রক্তে মিরজাফর

ইঞ্জা ১৭ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ০৩:০৮:২৫অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৭ মন্তব্য

খবরঃ স্ত্রীর সম্মান বাঁচাতে গিয়ে বখাটেদের হাতে মার খেলেন ‘প্রধানমন্ত্রী গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত’ মেধাবী একজন শিক্ষক। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম। রাজশাহী শহরের জনবহুল এলাকা সাহেববাজার মনিচত্বরে এ ঘটনা ঘটেছে ১০ আগস্টে।
বিষয়টি সেদিনই নিজের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করেন ভুক্তোভোগী শিক্ষক। ঘটনার সময় সময় আশপাশে মানুষের কাছে সাহায্য চাইলে তারা কোনো সাহায্য না করে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে দেখছিলো বলে জানান তিনি। এমনকি, তিনি সকলের কাছে ‘বাঁচান’ বলে সাহায্য চাইলেও কেউ এগিয়ে আসেনি কিন্তু তিনি এক পর্যায়ে ক্রোধান্বিত হয়ে ‘ ও আমার বউ, গার্লফ্রেন্ড না, কাবীননামা দেখাতে হবে আপনাদের?’ বললে উল্টো বখাটেদের পক্ষ নিয়ে একজন ভিড়ের মধ্য থেকে বলে, ‘হ্যাঁ, কাবীননামা নিয়েই চলাফেরা করতে হবে!’

আপনারা নিশ্চয় ভাবছেন “এ আর এমন কি, এতো হরহামেশাই হচ্ছে”।
হাঁ এমন ঘটনা আমাদের দেশে কম হচ্ছেনা, স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা ভার্সিটিতে ঘুরতে যাওয়া এমন অনেকেই মারধোরের শিকার কম হয়নি, আবার বোন, ভাগনি নিয়েও অনেকে হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
বেশিদিন আগের কথা নয়, এই কয়েক বছর আগেই কক্সবাজারে পুলিশের হাতেই নির্যাতনের শিকার হোন এক নবদম্পতি, পুলিশকে তারা বিবাহিত পরিচয় দিলে উল্টো পুলিশ তাদের কাবিননামা দেখাতে বলে, বুঝুন অবস্থা এখন সকল দম্পতিকে কাবিননামা নিয়ে ঘুরতে হবে।
আমার কথায় বলি, বিয়ের পর প্রথম হানিমুনে গেলাম আমরা দুজন, সাথে আমার বড় আপা, দুলাভাই, ফিরে আসার পথে রাত হয়ে যাওয়াতে ঢাকার সুন্দরবন হোটেলে গিয়ে রুম চাইলে তারা জানতে চাই সাথে কাবিননামা আছে কিনা, থাকলে তারা রুম দেবে, রাগ করে বের হয়ে এসে হোটেল পূর্বাণীতে উঠেছিলাম।

মাঝে মাঝে ভাবনায় আসে কেন এই দেশে পড়ে রয়েছি, এক সময় অসংখ্য অপর্চুনিটি থাকার পরেও ইটালি, লন্ডন, প্যারিসে বসত গাড়িনি, এখন আফসোস হয় কেন এই মিরজাফরের দেশে, রাজাকারে ভর্তি দেশে বসবাস করছি, পরে ভাবি আরেহ আমিও তো তাদেরই একজন, এই মিরজাফরদের রক্ত তো আমার দেহেও বয়ে চলেছে, শুধু কি আমার দেহেই বয়ে চলেছে মিরজাফরের রক্ত?
আরেহ না, এই বাংলার প্রতিটি মানুষের শিরাই শিরাই বয়ে চলেছে মিরজাফর আর রাজাকারের রক্ত, হয়ত আপনাদের রাগ হতে পারে আমার এই কথাতে কিন্তু প্রমাণ হিসাবে আমি উপরিউক্ত ঘটনা প্রবাহ সহ আরও অনেক ঘটনায় প্রমাণ হিসাবে তুলে ধরতে পারি।
যেমন ধরুন আমাদের জাতিয় পিতার কথায় বলি, যার কারণে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, যাকে ছাড়া এই দেশ স্বাধীন হওয়ার চিন্তাই করতে পারতোনা, সেই দেশের কিছু কুলাঙ্গার স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মাথায় গুলি করে মেরে ফেলে জাতির পিতাকে, শুধু উনাকে?
নাহ উনার গুষ্টি সুদ্ধই মেরে ফেলে, এরপরের ইতিহাস আরও লজ্জার, ওরা আর ওদের বংশধরেরা ইতিহাস বিকৃত করে সেই মহান পিতা আর উনার বংশকে নিয়ে না না মিথ্যা বানোয়াট কথা ছড়িয়ে দিতে লাগলো, আরও আশ্চর্যের বিষয় ওরা একটি দেশের জাতির পিতা এবং তার পরিবারকে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছে, কোথায় এই দেশের মানুষ ঐ সব কুত্তাদের চিড়ে কুড়ে ফেলবে, কোথায় পুরা দেশের মানুষ বিদ্রোহী হয়ে উঠবে কিন্তু তা না করে তারা সবাই সবার ঘরে গিয়ে লুকালো।
এই জন্যই বলি এই দেশের প্রতিটি মানুষই মিরজাফর, প্রতিটি মানুষই রাজাকার।

দুঃখজনক ভাবে এই মানুষ প্রতিবাদ করতে জানেনা, যা জানে তা হলো অন্যের পিটে ছুড়ি মারা, নিজ স্বার্থে ভাই ভাইকে, ছেলে বাপকে মারছে, কিন্তু আপনি বিপদে পড়েছেন তো কেউই এগিয়ে আসবেনা, আসবেনা তো আসবেনা, উল্টা তারিয়ে তারিয়ে দেখবে তামশা, হায়েনার মতো হি হি হা হা হু হু করে হাসবে, পারলে ওরাও বিপদে পড়া মানুষকে মারবে, যেমন বাড্ডার রেণুকে মেরেছিলো, মেরেছিলো বান্দরবনের, চট্টগ্রাম বন্দরটিলার সেই মাদেরকে, সাথে আরও অসংখ্য নিরীহ মানুষকে গণধোলাই দিয়ে মেরেছিলো এই বাংলার মিরজাফর আর রাজাকারের বাচ্চারা।
ওদের রক্তে মিরজাফর আর রাজাকার বসবাস করে বলেই ওরা পারে নিরীহ মানুষকে নির্দ্বিধায় খুন করতে, পারে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধাকে ধর্ষণ ও খুন করতে।

শুধু সাধারণ মানুষের কথা কেন বলি, আমাদের রাজনীতিবিদরাও কম কিসে, ওদের রক্তও নির্মল নয়।
নির্মল নয় বলেই তো ডেঙ্গুতে এতো মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পরও ওরা নির্লজ্জের মতো কথা বলে, কেউ বলে ডেঙ্গু বলে কিছুই নেই, এ শুধু গুজব।
আরেকজন বলে আমি নতুন এসেছি, আমি কিচ্ছুই জানিনা।
আমরা যখন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মরছি, বাবা হারাচ্ছে তার সন্তানকে, স্বামী হারাচ্ছে তার স্ত্রীকে, সন্তান হারাচ্ছে তার পিতা মাতাকে, তখন এই দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী যান ফ্যামিলি নিয়ে আনন্দময় ট্রিপে।
আবার আরেক মন্ত্রী বলেন, দেশে উন্নয়ন হচ্ছে বলেই ডেঙ্গু হচ্ছে, এ দেশের উন্নতির লক্ষণ।
তাহলে বুঝুন কেন আমি বলছি আমরা মিরজাফর আর রাজাকারের বংশধর, কারণ এই মন্ত্রী, মেয়রগণও তো এই দেশেরই সন্তান, এরা এই কারণেই নির্লজ্জ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি ইনাদের শাস্তি দিয়ে দল থেকে বের করে দেয়, উনারা দেখবেন সুর সুর করে অন্য দলে যোগ দেবে, নাহয় নিজেরাই দল গঠন করবে, কতজনকেই না দেখলাম, এ শুধু রক্তেরই দোষ।

আমরা যদি মিরজাফরের বংশধর না হতাম তাহলে এই দেশের প্রতি, মানুষের প্রতি আমাদের মায়া দয়া থাকতো, ডাক্তার কসাইয়ের মতো বলতে পারতোনা, “এতো টাকা খরচা করে ডাক্তারি পড়েছি তোদের থেকে টাকা কম নেওয়ার জন্য না”।
দেশের প্রতিটি সরকারি দপ্তরে টপ টু বটম সবাই ঘুষ বাণিজ্য করে, রক্তে দোষ আছে বলেই ওরা ঘুষ খায়।
পুলিশ তো আরও এক কাটি বাড়া, ওরা তো পাঁচ দশ টাকাও ঘুষ খায়।
ছাত্রনেতারা তো আরও ডেঞ্জারাস, যেন এরাই এই দেশের মায় বাপ।
বুঝুন তাহলে কেন বলছি আমাদের রক্তে দোষ আছে?
যদি প্রমাণ করতে চান আপনার রক্তে দোষ নেই তাহলে তার আগে মানুষের কল্যানে নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কাজ শুরু করুন, দেখবেন এই রক্তের দোষ দ্রুতই বিদায় নিয়েছে।

সমাপ্ত।

২২১জন ৩৩জন
78 Shares

২৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন