জানাজায় দাঁড়িয়ে একজন ইমাম বলেছিলেন–একজন মানুষের মৃত্যু বেঁচে থাকা মানুষদের জন্য একটা মেসেজ বা বার্তা।  আর বার্তাটা হল আমাদেরকেও এই মৃত ব্যক্তির মতো একদিন এই সুন্দর আর মায়ার দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমাদের নামাজে জানাজা পড়বেন বেঁচে থাকা মানুষেরা। যেমন আজকে আমরা পড়ছি একজন মৃত ব্যক্তির নামাজে জানাজা যিনি আজকে আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। মানুষ মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। । মৃত্যু প্রতিটি মানুষের জন্য অবধারিত এবং নিশ্চিত গন্তব্যস্থল।

মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে সৃষ্টিকুলের সর্ব শ্রেষ্ট জীব হিসেবে ঘোষণা করেছেন। মানুষের জন্য ধর্মীয় রীতি নীতি অনুশাসন সবকিছু ঠিক করে দিয়েছেন পবিত্র আল কোরআন এবং হাদীসের মাধ্যমে। মানুষ আল্লাহ্‌ প্রদত্ত সকল নেয়ামত ভোগ করবে এবং ভালো মন্দ বিচার করে সদা সর্বদা আল্লাহ্‌র ইবাদত বন্দেগী করবে। আল্লাহ্‌ প্রদত্ত সকল নেয়ামতের জন্য মানব জাতি আল্লাহ্‌র দরবারে শোকরগুজার হবে।

ইসলাম শান্তির ধর্ম,মানবতার ধর্ম। অন্য ধর্মের উপর জুলুম না করার ধর্ম। ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিবেশীর হক পূরণসহ সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা, ঐক্য, সাম্য বজায় রাখার ধর্ম। মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন মানুষকে বিদ্যা, মেধা, বুদ্ধি, জ্ঞান দিয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।  ইজ্জৎ আর আত্ম-সম্মানবোধ নিয়ে জীবন পরিচালনা করার ব্যবস্থা করেছেন। জাকাত প্রদান করে সমাজে দারিদ্র বিমোচনের জন্য সম অধিকারের ভিত্তিতে দুঃস্থ দুঃখী মানুষের পাশে,আর্ত মানবতার সেবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তির জায়গা নেই। গরীব দুঃখী আত্মীয় স্বজনদের সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য বিত্তবানদের প্রতি যথাযথ নির্দেশনা রয়েছে। জোর জবরদস্তি করে এতিমের, অসহায় মানুষের সম্পদ দখল না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আল কোরানে। ইসলামে ব্যবসাকে হালাল করা হয়েছে সুদকে হারাম করা হয়েছে। ওজনে না ঠকানোর কথা বলা হয়েছে। খাদ্য দ্রব্য সহ অন্যন্য নিত্য প্র্যোজনীয় পণ্যের মজুদের ব্যাপারে, মানুষকে আর্থিকভাবে কষ্ট না দেয়ার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে।  আল্লাহ্‌ রাব্বুলআলামিন হারাম বিষয়, বস্তু আর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এবং হারাম রুটি রুজী থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। নারী জাতিকে ইসলামে মর্যাদার আসনে আসীন করেছে। তাঁদেরকে তাঁদের ইজ্জত আভ্রু রক্ষা করে চলা ফেরার কথা বলা হয়েছে।

আমার মতো মানুষের পক্ষে ধর্মের পুরোপুরি ব্যাখ্যা দেয়া অল্প কথায় সম্ভব নহে। তবে ইসলাম সম্বন্ধে সঠিক জ্ঞান আহরণের জন্য তাগাদা দেয়া হয়েছে। ধর্মের মূল ব্যাপার গুলো সকল মুসলমান বুঝতে সক্ষম এবং এর জন্য মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল মানুষের জ্ঞান ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে দিয়েছেন মেধা, বিদ্যা আর বুদ্ধি দিয়েছেন।  সবচেয়ে বড় কথা আল্লাহ্‌ প্রদত্ত বিধি বিধান ধর্মীয় অনুশাসন না মানলে হাশরের ময়দানে শেষ বিচারের দিন জাহান্নামে পতিত হতে হবে তাও সকল মুসলমানের অজানা নয় মোটেও। আমরা সব জানি এবং বুঝি কিন্তু ব্যাক্তি, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে তা আমল করিনা বা পালন করিনা। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, রীতিনীতি নিয়ে আমরা বড়ই উদাসীন।

আমরা খোলা আর সাদা চোখে ব্যাক্তি, পরিবার, সমাজ জীবনে কি দেখছি। ইসলামকে কেউ কেউ অপব্যবহার করে ধর্মের নামে রাজনীতি করছে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে ধর্মের নামে। ধর্মীয় উগ্রবাদকে উসকে দিয়ে অন্যান্য ধর্মালম্বীদের ওপর আঘাত করছে। বেহস্ত পাইয়ে দেয়ার নামে শিক্ষিত, অল্প শক্ষিত, দরিদ্র আর এতীমদেরকে জংগি বানানো হচ্ছে।  তাঁদেরকে ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতিমের হক নষ্ট করছে । জোর করে, বাহুবল অর্থ আর প্রভাব প্রতিপত্তি দিয়ে অন্যের বা নিজের স্বজনদের ধন সম্পদ জায়গা জমি দখল করছে। প্রয়োজনে নিজের স্বজনদের হত্যা, খুন, জখম করছে। অবৈধভাবে ধন সম্পদ অর্জন করছে যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধের লেশ মাত্র নেই। ইসলামে ভিক্ষা বৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং সঠিকভাবে যাকাত আদায়ের তাগাদা প্রদান করা হয়েছে। অনেকেই সঠিকভাবে যাকাত আদায় করছেনা । আবার অনেকেই লোক দেখানো এবং ঘোষণা দিয়ে যাকাত প্রদান করতে গিয়ে পদতলে পিষ্ঠ করে মারছে মানুষ।  সুস্পষ্টভাবে মাদক বা নেশা দ্রব্য গ্রহণ বা সেবন নিষদ্ধ করা হয়েছে ইসলাম ধর্মে। কিন্তু এখন হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় নানান রকমের মাদক দ্রব্য। ফলশ্রুতিতে চুরি চামারী, ছিনতাই, রাহাজানী, খুন খারাবী চলছে। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য পদ পদবীর জন্য মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে।বিপথে পরিচালিত করছে যুব সমাজকে। অনেকে আবার মননশীল, সৃষ্টিশীল ,মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন লেখার পরিবর্তে প্রগতিশীলতার নামে ধর্মকে কূটূক্তি করে, ধর্মীয় ভাবাবেগকে উসকে দিয়ে মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানছে। অবাধ তথ্য প্রবাহের কারণে আমাদের সমাজ এবং সংস্কৃতি অপসংস্কৃতির আগ্রাসনের কারণে আমাদের বাঙ্গালীর আপন সংস্কৃতি বা জীবন যাপনে অশ্লীলতা, বেহায়ানাপনা ভর করছে এবং ধর্মীয় অনুশাসন ভুলন্ঠিত হচ্ছে। অনেক মহিলা ধর্মীয় রীতিনীতি না মেনে ফ্রি স্টাইলে চলেফেরা করছে। এতে করে ধর্ষণ, শিশু, নারী কুনজরের শিকার হচ্ছে, শিকার হচ্ছে ধর্ষণ হত্যা খুনের। এর ফলে ব্যাক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক সুসম্পর্ক সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্ব ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে পারিবারিক সহিংসতা ও অস্থিরতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে গীবত, পরনিন্দা, পরচর্চা বৃদ্ধি এবং লোভ হিংসার কারণও আমাদের মধ্যে বিভক্তি আর বিভাজন বেড়েই চলেছে।

আমি একজন মুসলমান। একজন মানুষ। একজন বাংগালী। আমি ধর্মান্ধ নই বরং ধর্মভীরু একজন মানুষ। আসুন আমরা আমাদের বাংগালী ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণের মাধ্যমে সত্যিকারের একজন আল্লাহ্‌র প্রিয় বান্দা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলি। দেশপ্রেম আল্লাহ্‌র একটা নিয়ামত। সে লক্ষ্যে নিজেদেরকে দেশপ্রেমিক এবং আল্লাহ্‌ ভীরু হয়ে ভাল আমল করি যাতে পরকালের জন্য নাজাতের কারণ হয় এবং একটি সুষ্ঠু সুন্দর মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলি । আল্লাহ্‌ আমদের হেদায়েত এবং হেফাজত করুণ।

ছবিঃ সংগৃহীত।

১৫৪জন ৪৭জন
0 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য