মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ২ (টুইন টাওয়ার)

নীহারিকা ১১ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার, ০৫:২৬:১৫অপরাহ্ন ভ্রমণ ২১ মন্তব্য

লিফট গিয়ে থামলো ১১ তলায়। লিফট থেকে বের হয়েই কেমন একটা ফিলিংস হতে লাগলো। করিডোরের ডেকোরেশন কেমন যেন ভুতুড়ে টাইপের।
img_7123-240x320আল্লাহর নাম নিতে নিতে রুম খুঁজে নিয়ে ঢুকলাম। চমৎকার রুম। ভাবছিলাম হানিমুনটা বিয়ের পরেই করে দরকার ছিলো, বেশ দেরি হয়ে গেলো। যাই হোক সারারাত জেগে বেশ ক্লান্ত ছিলাম। প্ল্যান হলো ফ্রেস হয়ে একটু রেস্ট নিয়ে টুইন টাওয়ার দেখতে যাবো। কারণ হোটেলে আসার সময় দেখেছিলাম মালয়েশিয়ার আকর্ষণ টুইন টাওয়ারকে। হোটেলের কাছেই মনে হলো। বিকেলে ঘুম থেকে জেগে ফ্রেস হয়ে হোটেল থেকে বের হলাম আমরা। হাটতে হাটতে দেখি ম্যাকডোনাল্ডস এর দোকান।

img_6376-640x480

আমাকে আর কে পায়। সেখানে হালকা খাবারের অর্ডার দিয়ে ভেতরের লোকজন দেখছিলাম আর কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরেও তাকাচ্ছিলাম। কত কি খাচ্ছে সবাই। ছেলে, মেয়ে, বুড়ো, বুড়ি সবাই আসছে, খাচ্ছে, চলে যাচ্ছে।

img_6379-480x640

কেউ কাউকে দেখছে না, আমিই দেখছি। এর মধ্যে হঠাৎ দেখে পাশ দিয়েই মেট্রো ট্রেন যাচ্ছে। একের পর এক। কি যে কিউট একেকটা আর একেকরকম ছবি দেয়া গায়ে। মেট্রো ট্রেন দেখে সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা এতে চড়েই যাবো। ম্যাকডনাল্ডস থেকে বের হয়ে পাশে মেট্রো স্টেশনে গেলাম। বলে দেয়া হলো যে স্টেশনে আমরা নামবো সেখান থেকে কিছুটা হাটতে হবে, তবেই টুইন টাওয়ার এরিয়া। অসুবিধা নাই, টিকিট কেটে অপেক্ষা করতে থাকলাম ট্রেনের। কি সুন্দর অটো সিস্টেম যে টিকিট ছাড়া কেউ প্ল্যাটফর্মে ঢুকতেই পারবে না। বা বের হতেও পারবে না। একটু পর ট্রেন এলে উঠে পড়লাম। কত মানুষ যাচ্ছে ট্রেনে। ছেলেরা কেউ শার্ট -প্যান্ট, কেউ টিশার্ট এর সাথে জিন্স বা শর্টস, আবার মেয়েরা ফতুয়া, ফুলপ্যান্ট হিজাব বা গেঞ্জি হাফপ্যান্ট।

img_6386-640x480_1

কতগুলোতো ভীষণই দৃষ্টিকটু কিন্ত কেউ ডিস্টার্ব বা মন্তব্য করছে না কিছু। যার যার মত যাচ্ছে, আসছে।

img_6382-640x480_1_1

ঠিক এক স্টেশন পরেই নেমে গেলাম আমরা। তারপর হাটা। কি পরিষ্কার রাস্তা, কি পরিস্কার ফুটপাত আর সব চেয়ে মজার হলো জেব্রা ক্রসিং এ হাটার সাইন না আসা পর্যন্ত কোন হাটা নাই। রাস্তা ফাঁকা থাকলেও দাঁড়িয়ে থাকবে সেই চিহ্নের অপেক্ষায় কিন্ত নিয়ম ভাংবে না। কত কিছু শেখার বাকি আমাদের।
হাটতে হাটতে আকাশের দিকে হঠাৎ তাকিয়ে দেখি টুইন টাওয়ার দেখা যাচ্ছে।

img_6398-640x480_1_1

জোরে পা চালালাম। কাছে গিয়ে দেখি কি বিশাল টাওয়ার। ঘাড় উঁচু করে দেখলে মটকে যেতে পারে।

img_6405-480x640_1

ঘুরে ঘুরে দেখলাম এর সৌন্দর্য। সন্ধ্যা হচ্ছে আর ভীড় বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা এসেছেন এটি দেখতে।

img_6472-320x426

সবাই দেখছেন, ছবি তুলছেন আর আমি আফসোস করি কেন একটা ভালো ক্যামেরা নাই আমার 🙁

img_6458-360x480

কর্তা হাঁপিয়ে গিয়ে সামনের ফোয়ারার পাশে এক জায়গায় বসে পড়লেন। এইযে বসলেন আর উঠেন না। ছবি তোলাতে তার খুব বিরক্তি।

img_6436-480x360_1

শেষে আমি নিজেই ঘুরে ঘুরে মোবাইলে ছবি দেখতে লাগলাম। এর মধ্যে এক বন্ধুর সাথে হোয়াটস আপে কথা হচ্ছিলো।উনি বললেন টুইন টাওয়ারের পেছনে যাও, সেখাানে ডান্সিং ফোয়ারা শো হয় সন্ধ্যার পর। কর্তাকে বললাম। উনি আজ যেতে রাজি হলেন না। বললেন অন্যদিন। বলে বসে রইলেন।

img_6448-320x240

আমি এদিক সেদিক ঘুরে ছবি তুলতে লাগলাম।

img_6470-320x426

আস্তে আস্তে সন্ধ্যা হলো আর টুইন টাওয়ারের সৌন্দর্যও বদলে যেতে লাগলো। কি অপূর্ব সৃষ্টি!!!

img_6466-240x320

অনেক রাত পর্যন্ত বসে থাকলাম সেখানে। বেশ ভালো লাগছিলো টুইন টাওয়ার আর তার পর্যটকদের।

img_6453-360x480

তারপর রাত ৯ টার দিকে বের হয়ে একটা দোকান থেকে সফট ড্রিংক্সের ক্যান কিনে খেতে খেতে একটা ট্যাক্সি নিয়ে বাংলা খাবার হোটেলের পথ ধরলাম। আর পথে ভাবতে থাকলাম, এমন একটি টুইন টাওয়ার কি আমাদের দেশে বানানো অসম্ভব কিছু? কোথাও একটি পুলিশ দেখলাম না। সবাই নিয়ম মেনে চলছে। আবহাওয়া, পরিবেশ সবই আমাদের মত তবে আমরা কেন পারবো না? ভাবতে ভাবতে পৌছে গেলাম বাংলা হোটেলে। আজ অর্ডার দিলাম ভাত, রূপচাঁদা, ডাল, সবজি আর গরুর গোশত। শেষে দই। দেখি হোটেল পুরা ভর্তি বাঙালী। কথাবার্তা শুনে মনেই হয় না এটা অন্য দেশ। ওয়েটার, কুক, মালিক সব বাংলাদেশী। বেশ ভালো লাগলো। হেব্বি খেয়ে দেয়ে রুমে এসে শুয়ে পড়লাম। কাল ১০টায় গাড়ি আসবে, যাবো গেন্টিং হাইল্যান্ডে।

চলবে…….

আগের পর্বগুলো পড়ুনঃ

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ১/   মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন -১  

 

৬১৮জন ৬১৮জন
0 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ