মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ৫ (বাতু কেভস)

নীহারিকা ২৬ মে ২০১৭, শুক্রবার, ১০:৪১:৩৪পূর্বাহ্ন ভ্রমণ ২৪ মন্তব্য

রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে আর আমি ঠকঠক করে কাঁপছি। সেন্ট্রাল এসি চলছে বিধায় রেগুলেটর কমিয়ে দিয়েও কম্বলে কাজ হচ্ছে না। দাঁতে দাঁত বাড়ি খাচ্ছে। কর্তাকে ডেকে তুলতেই সে আমার অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গেলো। সাথে প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ আছে, কিন্ত খালি পেটে কিভাবে খাই। শেষে বাধ্য হয়েই খালি পেটে খেয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে বসে রইলাম। ঘন্টাখানেক পর জ্বর কিছুটা কমে এলে শুয়ে পড়লাম। ভাবছিলাম, সকালে কি বাইরে যেতে পারবো? কর্তার জন্য মায়া হচ্ছিলো। আমি অসুস্থ্য হলে বেচারার বেড়ানোটা টেনশনময় হবে। এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাংলো সকাল ৮.৩০ এর দিকে। বিছানা থেকে নামতে গিয়ে বুঝলাম কিছুটা দুর্বল কিন্ত জ্বর নেই। মনে মনে খুশি হলাম। ফ্রেস হয়ে এসে কর্তাকে বললাম ফ্রেস হয়ে নিতে। ফ্রেস হয়ে দুজনে গেলাম হোটেল ডাইনিং এ। আজ আমরা একটু দেরিই করে ফেলেছি। দেখলাম ডাইনিং হল ফুল। ট্রে থেকে পাউরুটি, জেলি, মাখন আর সেদ্ধ ডিম নিলাম আজ। সাথে জুস। খেতে খেতে দেখতে লাগলাম অনেক অপরিচিত মুখ। কিছু পরিচিত মুখও দেখলাম যাদের গতকাল দেখেছিলাম। সবাই খাচ্ছে, গল্প করছে। আমার ভালো লাগছিলো না। মুখের স্বাদ চলে যাওয়ায় পাউরুটি খেতেও খুব কষ্ট হচ্ছিলো। খুব কষ্ট করে খেয়ে উঠে পড়লাম। বাইরের দিকে চোখ পড়তেই দেখলাম লাইন দিয়ে ট্যুরিস্ট কার, মাইক্রোবাস, ট্যাক্সি অপেক্ষা করছে যাত্রীদের জন্য। লোকজন গাড়িতে উঠছেন, চলে যাচ্ছেন। ঘড়িতে দেখি ৯.৩০ বাজে। তাড়াতাড়ি রুমে গিয়ে তৈরি হতে হবে বাতু কেভ দেখবার জন্য। কর্তা জিজ্ঞেস করলো যেতে পারবো কি না, নাকি প্ল্যান চেঞ্জ করবে? সাহস নিয়েই বললাম যেতে পারবো ইনশাআল্লাহ। তৈরি হতে হতেই ফোন এলো ড্রাইভারের, চলে এসেছেন। রওনা হলাম বাতু কেভের উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে কথা হচ্ছিলো ড্রাইভারের সাথে যে সে আজ সারাদিন আমাদের শহরের অন্যতম স্পটগুলো ঘুরিয়ে দেখাবে। আমাদের পছন্দের কোন স্পট থাকলে বলতে, উনি সেখানে নিয়ে যাবেন। বললাম KL Tower এ যাওয়া যাবে? সে বললো অবশ্যই যাওয়া যাবে তবে আগে এর টিকিট কেটে নিতে হবে। নাহলে প্রচুর ভিড় হয় মাঝে মাঝে। এছাড়া বাকি স্পটগুলো তাকেই সেট করতে বললাম যেগুলো শহরের কাছেই। অসুস্থ অবস্থায় দুরে যাবার সাহস পাচ্ছি না। কিছুক্ষণের মধ্যেই উনি আমাদের এক অফিসে নিয়ে এলেন, যেখান থেকে KL Tower সহ আরও কিছু স্পটের অগ্রিম টিকিট কাটা যায়। কয়েকটি স্পটের রঙিন লিফলেট দেয়া হলো আমাদের সিদ্ধান্ত নেবার জন্য। আমি বার্ড পার্কের টিকিট খুঁজছিলাম। সেখান থেকে বলা হলো এর টিকিট পার্কেই কেনা যাবে কিন্ত কর্তার খুব একটা আগ্রহ দেখলাম না। স্পট পছন্দ হয়তো টিকিটের দাম সেই উঁচু, নাহলে পছন্দই হয় না। এদিকে KL Tower এর টিকিটের দাম ৫২ রিঙ্গিত করে। শুনেই মেজাজ খারাপ। লিফটে উপরে উঠিয়ে একটু দেখাবে তাতে এত দাম নিতে হবে কেন? আবার আরেক তলা উপরে গিয়েই আলাদা কাঁচের স্পেসে যাওয়া, টাওয়ার থেকে একটু বের করা জায়গায় কাঁচের ফ্লোর, এর টিকিটের মুল্য প্রায় ডাবল। শুনে বললাম কোনো ইচ্ছে নেই আমার সেখানে ছবি তোলার, যেখানে আমার ক্যামেরাম্যানের এই অবস্থা। তো আমরা কাঁচের স্পেস বাদেই টিকিট করলাম। আরো দুটি স্পট পছন্দ হলো। একটির নাম i-City. এটি একটি এমিউজমেন্ট পার্ক। ১৪৮ রিঙ্গিত করে ১ জনের টিকিটের দাম। পার্কের ৭ টি এরিয়া দেখা যাবে এই দামে। আবার ড্রাইভার শুধু i-City যেতে আসতেই নেবে ১৫০ রিঙ্গিত। শুনে তো ফিট হবার অবস্থা। বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৩ হাজারের কাছাকাছি! দুজন মিলে এক স্পটেই সব মিলে প্রায় ১২ হাজার টাকা চলে যাবে? সব স্পটের টিকিটের দাম এত বেশি যে, ভাবছি, বাকি দিনগুলোর খাওয়া আর এয়ারপোর্টে ফেরার টাকা থাকবে তো? যাহোক, কর্তার আগ্রহে সেই টিকিটও কেনা হলো। এবার রওনা হলাম বাতু কেভের উদ্দেশ্যে। পথ ঘাট দেখতে দেখতে পৌছেও গেলাম। ওখানে ঢুকেই দুর থেকে দেখতে পাচ্ছিলাম বিরাট বিরাট চুনাপাথরের পাহাড় বেষ্টিত সেই বিশাল Lord Murugan বা কার্তিক ঠাকুরের মুর্তি, আর পেছনে পাহাড় বেয়ে উঠে গেছে ইয়া লম্বা সিঁড়ি।

অসম্ভব সুন্দর। গাড়ি থেকে নামতেই ড্রাইভার/গাইড এ স্পট সম্পর্কে ব্রিফ করলেন আমাদের। তিনি জানালেন, এই লর্ড মুরুগান বা কার্তিক ঠাকুরের মুর্তিটি লম্বার দিক দিয়ে বিশ্বের ২য বৃহত্তম মুর্তি। এর উচ্চতা ৪২.৭ মিটার বা ১৪০ ফুট। এর বাইরের অংশ রঙ করতে ৩০০ লিটার গোল্ড পেইন ব্যবহৃত হয়। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছিলো ৩ বছর এবং ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে এটি উদ্বোধন করা হয়। কিন্ত কি অবাক ব্যাপার, এত বছর পরও দেখে মনে হয় একদম নতুন, চকচকে।

 

সবশেষে ড্রাইভার/গাইড আমাদের সাইডব্যাগ দেখিয়ে বানর হতে সাবধান থাকতে বললেন। বললেন, বানর যদি একবার ব্যাগ নিয়ে যেতে পারে তবে আর পাবার আশা নেই। আমরা ব্যাগ ঠিকঠাক করে সামনের উঠোনের মত জায়গাটা ঘুরে দেখতে লাগলাম। একপাশে খেয়াল করলাম মন্দির এবং আরো কিছু মুর্তি সাজানো। সেগুলো দেখে এগিয়ে গেলাম সেই বিখ্যাত সিঁড়ির দিকে যা কিনা মাটি থেকে একদম পাহাড়ের উপরে গুহামুখ পর্যন্ত উঠে গেছে। সিঁড়ির গোড়ায় গিয়েতো আমি বাকরুদ্ধ। ২৭২ খানা সিঁড়ি বেয়ে এই অসুস্থ শরীরে আমি উঠবো কিভাবে? ইচ্ছে হচ্ছে কিন্ত ঠিক সাহস হচ্ছে না। একবার মাথা ঘুরে বা পা পিছলে পড়ে গেলে একদম গড়িয়ে নিচে পড়ে যাওয়া ছাড়া থামার কোনো উপায় থাকবে না। আর থামলেও বাঁচবো কি না সন্দেহ। কর্তা বললো উঠে কাজ নেই। অসম্ভব। সেও উঠবে না। কিন্ত আমিতো উঠবই। কিছুক্ষণ সিঁড়ির দিকে চেয়ে থাকলাম। দেখলাম বিভিন্ন বয়সের অনেক লোকজন উঠছে-নামছে। সাহস সঞ্চয় করে কর্তাকে বললাম, আমি যাবো। সে নিচে অপেক্ষা করতে চাইলে করতে পারে। ভাবছিলাম এত কাছে এসে গুহার ভেতরটা না দেখে ফিরে গেলে পরে আফসোস হবে। বিসমিল্লাহ বলে উঠতে শুরু করলাম। আশেপাশে অনেক বানর ঘুরাফিরা করছে। ব্যাগ সামলে উঠা শুরু করলাম। কিছুদুর উঠে বুঝতে পারলাম এ খুব সহজ কাজ নয়। সিঁড়িগুলো পাকা করা কিন্ত বেশ খাড়া। রেলিং দিয়ে সিঁড়িকে ৩ ভাগে ভাগ করেছে। আমি সেই রেলিং ধরে আস্তে আস্তে উঠতে থাকলাম। ৩২/৩৩ টা সিঁড়ি উঠতেই দম শেষ। আমার পেছনেও অনেকে উঠছে। তাকিয়ে দেখি কর্তাও উঠছে। আমি আবার উঠা শুরু করলাম। আরো ২০টার মত সিঁড়ি উঠে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে গেলাম। পেছনে তাকাতেই এক সাদা মহিলা আমাকে দেখে হেসে ফেললো। তারও একই অবস্থা। এরপর পেছনে যাকেই দেখি সবার মুখেই সেই হাসি। যেন এর অর্থ, “আর কতদুর?” আবার উঠতে শুরু করলাম। হাঁপাচ্ছি আর ঘেমে অস্থির। তবুও উঠছি আর সিঁড়ির গায়ে লেখা নম্বর। দেখছি। অবশেষে প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় গুহামুখে উঠতে সফল হলাম। উঠে তো আমি আর নাই। পারলে মেঝেতেই বসে পড়ি। মাথা ঘুড়ছে, চোখে অন্ধকার দেখছি আর গলা শুকিয়ে কাঠ। এদিকে পেছনে কর্তা উঠে এসেছে। তার অবস্থাও খারাপ। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ভেতরে তাকালাম।

কি বিশাল গুহামুখ। ঢুকেই ভেতরে বাঁ’দিকে সুন্দর এক মন্দির। অনেকে যাচ্ছে, প্রার্থনা করছে। আর ডানে, বায়ে, উপর, নিচে বানর আর বানর। কখন যে লাফ দিয়ে কোথায় যাচ্ছে সে এক দেখার মত অবস্থা। কিছু এদিক ওদিক বসে আছে, হাটছে। আমরা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম। কিছু কবুতরও দেখলাম। মানুষ খাবার দিচ্ছে খাচ্ছে। প্রথম গুহায় ঢুকেই অবাক হলাম। এত বড়ও গুহা হয়! এর ভেতরে আবার দেখি সিঁড়ি দিয়ে উপরে আরেক গুহায় যাবার ব্যবস্থা।

 

আরও অনেকগুলো সিঁড়ি। উঠে দেখি দারুন ব্যাপার। মাথার উপর পুরো আকাশ দেখা যাচ্ছে। অসাধারণ। এই গুহাটাও বিশাল। এর ভেতরেও একপাশে সুন্দর ছোট্ট একটি মন্দির। গুহার ছাদ থেকে ছোট ছোট গাছ ঝুলছে। কি যে অদ্ভুত! আমরা যে যার মত ঘুরে গুহামুখে এসে দাঁড়ালাম।

 

 

 

ফিরে পেছনে তাকিয়ে দেখি কি অদ্ভুত দৃশ্য। পাহাড়ের মাঝ দিয়ে লর্ড মুরুগান আর শহর দেখা যাচ্ছে। মুগ্ধ হয়ে কিছুক্ষণ সেই দৃশ্য উপভোগ করে নামতে শুরু করলাম। সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে দেখি ডানে আরেকটি গুহা। আমি এদিকে পানি পিপাসায় অস্থির। সঙ্গে পানি নেই। তবুও ঢুকলাম ভেতরে। গিয়ে দেখি এখান থেকে অন্ধকার গুহার ভেতরে টানেলের মত।

বাদুর উড়াউড়ি করছে। সেখানে টিকিট কেটে ঢুকার ব্যবস্থা। আমি ঢুকতে চাইলে কর্তা বললো আর ঢুকে কাজ নেই। ভেতরে বাদুর এবং গুমোট অবস্থায় অসুস্থ হয়ে যেতে পারি। আমি আর কথা না বাড়িয়ে বের হয়ে এলাম। বের হতেই দেখি গুহামুখে একটি বানর ভীষণ সুন্দর এক বাচ্চা কোলে নিয়ে বসে আছে। চট করে ছবি তুলে ফেললাম।

 

 

নিচে নামতে নামতে দেখলাম কিছু দোকান সাজানো। বিভিন্ন ধরণের শোপিস আছে সেখানে। কর্তা বলল কিছু কিনতে চাইলে কিনে নাও। আমিও মনের আনন্দে একটি শোপিস কিনে নিলাম। আস্তে আস্তে নিচে নামছি। ক্লান্তিতে শরীর কাঁপছে। তাছাড়া সিঁড়িগুলো অনেক খাড়া। খুব সাবধানে দেখে দেখে না নামলেই পা পিছলে পড়ে যেতে পারি। শক্ত করে রেলিং ধরে আস্তে আস্তে নেমে এলাম। আমি নামার আগেই কর্তা আমাকে ফেলে নেমে গেলো। কি আজব লোক রে বাবা। নেমে এসে দেখি বিশাল কবুতরের ঝাক। ছবি তুলে ফেললাম।

কিন্ত কর্তা কোথায়? তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি পাশের দোকান থেকে সফট ড্রিনক্স কিনে খেতে খেতে গাড়ির দিকে এগোতে থাকলাম। ভাবলাম সে হয়তো গাড়িতে আছে। কিন্ত গাড়িতে গিয়ে দেখি সেখানেও সে নেই। আমার কাছে মালয়েশিয়ান সিম না থাকায় ড্ররাইভারকে বললাম ফোন দিতে। কিন্ত ভদ্রলোক ফোন ধরে না। ভাবছি, সে কি আমাকে রেখে পালিয়ে গেলো? আচ্ছা যাক, গাড়ি যখন সাথে আছে হোটেলে অন্তত ফিরতে পারবো। এই ভাবতে ভাবতেই দেখি উনি আসছেন। কোথায় গিয়েছিলো জিজ্ঞেস করাতে বললো, পিপাসা পেয়েছিলো তাই ডাব, জুস খেয়ে আসলো।  আমার জন্য কেনো কিছু আনলো না এই বিষয়ে ঝগড়া করতে করতে রওনা হলাম শহরের দিকে, অন্য একটি স্পটের উদ্দেশ্যে।

চলবে…..

আগের পর্বগুলো পড়ুন:

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ৪/ মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ৪

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ৩/ মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ৩

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ২/ মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ২

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ১/ মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন -১

 

৬৩২জন ৬৩২জন
0 Shares

২৪টি মন্তব্য

  • ছাইরাছ হেলাল

    জ্বর নিয়েও দিব্বি এত সিঁড়ি টপকে গেলেন কী ভাবে তাই ভাবছি, সিঁড়ি কিন্তু অনেক বেশি,
    খেয়াল না করে ভালই করেছেন। ওখানে অনেক্ষণ বসে থাকলে কিন্তু ভাল লাগত,
    বার্ড পার্কে না গিয়ে খুব মিস করেছে, আমি নিশ্চিত আপনি ওখানে গেলে চলে আস্তে চাইতেন না।
    ময়ুরগুলো পাশে পাশে হাঁটে, কত কত পাখী!!

    রোজ লেখেন না কেন!!

    • নীহারিকা

      আমার নিজেরই এখন ভেবে অবাক লাগে, কিভাবে এত সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠেছিলাম। হয়তো মনের জোর। বার্ড পার্কে যাবার জন্য শেষ দিন পর্যন্ত আগ্রহ ছিলো আমার, কিন্ত যাওয়া হলো না। আপনার কাছে অনুরোধ থাকবে বার্ড পার্কটি নিয়ে লেখার। এবং অবশ্যই ছবি সহ। আমার একটি বড় আফসোস সেখানে যেতে না পারা।
      আর প্রতিদিন কিভাবে লিখবো ভাই? আপনাদের মত বড় লেখকরাইতো প্রতিদিন লেখা দেন না। আমার ল্যাহাতো বহু কষ্ট করে বের করতে হয়।

      • ছাইরাছ হেলাল

        অবশ্যই বার্ড পার্ক নিয়ে লেখার ইচ্ছে আছে, লিখব-ও।
        মন দিয়ে শুনুন, আমার তোলা ছবিগুলো লেখার সাথে যায় না, তা ছাড়া সেগুলো দৃষ্টি নন্দন নয়, তাই তা দিয়ে
        লেখার ইমেজটি বিঘ্ন ঘটাতে চাই না, এত বার করে বলছেন, তাই বলছি একটি কিশোরীর ছবি আপনাদের দেখাব,
        যা তার অনুমতি নিয়েই তুলেছিলাম, কথা দিচ্ছি ভাল লাগবে। ছবি তোলার ছোট্ট গল্প-ও সাথে থাকবে।

        একজন যুবতীর ভাব-ভাবনা কাহিনীর মাঝে মাঝে থাকবে, ১ নং দিয়ে শুরু, আগেরটি;
        একটু কষ্ট করে মন দিয়ে পড়ে দেখুন, খুব মজার, অনেক আনন্দ পাবেন। এগুলো সহজ খুব, কোন কঠিন না,
        মান-অভিমান খুনসুটি এসব আছে, থাকবে,
        আপনি মিলিয়ে নিন, আপনাদের মনের কথা বলতে পেরেছি কি না!! (পুরুষ হয়েও)!

  • শুন্য শুন্যালয়

    ইশ বেড়াতে গিয়ে এভাবে অসুস্থ হয়ে গেলেন? তবুও আপনার স্ট্যামিনা দেখে অবাক হচ্ছি। মাত্র ২৭২ সিঁড়ি? আমিতো একতলা থেকে দোতলা উঠতে গেলেই টায়ার্ড হয়ে যাই।
    ছবি এবং বর্ননা এতো সুন্দর করে লিখছেন আপু, মুগ্ধ। আশেপাশে খালি ডাবের খোসা ছিলোনা? কর্তার মাথায় বাড়ি দ্যান নাই ক্যান? অসুস্থ বউ রেখে নিজেই ডাব, জুস খেয়ে আসছে, কী কর্তা রে বাবা। শুধু ঝগড়াতেই পার পেয়ে গেলো।
    ছবিগুলো অনেক বেশি সুন্দর। যাবো মালয়শিয়া ইনশাল্লাহ একদিন।
    লেখাটা চলতেই থাকুক।

  • ইঞ্জা

    আহারে ওখানেই জ্বর, দাদী একটা কথা খেয়াল রাখবেন, খালি পেটে কখনোই নাপা, প্যারাসিটামল জাতিয় ঔষধ খাবেন না, এতে পেটের আঁত ছিদ্র হয়ে যায়, যা আমি নিজে দেখেছি।

    ভ্রমন কাহিনী খুব ভালো লাগছে, ছবি গুলোও বেশ।

  • মিষ্টি জিন

    মানে ভাষায়,বাতু- পাথর কেভ – গুহা = পাথরের গুহা। গেনটিং হাইল্যান্ড যাওয়ার সময় রাস্তার বা পাশে তাকালেই মূতিটা চেখে পডে । অতসিডি টপকানোর ভয়ে আমার যাওয়া হয়নি বাতুকেভে। আসুস্হ শরীরে ভালই এনারজি ছিল। KL টাওয়ারে উঠতে আগে পেমেন্ট করতে হতে না।
    বানরের ছবিটা খুব সুন্দর । বর্ননা অসাধারন।

    • নীহারিকা

      বাতু মানে পাথর, এটাতো জানতামনা। বাহ জেনে গেলাম। গেন্টিং হাইল্যান্ড যাবার দিন মুর্তিটি দেখেইতো ভেবেছিলাম আসার পথে এখানে যাবো। কিন্ত দুষ্ট ড্রাইভার নিয়ে গেলো না বলেইতো আলাদাভাবে যেতে হয়েছে। এখন টাওয়ারে উঠতে টিকিট লাগে। বানরটা কি সুন্দর চুপচাপ বসে ছিলো। এই শরীর নিয়ে যে ঘুরতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ্‌।
      দিদি ধন্যবাদ আপনাকে।

  • নীলাঞ্জনা নীলা

    এই না হলে আমার আপু! কিসের জ্বর আর কিসের ব্যথা! আমি তো ভাঙ্গা কোমড় নিয়ে জলপ্রপাতে গিয়েছি। 🙂
    ভ্রমণের বর্ণনায় আমি কিন্তু মুগ্ধ!
    আমাদের দেশ নাকি উন্নয়নে একদিন সিঙ্গাপুরকেও ছাড়িয়ে যাবে শুনলাম। উন্নয়ন তো দেখছি। জাস্টিস দেবীর ভাস্কর্য সরানো হয়েছে, আর মালয়েশিয়াতে এখনও কতো কতো ভাস্কর্য, মূর্তি!

    আপু দেরী করে পোষ্ট দেয়া ঠিক না। 🙁

    • নীহারিকা

      উন্নয়ন নিয়ে কিছু আর বলার নেই দিদি। দেখা যাক, হয়তো আমরা আমেরিকাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারি। সেই আশায়ই থাকলাম।
      দিদি, বিভিন্নমুখি ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য তাড়াতাড়ি লিখতে পারছি না। আর আমি ঘন ঘন পোস্ট দিলে ব্লগের প্রথম পেজে আমার পোস্ট বেশি হয়ে গেলে সেটাতো ভালো হবে না। সেটাও দেরি করার একটি কারণ।
      দিদি ভালো থাকবেন। অনেক ধন্যবাদ।

      • নীলাঞ্জনা নীলা

        তাও ঠিক অবশ্য। যা-ই হোক, তবুও দেবেন। হয়তো অনেকে লগিন হয়না, কিন্তু ঠিকই পড়ে। যেমন আমি। 🙂

        ভালো থাকবেন আপনিও।

  • মৌনতা রিতু

    অনেক সুন্দর বর্ণনা। বানরের হাত থেকে আসলেই সাবধানে রাখতে হয়, গল্প শুনেছিলাম। ওরা চোখের পলকেই চট করে হাত থেকে টান দিয়ে দৌড় মারে। ধরাই যায় না।
    অসুস্থ শরীর নিয়ে ভালোই ঘুরতে পেরেছেন। আমার পায়ের ব্যাথায় এখন তিনতলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামাই মুশকিল হয়েছে।
    যাক কর্তা তাইলে ঠিকঠিক ফিরেছে তাইলে। একা খেলো, পানিশমেন্ট হয়েছিল কি? শুধু ঝগড়াতেই থামলে হবে না।
    ভাল লাগছে পড়ে।

  • জিসান শা ইকরাম

    যে সব স্থান দেখেছেন তা কত সুন্দর করে উপস্থাপন করলেন,
    আমার সমস্যা হচ্ছে, আমি যে দেখেছি তা ভালভাবে উপস্থাপন করতে পারিনা, যে কারনে আমার ভ্রমন কাহিনী নেই তেমন।

    আপনি কুয়ালালামপুরের এমন সব স্থান দেখেছেন বা নাম জেনেছেন তা আমি আগে দেখিইনি,
    তবে বাতু কেভস দেখেছি,
    বিস্ময়ে হতবাক হয়েছি Lord Murugan এর বিশালতা দেখে,
    গুহার মধ্যের স্পেস দেখে, কত বিশাল এক স্পেস ওখানে আছে।
    ডার্ক কেভে না ঢুকে ভালই করেছেন, আমি কিছুটা গিয়ে ভয়ে পিছিয়ে এসেছিলাম।

    ছবিগুলো আর একটু বড় করা যেত না?
    ভাল পোস্ট।

    • নীহারিকা

      আপনার মত পাকা লেখক যদি বলেন লিখতে পারেন না তবে আমরাতো লজ্জায় মরে যাই। ভ্রমণ কাহিনী তো ঘটনাগুলো মনে করে করে লিখে ফেলা। এর জন্য অন্য লেখার মত কষ্ট করতে হয় না। আপনি একটি লিখেই দেখুন। আমি জানি সে কাহিনী আমার কাহিনীর থেকে হাজার গুণ ভালো মানসম্পন্ন হবে। আপনি এরপর যখন মালয়েশিয়া যাবেন তখন নিশ্চয়ই অন্য না যাওয়া স্পটগুলো ঘুরে আসবেন।
      প্রতি পোস্টে যেহেতু বেশ কয়েকটি করে ছবি দিতে হচ্ছে তাই ছবিগুলো ইচ্ছে করেই ছোট করে দিয়েছি যেন ব্লগের বেশি জায়গা দখল না করে ফেলে।
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ