মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ৮ (i-City 1)

নীহারিকা ১১ জুন ২০১৭, রবিবার, ০৫:০০:১৭অপরাহ্ন ভ্রমণ ২৬ মন্তব্য

পরদিন সকালের দিকে দুরে কোথাও গেলাম না। এ কয়দিনের টানা ঘুরাঘুরিতে কিছুটা ক্লান্ত। তাই প্ল্যান হলো সকালটা নিজেদের মত করে কাছেপিঠেই ঘুরে বেড়াবো। ১১টার দিকে বের হয়ে হেটে হেটে শহর দেখতে লাগলাম। হাটতে হাটতে এক রাস্তায় এসে দেখি শুধুই খাবারের দোকান। রাস্তার দুধারে চেয়ার টেবিল পাতা আর লাইন ধরে শুধুই খাবারের দোকান। এত কাছে এত খাবার দোকান দেখে খুব আফসোস হচ্ছিলো কেন সকালের নাস্তা হোটেলে খেলাম। কর্তাকে অনুরোধ করলাম এদের কখাবার একটু টেস্ট করে দেখতে। উনি এমন এক লুক দিলেন যে আর কিছু বলার সাহস পেলাম না। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে প্রায় দুপুর ১টা বেজে গেলো। দুপুরে খেয়ে একটু রেস্ট নিয়েই বের হতে হবে তাই কর্তা ম্যাকডোনাল্ডসে ঢুকলো। সুবিধামত জায়গায় বসে খাবারের অর্ডার দিলাম। বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর কোক। কত দেশের, কত ধরণের লোকজন আসছে, খাচ্ছে, চলে যাচ্ছে। খাবার খেতে খেতে দেখছিলাম এসব। বার্গার আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেয়ে পেট ঢোল। এরা কোক দিয়েছে ইয়া বড় গ্লাসে। সে আর খেয়ে শেষ করতে পারছি না। যাহোক সময় নিয়ে আস্তে আস্তে খাওয়া শেষ করে ফিরলাম হোটেলে। ফ্রেস হয়ে বিশ্রাম নিয়ে উঠে আবার তৈরি হয়ে নিলাম। গাড়ি আসবে বিকেল ৫ টায়। আজ যাবো শহর থেকে একটু দূরে i-City তে। বিশাল এক পার্ক। এরই ৭টি স্পটের টিকিট আমরা আগেরদিন কিনে রেখেছিলাম। তৈরি হয়ে লবিতে এসে বসলাম। কিন্ত গাড়ি আজ একটু দেরিই করলো। বিকেল ৫.৩০ এর দিকে আমরা রওনা হলাম i-Cityর উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে দেখছিলাম মালয়েশিয়ার শহরতলী। কি যে সুন্দর, পরিষ্কার, ছিমছাম একটি দেশ! রাস্তার যেতে যেতে ভাবছিলাম, আমাদের দেশ কি কখনো এমন হবে? কিছুদুর গিয়ে দেখি রাস্তার দুপাশেই কয়েক’শ করে একই ডিজাইনের ডুপ্লেক্স বাড়ি। একটু পুরোনো কিন্ত সুন্দর পরিকল্পিত। এগুলো কাদের হাউজিং জিজ্ঞেস করতে ড্রাইভার বললো এগুলো তাদের গ্রাম। আমিতো শুনে হা করে আছি। গ্রাম!! বেশিরভাগ বাড়িতেই এসি লাগানো দেখা যাচ্ছে। তখন বুঝলাম ওদের দেশে কেন আমাদের মত নিম্ন আয়ের লোকদের জন্য রিক্সা, টেম্পো, নন এসি ভাংগা বাস এসব নেই। কেন সব ট্যাক্সি আর এসি টাউনসার্ভিস বাস। কারণ তাদের সর্বনিম্ন আয়ের লোকও এসব যানবাহনে চড়ার ক্ষমতা রাখে। প্রায় ঘন্টাখানেক, কি তারও বেশি সময় পরে গিয়ে পৌছলাম i-City তে। তখন সন্ধ্যা নেমে গেছে প্রায়। চারিদিক রঙিন আলোয় ঝলমল করছে। খুব সুন্দর করে সাজানো। সামনেই দুটো ঘোড়ার মুর্তি এত সুন্দর যে কতক্ষণ মুগ্ধ হয়ে দেখলাম সেগুলো। আর ভাবছি এত দেরীতে এসে পৌছলাম কিভাবে দেখবো এত স্পট? ড্রাইভার গাড়ি পার্ক করে আমাদের সাথে নিয়ে গিয়ে i-Cityর একটি ম্যাপ ধরিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলো আমরা কোথায় সাথে নিয়ে গেলো প্রথম স্পট Snow Walk এ। সেখানে এসে টিকিট দেখানোর পর ওরা ম্যাপের ৭টি স্পট কলম দিয়ে দাগ দিয়ে আমাদের বুঝিয়ে দিলো কিভাবে যেতে হবে। টিকিট ফেরত নিয়ে ঢুকলাম Snow Walk এর দরজা দিয়ে। বিশাল এক হলরুম। পোলার বেয়ার, স্নো ডল ছাড়াও বরফের দেশের মডেল বানানো আছে সেখানে। ভাবছি এগুলো দেখতে আসলাম? সত্যিকারের বরফ কোথায়? জিজ্ঞেস করতেই আমাদের পথ দেখিয়ে দেয়া হলো। সেপথে গিয়ে দেখি আরেকটি ঘর। এখানকার ঠান্ডা কিছুটা বেশি। এখানে দেখি সবাইকে জ্যাকেট দেয়া হচ্ছে গায়ে দেবার জন্য। আমার একটু ঘেন্না ঘেন্না করতে লাগলো কে না কে গায়ে দিয়েছে। ইয়াক….। কর্তারও একই অবস্থা। আমরা দুজনেই জ্যাকেট হাতে নিলাম কিন্ত পরলাম না। আমাদের সাথে ছিলো কর্তার এক বন্ধু। সে আবার গিয়েছে শর্টস পরে। সে বলে, জ্যাকেট তো দিলো কিন্ত আমার পায়ের কি উপায়? তো তিনজনই রওনা হলাম সামনের দিকে। দরজা খুলে দেখি এ পুরো ডীপ ফ্রিজ। ডানে, বামে, সামনে বরফ দিয়ে কত কিছু যে বানিয়ে রেখেছে সাথে আলো আঁধারিতে রঙিন আলো। আমরা দেখছি, ছবি তুলছি। কয়েক মিনিট পর থেকে মুখ আর হাতের খোলা জায়গা অবশ হওয়ার মত অবস্থা। আর এদিকে হাফপ্যান্টওয়ালার তো অবস্থা খারাপ। তাড়াতাড়ি হেটে Exit আর খুজে পাচ্ছি না। এর মধ্যেই দেখি আর পারা যাচ্ছে না। এখন বের না হলে ফেইন্ট হবার সম্ভাবনা। কিছু স্কুলের ছেলেমেয়েও দেখি বের হবার জন্য দৌড়াচ্ছে। আমিও ওদের পেছনে দৌড় শুরু করলাম। দৌড়াই আর ভাবি কেন এখানে আসলাম? ঠান্ডায় যদি আবার জ্বর ফিরে আসে? যাহোক দৌড়ে দৌড়ে দরজা দিয়ে বের হয়েই পড়লাম আগুন গরমে। এসির স্বাভাবিক তাপমাত্রাও অনেক গরম লাগতে লাগলো সাথে এক নিমিষেই মাথা, জ্যাকেট জামা স্যান্ডেল ভিজে টপ টপ করে পানি পড়ছে। তাড়াতাড়ি জ্যাকেট খুলে জমা দিয়ে একটা বেঞ্চে কিছুক্ষণ বসলাম। কিছুটা ধাতস্থ হয়ে বেড়িয়ে এলাম সেখান থেকে। পরের স্পট Trick Art Museum. ম্যাপ দেখে চলে গেলাম সেখানে। প্রথমে বুঝতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিলো। পরে বুঝেছি 3D আর্ট। খেয়াল করলাম প্রতি ছবির পাশে দর্শক কোন ভঙ্গীমায় ছবিটা উঠালে বাস্তব মনে হবে তার ছবি ছোট করে লাগানো আছে। ছবিগুলো         দেখে বেশ মজাই পেলাম। এদিকে সময় অনেকটাই চলে গেছে আগের স্পটে দেখে একটু তাড়াহুড়ো করেই ঘুরলাম এখানে। এখানে বেশ কিছু ছবি তোলা যেতো কিন্ত সময়ের অভাবে অল্প তুলেই বের হয়ে এলাম।

চলবে….

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ৭/ মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ৭

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ৬/ মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ৬

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ৫/ মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ৫

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ৪/ মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ৪

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ৩/ মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ৩

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ২/ মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ২

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ১/ মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ১

৬৫৭জন ৬৫৭জন
0 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ