মালয়েশিয়া ভ্রমণ (লাঙ্কাবি পর্ব ৩)

ইঞ্জা ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ০৪:১৪:৫১অপরাহ্ন ভ্রমণ ২৫ মন্তব্য

আমরা ছুটে চলেছি সাগরের নীল জল ছিড়ে, চারিদিকে প্রাকৃতিক সবুজ পাহাড় মাঝে সমুদ্রের স্বচ্ছ জলরাশি, মাঝে মাঝে ডলফিনের ছুটে চলা, যা এক অপার্থিব সৌন্দর্য্যের সৃষ্টি করেছে। 

প্রায় দেড় ঘন্টার মতো সময় লাগলো আমাদের পুলাও পায়ারের কাছাকাছি যেতে, দূর থেকে দেখছি পুলাও পায়ার দ্বীপের সৌন্দর্য্য, বিচের থেকে আলিশান এক জেটি গেইট সমুদ্রের বুক ছিড়ে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সাদর আমন্ত্রণ জানাতে। 

আমরা সবাই শীপ থেকে নামার প্রস্তুতি নিলাম, একটা ছোটো বোট যার দুপাশে রেলিং দেওয়া শীপের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, সহযাত্রীরা এক এক করে বোটটাতে দাঁড়াচ্ছে এবং রেলিং ধরে রাখছে, তাদের নিয়ে বোট এগিয়ে যাচ্ছে জেটি গেইটের দিকে, তাদের রেখে ফিরে আসলে আমরাও উঠে গেলাম, এইবার আমাদের নিয়ে গেলো বোটটা, জেটি গেটে উঠে এসে চারিদিকে তাকালাম, লক্ষ্য করলাম সমুদ্রের হাঙর থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সমুদ্রের কিছু দূর, অর্থাৎ বড় বড় শীপ যেখানে নোঙর করেছে, তারপর থেকেই লোহার নেট লাগিয়েছে যা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। 

গাইড আমাদেরকে ব্রিফ করছে এইখানে আমরা কি কর‍তে পারবো, কি পারবোনা, মোদ্ধা কথা হলো এই দ্বীপে কোথাও ময়লা করতে পারবোনা, কোথাও ময়লা পড়ে থাকতে দেখলে তাও উঠিয়ে ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। 

দ্বীপের এক পাশে সমুদ্র, অন্য পাশে জঙ্গল, চাইলে হাইকিং করতে পারবো, চাইলে সমুদ্রে জলখেলি করতে পারবো, দুপুর দুটোই লাঞ্চ দেওয়া হবে, সবাই যেন খেয়ে যায় এইখানে এসে শীপে ফেরত গিয়ে, খাওয়া শেষে আবার ফিরে আসা যাবেভ।

এইখানে যা দেওয়া হবে তা হালাল খাদ্য দেওয়া হবে, বিকেল চারটা তিরিশের মধ্যে আমাদের শীপ দ্বীপ ছেড়ে যাবে, তার আগেই শীপে ফেরত যেতে হবে।

আমরা জেনে নিয়ে দ্বীপের দিকে গেলাম, দ্বীপে গিয়ে প্রথমে জঙ্গলে গেলাম, কিছুক্ষণ এদিক ওদিক ঘুরাঘুরি করে ফিরে এলাম জলের ধারে, জল দেখেই মন কেমন কেমন করতে লাগলো, দুজনেই সুইমিং ট্রাঙ্ক পড়ে পানিতে নামলাম, নেমে মজা পেলাম না, পায়ের নিচে সব পাথর, উপরে নেই ঢেউ, পায়ের আশেপাশে ছোটো ছোটো মাছ কিলিবিলি করছে, ধ্যাৎ বলে উঠে গেলাম, উপরেই শাওয়ারের ব্যবস্থা আছে, খুব করে গোসল করলাম, এরপর ড্রেস চেইঞ্জ করে চলে এলাম জেটি গেইটে, আমাদেরকে আসতে দেখে গাইড বললো, লাঞ্চ করবে, আমরাও রাজি হলাম, আমাদেরকে ছোটো বোটে শীপে নিয়ে গেলো, শীপের সিঁড়ি দিয়ে উঠে ভিতরের সিঁড়ি দিয়ে উপরে চলে গেলাম, সেখানে শামিয়ানার মতো টাঙ্গানো হয়েছে, আমাদের আগেও কয়েকজন এসেছে দেখলাম।

বুফে খাবারের ব্যবস্থা হয়েছে, এছাড়া টেবিল চেয়ারও রাখা হয়েছে দেখে আমরা গেলাম খাবার নেওয়ার জন্য, বুফেতে ফ্রাইড রাইস, চিকেন, মাটন, পাস্তা, ভেজিটেবল সহ বিভিন্ন খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।

আমরা পছন্দ করে খাবার নিয়ে একটা টেবিল নিয়ে বসে পড়লাম। 

খাওয়া দাওয়া সেরে ফিরে চললাম দ্বীপের উদ্দেশ্যে, গাইড বললো, বিকেলে এই বিচের একদম কাছে হাঙরের ছোটো ছোটো বাচ্চারা আসে খাবারের খোঁজে, শুনে অবাক হলাম। 

এরপর ঘুরে ঘুরে দ্বীপের সৌন্দর্য্য দেখতে লাগলাম, দ্বীপটাও কম ছোটো নয়।

দ্বীপে বানর সহ ছোটো ছোটো জন্তু আছে যা মানুষের ক্ষতি করেনা। 

এই সমুদ্র হলো স্নোরকলিংয়ের উৎকৃষ্ট স্থান, দলে দলে মানুষ স্পীড বোটে চড়ে আর একটু গভীরে যায় সমুদ্রে ডুব দেওয়ার জন্য, আমাদের অদূরেই দাঁড়িয়ে আছে মস্তবড় এক শীপ নোঙর করা আছে, সেই শীপে চড়ে নিচের দিকে নামলে পানির নিচের সব কিছুই দেখা যায়, কিন্তু এর খরচ খুবই বেশ বেশি। 

দ্বীপের সৌন্দর্য্য বর্ণনাতীত, এতো সৌন্দর্য্য আমি আগে খুব কমই দেখেছি। 

এরপর সময় হলো হাঙর ছানাদের দেখার, বিচে অনেকেই দেখছি হাঙর ছানাদের খাবার দিচ্ছে, ছোটো ছোটো না না জাতের ছানারা বিচের অল্প পানিতে এসেছে খাবারের খোঁজে, দেখতেও খুব ভালো লাগছে।

 

সময় হয়ে এলে আমরা সবাই শীপে ফিরে গেলাম, শীপ আবার সমুদ্রের নীল জল ছিড়ে ছুটে চলেছে লাঙ্কাবি দ্বীপে, মন বিষন্ন হয়ে রইলো, দূর থেকে বললাম, বিদায় পুলাও পায়ার, যদি সম্ভব হয় ফ্যামিলি নিয়ে আবার আসবো তোমার তীরে, দূর আকাশের অস্ত যাওয়া সূর্য বিদায় জানালো আমাদের। 

 

…….. চলবে। 

ছবিঃ গুগল।

১ম পর্বের লিংকঃ

https://www.sonelablog.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a3-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95-2/

২য় পর্বের লিংকঃ

https://www.sonelablog.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a3-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95/

২২২জন ৭৬জন
0 Shares

২৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ