( শুরুর আগে: ইসলাম ও বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে মৌলিক একটা লিখা শুরু করেছি। এই লিখাটি কয়েক পর্বে ভাগ হতে পারে। আস্তে আস্তে লিখছি। এই লিখাটি শেষ করতে আপনাদের সহযোগিতা ও চাইব। ক্ষেত্র বিশেষে যে কোন সংশোধনী ও পরিমার্জনের পরামর্শ আন্তরিকভাবে গ্রহন করা হবে। ধন্যবাদ )

বিশ্ব এখন স্পষ্টভাবে দুটি ধারায় বিভক্ত। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজব্যবস্থা, শিক্ষা সহ সব ধরণের জাগতিক কার্যক্রম এই দুই ধারায় নিয়ন্ত্রন হয়। এই দুই ধারার সমস্ত সিষ্টেম, সমস্ত নিয়ম কানুন একটি অপরটির বিপরীত।  এই দুই ধারার অনুসারীদের মধ্যে স্পষ্টতই বিরোধ- সংঘাত লেগে রয়েছে।

কিসের কথা বলছি, এখনও নিশ্চয়ই বুঝতে পারেননি? হেয়ালি বাদ দিয়ে বলি। এই দুটি ধারার একটি হলো ইসলাম অপরটি হলো ইসলামের বিরোধী শক্তি। ইসলাম ধর্মের প্রচারের পর থেকে একদল লোক ইসলাম ধর্মকে শক্ত ভাবে আকড়ে ধরলো। ইসলামের যাবতীয় বিধি বিধানকে মনে প্রানে স্বীকার করে নিল এবং সে সমস্ত বিধি বিধান অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে লাগল। অপর দলটি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদেরকে চিরশত্রু ধরে নিল। তাদের বিনাশ করতে উঠে পড়ে লাগল এবং যেকোন উপায়ে ইসলামকে দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টায় মেতে উঠল।

কেন এই সংঘাত ঃ ইসলাম ও ইসলাম বিরোধীদের এই সংঘাত নতুন নয়। যারা এক আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং সত্যের উপর অবিচল থেকেছে তাদের বিরুদ্ধে বরাবরই জোট বদ্ধ ভাবে আঘাত হেনেছে ইসলামের চির শত্রু ও অন্য ধর্মের অনুসারীরা। ইসলামের সুমহান আদর্শকে দিকে দিকে ছড়িয়ে দিতে যারা নিজের জান ও মালকে আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করে দিয়েছে তারা বরাবরই ইসলামের শত্রুদের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। প্রকাশ্য যুদ্ধ ও গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে বরাবরই ইসলামের উজ্জ্বল আলোক শিখাকে নিভিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইসলাম বিরোধীদের সব ষড়যন্ত্রকে দৃড় ভাবে মোকাবিলা করে ইসলামের সৈনিকরা নিজেদের লক্ষ্যে অটল ও অবিচল ভাবেই এগিয়ে চলেছে।

প্রাক ইসলামীক যুগ: ইসলাম ধর্ম প্রচার হওয়ার আগের যুগটি ছিল অরাজকতার যুগ। যে যুগে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার চরম অধ:পতন ঘটেছিল। জুলুম, নির্যাতন, হত্যা, লুটতরাজ, ধর্ষন ছিল নৈমিত্যিক সহজাত ব্যাপার। পারিবারিক বন্ধন বলতে কোন বিষয় ছিলনা। বাবার মৃত্যুর পর ছেলে মাকে বিয়ে করা কিংবা মেয়ে সন্তানকে জীবিত কবর দেয়া অথবা দাস ব্যবসার মত ঘৃণিত কার্যক্রম চলত তখন। মানুষের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা ছিলনা বলতেই চলে। এমতবস্থায় নির্যাতিত ও নিপিড়ীত শ্রেনীদের পাশে দাড়ানোর মত কেউ ছিলনা। তাদের পক্ষে বলার মত কেউ ছিলনা। সমাজের উচু শ্রেনীর মানুষের কথা তখন আইনের মত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটিও করতে পারতোনা।

ইসলামের যাত্রা শুরু যেভাবে ঃ  নবী করিম (সাঃ) নবুয়ত লাভের পর যখন সাধারণ জনগণের মধ্যে ইসলামের সুমহান বানী ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন তখন সবাই স্বাভাবিক ভাবে সেটাকে গ্রহণ করে নেয়নি। কিছু সংখ্যক লোক ইসলামকে সত্য ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করলেও বেশিরভাগ লোকই ছিল ইসলামের বিরোধী। তখন অন্য ধর্মের অনুসারীরা মুসলমানদের উপর জুলুম নির্যাতন শুরু করলো এবং এক পর্যায়ে মুসলমানদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে তারা যুদ্ধের ঘোষনা দিল। এসময় কাফির ও মুসলমানদের মধ্যে অনেকগুলো যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। তখন সদ্য মুসলমান হওয়াদের মধ্যে ঈমানের প্রচন্ড জোর ছিল। তারা ঈমানের বলে বলিয়ান হয়ে এক আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রেখে কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করতো। কাফির সৈন্যরা সংখ্যায় কয়েক গুন বেশী হওয়া স্বত্বেও মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে পেরে উঠতো না। এভাবে কাফিরদের অসংখ্য যুদ্ধে পরাজিত করে ইসলামের বিজয় পতাকা দিকে দিকে উড্ডীন হয়েছিল। নবী করিম (সাঃ) ওফাতের পর উনার সুযোগ্য সাহাবীদের খেলাফত কালে বিশ্বের প্রতিটি দেশে ইসলামের সুমহান আদর্শ পৌছে গিয়েছিল। মানুষ স্বত:স্ফুর্ত ভাবে ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিল। অর্ধ পৃথিবী ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছিল। ইসলাম ধর্মের উথান ও দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার এই সময়টাকে বিশ্লেষন করে দেখা যায়, ইসলামের সৈনিকরা একদিকে যেমন মানুষের মধ্যে লা ইলাহার দাওয়াত ছড়িয়ে দিচ্ছিল অপরদিকে ইসলামের উপর কোন আঘাত এলে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করছিল। যতক্ষন পর্যন্ত না সরাসরি ইসলামের উপর আঘাত আসে ততক্ষন পর্যন্ত ইসলামের সৈনিকরা কারও উপর জুলুম করেননি। শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রচারে তারা যথেষ্ট ধৈর্য্য, মানবতা, পরিশ্রম, প্রজ্ঞা এবং সাহসের প্রমাণ দিয়ে গেছেন।

চলবে………………..

 

 

 

২০৯জন ২০৯জন
0 Shares

১১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ