সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

মা…….পর্ব-২ //

বন্যা লিপি ৩ এপ্রিল ২০২০, শুক্রবার, ০৮:০১:৪০অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৪ মন্তব্য

মা…..
নিজ ভাবনা থেকে–পর্ব ২//

নজর লাগে কেমন করে বা নজর লাগলে কি ক্ষতি হয় জানার আগ্রহের চেয়ে, নজর ফিরিয়ে নেই বিনাবাক্যব্যয়ে। সন্তানের মঙ্গল কামনায়। আঙুল ছুঁয়ে থাকি, পায়ের দিকে তাকাই, লেপ্টানো ঘনকালো চুলগুলোর তাকিয়ে থাকি, পিট পিট করা চোখদুটোর কাঁপন দেখে অসম্ভব রকম অনুভূতির প্রকাশে ঠোঁটের কোনে হাসি ঝুলিয়ে মহান স্রষ্টার দরবারে কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনদিন পরে জানতে পেরেছিলাম আম্মা’র আর্তচিৎকারের কারন। দীর্ঘ সময় কষ্টভোগ করার কারনে মেয়ে প্রায় অর্ধমৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছে। মহান স্রষ্টার রহমত আর নাসিমা খালার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৫/২০ মিনিট পরে কন্যা আমার নিঃশ্বাস নিয়ে কেঁদে উঠেছে। আব্বা এবং মেজো চাচা ভোর রাতে গিয়ে ডাঃ আকছেদুর রহমানকে ডেকে এনেছিলেন।তিনিও ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন বেবির হার্টবিট পর্যবেক্ষণ করে। নার্স নাসিমা খালা আর ডাক্তারের মধ্যে ইশারায় কথা হয় সবার অগোচরে। আরো কিছু সময় পার হলে সন্তান অথবা মা, যে কোনো একজনকে হারতে হতো। প্রবাদ কথাগুলো কখনো বিফলের ফসল নয়….আল্লাহ্ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।

দিনে দিনে মেয়ে আমার বড় হচ্ছে আমার ছায়ায়। প্রথম ঠোঁট বাঁকা করে হাসছে আমার চোখে তাকিয়ে, আম্মু বলে ডাকলে মাথা ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে হাত পা ছুঁড়ছে, অযথা কোনো কান্নাকাটি নেই, কোনোরকম বিরক্ত করা নেই। হামাগুড়ি দিতে শেখার পর তার কত কৌতুহল! এখান থেকে সেখানে ছুটছে। সারাক্ষন পেছন পেছন থাকতে হচ্ছে। কিছু একটা ধরে উঠে দাঁড়াতে চাওয়ার দিনটি স্মৃতী করে রেখেছিলাম দেবরের ক্যামেরায়। হাত ছেড়ে সেদিন সে হেসে কুটি কুটি কিছুসময় পরেই ধপাস করে বসে পরা, আবার উঠে দাঁড়াচ্ছে, আবার বসে পরছে আর খিলখিল করে হাসছে। ওর বাবা হাসছে,চাচা হাসছে,আমি হাসছি। তাঁর কাছে খাবার বলতে শুধু ফিডারের দুধ পছন্দ, খিচুড়ি,সুজি সেরেল্যাক তৈরী করে করে নষ্টই করতে হতো। আমার রাগ বেড়ে যেতে লাগলো।এটা সেটা ধরতে গিয়ে ভাঙতে শুরু করলো।আমি নির্দয় হতে লাগলাম। এতটুকু বাচ্চাটাকে একা সামলাতে আমার ধৈর্যও কখনো কখনো হেরে যেতো আমার রাগের কাছে। মেয়েটা ভয় পেতে শুরু করলো ধীরে ধীরে।
বাচ্চা সামলাতে সাধারনত অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিতে হয়। অতকিছু মাথায় আসবে কি করে তখন? সংসারে কতকিছুর প্রভাব পরে মনের ওপর! সব মিলিয়ে বিপরীত আচরন ভোগ করে অবুঝ শিশু। আট মাস বয়সে মেয়েটাকে নিয়ে, আমার নিজের অজ্ঞানতার কারনেই আবারো জীবনমৃত্যু’র মুখোমুখি হতে হলো।……….চলবে

৩৩৮জন ২০৬জন
54 Shares

২৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য