মানুষ প্রানীই বটে।

রিতু জাহান ১৬ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১১:১০:৩৬অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১০ মন্তব্য

যদি কেউ জিজ্ঞেস করে ভালো কাজের ফলাফল কি?
উত্তরে বলব, টোটালে শুন্য। না, ভালো কাজের ফলাফল আসলেই ভালো হয়না। ভুল করেছে সেই ব্যাক্তি যে তার আদর্শ ধরে রেখেছে। উপলব্দি হয়, জীবনের ধরনটা পাল্টে ফেললে সে ভালো থাকতো। কি আর হতো, তার আত্মাটাই না হয় মরে যেতো! অন্তত সে এবং তার কাছের মানুষগুলো নষ্ট সমাজের খোকলা সন্মানটা পেতো। কিন্তু আত্মা মরে গেলেে তো সে আর মানুষ রইলো কি? শুধুমাত্র প্রাণীই রয়ে যাবে। মানুষ হয়ে বেঁচে থাকুক আজীবন মানুষ হয়ে থাকা মানুষগুলো। নিজ বিশ্বাসকে তুলে দিয়েছি এমন সব মানুষদের হাতে। পূূণ্যগুলো দেয়াল হয়ে আটকে দিবে সকল বিপদ আপদকে। তাদের কোনো ক্ষতি আল্লাহ্ হতে দিবে না।
যার প্রাণ আছে সেই প্রাণী। মানুষ প্রাণী, একটা হিংস্র জানোয়ার বাঘ সিংহ ও প্রাণী, ফণা তোলা সাপ, হায়েনা, লোমড়ি ঐ শেয়ালও প্রাণী। ঐ যে কাঠবিড়ালি ওটাও প্রানী। মা ক্যাঙ্গারু সেও প্রানী। প্রতিটা মানুষের মাঝেও এক এক ধরনের জংলী প্রাণী বাস করে।
কিছু তা ক্যাঙ্গারু ও কাঠবিড়ালির মতো, আবার কিছু বিষধর ফণাধরা সাপের মতো, শেয়ালের মতো। আবার কিছু ঐ বাঘ ও সিংহের মতো। আমার মনে হয় হিংস্রতার দিক থেকে সাপকে জানোয়ার বলা চলে না। ওর একটাই নাম, ‘সাপ।’ যা শুধু বিষে ভরা। আবার কার্তিক মাসের কুত্তা টাইপেরও কিছু মানুষরূপি জানোয়ার আছে। আমাদের এলাকায় বলে,”কাম নাই কুত্তার আলে আলে দৌড়।” মানে হইলো, কিছু মানুষ আছে কোনো কাজ জানে না। কিন্তু আজাইরা ফাল পাড়ে।
নোটঃ একবার ডিসকভারিতে মা ক্যাঙ্গারুর প্রচন্ডরকম যুদ্ধ দেখেছিলাম অন্য এক ক্যাঙ্গারুর সাথে। মা ক্যাঙ্গারু যে কোনো কিছুর বিনিময়ে তার সন্তানকে টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছে। হুম, কখনও কারো কারণে শান্ত মনে ঝড় উঠলে সব সময় তা সহ্য হবে তা কিন্তু না। কারো হিংস্রতার কারনে সন্তানের ভবিষ্যৎ ও সারাজীবনের অর্জিত মানসন্মান নষ্ট হলে তা মেনে নেওয়া কষ্টকর। এবং মনে হয় এটা গোনা। সন্তানের  ব্যাপারে কখনও কোনো মা আপোষ করে না। করা উচিৎও না।
এটা জিলহজ্জ মাস। আমি সব সময় নিজের জন্য এতোটুকু দোয়া করি যে, প্রাণী হিসেবে আমাকে দিয়ে যেনো কারো কোনো ক্ষতি না হয়। আমি পূণ্য হিসেবে এটা বিশ্বাস করি যে, কারো ক্ষতি না করাটা আমার জন্য যেনো আশির্বাদ হয়। দুনিয়াতেই সবকিছুর হিসেব হবে ও হয় বলে আমি বিশ্বাস করি। একটা স্বার্থপর মহিলার গল্প দিয়ে উদাহরণটা দেই। এটা আমার চোখে দেখা বাস্তব ঘটনা। নামটা শুধু পাল্টে দিলাম।

*আমি তখন পাবনা সুজানগরে। আমি যে এলাকায় থাকতাম এলাকাটার নাম ছিলো ঘোষপাড়া। আমার ফ্লাটের পাশের বিল্ডিংএ থাকতো এক জনৈক মহিলা। নাম লিনা। তিনি বেশ শিক্ষিত এবং স্মার্ট মহিলা। কারণ ওটা একেবারেই মফস্বল তাই সেই হিসেবে সে স্মার্ট ও চালাক। তার ছোটো ভাই বিদেশে থাকতো। বোনটা তার বেশ স্মার্ট ও চালাক চতুর বলে ভাইটা টাকা পয়সা এ বোনের নামে পাঠাতো। কিন্তু বোন তার মায়ের পেটের ভাইর সে সব টাকা পয়সা মেরে দিলো। নিজের মেয়ের বিয়ে দিলো বেশ ধুমধাম করে। আমি সে বিয়েতে উপস্থিত ছিলাম। গাড়ি, প্রচুর গয়না দিয়ে মেয়েকে বিয়ে দিলো। মেয়ের জন্য যে রুমটা তৈরি করেছিলো তা আসলেই দেখার মতো। সেই ছোটো ভাই দুঃখ করে শুধু বলেছিলো,” আমার ছেলের হকটা মেরে দিলি আপা, আল্লাহ্ সহ্য করবে না।”
আল্লাহ্ আসলেই সহ্য করেনি। লিনা শুধু তার ভাইর সাথে বেঈমানী করেনি। বেঈমানী করেছিলো গ্রাম সম্পর্কে এক ভাইর বউ এর সাথেও। একসময় তাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু দুজনের কোনো কারনে বিয়ে হয়নি। তারা দুজনেই আলাদা আলাদা মানুষকে বিয়ে করে, সংসার করে। বাচ্চা হয়। কিন্তু সম্পর্ক থেকে তারা কখনও বের হয়না। একই বিল্ডিংএ একই ফ্লোরের পাশাপাশি ফ্লাটে তারা থাকতে থাকে। লিনার স্বামী প্রচন্ড দুঃখ নিয়ে অন্য শহরে থাকতো। লিনার সেই প্রেমিকের স্ত্রীও অন্য শহরে থাকে।
যাইহোক, লিনার সুখটা চলছিলো পুরোদমে। কিন্তু বিধাতার মাইর দিতে দেরি হলেও দিতে ভুল করলো না। লিনার সেই আদরের মেয়ের বাচ্চা হতে গিয়ে মারা গেলো খুব কষ্ট পেয়ে। সেই একই দিনে লিনার স্বামীও মারা গেলো। এক সাথে চলে গেলো চির অভিমানে বাবা মেয়ে এ পৃথিবী ছেড়ে।
একদিন গিয়ে দেখি লিনার মেয়ের সেই আলিশান রুমে শুয়ে আছে লিনার সেই ভাইএর ছোটো ছেলেটি।
একা এক শুন্য লিনা শেষ বয়সে শুধু বিল্ডিংটি নিয়ে বসে আছে মৃত্যুর অপেক্ষায়। লিনার সে প্রেমিকও তার নিজ সংসারে ফিরে গেছে। বয়স হলে একটা পুরুষ তার নিজ স্ত্রী সন্তানের কাছে ফিরে যাবেই।
আচ্ছা এর থেকে বড় শাস্তি কি আর কিছু আছে! নেই।
পাঠক মনে করতে পারেন, লিনার স্বামী মেয়ে কি দোষ করেছিলো?
আমারও প্রশ্ন আসলে বিধাতার বিচারটা আসলে কেমন?

**********************************
আমার এক আমিতে অনেক আমি
এই আমার বেশ থাকা
সামনের সে পথে চলতে পিছনের বাঁকা অন্ধকার পথে আলো ফেলি
মনে রাখি, মনে রেখে চলি
এ বাঁক ও বাঁক, বিক্ষিপ্ত ভয়ঙ্কর সব পথের বাঁক।
চরমপন্থী মন ভালবাসে, শ্রদ্ধায় মাথা নত
স্নেহে দুহাত প্রসারিত হয়।
সুন্দর চামড়ার আড়ালে ফণা ধরা সাপ
পাত্রভেদে এসব অপাত্রে প্রতিহিংসা স্থির হয়ে থাকে অগ্নিশিখার মতো।
হেলে না, দোলে না এপাশ ওপাশ।
থাবা তুলতে চায়, নিজ সত্ত্বার মাঝে ঘুমিয়ে থাকা হিংস্র কোনো জানোয়ার।
আজ জিলহজ্জ এর আধখানি চাঁদ
কোমল, স্নিগ্ধতায় হেসে আছে মাথার উপর
রুক্ষতা সব ঝেড়ে প্রতিহিংসার প্রতিরোধে অগ্নিশিখা নেভাতে
উর্ধলোকে হাত জোড় করে মোনাজাতে মাথা নত।
শুধু বুকের পাঁজর ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে কিছু দীর্ঘশ্বাস।
তাতে মিশে থাকে অনিচ্ছার কিছু অভিশাপ।
উপলব্দি হয় আমি এক সাধারণ মানুষ।
,,,,,রিতু,,,,,
১৬.৮.১৮।কুড়িগ্রাম।

৪৪৭জন ৪৪৪জন
0 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ