মারাত্মক হুমকি

ফ্রাঙ্কেনেস্টাইন ১৬ জানুয়ারী ২০১৬, শনিবার, ০৯:৩১:১৬অপরাহ্ন গল্প ২ মন্তব্য
1460058_665715303469455_162928806_n
পূর্ব কথাঃ
২১শে এপ্রিল, ২০১৪। বসন্তের সুন্দর এক সকালে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসে হটাতই আক্রমণ করে অদ্ভুতদর্শী কিছু জীব। আকারে মানুষের সমান এই জীবেরা একধরণের লেজার গান মানুষকে আক্রমণ শুরু করে। লেজারের প্রচন্ড আঘাতে মানুষ সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যায়। আর যত্রপাতি অস্ত্র ইত্যাদিও উধাও হয়ে যায়।
প্রথম প্রথম কেউ ধরতে না পারলেও ওয়ার্ল্ড ডিফেন্স অর্গানাইজেশনের বাঙ্গালি বিজ্ঞানী ড. সোবহান মল্লিক প্রথম আবিষ্কার করেন প্রোটেক্টাম নামের এমন এক ধরণের মেটাল যা এই লেজার প্রতিরোধে সক্ষম। প্রোটেক্টাম প্লাটিনাম, আয়রন আর অ্যালুমিনিয়ামের সমন্বয়ে তৈরি। এরপরেই দ্রুত আবিষ্কার হয় রিফলেক্টাম নামক আরেক মেটাল যা ওই লেজার রশ্মিকে প্রতিফলিত করে নিক্ষেপণ বস্তুকেই ধ্বংস করে দিতে পারে ! প্রোটেক্টামে ফসফরাস আর ম্যাগনেসিয়াম যোগ করে তৈরি করা হয় রিফলেক্টাম।
যে কারণে নিজেদের জন্য নিজেরাই ধ্বংস হচ্ছে দেখে তারা আক্রমণের ধরণ পালটিয়েছে। প্রচন্ড শক্তিশালী মিসাইল আর রকেটের মাধ্যমে তারা হামলা শুরু করেছে। যদিও ব্যাপক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিন্তু তারপরেও পেরে উঠা যাচ্ছে না। অনবরত শক্তিশালী মিসাইল আক্রমণ ঠেকানো যা তা কাজ নয় !
তারপরেও আশার কথা যে পৃথিবীর সামরিক বাহিনী একেবারেই পিছিয়ে নেই। তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার অবস্থানে আছে, এইটাই আপাতত পৃথিবীবাসীর জন্য স্বস্তিদায়ক। আর প্রথম প্রথম তারা পৃথিবীর সেরা জীবদের আন্ডারএস্টিমেট করলেও এখন যে সমীহ করছে সেটা আক্রমণের ধরণেই বুঝা যাচ্ছে।
আগে কেবল অদ্ভূতদর্শীজীবরা আক্রমণ করলেও এখন তারা বিভিন্ন কিম্ভূতাকার যান নিয়ে আক্রমণ করছে, এমন যান যা স্থলে, জলে এবং আকাশে তিন জায়গাতেই চলনে সক্ষম !
একঃ
২৭শে এপ্রিল, ২০১৪।
সকালে চট্টগ্রামের নেভির কার্যালয়ে বসে আছি, নিজের রুমে। হটাতই ইন্টারকমে ফোন আসলো। ফোন করেছেন চট্টগ্রামের নেভির এরিয়াল কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল জিল্লুর রহমান।
” কমান্ডার, ইমিডিয়েটলি আমার রুমে আসো ! ”
– ইয়েস স্যার।
ব্যাপার কি ! হটাত এত জরুরী তলব ! আর স্যারের গলাটাও সুবিধার মনে হয়নি। নিশ্চয়ই সিরিয়াস কিছু হয়েছে ! কিন্তু হয়েছেটা কি আসলে ? অনুমান করতে পারছি মনে মনে !
রিয়ার অ্যাডমিরালের রুমে গিয়ে বুঝলাম যা অনুমান করেছিলাম সেটাই হয়েছে ! সেখানে উপস্থিত চট্টগ্রাম এরিয়ার দায়িত্বশীল প্রায় সব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। আর যারা সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি তারা কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দিয়েছেন। ঢাকার সচিবালয় থেকে যোগ দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ! সাথে রয়েছেন মন্ত্রীসভার সিনিয়র ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা। রয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সকল আমলারা। আর তিন বাহিনীর প্রধানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
আলোচনা শুরুর আগে সবাইকে দেড় দিন আগে ধারণ করা একটি ভিডিও দেখানো হয়। ভিডিওটা সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জাপানের একটা প্রদেশে অদ্ভুত কিছু একটা প্রচন্ড আক্রমণ চালিয়েছে ! এছাড়াও কোরিয়া, আমেরিকা, চীন, রাশিয়াতেও হামলা হয়েছে। কারা করেছে কেউ জানে না ! তবে স্যাটেলাইট থেকে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে যে ” আক্রমণের ধরণ দেখে তারা ৮০ শতাংশ নিশ্চিত এটা কোন পৃথিবীবাসীর আক্রমণ নয়। ”
সোজা বাংলায়, ” আক্রমণ করেছে এলিয়েনরা ! “
গত দেড় দিনে প্রচন্ড আক্রমণ তারা পুরো বিশ্ব জুড়েই চালিয়ে যাচ্ছে ! যদিও মূল আক্রমণ শুরু হয়েছিল প্রায় ছয়দিন আগে।
দুইঃ
চেয়ারে একটু নড়েচড়ে বসলো সবাই। একটা অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেলো আমার শরীরে ! ট্রেনিং করেছি মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার। আত্ববিশ্বাস আছে যে, পৃথিবীর যে কোন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবো। কিন্তু তাই বলে এলিয়েন !
প্রধানমন্ত্রী বলে চলেছেন, ” আমাদের ভাগ্য ভালো আমাদের এইদিকে এখনো আক্রমণ হয়নি। তবে সর্বশেষ খবর চীন থেকে এখন এলিয়েনরা মিয়ানমারে আক্রমণ করেছে ! সুতরাং আমাদের এইদিকে চলে আসতে সময় লাগবে না। আমাদের সবাইকে দ্রুত প্রস্তুত হয়ে যেতে হবে। “
” আমাদের এই দিকে সব ব্যবস্থা নেয়া শেষ, ম্যাডাম। টহল জাহাজগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত যুদ্ধ জাহাজগুলো। সেনাবাহিনীর যুদ্ধযান, মিসাইল আর বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত। যে কোন হামলার জবাব আর পাল্টা আক্রমণের জন্য আমরা তৈরি। ” জানালেন রিয়ার অ্যাডমিরাল জিল্লুর।
– ঠিক আছে। আমাদের কাজ আমরা করে রাখি বাকিটা আল্লাহ ভরসা।
শেষ হয়ে গেলো কনফারেন্স। ” কমান্ডার আব্দুল্লাহ, তোমাকে বিএনএস খালিদ-বিন-ওয়ালিদ নিয়ে প্রস্তুত হতে হবে। ”
– ওকে স্যার।
– হুম। এখনই চলে যাও। বন্দর থেকে ৫ নটিক্যাল মাইল দূরুত্বে অবস্থান করবে তোমরা।
– ইয়েস স্যার।
বিএনএস খালিদ-বিন-ওয়ালিদ ! বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম ডেস্ট্রয়ার। শক্তি ও সক্ষমতার দিক দিয়ে এর তুল্য জাহাজ পৃথিবীতে খুব কমই আছে। বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধযাহাজ বলা যায় এই জাহাজটাকে। এই জাহাজের কমান্ডার হিসেবে গত ছয় মাস ধরে দায়িত্ব পালন করে চলেছি।
তিনঃ
বিএনএস খালিদ-বিন-ওয়ালিদ নিয়ে যে জায়গাতে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেখানেই অবস্থান করছি আমরা। খবর পেয়েছি একটু আগেই বাংলাদেশের বান্দরবানে আক্রমণ করেছিল এলিয়েনরা। যদিও সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে সেটার প্রতিরোধ করতে পেরেছে তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ! এইভাবে ক্ষতি হতে থাকলে কতদিন সামাল দেওয়া যাবে সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে কারণ বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে এগুলো সব স্কাউট শিপের অধীনে পরিচালিত আক্রমণ। ওদের মেইন স্পেস শিপ কোথায় আছে সেটা এখনো নির্ণয় সম্ভব হয়নি, তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞানীরা।
কিন্তু কথা হচ্ছে কতদিন লাগবে ! আর ওরাই বা বসে থাকবে কতদিন ? ওরা আক্রমণ করলে কিভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব ? একের পর এক প্রশ্ন পৃথিবীবাসীর মনে। আর যদিই বা ওদের অবস্থান নির্ণয় করা যায়ও বা ওদেরকে ধ্বংস করবেই বা কি করে !
হটাতই রেডিওতে মেসেজ আসলো। হেডকোয়ার্টার থেকে মেসেজটা এসেছে। মেসেজে আমাকে জাহাজ নিয়ে ৪৭ নটিক্যাল মাইল দূরে বাংলাদেশের অষ্টম নৌ-বহরের সাথে যোগ দিতে বলা হয়েছে। নৌ-বাহিনীর একমাত্র যুদ্ধবিমান বহনাকারী জাহাজ বিএনএস ওমর ফারুক সাথে রাশিয়া ও চীন থেকে আমদানিকৃত দুটি ডেস্ট্রয়ার, আমেরিকা থেকে উপহার পাওয়া ও কোরিয়া থীক ক্রয় করা তিনটি ফ্রিগেট আর দুটি সাবমেরিন। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নৌবহর হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের এই অষ্টম নৌ-বহর এমনিতেই যথেষ্ট শক্তিশালী। এর পাশাপাশি যদি বিএনএস খালিদ-বিন-ওয়ালিদ এর সাথে যোগ দেয় তাহলে সেটা পৃথিবীর যে কোন দেশের সামরিক বাহিনীর জন্য দুঃস্বপ্ন ! কিন্তু আমাদের লড়াই যে ভিনগ্রহের এলিয়েনদের সাথে !
চারঃ
অষ্টম নৌ-বহরের সাথে যোগ দেওয়ার পরে জানতে পারলাম কেন আমাদেরকে এই বহরে যুক্ত হতে বলা হয়েছে !
বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট ” বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ” এর রিপোর্ট অনুসারে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের মিলনস্থলে এক অদ্ভূত আকৃতির জাহাজ ধরা পড়েছে। অনুমান করা হচ্ছে যে সেটা হচ্ছে এলিয়েনদের পৃথিবীতে আক্রমণে নেতৃত্ব দেওয়া মেইন শিপ বা কমান্ডার শিপ।
স্বাভাবিকভাবেই এই শিপকে ধ্বংস করতে সর্বোচ্চ শক্তির প্রয়োজন। আর তাই এই নবম নৌ-বহর গঠন। আমেরিকার সপ্তম নৌ-বহর আর রাশিয়া, চীনের শক্তিশালী নৌ-বহর এলিয়েনদের আগের আক্রমণেই অনেকটা নিস্তেজ হয়ে গেছে, যদিও বাংলাদেশে আগে আক্রমণ হয়নি দেখে এখনো আমাদের পূর্ণ শক্তি অক্ষত আছে আর সেই জন্যই গোটা পৃথিবীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দায়িত্বটা পড়েছে আমাদের ঘাড়ে !
বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগর মিলেছে বাংলাদেশ উপকূল থেকে প্রায় ৪৮ নটিক্যাল মাইল দূরে। আর আমরা অবস্থান করছিলাম ২৭ নটিক্যাল মাইল দূরে। ওখান থেকেই রাডারে এক শক্তিশালী সিগন্যাল পেলাম যদিও আগে থেকে দূর্বল সিগন্যাল পাচ্ছিলাম।
একটু পরেই ক্যামেরাতে দৃষ্টিগোচর হলো ওই অদ্ভূত যানটা। অষ্টম নৌ-বহরের কমান্ডার কমোডর রাশেদুজ্জামান নির্দেশ দিলেন এগিয়ে যাওয়ার। উনি নিজেই চীন থেকে আমদানিকৃত ডেস্ট্রয়ার বিএনএস রুহুল আমিন নিয়ে এগিয়ে গেলেন। পিছনেই অন্যান্য জাহাজগুলো। পুরো বহরের সব জাহাজের শেষে রয়েছে আমার নেতৃত্বাধীন বিএনএস খালিদ-বিন-ওয়ালিদ।
পাঁচঃ
আধমাইল আগানোর পরেই হটাতই কোন পূর্ব নিদর্শন ছাড়া এলিয়েনদের ওই অদ্ভূত যানটা এর কিম্ভূতাকার কতগুলো বিশাল আকৃতির ধাতব পাইপ বের করা শুরু করলো। পাইপের মুখ অত্যন্ত চিকন হলেও দেখে অনুমান করলাম এগুলো মিসাইল গান। সাথে সাথেই মিসাইল ছোড়ার নির্দেশ দিলেন কমোডর। গর্জে উঠলো বিএনএস রুহুল আমিনের মিসাইল গান ! প্রচন্ড বেগে গিয়ে আঘাত করলো এলিয়েনদের বিশাল আকৃতির শিপে !
পৃথিবীর যে কোন জাহাজ হলে এই আঘাতে জাহাজ ডুবে যাওয়ার কথা কিন্তু এলিয়েনদের শিপের কেবল অল্প কিছু ছাল চামড়া উঠলো যেন ! পর মূহুর্তেই গর্জে উঠলো এলিয়েদনের মিসাইল গানগুলো। কিছু বুঝে উঠার আগেই একের পর এক আঘাতে মূহুর্তেই ধ্বংস হয়ে গেলো বিএনএস রুহুল আমিন। অবাক হয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না আমাদের !
বিএনএস রুহুল আমিনের সাথে সেখানেই চিরতরে হারিয়ে গেলো বাংলাদেশের অষ্টম নৌ-বিহারের কমান্ডারসহ ঊর্ধতন কর্মকর্তারা। দ্রুত পিছিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলাম সব জাহাজ আর সাবমেরিনকে। একটু পরে তাদের অস্ত্রের রেঞ্জের বাইরে এসে মেসেজ দিলাম হেড-কোয়ার্টারে ! হেড-কোয়ার্টার থেকে পুরো বহরের কমান্ডিং-এর দায়িত্ব দেওয়া হলো আমাকে।
প্রচন্ড ক্রোধে শরীর কাঁপছে আমার ! তখনই বিমান আক্রমণের নির্দেশ দিলাম। নির্দেশ দেওয়া মাত্রই একের পর এক বিমান আক্রমণ চলতে লাগলো। একটু পরে ওই মিসাইল গানগুলো আকাশমুখী হয়ে উঠে ধ্বংস করে দিতে লাগলো বিমানগুলোকে !
দ্রুত ফেরত আসার নির্দেশ দিলাম। কিন্তু তাও ধ্বংস হলো চারটি বিমান !
ছয়ঃ
প্রচন্ড শক্তিশালী এলিয়েনদের সাথে লড়াই করবো কি দিয়ে বুঝতে পারছিলাম না। কিছুতেই ওদের যেন কিছু হচ্ছে না !
এইভাবে ওদের সাথে পারা সম্ভব না। আমাদের অবশ্যই ওদের দূর্বলতাটা বের করতে হবে, কিন্তু কোথায় ওদের দুর্বলতা ! আদৌ কি ওদের দূর্বলতা আছে !
ভাবতে লাগলাম … হটাতই বিদ্যুতের চমকের মত মনে পড়লো ! আচ্ছা আমরা যখন প্রথমে ওদের রেঞ্জে গিয়েছিলাম তখন কিছু ওরা কোন আক্রমণ করেনি। আক্রমণ করেছে আমরা আক্রমণ করার পরে। আবার যখন আক্রমণ করে বিএনএস রুহুল আমিনকে ডুবিয়ে দিয়েছিল তখন আমরাও ওদের রেঞ্জে ছিলাম কিন্তু আমাদের কিছুই করেনি। তাহলে ওদের এই আক্রমণ সিস্টেম কি অটো !! কেউ ওদের রেঞ্জে গিয়ে যদি ওদের দিকে আক্রমণের প্রস্তুতি নেয় তবেই কি ওরা পাল্টা আক্রমণ করে ! পরীক্ষা করা দরকার। জানি অনেক ঝুকিপূর্ণ তাও আমার ধারণাটা শেয়ার করলাম সবার সাথে।
দুইজন পাইলট সাথে সাথেই রাজি হয়ে গেলো। একটু পরেই দুইটা বিমান উড়াল দিলো এলিয়েনদের শিপকে উদ্দেশ্য করে। তবে কোন আক্রমণের প্রস্তুতি না নিয়েই। দুইবার চক্কর দিয়ে এলো বিমানগুলো। কিন্তু ওই শিপ থেকে কোন প্রতিক্রিয়াই দেখা গেলো না। বুঝে গেলাম যে ওদের সব সিস্টেমই অটো। আমার কাছে এখন এটাই ওদের সবচেয়ে বড় দূর্বলতা। এখন আক্রমণের পরিকল্পনা করতে হবে।
সাতঃ
পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনপাশ থেকে ঘিরে ওদের রেঞ্জে প্রবেশ করলাম আমরা। কোন অস্ত্র তাক না করে ! স্বাভাবিকভাবেই কোন আক্রমণ হলো না। এইবার নোঙর ফেলার নির্দেশ দিলাম ! এরপরেই অস্ত্র তাক করতে বললাম তবে বিপরীত দিকে !
আমার উদ্দেশ্য নোঙরটা যখন ওদের জাহাজে গিয়ে ঠেকবে তখন অস্ত্র সঠিকদিকে চলে যাবে। আর এতক্ষণ আমাদের অন্যদিকে অস্ত্র তাক করা দেখে ওদের অটো ডিফেন্স সিস্টেম দ্বিধাদন্দ্বে পরে যাবে। ফলে অল্প কিছু সময় পাওয়া যাবে। আর এই সময়ের মধ্যেই অন্য জাহাজ আর সাবমেরিনগুলো আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে আক্রমণ চালাবে।
যা ভেবেছিলাম তাই হলো। আমাদের বিপরীতমুখী অস্ত্র তাক করা দেখে তারা কিছুটা হতচকিত হয়ে গেলো। বুঝে উঠতে পারছিলো না যে কি করবে ! একটু পরেই যখন অস্ত্র ওদের দিকে তাক হয়ে গেলো তখনই আক্রমণের নির্দেশ দিলাম। প্রচন্ড শব্দে গর্জে উঠতে লাগলো পৃথিবীর অন্যতম শক্রিশালী যুদ্ধজাহাজ বিএনএস খালিদ-বিন-ওয়ালিদের শক্তিশালী মিসাইল গান। একই সঙ্গে শুরু হলো ত্রিমুখী আক্রমণ। অপ্রস্তুত অবস্থায় আক্রান্ত হয়ে অটো সিস্টেম ঠিক করতে পারছিল না যে কি করবে ! কিন্তু ঠিক করার আগেই ধ্বংস হওয়া শুরু হলো তাদের শিপের। একটু পরেই দেখি মিসাইল গানগুলো সবগুলো জাহাজ বরাবর তাক করা শুরু হয়েছে ! সম্ভবত অটো থেকে ম্যানুয়ালে এসেছে। এইবার নির্দেশ দিলাম বিমান হামলার।
নির্দেশ দিতেই শুরু হলো বিমান হামলা। প্রচন্ড বেগে পাল্টা আক্রমণ শুরু হলো এলিয়েনদের শিপ থেকেও। কিন্তু অষ্টম নৌ-বহরের আর দুইটা জাহাজ ধ্বংস করে দিতে পারলেও এক সময় ধ্বংস হয়ে যায় শিপটা !
পরিশিষ্টঃ
এলিয়েনগুলো কোথা থেকে এসেছে এই নিয়ে এখনো সন্দিহান বিজ্ঞানীরা। তবে পৃথিবীবাসী আপাতত নিরাপদ। বিশেষ কৃতিত্বের জন্য বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মাননা। শহীদ অফিসার আর সৈনিকদের দেওয়া হয়েছে মরণোত্তর সম্মাননা। অনেক সম্মাননা পেয়েছি আমিও কিন্তু মনে স্বস্তি এইজন্য ” এলিয়েনদের পরাজিত করার সামর্থ্যও আমরা রাখি ! আসলেই নিজেকে সৃষ্টির সেরা জীব বলে মনে হচ্ছিল ! ”
৪৮৪জন ৪৮৩জন
0 Shares

২টি মন্তব্য

  • অপার্থিব

    সেমি সায়েন্স ফিকশন লেখার চেষ্টা করেছেন তার জন্য সাধুবাদ রইলো। কিন্ত লেখায় কিছু প্রশ্নের উত্তর নেই। যেমন এলিয়েনরা কেন এই বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর মানুষকে আক্রমন করেছে ? আমরা জানি পৃথিবীতে অধিকাংশ যুদ্ধ হয় সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে, এর বাইরে আদর্শ গত কারণেও যুদ্ধ হয় । সেটা জাতীয়তাবাদ, ধর্ম বা রাজনৈতিক আদর্শ (যেমনঃ কমিউনিজম) কেন্দ্রীকও হতে পারে। উপরোক্ত কারণে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে আক্রমন করলে অপর পক্ষ আত্ব রক্ষার খাতিরে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এখন প্রশ্ন হল এলিয়েনরা কেন বাংলাদেশ আক্রমন করেছে ? আমাদের দুনিয়ায় আমরা যেগুলোকে সম্পদ বলে গণ্য করি তাদের দুনিয়ায় সেগুলো সম্পদ বলে গণ্য না ও হতে পারে। ধর্ম , রাজনীতি, কিংবা জাতীয়তাবাদ তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার কথা না কারণ তাদের সমাজ ব্যবস্থার ষ্ট্রাকচার ভিন্ন হওয়ার কথা । এখন আপনি যদি তাদের আক্রমনের নুতুন কোন ব্যাখ্যা হাজির করতেন তাহলে ভাল হত, লেখক হিসেবে আরো বেশি ক্রিয়েটিভিটি দেখানো যেত।

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ