মায়ের জন্য দোয়া

মনির হোসেন মমি ২৭ আগস্ট ২০১৪, বুধবার, ০৯:২৮:৩০অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি, বিবিধ ৮ মন্তব্য

সেই আদম হাওয়া থেকে পৃথিবীতে মানবের পদাচরণ আজও অব্দি বিরাম নেই জম্ম কি মৃত্যুর।এ সবের মাঝে আমিও বাদ পড়িনি জম্মেছি আবার মৃত্যুকে আলিঙ্গনের দিকে ক্রমশতঃ ধাপিত হচ্ছি .....এটাই চিরন্তন সত্যের চক্রাকার পৃথিবীর জীবন সংসার।

যে বিষয়ের উপর দ'কলম লিখতে বসা সেই বিষয়ে উপর লেখার অন্ত নেই নেই সীমানা।সীমাহীন ভাবে সারা পৃথিবীর জলকে কালি করে আর পৃথিবীকে খাতা ভেবে লিখলেও বিষয়টির সম্পর্কে সামন্যতম আলোকপাত করা শেষ হবে না।তবু আমার একান্ত নিজের মাকে দিয়েই কিছু বলার ব্যার্থ চেষ্টা করা মাত্র।

গ্রামের বাড়ী কুমিল্লার বড় সাল ঘরের সুন্দর সবুজে ঘেড়া ছোট্র একটি গ্রামে জম্মেছিলেন সে।আজ ৬৫/৭০ বছরের পূর্বের ইতিহাসে জম্ম তারিখটি মনে রাখার কোন যুক্তিকতাই ছিল না ছিল না পড়া লেখার চাপ।তাছাড়া নারী শিক্ষা ক্ষেত্রে সে সময় বহু প্রতিবন্ধকতা ছিল সে ক্ষেত্রে মায়ে শিক্ষার হাতে খড়ি নাম মাত্র হয়েছিল কোন মতে নিজের নামটি লিখতে জানা।পৃথিবীর সকল সরলতা যেন আমার মায়ের উপরই ভর করেছিল যাকে বলে মাটির মানুষ।এখনকার যুগের নারীদের মতন ডান বাম কিছুই সে বুঝেননা এমন কি মাকে যদি বলা হয় এখানে বেশ কিছু টাকা আছে গণনা করে কত আছে বলো সহজে সে বলতে পারবেনা কারন সে জম্ম অব্দি আজ পর্যন্ত কখনও এক সাথে হাজার টাকা গণেনি কেননা জানি না তার অন্য সব মেয়ে লোকের মতন টাকার নেশা নেই।স্বামীর অগচোরে কিংবা সন্তানদের অগচোরে ইচ্ছাকৃত হাতে আসা কোন অর্থই জমিয়ে সে রাখত না।শুধু ঘর সংসার সামলাতেই ব্যাস্ত ছিলেন সারাটা জীবন।বাবার চকুরীর সুবাদে বাবা মাকে নিয়ে চলে আসেন নারায়ণগঞ্জের তখন আমার কেনো আমার বড় বোনেরও জম্ম হয়নি।এখানে মা আসেন একে বারে নতুন বধু হয়ে সেই পাক আমলে।

আমি তখন দেশের বাহিরে কে বা কাহারা যেন মায়ের এক বান্ধুবী কাছে মিথ্যে বলেছিল এবং সেই বান্ধবী মাকে একদিন জানাল "তোমার ছেলেতো সেখানে ডাইল খায়।মার জবাবটা ছিল একটু আশ্চর্য্যজনক।....বলিস কি দেশে থাকতে আমি কি ওরে কম ডাইল খাওয়াছি,,,,,এই মশুড়ীর ডাল,বুডের ডাইল,খেসারি ডাইল,মুগের ডাইল ওখানে কি ও অন্য ডাইল খায়....ভালোইতো ডাল হলে ও বেশী বেশী খেতে পারে।বৈঠকে তখন যারা উপস্হিত ছিল সবাই মায়ের কথা হাসা হাসি করেছিল এই হচ্ছে আমার মা।মা বুঝতেই পারেননি এটা আবার কোন ডাইল।

বেশ কয়েক মাস যাবৎ মা অসুস্হ বাতের ব্যাথায় সমস্ত শরীল অসুস্হ হয়ে পড়েছে চিকিৎসা ডাক্তার দেখানো কম করছি না তবুও কেন যেন মা সুস্হ্য হচ্ছেন না।শারীলিক দূর্বলতাও আছে,রক্ত শূণ্যতার কারনে ছোট ভাইয়ের এক ব্যাগ রক্ত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী মায়ের দেহে প্রবেশ করাই তবুও যেন অসুস্হতা তার পিছু ছাড়ছে না।মায়ের টেনসন এই তো কয়দিন আগেও মা এ বাড়ী ঐ বাড়ী ঘুড়ে বেড়াত প্রতি দিন দুপুর হলেই কোথায় যেন ঘুড়তে যেত আমি না করিনি কখনও এই শেষ বয়সে একটু ঘুড়ে ফিরে আনন্দ করে যাক কিন্তু আজ প্রায় দু তিন মাস চলে যাচ্ছে মা আগের মতন আর হাটতে পারছেন না সারাক্ষণ ব্যাথায় কাতর হয়ে ঘরে শুয়ে থাকতে থাকতে মায়ের শারীরিক গঠনও শুকনো হয়ে আসছে।নিজের কাছেও খারাপ লাগে টেনসন জাগে কখন যে কি হয়ে যায়।

মা এই অসুস্হতার মাঝেও মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখেন বেহস্তবাসী আমার বাবাকে সে দেখছে তাকে ডাকছে,পরলক গত আরো যারা খালা ফুফা কেউ বাদ নেই স্বপ্নে তাকে ডাকে নি কেউ নতুন কাপড় নিয়ে মাকে দেবার চেষ্টা করেছে মা নেয়নি।শুনেছি এ রকম স্বপ্ন নাকি কখনও শুভ হয় না।দু'দিন আগে অফিস থেকে আমি দুপুরে বাসায় গিয়েছিলাম মা আমাকে দেখে কোন মতে শুয়া থেকে বসেন মায়ের মাথায় নারিকেলের তৈল দিয়ে আমি খাবার টেবিলে যেতে আমার সহধর্মীনি ডাকছে মা যেন কেমন করছে.......মায়ের কাছে ছুটে গেলাম চোখ বন্ধ জবানও বন্ধ বার বার ডাকছি মাকে কোন উত্তর নেই,মায়ের মাথাটি আমার ডান হাতের বাহুতে শোয়া অবস্হায় রেখে ডাকছি মা.....ও মা.....কিছুক্ষণ পর মা চোখ তুলে তাকান.....আমার মুখে একটু পানি দেও.... মায়ের এমন কথা শুনার পর আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল সে আর সবাই কে কোথায় আছে ধীর গতিতে ডাকছে,অথচ আমরা সবাই তার পাশেই ছিলাম....নাহ্ আল্লাহ সে যাত্রায় মাকে বাচিয়ে দিলেন।

যেই ডাক্তারকে দেখাচ্ছিলাম সেই ডাক্তার আজ তাকে দেখা বারন করল সে বলল তার যে ব্যাথা তা পিঠেই থাকার কথা সমস্হ দেহেই ব্যাথা থাকার কথা নয় সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির কথা বলল।সেখানে আমার তেমন কেউ নেই কি ভাবে কি করব তাই ভাবছি।

প্রিয় লোকদের দোয়া নাকি অনেক কাজে লাগে তাই সবার কাছে আমি আমার মায়ের জন্য দোয়া চাচ্ছি।

অসমাপ্ত

0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ