মা এবং ঈদ

মনির হোসেন মমি ৬ মে ২০১৯, সোমবার, ০৫:৫৮:৩০অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৮ মন্তব্য

মসজিদে ফজরের আজানের ধ্বনি।মন্দিরে ঢোলের শব্দ। গির্জায় প্রার্থনার আওয়াজ। সে সময় সব এক সাথেই হত। সব উৎসবে এক সাথেই থাকতাম। কল্পনাতেও ভাবিনি কে হিন্দু কে মুসলমান। সেই সময়কার কথা বলছি, ঈদ এলেই সকল ধর্ম বর্ণের বন্ধুরা বাড়ীতে আসত মায়ের রান্না করা সেমাই খেতে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে।
ঘুমন্ত অবস্থায় বিশেষ বটি দিয়ে বাবার নারিকেল কুরানির শব্দ শুনতাম। মা সেমাই রান্নার আর বাহারী পিঠা ভাঁজার আয়োজনে ব্যাস্ত রান্না ঘরে। ঘরের বাহিরে খড় কুটোর ছাউনির ছোট্ট রান্না ঘর হতে মায়ের শব্দ ভেসে আসছে…এই মনির উঠ। আযান দিয়া লাইছে গোছল করতে যা। মায়ের বেশ কয়েক বার ডাকাডাকির পর ঘুম থেকে জেগে উঠি, দু’হাতের আঙ্গুলে চোখ কচলাতে কচলাতে কচলাতে বাহিরে গেলাম, প্রকৃতির কাজ সারতে। এর মধ্যে সমবয়সী বন্ধুরা এসে হাজির ঘরের দুয়ারে। উদ্দেশ্য সবাই দল বেধে প্রায় মাইল খানেক দূর শীতলক্ষ্যার জলে গোছল করে দেহ মনে পবিত্রতা আনা। সে সময় ঈদ এলেই বাবা, বাজার হতে কসকো বা লাক্স সাবান আর আমার জন্য নতুন লুঙ্গি পাঞ্জাবী এবং একটি পাতলা নতুন গামছা কিনে আনতেন। এ সব না হলে সে সময় গ্রামীন ছেলেরা ঈদ গোছলে মজা পেত না। দীর্ঘক্ষণ নদীর টলটলে জলে দুষ্টুমির গোছল সেরে বাড়ী ফিরতাম।

এখন রাসায়নিক বর্জ্যে মৃত প্রায় শীতলক্ষ্যার জল এক সময় ডাব সু-স্বাদু ছিলো। পাড়ার অধিকাংশ লোক বহু দূর হতে হেটে এসেও গোছল করত এ নদীর জলে। সে সময়কার রোজার ঈদ বা ইদুল ফিতর উদযাপনের সময়টা ছিলো বেশীর ভাগ শীতকালে। শীতের তীব্রতায় হিম শীতল গায়ে কাঁপতে কাঁপতে কৈশরের উন্মাদনায় নদীর জলে স্নান সেরে বাড়ী ফিরতেই মায়ের বকুনি। ততক্ষণে বাবা রেডি হয়ে বসে আছেন আমার অপেক্ষায়। এখনকার মতন ঘরে ঘরে মানে মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত হতো না। তখন বিশাল একটি মাঠে পুরো গ্রামের মানুষ ঈদের নামাজ পড়তে ঈদগা মাঠ নামে মাঠে জমায়েত হতেন। সেই ঈদগা মাঠে দলে দলে নতুন পায়জামা পাঞ্জাবী আর টুপি পড়ুয়াদের আমি নিজেও সাথে যাচ্ছি, এটা ভেবে মনের ভিতর সে এক অন্য রকম অনুভুতি অনুভূত হত।

আমাদের বয়সী কিশোররা প্রায় বাবার হাতটি ধরে ঈদগা যেত তাই আমার জন্য বাবার অপেক্ষা করাটাই আমার প্রতি মায়ের এমন খেটখেটানি মেজাজ। এক দিকে মায়ের বকুনি অন্য দিকে আমার মাথার চুলে এবং পুরো শরীরে চপচপে সরিষার তৈল দিয়ে আমাকে সাজাতেন। অতঃপর নতুন পায়জামা পাঞ্জাবী পড়িয়ে বাবার হাতটি ধরিয়ে দিলেন। ঘর হতে বাহির হবার পূর্বে আবারো মায়ের ধমকানির সূর।
-এই দাঁড়াও!
হতভম্ভ হয়ে বাপ-বেটা দরজার চৌকাঠ পেরুনোর আগেই থেমে গেলাম। মা তখনি দৌড়ে রান্না ঘর হতে এক প্লেট সেমাই হতে এক চামচ করে আমাদের মুখে তুলে দিয়ে বললেন-নে এবার যাও। মায়ের কথা মতে রমজানের ঈদে নামাজে ঈদগাতে যাবার আগে কিছুটা খেয়ে যেতে হয় তাতে রমজানের পুরো মাস রোজা রাখার ফজিলত পাওয়া যায় আর কোরবানী ঈদ মানে ঈদুল আজহায় মুখে কোন খাদ্য না দিয়ে অনাহার থেকে ঈদের নামাজ পড়ে কোরবানীর গোস্ত দিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করাটা অনেক ফজিলতের।

ঈদগাতে নামাজ শেষে একে অন্যের শান্তি ও সম্প্রীতির কোলাকুলির পর্ব শেষ করে আবারো বাবার হাতটি ধরে বাসায় ফেরা। এবার মা আমাকে আরেকটি পর্বের জন্য প্রস্তুত করতে ব্যাস্ত হলেন। তখনো ছোট ভাইটি পৃথিবীতে আসেনি এক মাত্র বড় বোন আর আমি। সেই সময়ে কিশোরদের আরেকটি ঈদ আনন্দ হল, নতুন নতুন জামা কাপড় পড়ে সাঁজ সাঁজ ভাবে নিকটস্থ আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে মুরুব্বিদের সালাম করে সালামির হাদিয়া নেয়া। আর এর ঘর ঐ ঘরের লোকজনকে ডেকে এনে অথবা স্ব-ইচ্ছায় বাসায় গিয়ে সেমাই ,ফালা, তেলে ভাঁজা পিঠা ইত্যাদি ভোজনের পর্ব সারা।মা আমাকে আবারো সাজালেন সামর্থ্যের নতুন জামা কাপড়ে। অতিথির আপ্যায়নে সে সময় মা চাচিরা ঈদের সারাটা দিন খুব ব্যাস্ত থাকতেন। অথচ তারা নিজেরা কোন কিছু খেয়েছেন কি না তা খোজঁ নিলে জানা যায়, অতিথির আপ্যায়ণে নাকি তাদের তৃপ্তি ছিল। ঈদে ঘুরাঘুরির এক পর্যায়ে বাহিরে ঈদ মৌসুমী চটপটির দোকানগুলোতে চলত ধুম বেচা কেনা। আর বেলা বাড়লে অনেক কিশোরদের মনে নিয়ত করা থাকত কোন সিনেমা হলে কোন সিনেমা চলে তা দেখার নেশা।

পৃথিবীর নিয়মে, চক্রাকার এ মানব জীবনে আজকে যারা সন্তান কালকে তারা আবার পিতামাতা। সংগ্রামী জীবনের দেশ-বিদেশে জীবন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে আজকের এই আমি মায়ের মুখের পানের রস খেতে পৃথিবীতে তার নাতির আগমন ঘটাতে পেরেছিলাম তাও দীর্ঘ বার বছর পর।বাবা আমার পরলোকগত, নিজ পছন্দের বৌমা ঠিকই ঘরে এনেছিলেন কিন্তু নাত-নাতনীর মুখ দেখবার সৌভাগ্য তার হয়নি।

মা তার নাতিকে পেয়ে ভীষন ব্যাস্ত সময় কাটান। নাতির চার পাচ বছরের মাথায় সেই মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ঠিক হঠাৎ নয় দীর্ঘ দিনে পালিত রোগ বালাই বেড়ে এক সময় শরীর সহ্যের শেষ পর্যায়ে এসে যায়। নামকরা অনেক ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হলাম। কখনো রোগী সুস্থ হয় আবারো কখনো রোগ জেকে বসে। বিভিন্ন সময়ে দেখানো বিভিন্ন ডাক্তারের প্রেসক্রিপাশন হয় ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু রোগটা আসলে কি তা কোন ডাক্তারই পরিষ্কার করে বলছেন না। শেষ পর্যন্ত এক ডাক্তারকে দেখানোর পর তিনি বললেন-রোগীর এ ব্যাথা বাতের ব্যাথা। দিলেন হাই পাওয়ারের এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন সহ অন্যান্য ঔষধ। ব্যাথা আপাতত থেমে থেমে হয়। ভাবলাম হয়তো এবার কাজ হবে।

বেশ ক’মাস ভাল থাকার পর আবারো সেই একই ব্যাথা।এবার ব্যাথাটা কখনো পিঠে, কখনো কোমরে, কখনো পায়ের দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত শুরু করল। আবারো সেই ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি ঔষধ দিলেন একটু চেঞ্জ করে কিন্তু পনের বিশ দিন ঔষধ সেবনেও কোন কাজ হল না। মা এবার একে বারে যেন বিছানায় পড়ে যাওয়ার পথে। একটু হাঁটাহাঁটি করলেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সারা দিন কাজ শেষে রাতে ঘরে ফিরে মায়ের এমন ব্যথাতুর কান্না সারা রাত্র দু’চোখের পাতা এক হতে পারেনি। ঘুমালেও এক কান খাড়া থাকত..কখন আবার ছোট ভাইয়ের সাথে এটাস্ট পাশের রুম হতে মায়ের ডাক আসে-বাবারে আমিতো আর সইতে পারছি না।

মানুষের বার্ধক্য জীবনটা বড় কষ্টকর আর যদি হয় দীর্ঘদিনের ভোগান্তির মরণ ব্যাধি তাহলেতো আর রক্ষা নেই। নিজেতো মরবেনই অন্যদেরকেও অর্থনৈতিক, শারিরীক, মানসিক ভাবে মেরে যাবেন। যে মানুষটা সারাটা জীবন অন্যকে আলো দিতে মোমের প্রদীপের শিখা উজ্জীবিত রাখলেন সেই মানুষটার শেষ জীবনে সেই রকম প্রদীপের আলো হতে বঞ্চিত, কেউ হন বিরক্ত, কেউ বা ভাবেন মরলেই বাচি। সহায় সম্পদ গুলো দ্রুত যেন ভাগ করা যায়। ছোট ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করলাম এবার কি করা যায়। কোথায় কোন ডাক্তারের নিকট আবার দেখানো যায়। ছোট ভাইয়ের শ্বশুরের এক বন্ধু ডাঃ মেজবাহ, ঢাকার স্কয়ার  হাসপাতালে বসেন। ঠিক করলাম সেখানেই এবার মাকে নিয়ে যাব।

রাতের গভীরতায় প্রায় হঠাৎ হঠাৎ জেগে উঠি। ছোট ভাইয়ের পাশের রুমে উঁকি দেই মায়ের রুমটিতে। মা ঘুমাচ্ছেন। আবারো বিছানায় পিঠ ঠেকাই। কিন্তু আজ যেন কিছুতেই চোখে ঘুম আসছে না। যখনি চোখের পাতা এক করছি তখনি চোখের সামনে ভেসে উঠে মায়ের সেই অকৃত্রিম সরল হাসি, সেই ডাক-মনির হোসেন..ঘরে আইছো?। সে কখনো আমার আর ছোট ভাইটির অর্ধেক নামে ডাকেনি। পুরো নামটিই খুব সুন্দর করে ডাকতেন-মনির হোসেন ঘরে আছো? জবাবে বলতাম হ্যা মা ঘরে, ভিতরে আসো। মা আমার অর্ধ আটকা দরজাটা খুব ধীর গতিতে খুলে রুমে প্রবেশ করে খাটে ঠিক আমার মুখোমুখি বসতেন। মায়ের মুখে পান চিবানোর লাল লালা বা পিক দেখে বুঝতাম-মা আমার এখন খুব ভাল আছেন। কিন্তু আমি ভাল থাকতে পারিনি। মায়ের জর্দা দিয়ে পান চিবানোর ঘ্রাণটা আমার খুব খারাপ লাগত। আমি মাঝে মাঝে খুব রাগ করতাম তখন মা বলত-দেখো আমি যেটা ছাড়া চলতে পারি না, তা না বললে হয় না! জর্দাতো তুমি কিনে দাওনা! আর যদি তুমি পানটাও কিনে না দাও,ত বে না দিবা!। বেশ রাগ হয়ে যেতেন।

এখন যেমন আমার সন্তানেরা কোন কিছু কিনে দেয়ার বায়না ধরলে না কিনে দিয়ে উপায় নেই তেমনি হয়তো আমাদেরও এমন সব বায়না ছিলো যা তারা সামর্থের মাঝে পূরণ করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন যেমন আমরা বা আমি নবজাত সন্তানকে নিয়ে রাত জেগেছি বা জাগছি, তার সঠিক পরিচর্যায় দিন কি রাত, রাত কি দিন কোন ভাবার সুযোগ পাইনা তেমনি তারাও পাননি। এ সব কথাগুলো ভেবে যতটুকু না মনে শান্তি আসত তার চেয়ে বেশী মন খারাপ লাগছিলো, বার বার চোখ ভিজে যাচ্ছিল মায়ের অসুস্থতার আজকের এ করুণ অবস্থার কথা ভেবে।

সব চেয়ে বেশী চিন্তাটা এখন যা হচ্ছে তা হল টাকা। যা কিছু জমানো ছিলো তাতো সবই ইতিমধ্যে টেষ্ট আর ঔষধের বাজারে শেষ করেও ঋণ হয়ে আছি বহু অর্থ। এখন নতুন করে স্কয়ার হাসপাতালে গেলেতো অনেক টাকার প্রয়োজন হবে। কই পাবো টাকা।চিন্তায় সেই রাতে চোখে ঘুম আর আসেনি। পরে ভাবলাম দেশের বাড়ীতে পরিত্যাক্ত পৈত্রিক যে বাড়ীটি আছে তা বিক্রি করে দেব।

যেই কথা সেই কাজ। বিক্রি করে দিলাম পৈত্রিক ভিটে-মাটি। সমুদয় অর্থ হাতে পেয়ে মাকে নিয়ে গেলাম স্কয়ার হাসপাতাল। ডাঃ কিছু টেষ্ট এবং ঔষধ দিলেন।টেষ্টগুলো করালাম সেখানেই। পরবর্তী সময় রিপোর্ট নিয়ে গেলাম। রিপোর্টের ভিত্তিতে ডাঃ জানালেন মায়ের পুরো শরীরে মাংসে ক্যান্সার ধরা পড়েছে যা বেচে থাকার একেবারে শেষ পর্যায়ে। ক্যামো দিলে হয়তো কিছুটা হলেও রোগ মুক্তি হতে পারে তবে ফলাফল অনেকটাই নেগেটিভ হবে। বাসায় ফিরে আবারো চিন্তায় পড়লাম পুরো পরিবার। এ দিকে মায়ের শরীরের যে কন্ডিশন তাতে মাকে ক্যামো দিতে নেয়াটা খুব ঝুঁকিপূর্ণই ছিলো। অবাক হলাম যখন বিষয়টি মা জানার পর একটুও ভেঙ্গে পড়েননি বরং উল্টো বললেন-তোমরা ঢাকা মেডিক্যাল যাবার সব কিছু ঠিক কর।আমি ঠিক আছি,যেতে পারব। মায়ের মনে বেচে থাকার এমন প্রবল মনোবল দেখে নয়ন আমার জলে ভরে গিয়ে মনে দীর্ঘশ্বাস উঠে-হায়রে বিধাতা তুমি কোথায়!জন্ম ই যখন দিলে তবে মৃত্যুটা কেন নিশ্চিত করলে।

মায়ের পরনে এলোমেলো কাপড়টা নিজেই কাঁপতে কাঁপতে বদলালেন কাউকে সহযোগিতা নেবার চিন্তাই করলেন না।মাথায় নারিকেল তৈল দিয়ে চিরুণি দ্বারা চুলগুলো আঁচড়ালেন।এরপর একটা পান মুখে গুজে দিয়ে বললেন-চল!আমি তৈরী।

বেশ কয়েকটা ক্যামো দেয়ার পর মায়ের শরীরে রোগের কিছুটা পরিবর্তন এলো।একটু ভালর দিকে মনে হয় এগুচ্ছে। এর মধ্যে চলে এল মাহে রমজান। মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাসটি ভাল ভাবেই কেটে গেল। মাস শেষে এলো খুশির ঈদ,ঈদুল ফিতর। চার দিকে আনন্দে মুসলিম জাহান মশগুল। আমরাও সেদিন ঈদের খুশিতে ভেসেছি। ভাসিয়েছি রোগাক্রান্ত মাকে।বউরা তাকে গোছল করিয়ে নতুন কাপড় পরিয়ে দিল।মুহিন-নূহাশ নাতনীদের সাথে কিছুটা আনন্দ সময় কাটালেন।

মোটামোটি মাস দু’এক কেটে গেল অনিশ্চিৎ চিন্তায়। ঠিক কোরবানী বা ঈদুল আজহার আগে আবারো মা আমার অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আগের সেই ব্যাথায় প্রতি দিন-রাত কাতরানো।চিকিৎসার জন্য আবারো দৌড়া দৌড়ি।ঈদুল আজহার দিনটা কিছুটা সুস্থ ছিলেন আমাদের আনন্দের সময়গুলো যেন এরই ফাঁকে কেটে গেল। এক সময় মাকে আর বিছানা হতে তুলতে পারলাম না। শুধু তাই নয় কথা বার্তাও এক সময় কমতে কমতে একে বারেই কমে গেল। কাউকে দেখলেই হা করে তাকিয়ে থাকতেন কিছুই বলতে পারতেন না। মায়ের দীর্ঘদিনের চিকিৎসা অবস্থায় এর মধ্যে তার মেঝো ভাই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন, চলে গিয়েছিলেন তার বড় ভাইও।
এ সব প্রিয় সব আপণ জনদের পৃথিবী বিয়োগের চিন্তায় হয়তো, অফিস থেকে ঘরে ফিরে প্রায় মাকে দেখতাম নিশ্চুপ শুয়ে থাকা যেন এ এক নিথর লাশ। যতই দিন যাচ্ছে ততই যেন আরো নিস্তেজ হয়ে পড়ছিলেন মা। মনে হচ্ছিল মা যেন তার আপনদের খুঁজে ফিরছিলেন। তার দেশ গ্রামে থাকেন মার তিন ভাইয়ের মধ্যে বেচে থাকা একমাত্র ছোট ভাই। তাকে বহু আগেই খবর পাঠানো হয়েছিলো শেষ বারের মত এসে যেন তার বোনকে দেখে যান। আসি আসি করে আসলেন একে বারে শেষ সময়ে অক্টোবরে। হয়তো মা আমার তার আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন।

আমি তখন অফিসে জানতে পারলাম মামা এসেছেন, নিয়ে এসেছেন নিজের গাই গরুর দুধ। মামাকে দেখে মা নাকি শোয়া থেকে উঠবার অনেকটা চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছিলেন, রক্তের টান ভাই বলে কথা। মামা এক চামচ দুধ মায়ের মুখে দিয়ে দ্বিতীয় চামচ মুখে দিতেই মুখের ভিতর দুধ আর যাচ্ছিল না গড়িয়ে তা গাল বেয়ে পড়ল বিছানায় তখনি উপস্থিত সবাই বুঝতে পারলেন মা আমার সবাইকে পর করে চলে গেলেন নিজের চিরস্থায়ী স্বর্গীয় দেশে। আর আমি এমনি হতভাগা যে, মৃত্যুর শেষ কালে না দেখলাম মা কিংবা বাবার মুখ! না শুনলাম কোন কথা।

এখনো ঈদ এলে খুঁজে ফিরি মাকে,
মায়ের আদর সোহাগকে।
—————————————-
লেখাটা: জগতের সকল মা’কে উৎসর্গ করা হল।
এবং সেই সাথে…..
জগতের সকল মায়েদের সুস্থতা কামনা
এবং পরকালে সকল মা’দের আত্মার মাগফিরাত কামনা।

১২১৮জন ১০৩০জন
13 Shares

২৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ