এটা দুঃখজনক যে বঙ্গের মুসলমানেরা বিশ্বাস করতেন তাদের পূর্বপুরুষ এ দেশীয় কেউ নন, সুদূর ইরান-তুরানের আরামপ্রিয় ও শিক্ষিত শেখ বংশীয়। কিন্তু ইতিহাস পাঠ করলে আমরা দেখি যে এদের পূর্বপুরুষ বঙ্গের অশিক্ষিত ও নিম্নশ্রেণীর মানুষেরা যারা হিন্দু ধর্মাবলম্বী শাসকদের অত্যাচার সইতে না পেরে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। সে যাই হোক, বংশসূত্র খুঁজতে গিয়ে বঙ্গের মুসলমানদের একাংশ উপলব্ধি করলেন যে বাংলা বর্ণমালা তাদের বর্ণমালা হতে পারে না কারণ বাংলা লিপি এসেছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে যা কিনা স্রষ্টা ব্রহ্মা’র উপহার হিশেবে ধরা হতো। ব্রাহ্মী লিপি থেকে আসা বর্ণমালায় লেখালেখি করলে তাদের ধর্ম যেতে পারে- এ ধারণা সিলেট অঞ্চলের মুসলমানেরা তৈরি করেন নতুন এক লিপি, সিলটি নাগরী লিপি। মূলত বাংলা বর্ণমালার অনুকরণে তৈরি এই লিপি ছিল সিলেটি ভাষার ফোনেটিক অনুসরণে তৈরি, তাই বেশ কিছু স্বরবর্ণ ও ব্যাঞ্জনবর্ণ এতে ছিল না (য্যামন : ঈ, ঊ, ঞ, ঙ, য়, জ, শ, ষ, ঢ়, ী, ূ, ণ ইত্যাদি)। বাংলা লিপি’র প্রতি অবহেলা অথবা যাই হোক, সেটা থেকে তারা নতুন এক লিপি তৈরি করেছিলেন যা সিলেট অঞ্চল তো বটেই, বাংলা ভাষা, উপভাষা ও বাংলার ইতিহাস-শিক্ষা-সংস্কৃতি সমৃদ্ধ করেছে।

কয়েকবছর আগেও সিলেটের কয়েকটি দোকানের সাইনবোর্ড সিলটি নাগরী লিপিতে লেখা ছিল। বেশ কিছু পুঁথি, বইও পাওয়া যাবে এই লিপিতে। এখানে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত সিলটি নাগরী লিপির পাশাপাশি বাংলা লিপিতে লেখা স্ন্যাপশট দ্যাখাচ্ছি :

সিলটি নাগরী লিপি’র নমুনা
৫৪৮জন ৫৪৮জন
6 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ