মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ১

নীহারিকা ৯ মে ২০১৭, মঙ্গলবার, ১২:০৬:৩৬পূর্বাহ্ন ভ্রমণ ৩৫ মন্তব্য

কিছুদিন থেকেই ভাবছিলাম এই গরমের ছুটিতে কোথাও বেড়াতে যাবো। কোথায় যাওয়া যায় হিসেব করতে করতে ঠিক হলো মালয়েশিয়া যাওয়া যাক। কিন্ত বললেই হয় না। ভিসার কাগজপত্র রেডি করা এক বিরাট হ্যাপা। কোন দু:খে যে পাসপোর্টে পেশা চাকুরীজীবী দিয়েছিলাম জানিনা। এর কারণে অফিসিয়াল কাগজ, ব্যাংকের কাগজ এটা পাই তো বস আরেকটা ফেলে রাখে। আবার তাগাদা দিতে দিতে আরেকটা। এভাবে সব সেট করে জমা দেয়া হলো ট্রাভেল এজেন্সিতে। কয়েকদিনের মধ্যেই ভিসা হয়ে গেলো। প্ল্যান হলো সব ঠিক থাকলে মে’র শুরুতেই উড়াল দেবো ইনশাআল্লাহ। এদিকে ছুটি শুরুর আগের ৩ দিন টানা এই প্রোগ্রাম সেই প্রোগ্রাম পড়ে গেলো স্কুলে। দিন-রাত কাজ করে ৩০ এপ্রিল রাতে একাই চলে আসি ঢাকায়। ফ্লাইট ২ মে। দেখতে দেখতে ২ মে চলে এলো। সব গুছানো শেষ। রাত ১২.২৫ মিনিটে ফ্লাইট। রাত ৮.৩০ এর দিকে তৈরী হয়ে নিলাম। উবারের গাড়ি ডেকে রওনা হলাম এয়ারপোর্টের দিকে। পৌছে দেখি এ কি, অসম্ভব ভীড়। নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্সের বুথ খুঁজে বের করে ব্যাগগুলো দিয়ে দিলাম। তারপর আসলাম ইমিগ্রেশনের জায়গায়। এক ফর্ম ফিলাপ করা নিয়ে লোকজনের দৌড়াদৌড়ি। বিশেষ করে যারা অল্পশিক্ষিত তাদের অবস্থা দেখে মায়া লাগছিলো। বেশ কয়েকজনের ফর্ম ফিলাপে সাহায্য করে লাইনে দাড়ালাম। ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ করে ভেতরে বসে আছি। সময় আর যায় না। বসে থাকতে থাকতে রাত ১১.৪০ নাগাদ ডাক এলো। আবার হাটো। আবার চেকিং, হ্যান্ড ব্যাগ স্ক্যানিং শেষে আবার বসো। বসলাম। হঠাৎ আমাদের সিট নম্বর নিয়ে ডাকাডাকি। এগুলো নাকি আবার হট সিট। আমাদের সহ আরো কিছু নির্দিষ্ট হটসিটের যাত্রীদের সবার প্রথমে প্লেনে গিয়ে বসতে বলা হলো। আমি জানালার ধারের সিটে গিয়ে বসলাম। এরপর সব যাত্রীরা এলেন। যার যার সিট দেখে বসার পর উড়াল দেবার প্রস্তুতি। কেন যেন এ সময়টা আমার খুব ভয় করে। বার বার ঘোষণা করা হচ্ছে মোবাইল অফ করার জন্য। কিন্ত দুয়েকজন তখনো ফোনে কথা বলেই যাচ্ছে। কথার ধরণ, “হ্যালো, হ্যা প্লেনে বসছি। এখুনি বিমান উড়বো।” আজব। যাই হোক, প্লেন উড়লো। অবশেষে কুয়ালালামপুর সময় ভোর ৫ টার দিকে ঘোষণা করা হলো অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে প্লেন কুয়ালালামপুর ল্যান্ড করবে। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি নিচে ঝলমলে শহর।

প্লেন থেকে দেখা কুয়ালালামপুর

দেখতে দেখতেই প্লেনের চাকা মাটি স্পর্শ করলো। মনে মনে বললাম আলহামদুলিল্লাহ। এখন আর ভয়ের কিছু নাই। যাক এয়ারপোর্টে ঢুকে কোনদিকে যাবো খুজে ইমিগ্রেশনের লাইনে দাড়ালাম। তখন আমাদের পাশের একটি রুম দেখিয়ে বলা হলো অফিসে যেতে। কিন্ত অফিসে কি করবো বুঝতে পারছি না। দেখি দুজন মহিলা পুলিশ ডেস্কে কাজ করছে আর যাত্রীরা সব চেয়ারে বসে মোবাইল টিপছে। বাইরে এসে দেখি এক বিশাল সাইজের মহিলা পুলিশ অফিসার বিরাট চিল্লাচিল্লি করছে। উনাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে ভেতরে কোথায় যে গেলো আর খবর নাই। কিছুক্ষণ পর বের হয়ে একে ধমকাচ্ছে, তাকে ধমকাচ্ছে। আবার ভেতরে যাচ্ছে। সবাই দেখি তার ভয়ে তটস্থ। নাম দেখলাম উষা রানী। এক পর্যায়ে আমাদের ডাক এলো। আমার ক্লিয়ারেন্স পেয়ে গেলাম কিন্ত ঝামেলা বাঁধলো আমার কর্তার ছবি নিয়ে। পাসপোর্টের ছবি আর ভিসার ছবি মেলে না। একটা ইয়াং গোফ ছাড়া, আরেকটা কাঁচাপাকা চুল আর গোফওয়ালা। কি বিপদ। যাই হোক বুঝানোর পর আর দুই পুলিশ সহ হেসে বিদায় দিলেন উনি। হাপ ছেড়ে বাঁচলাম। তখন বাজে ৮টা। গাড়ি বাইরে অপেক্ষা করছে।

img_6363-1-640x480

তাড়াতাড়ি একটা সিম কিনে যোগাযোগ করা হলো ড্রাইভারের সাথে। ডলার ভাঙিয়ে আমরা রওনা হয়ে গেলাম কুয়ালালামপুরে আমাদের হোটেলের উদ্দেশ্যে।

img_6356-320x240

হোটেলে পৌছে গেলাম সাড়ে দশটা নাগাদ। কিন্ত সমস্যা হলো চেকইন হবে ১২টার পর। সারারাত না ঘুমানোয় আর না খাওয়ায় সব ক্লান্ত। লবিতে ব্যাগ রেখে বাংলা হোটেল খুঁজতে বের হলাম। আর কি আশ্চর্য আমাদের থাকার হোটেলের পেছনেই দেখি এক বাংলা হোটেল। উপরে লেখা “এখানে বাংলাদেশী খাবার পাওয়া যায়”।

img_6372-320x240

img_6368-320x240

দেখেই সবার দাঁত সব বের হয়ে গেলো। ঢুকে পড়লাম।

img_6360-320x240

দেখি দোকানের সবাই বাঙালি। কি যে ভালো লাগলো….। জিজ্ঞেস করলাম ভাই ভাত আছে কি না বলেন। বলে আপা, সব আছে। ভাত, ডাল, মুরগী, গরু, লাল শাক, সবজি, পটলভাজি….কি নাই।

img_6366-320x240

খুশিতে ভাত, ডাল, সবজি, কালাভুনা দিয়ে খেয়ে বেড়িয়ে পড়লাম আশে পাশে হাটতে। সাথে প্ল্যান চলছে বিকেলে কোথায় যাওয়া যায়। শেষে প্ল্যান হলো টুইন টাওয়ারের কাছেই যেহেতু হোটেল তাই বিকেলে সেখানেই যাওয়া হবে। প্ল্যান আর হাটাহাটি করে হোটেলে এলাম। রুম দিয়েছে ১১ তলায়। লিফটে উঠে রওনা হলাম রুমের উদ্দেশ্যে।

চলবে…….

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ১

৫৫৩জন ৫৫৩জন
0 Shares

৩৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ