরা যখন আসলাম বাড়িতে।

মনে পড়ে মনে পড়ে খুব, মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ঘটনা
তা কীভাবে করি বর্ণনা?
প্রাণ বাঁচাতে কত মানুষ ছেড়েছিল বাড়ি, হয়েছে শরনার্থী
ভারত গিয়ে দিয়েছিল ধর্না।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর শুরুতে, পাকবাহিনী নিশ্চিত হলো
তাঁদের হবে না টিকে থাকা,
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর, চারদিকে বিজয়ের জয়ধ্বনী
উড়ল মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পতাকা।

মুক্তির জন্য মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ
ত্রিশ লক্ষ শহীদের জীবনদান,
দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা
সবই ছিল তাঁদেরই অবদান।

৩২৯জন ১৪৪জন
56 Shares

৩৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য