মান্নান হত্যা

মাসুদ চয়ন ১ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ০১:২৪:৫৭পূর্বাহ্ন সমসাময়িক ৬ মন্তব্য

#বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন বয় মান্নান মারা গেছে_
মান্নানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।চুরির অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে।এই হত্যার লিড প্রদণকারী তিনজনই ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা।তাদের মধ্যে একজনের নাম মতিন_বাকি দু’জনের পরিচয় সম্পর্কে এখনো অবগত হতে পারিনি।ছেলেটিকে প্রথম মেয়াদে পিটিয়ে আহত করা হয়েছিলো।তারপর জুনিয়র শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়ে দ্বিতীয় দফায় পিটিয়ে আধমৃত অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিলো।এরপর সেই রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত দেহটিকে আবারো রাতভর বিরতি নিয়ে আঘাতে আঘাতে পাশবিকভাবে হত্যা করা হলো।
আপনাদের কাছে হয়তো শুনতে খারাপ লাগছে।একটু আধটু শোক প্রকাশ করবেন_আর কিইবা করতে পারবেন বলুন!আচ্ছা ভাই বোনেরা আমরা  জাতিগত ভাবেে এমন কেনো!কবে জাগ্রত চেতনার উদয় হবে আমাদের মধ্যে। কবে মানুষ হবো!সেই টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের উচ্চ লেভেলের শিক্ষার্থীদের ভিড়ে কি কোনো মানবিক মানুষ ছিলোনা?১০/১২ জন জানোয়ারকে প্রটেকশন দেয়ার মতো কি এমন কেউ ছিলোনা।এত্তো এত্তো সময় পাওয়ার পরো ছেলেটাকে কেনো রক্ষা করা গেলোনা। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভিড়ে কি জনা ত্রিশেক প্রকৃত মানুষ ছিলোনা।এসব বলে কি লাভ বলুন,বললে আমার প্রতি ঘৃনা জন্মায় অনেকেের ,মনে মনে ভাবেন এই শালা কয় কি,এটা কি তোর দায়িত্ব,তুই মিয়া গল্প কবিতা ল্যাখ।এদেশের প্রক্ষাপট ভিন্ন তা আমি জানি।আমার আর্টিকেলটাও খুব কম মানুষের কাছে গুরুত্ব পাবে,সেটাও জানি।কারণ আমি একজন চোরের পক্ষ নিয়ে অনেক বড় রকমের আর্টিকেল লিখেছি।
এদেশের শিক্ষিত ছেলেমেয়েরাই অতিরিক্ত আত্নকেন্দ্রিক হয়ে গেছে,নিজেদের পরিবার পরিজন নিয়েই নিমগ্ন থাকতে চায় ।ছেলেটি আজ ক্যান্টিন বয় হওয়ায় ঘটনাটাকে ভাইরাল করা হচ্ছেনা,প্রভাবশালীদের নিভৃতে আড়ালে লুকিয়ে রাখাটা সহজ হয়ে যাচ্ছে ।সে যদি শিক্ষার্থী/শিক্ষক ডাক্তার/লেখক/ ব্লগার/কিংবা সাংবাদিকের মতো উচ্চ লেভেলের কেউ হতো,নতুবা একটু আধটু সামাজিক মর্যাদা থাকতো তাহলে সারা বাংলাদেশ বিদ্রোহ বিক্ষোভের ঝড় তুলতো।ঢাকা ভার্সিটির ফটকে ফটকে ব্যানার ফেস্টুন ঝুলতো।পথে পথে মিছিলের কল্লোলের আবাহন স্পষ্ট হতো।বুদ্ধিজীবীদের টাইম লাইন জুড়ে আগুনের ফুলকি উড়তো।টকশো কাঁপিয়ে দিতো দালালের বাচ্চারা।বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের নিউজফিডের প্রধান সংবাদ বলে সম্প্রচার করা হতো একের পর এক।
কিন্তু,এসবের কিচ্ছু হয়নি,আদৌ হবেওনা।কারণ,মান্নান আত্নপরিচয়ে একজন ক্যান্টিন বয়।সারাদিন একে অপরের চড় থাপ্পড় গালি লাত্থি খেয়ে বেড়ে ওঠা বাড়ন্ত ছেলে।তাই ওকে নিয়ে লিখতে গিয়ে বাংলাদেশের হৃদয়ে সন্মানহানির মতো বর্ণ প্রলেপ জাগ্রত হয়,তার পরো আমি লিখবো।যদিও জানি এসব লিখে কোনো লাভ হবেনা।যখন এদেশে অর্থ বিত্ত্ব/প্রভাবের জৌলুশ দিয়ে মানুষকে বিবেচনা করা হয়,তখন আমার ক্ষুদ্র আর্টিকেলটি আপনাদেরকে কতোটা দংশন করেছে,সে বিষয়ে তীব্র সংশয় থেকেই যায়।কিন্তু,আমাকে খুব খুব দংশন করেছে।আমি ওর মৃত্যুতে খুব খুব ব্যথিত।আমার রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই,হাতে অস্ত্র নেই।এই কলমই ভরসা,তাই কলম দিয়ে কিছু কথা লিখে গেলাম।আমি এই হত্যার বিচার চাইনা।বিচার চেয়ে কি লাভ!কার কাছে বিচার চাবো,এই নিচু শ্রেনীর অবহেলিত ছেলেটার জন্য কেউ কিছুই করতে পারেনি,এখনো পারবেনা,ওকে শান্তিতে ঘুমোতে দিবেনা মরণের পরেও।
এদেশের শিক্ষিত শ্রেণির কাছে একটি প্রশ্ন রেখে গেলাম_আপনারা শিক্ষিত হয়ে প্রগতিশীলতার নামে পুঁজিবাদের প্রবল শক্তির পক্ষে দালালি করছেন_এ জন্য নিম্ন শ্রেণির মানুষরা মানবেতর জীবন যাপন করছে।আই হেইট দিস সিস্টেম,আই জাস্ট বিলিভ দিস হিউম্যান বিয়িং।যে বিয়িং টাই হয়নাই,হয়নাই,একটুও হওনাই।আপনি যদি প্রকৃত মানুষ হয়ে থাকেন,আর দশটি ভাইরাল ইস্যুর মতো অবাঞ্চিত ছেলেটাকে নিয়ে কিছু কথা লিখুন।অবাঞ্চিত বলে চুপ থাকতে পারেননা।ক্ষমতাসীন দলের নেতার ভয়ে কুঁকড়ে যাবেননা।বিচার চেয়ে নয় আত্ন বলীয়ানে বিক্ষোভেের ঝড় তুলুন।মান্নানো আমাদের মতো মানুষ,ওকে ক্যান্টিন বয় বলে ছোটো করবেননা।ও অনেক কষ্ট নিয়ে মরে গেছে।ওকে একটি রাষ্ট্র হত্যা করেছে।তার জমিনেই আপনার আমার বসবাস। এ জমিনে এমন লক্ষ লক্ষ অবাঞ্চিত হান্নানের মর দেহ শুয়ে আছে।ওদের পক্ষে কেউ কথা বলেনি কেউ না!
(মাসুদ চয়ন)

১৯২জন ১০৩জন
13 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য