মিষ্টি প্রেমের গল্প – ৪

জিসান শা ইকরাম ১০ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ০৯:৩৮:২০অপরাহ্ন গল্প ৩১ মন্তব্য

ছোট্ট মফস্বল শহরে সৌম্য আর সুবর্ণার বাস। সুবর্ণার শিক্ষক পিতার একসময়ের  ছাত্র ছিলো সৌম্য। মাঝে মাঝে সুবর্ণাদের বাসায় যেত সৌম্য। সুবর্ণা যখন ইন্টারে পড়ে, তখন হঠাৎ সৌম্যর যাওয়াটা বৃদ্ধি পেল সুবর্ণাদের বাসায়৷ স্যারের সাথে বিভিন্ন বিষয় কথা বলতো। সুবর্ণার দায়িত্ব ছিল বাবা আর সৌম্যকে চা বিস্কিট পানি ট্রেতে করে দিয়ে আসা৷

মেয়েদের সিক্সথ সেন্স কাজ করে খুব বেশি। সুবর্ণা এক সময় বুঝে যায় সৌম্যর এত ঘন ঘন বাসায় আসার রহস্য৷ বুঝে যাবার পর থেকে কিছুটা আড়ষ্ট হয়ে যেত সৌম্যর সামনে৷ সুদর্শন সৌম্যর প্রতি ভালোলাগা এবং দুজনে একসময় ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হতে কতদিন লেগেছিল তা এখানের আলোচ্য বিষয় নয়৷

দুজনে বাইরে কথা বলার জন্য রিক্সায় ঘুরত এরা। রিক্সায় পাশাপাশি বসে নিরিবিলি হাইওয়েতে চলার একটি অন্যরকম আনন্দ৷ ভালোলাগার আবেগে দুজনে যেন শূন্যে ভেসে বেড়াত। স্পর্শ বলতে হাতে হাত রাখা, এতেই অনাবিল শান্তি পেত সুবর্ণা। আর সৌম্য? তার ইচ্ছের ডানা প্রসারিত হতে পারত না সুবর্ণার ব্যক্তিত্বের কারণে।

একদিন রিক্সায় চলছে দুজন হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি। রিক্সার হুড উঠানো, রিক্সাওয়ালা পলিথিন বের করে দিলো। হুড তোলা, পর্দা ঘেরা অবস্থায় দুজনে চলবে রিক্সায়? উহু কভি নেই।

সুবর্ণা- এই রিক্সা দাঁড়াও (বলতে পলিথিন হাতে নিল)
সৌম্য- আরে ভিজে যাচ্ছি তো
সুবর্ণা- ভিজলে ভিজব, পর্দা ঘের দেয়া যাবে না।
সৌম্য- এর কোনো মানে হয়? ভিজে সর্দি জ্বর হবে।
সুবর্ণা – হোক, এত ইচ্ছে কেন পর্দা দিতে? বুঝিনা বুঝছো?
সৌম্য আর কথা না বলে রিক্সাওয়ালাকে সামনের একটি দোকানের সামনে দাঁড়াতে বললো। দোকানটি ছিল একটি মুরগীর দোকান৷ মুরগীর জবাই করা রক্ত, বিষ্ঠা ইত্যাদির গন্ধে বমি আসার মত অবস্থা।
সৌম্য – এখানে টেকা যাচ্ছেনা। প্লিজ চলো রিক্সায় উঠি৷
সুবর্ণা – না রিক্সার চেয়ে এখানটাই ভালো।
সৌম্য- এই দুর্গন্ধ রিক্সার চেয়ে ভালো?
সুবর্ণা- হ্যা, হুড তোলা পর্দা ঘেরা রিক্সার চেয়ে এই মুরগির দোকান ভালো।

ঘটনার দুই বছর পরে এদের বিয়ে হয় পারিবারিক ভাবেই। দুজনে একদিন কিছু শপিং করে রিক্সায় ফেরার পথে বৃষ্টি। রিক্সাওয়ালা পলিথিন এগিয়ে দেয় দুজনের দিকে৷ সুবর্ণা বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য পলিথিন দিয়ে ঘের দিচ্ছে রিক্সা। হঠাৎ সৌম্য পলিথিনটা ছোবল দিয়ে নিয়ে,
সৌম্য – এই রিক্সা দাঁড়াও
সুবর্ণা – মানে কি? দাঁড়াবে কেন?
সৌম্য- বৃষ্টির সময় হুড তোলা, পর্দা ঘেরা রিক্সায় চলা নিষেধ আছে।
সুবর্ণা – কে নিষেধ করেছে?
সৌম্য – আমার এক্স লাভার
সুবর্ণা – তোমার কপালে আজ দুঃক্ষ আছে চান্দু, বাসায় চলো।

বাসায় যাবার পরে সৌম্যের কপালে আসলেই দুঃক্ষ জনক কিছু ঘটেছিল কিনা, তা গবেষণার বিষয়।
বিয়ের পরে পনের বছর অতিবাহিত হয়েছে, এখনো সৌম্য মাঝে মাঝে সে ঘটনা নিয়ে খোঁচা দেয়, দুজনের রিক্সায় থাকার চেয়ে মুরগির দোকান ভালো।
শুনে সুবর্ণার মুখে এখনো সেই ইন্টারের প্রেমের আভা চকচক করে.

মিস্টি প্রেমের গল্প – ৩

৩০৪জন ৩৪জন
68 Shares

৩১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ