একজন ব্যক্তি “Drug Addict” বা “মাদকাসক্ত” এ কথা শুনলে বা জানলে যদি আপনার মনে কোন মাদকাসক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার উদ্ভব হয় তাহলে এই লেখাটি আপনার পড়া উচিত। সামাজিকতার বেড়াজালে নিজেকে বন্দী করে “মাদক” এই সমাজকে ঘুণেধরা পোকার মত কেটে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। আর নেশার মরণ ফাঁদে পা দিয়ে শিশু থেকে শুরু করে তরুন, যুবা, ছেলেমেয়ে, বয়োবৃদ্ধরাও আক্রান্ত হচ্ছেন মাদকাসক্তি নামক ভয়াবহ এক সামাজিক ও মানসিক ব্যধিতে।

বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অনেক ব্যক্তি সংগঠনসহ সবাই মিলে আজ মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার। ফেসবুক এবং বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়াগুলিও মাদক প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তবুও থামানো যাচ্ছে না মাদক গ্রহণের প্রবণতা। তাই মাদকাসক্তি থেকে উত্তরণের উপায় বা এই রোগ মুক্তির কৌশল যদি শিখতে না পারেন তাহলে আপনি আমি আমরা কেউই একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সমাজে পুনর্বাসিত করতে পারবোনা। তাই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে জানতে হবে এই রোগ প্রতিরোধের নানাবিধ উপায়গুলি।

পৃথিবীতে মাদক নির্ভরশীলতা বা মাদকাসক্তি এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে পৃথিবীতে ২৪৭ মিলিয়ন মানুষ মাদকাসক্ত। শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ১৯৯৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১ লক্ষ ৮৩ হাজার জন মাদকাসক্ত ব্যক্তি অকাল মৃত্যুবরণ করেছেন। তাহলে গোটা পৃথিবীতে কতজন ব্যক্তি এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন একবার ভাবুন তো!

বাংলাদেশে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে ১৪৮.২ টাকা থেকে ২৪১.৮ টাকা অপব্যয় করে মাদকের পেছনে। বাৎসরিক ব্যয় হয় ৫৫ হাজার ১৪৬ টাকা থেকে ৮৮ হাজার ৫৩০ টাকা। ভাবতে পারেন! এটা শুধু একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাদকের পিছনে ব্যয়কৃত অর্থের হিসেব। চিন্তা করুন, সামগ্রিক হিসেবে কত হাজার কোটি টাকা বছরে অপচয় করছে মাদকাসক্ত ব্যাক্তিরা?

World Health Organization (WHO) ১৯৬৪ সালে মাদক নির্ভরশীলতাকে রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে যা সম্পূর্ণরূপে নির্মূলযোগ্য নয় তবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। এ রোগের বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক উপসর্গগুলিকে তারা নির্ভরশীলতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সহজ কথায় ডায়াবেটিস যেমন একটি রোগ যা একবার হলে একজন মানুষকে সারা জীবন সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় ঠিক তেমনি মাদকাসক্তিও কিন্তু একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ। ডায়াবেটিস যেমন সঠিক চিকিৎসা পেলে নিয়ন্ত্রিত হয় তেমনি মাদকাসক্ত ব্যক্তিকেও সঠিকভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে আত্মসংযমী হয়ে নিজেকে আয়ত্তে রাখার কৌশল জানতে হবে। তবেই কেবল এ রোগ থেকে উত্তরণ সম্ভব। এসবকিছুই নির্ভর করে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির নিজের একাগ্রতা, ভালো হবার তীব্র বাসনা, সঠিক কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করা এবং পরিবারের সদস্যদের তাকে সাহায্য করার মানসিকতার উপর।

একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে বুঝতে হবে এবং বুঝাতে হবে- ধীরেধীরে পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে ওঠার জন্য এবং নিজেকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ধাবিত করার জন্য সে নিজেই দায়ী। মাদকাসক্তি থেকে উত্তরণের পথে একবার হাঁটা শুরু করলে আর পিছনে ফিরে তাকানোর কোন উপায় নেই। একবার দু’বার দশবার বিশবার ব্যর্থ হলেও তাকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে হবে। একাগ্রতা থাকলে সফলতা আসবে নিশ্চিত।

মাদকাসক্তি সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমে আমাদের জানতে হবে মাদক কি বা কাকে বলে? এবং আসক্তি কি এবং কেন?

Drug বা মাদক কিঃ

মাদক হচ্ছে এমন এক ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য যা সেবন করলে ব্যক্তির মন ও মানসিকতা পরিবর্তন করে যা মনের প্রকৃতি বা Mood বদলাতে পারে। পৃথিবীর সকল Drug মানুষের দেহের CNS (Central Nervous System) কে প্রভাবিত বা ক্ষতিসাধন করে, যা দেহে CNS এর সাধারণ কাজের বিঘ্নতা সৃষ্টি করে। মাদক একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রক্রিয়াকে অসুস্থ ও নেতিবাচক মানসিকতার মাধ্যমে পরিচালিত করে তার জীবনকে জটিল থেকে আরো জটিলতর করে তোলে।

আসক্তিঃ

আসক্তি হচ্ছে এক ধরনের টান যা আমরা বারবার অনুভব করি এবং যার ওপর অসুস্থ নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। অবাক হবেন জেনে, পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষই কিন্তু আসক্তি জনিত সমস্যায় আক্রান্ত। আসক্তি হতে পারে পজিটিভ কিংবা নেগেটিভ দিকে ধাবমান। যেমন- কেউ বাগান করে, পাখি পালন করে, কেউবা টিভি আর ফেসবুকে আসক্ত। আসক্তির উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়, যে ব্যক্তি ফেসবুকে আসক্ত সে যদি ফেসবুককে নেতিবাচক আসক্তিতে আক্রান্ত হয়ে ব্যবহার করে তাহলেই সেটা অসুস্থ আসক্তি হিসেবে চিহ্নিত হবে। আসক্তি মাত্রাতিরিক্ত হলেই সেটাকে রোগ হিসেবে গন্য করা হয়।

আসক্তির ফলে একজন মানুষের জীবনে যেসব থাকে বা গড়ে ওঠে-

★ টান (Obsession)
★ নিয়ন্ত্রণহীনতা (Compalsion)
★ বার বার করার প্রবনতা (Loss of Controls)
★ নির্ভরশীলতা (Dependency)

তাই আসুন, নেতিবাচক আসক্তি হিসেবে মাদকাসক্তি সম্পর্কে জানি।

মাদকাসক্তিঃ

সাধারণ সংজ্ঞামতে- সেই সব বস্তুর যেমন- মদ, তামাক এবং অন্যান্য মাদক দ্রব্য (গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, ঘুমের ওষুধ ইত্যাদি) ব্যবহারকে বোঝায় যা গ্রহণ করার পরে রক্ত ও মস্তিষ্কের প্রতিবন্ধক অতিক্রম করে সাময়িকভাবে মস্তিষ্কের রাসায়নিক দ্রব্যের পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তন করে।

মনোবিজ্ঞানীগন এই তালিকায় মানসিক প্রবৃত্তি সৃষ্টিকারী আরো অনেক ধ্রুবকেই অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন। যেমন- জুয়া, খাদ্য, যৌনতা, কম্পিউটার, ভিডিও গেম, ইন্টারনেট, ধর্মকর্ম, শারীরিক চর্চা, দূরদর্শন ও কেনাকাটা। এ সকলেরই মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষের আসক্তির এবং সাথে সাথে লজ্জা, অপরাধবোধ, ভয়, নিরাশা, ব্যর্থতা, দুশ্চিন্তা, প্রত্যাখ্যান ও হীনমন্যতা সৃষ্টি করে।

আসক্তি প্রক্রিয়ায় Drug বা মাদক তিন ভাবে আসক্ত ব্যক্তির জীবনে আসে-

★ একঃ USE বা ব্যবহার- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ।
★ দুইঃ MISUSE বা ভুল ব্যবহার – যে ঔষধটিকে আমরা ভুলভাবে ব্যবহার করি।
★ তিনঃ ABUSE বা অপব্যবহার – যখন একজন মানুষ ঔষধের অপব্যবহার করে।

মনে রাখবেন, আসক্তি দুইভাবে জন্মায়- শারীরিকভাবে; এবং মানসিকভাবে।

আসক্তির প্রকৃতিসমূহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-

★ এটা এমন একটি রোগ যা নিরাময় অযোগ্য।
★ এই রোগ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়।
★ এই রোগের শেষ পরিনাম বা পরিণতি অকালমৃত্যু।
★ এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব।

মাদকাসক্তির প্রাথমিক কিছু কারণঃ

প্রথমতঃ মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদক আসক্ত হবার পিছনে সে নিজেই দায়ী। তারপর বিভিন্ন আসক্তিমূলক আচরণ বা মানসিক অবস্থা দেহরসায়ন, ব্যক্তির মুল্যবোধ, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদিও এর অন্তর্ভূক্ত।

সাহায্যকারী কিছু কারনের মধ্যে রয়েছে- নেতিবাচক দলগত চাপ, কৌতূহল, নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের প্রয়াস নেয়া, মাদকের কুফল সম্পর্কে অজ্ঞতা, নৈতিক শিক্ষার অভাব, প্রতিকূল পারিবারিক পরিবেশ, যৌনশক্তি বৃদ্ধির লক্ষে, ঝুঁকি নেয়ার প্রবনতা, মাদকের সহজলভ্যতা, হতাশা, মনস্তাত্ত্বিক বা মানসিক সমস্যা, পারিবারিক মাদক গ্রহণের ইতিহাস ইত্যাদি।

আসক্তির ক্ষতিঃ

আসক্তির ফলে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির
=> শারীরিক ক্ষতির পরিমান – ০৩ শতাংশ থেকে ০৫ শতাংশ এবং
=> মানসিক ক্ষতি – ৯৫ শতাংশ থেকে ৯৭ শতাংশ।

এ তথ্য থেকেই বোঝা যায়, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক চিকিৎসা হওয়া কতটা জরুরি।

একজন মানুষ যখন বিভিন্ন ঔষধের ভুল ব্যবহার (Misuse) শুরু করে তখন সে ঔষধের কারণে তার শরীরে এক ধরনের নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেই পরিমাণ Drug সে সহজেই সহ্য করতে পারে। ধীরেধীরে তার শরীর এসবের উপর নির্ভর করতে থাকে। মাদক না পেলে শারীরিক কষ্ট দেখা দেয়। আর এভাবেই মানব দেহে এবং মস্তিষ্কে Drug বা মাদক নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। এটাই হচ্ছে Drug Dependency বা মাদক নির্ভরশীলতা।

সহজ কথায় মাদকাসক্তি হচ্ছে একধরণের শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক নির্ভরশীলতা। সেই ব্যক্তিই আসক্ত যার মাদক গ্রহণের ফলে জীবনে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দেয় এবং সেইসব অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও সে মাদক গ্রহন বা ব্যবহার করে যায়। যার অন্যতম কারণ মাদক না নিলে তার শরীর বিদ্রোহ করে উঠে বসে। এটাইকেই মাদকাসক্তি বলা হয়। মাদক গ্রহীতা ব্যক্তির জীবনে এভাবেই শারীরিক নির্ভরশীলতার পাশাপাশি মাদক নির্ভরশীলতা গড়ে ওঠে।

মাদকাসক্তির কুফলঃ

ব্যক্তিজীবনে মাদকাসক্তির কুফল বর্ণনাতীত। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদক গ্রহনের ফলে প্রধানত যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হয়-

শারীরিক ভাবে => মাদক গ্রহণের ফলে তার শারীরিক যে ক্ষতি সাধন হয় অনেক সময় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তা পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ (কিডনি, হার্ট, ফুসফুস) প্রভৃতি আক্রান্ত হয়ে সে ধীরে ধীরে অকাল মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়।

মানসিক ভাবে => মাদকাসক্ত ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় মানসিকভাবে। তার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কর্ম ক্ষমতা লোপ পায়, হিতাহিত জ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে সে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যাক্তিতে পরিণত হয়।

সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে => মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদক গ্রহণের ফলে সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে হেয় প্রতিপন্নের শিকার হয়। একটা সময় বন্ধুবান্ধব, আপনজন সবাই তাকে এড়িয়ে চলা শুরু করে। যার ফলে একাকী নিঃসঙ্গ মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়।

নৈতিকভাবে => মাদক গ্রহণ করার ফলে মাদকাসক্ত ব্যক্তি বিবেক বুদ্ধিহীন হয়ে পরে। সে স্বাভাবিক বিচার বিবেচনা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলার কারণে তার চরম নৈতিক স্খলন ঘটে। একসময় সকল নৈতিকতা লোপ পেয়ে একজন সৎ নীতি বিবর্জিত কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষে পরিণত হয়।

আধ্যাত্মিকভাবে => মাদক গ্রহণের ফলে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সাথে সৃষ্টিকর্তার সংযোগ (যে যেভাবে সৃষ্টিকর্তাকে মানেন) বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। সে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, রীতি-নীতিগুলিকে অস্বীকার করতে শুরু করে।

কাজেই সমাজ ও পরিবারে একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে মাদক থেকে নিজেকে দূরে রাখার বিকল্প নেই।

একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি একদিনেই বা হুট করেই মাদক গ্রহণ করে না। আসুন নিজেকে অল্প সময়ের জন্য কল্পনা করুন আপনি একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি; আমি যদি আপনাকে বলি চলুন নেশা করি, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে আপনি নিশ্চয়ই তা করতে চাইবেন না। চাইবেন কি? বিষয়টি এমন নয় যে আপনি চাইলেন আর নেশা করলেন। মনে রাখবেন, আজ যে আপনি মাদক গ্রহণ করলেন বা করছেন এর পিছনের কারণ বা ইতিহাস সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুনে থাকবেন পরিবারের মা-বাবা সহ অন্যান্য সদস্যরা বলছেন- আমার ছেলেটি অসৎ সঙ্গে মিশে নেশা করছে বা তার বন্ধুরা তাকে মাদকাসক্ত বানিয়েছে কিংবা প্রেম বিরহের আঘাতে সে নেশা করছে বা মাদক গ্রহণ করছে। কারণ মাদক তাকে মনঃকষ্ট ভুলে থাকতে সাহায্য করছে বলে সে মনে করে । আসলেই কি তাই? আপনারও কি এমন মনে হয়?

পরিবারে অনেকেই আছেন এর থেকেও অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতে জর্জরিত হন। কই তারাতো নেশা করেননা বা মাদক গ্রহণ করেননা। এমনকি অনেকে ধূমপান পর্যন্তও করেননা। তাদের জীবনকে তারা মাদকমুক্ত ভাবেই পরিচালনা করছেন। মনে রাখবেন, জীবনে চলার পথে ঘাত-প্রতিঘাত থাকবেই, তাই বলে নেশা করতে হবে কেন। এর কারন কি?

তাহলে শুনুন- মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদক গ্রহণ করতে পারে বা করছে কেন? তা জানার জন্য তার পারিবারিক, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত ইতিহাস জানতে হবে। ডায়াবেটিস হলে যেমন একজন ডাক্তার রোগীর পারিবারিক ইতিহাস খোঁজেন, তার পরিবারের অন্য কেউ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়েছে কিনা? রোগীর দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন প্রণালী এসবকিছুই খুঁজে দেখা হয় ঠিক তেমনি একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এসব জানতে হবে।

যে মানুষটি আজকে মাদক গ্রহণ করলো; সে যে কারনে মাদকের কাছে নিজেকে সঁপে দিলো, তার এই কারনের বীজ বপন হয়েছিল কিন্তু সেই ছোটবেলায়। যখন তার ব্যক্তিত্ব, আদর্শ, মূল্যবোধ, নৈতিকতা এসব চারিত্রিক গুণাবলী বিকশিত হতে শুরু হয়েছিল তখন থেকে। সত্যি-মিথ্যের প্রভেদ বুঝতে না পারা শিশুটি নিজেও জানেনা কিভাবে ইতিবাচক চারিত্রিক গুণাবলীগুলি অর্জন করতে হয়। আপনার শিশুকে এই মুল্যবোধগুলি শেখাতে হবে কিন্তু আপনাকেই।

মুল্যবোধ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে হলে নীচের ঘটনা দু’টি লক্ষ্য করুনঃ

ঘটনা এক –

“কল্পনা করুনতো একটি শিশু যখন তার পিতার হাত ধরে হাঁটতে শেখে তখন সে পড়ে যায় বারবার। বাবা তার সন্তানটিকে আবার হাত ধরে তুলে ধরেন, সে আবার পড়ে যায়। একটা সময় সে বুঝতে শেখে- বাহ! পড়ে গেলেই বাবা আমাকে কি সুন্দরভাবে তুলে ধরে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন। তাহলে আমি বারবার পড়ে যাই আর বাবা বারবার আমাকে তুলে ধরবেন। এখানে বাবার তুলে ধরে দাঁড় করানো মুখ্য নয় কারণ বাবারা তাই করেন। মুখ্য হচ্ছে সন্তানটি এই ভালোবাসাকে গ্রহণ করছে মিথ্যে অভিনয়ের মাধ্যমে। মিথ্যে মিথ্যেই। এই যে শিশুটি পড়ে যাবার অভিনয় করছে যাতে বাবা তাকে আদর করে তুলে ধরেন এখানে সমস্যাটি হলো মিথ্যেটা। যদি আপনি বুঝতে পারেন যে সে মিথ্যে অভিনয় করছে তাহলে তাকে সেভাবে আদর করে বিষয়টি শেখাতে হবে।”

ঘটনা দুই –

“এবারে আর একটু চিন্তা করুন, আপনার যে শিশুটি স্কুলে যায় আপনি তাকে টিফিনের জন্য প্রতিদিন বিশ টাকা করে দেন। মাঝেমধ্যে তার চাহিদা মত অন্য কিছুও হতে পারে (খাবার কিংবা খেলনা কেনার জন্য) এসে আপনাকে বলে- মা আজ আমার বন্ধু টিফিন খাইয়েছে, তাকেও কাল খাওয়াতে হবে; তুমি এক্সট্রা বিশ টাকা দিও। আপনি সরল মনে বিশ্বাস করে তাকে সেই টাকাটি দিলেন। কিন্তু খোঁজ নিলেন কি টাকাটা সে কোথায় ব্যয় করলো? আবার এমনও হতে পারে তার চাহিদামত যখন টাকাটা আপনি তাকে দিলেননা, তখন আপনার পার্স কিংবা ড্রয়ার থেকে সে আপনাকে না বলে বিশ টাকা নিলো। মাত্র বিশ টাকা আপনার কাছে হয়তো মূল্যহীন কিন্তু শিশুটি সেই টাকাটা আপনাকে না জিজ্ঞেস করে চুরি করে নিয়েছে। আর সেটা মিথ্যের পর্যায়েই পরে। সমস্যা কিন্তু সেই মিথ্যে বলাটাই।”

উপরের ছোট্ট দু’টি বিষয় থেকে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন সমস্যাটা কোথায় শুরু হয়েছিল তার? তাই শিশুর মানসিক গঠনের শুরুতেই মূল্যবোধ শিক্ষা অতীব জরুরী একটি বিষয়। এই মূল্যবোধ শিক্ষাই তাকে জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় নৈতিক উপাদান সংগ্রহ করতে সাহায্য করে। যেহেতু তারা শিশু আর চারিত্রিক মূল্যবোধের ন্যূনতম ধারণাও তাদের নেই, তাই এটা শেখানো আমাদেরই দায়িত্ব। নতুবা এই মূল্যবোধ আর নৈতিক শিক্ষার অভাবই একদিন বিশাল আকার ধারণ করে শিশুটির জীবনে। পাশাপাশি আরও নানা রকম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যেমন- অহংকার, লোভ, অন্যকে দেখানোর মানসিকতা, অন্যায় আবদার, নিজের ভালোলাগাগুলোকে প্রাধান্য দেয়া, ভালো কিছু গ্রহণ করার মানসিকতার অভাব বা মেনে না নেয়ার প্রবণতাসহ আরো নানাবিধ নেতিবাচক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে শেখে নিজের জীবনে।

মুল্যবোধ শিক্ষাবঞ্চিত শিশুটি এসব ভালোলাগাগুলোর প্রাধান্য দিতে গিয়ে বড় হতে হতে একসময় ভুলে যায় তার পরিবারিক অনুশাসন এবং নিজের ব্যক্তিত্ব গঠন ও নৈতিকতা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা। তাই একজন ব্যক্তি মাদকমুক্ত হওয়ার পেছনে মূল্যবোধের ভূমিকা অপরিসীম।

একজন আদর্শ মানুষ হতে হলে মানুষকে সামাজিক মূল্যবোধ, পারিপার্শ্বিক মূল্যবোধ, নৈতিক মূল্যবোধ,চারিত্রিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং পারিপার্শ্বিক মূল্যবোধ সম্পর্কে অবশ্যই জ্ঞান অর্জন করতে হবে। উচ্চতর মূল্যবোধ শিক্ষা গ্রহণ করে সে অনুযায়ী নিয়মমাফিক আমাদের চলতে হবে।

মূল্যবোধের মৌলিক দিক বা যার মাধ্যমে একজন মানুষ উচ্চতর মূল্যবোধ গ্রহন করতে পারে তার তিনটি অংশ হচ্ছে – শৃঙ্খলা; দায়িত্ব গ্রহণ এবং সত্যকে খোঁজা।

অর্থাৎ বিশৃঙ্খলতা পরিহার করে নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনের মাধ্যমে নিজের, পরিবারের, সমাজের দায়িত্ব গ্রহণ করা এবং অসততা পরিহার করে সৎভাবে চলা ও সত্যকে আঁকড়ে ধরে থাকার মাধ্যমে একজন মানুষ উচ্চতর মূল্যবোধ ধারণ করতে পারে।

উচ্চতর মূল্যবোধ বিশিষ্ট একজন মানুষের মধ্যে যেসব গুণাবলী পরিলক্ষিত হয়-

(১) যার আধ্যাত্মিক (যে যেভাবে সৃষ্টিকর্তাকে মানে) আত্মিক, নৈতিক ইত্যাদি দিকগুলো উন্নত এবং;

(২) যার মধ্যে থাকবে নম্রতা, ভদ্রতা, বিনয়ী, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা, অন্যকে সম্মান শ্রদ্ধা করা, দায়িত্ববোধ, অধ্যাবসায়, সেবা করার মানসিকতা, ভালোবাসার ক্ষমতা, দয়া প্রদর্শন, ক্ষমাপূর্ণ মনোভাব, উদারতা, কৃতজ্ঞতা, আন্তরিকতা, সৌন্দর্য, সরলতা, সুস্থ আনন্দ ও বিনোদন করার ক্ষমতা ইত্যাদি সম্পন্ন একজন মানুষ। একজন মানুষের নেতিবাচক আসক্তি বা মাদকাসক্তির পিছনে তার জীবনে এসবের অনুপস্থিতি প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

কাজেই মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে দোষারোপ করার আগে সেই ব্যক্তির পরিবারে এবং তার জীবনে মূল্যবোধের অভাব অবশ্য লক্ষণীয়। সঠিক মূল্যবোধের অভাবই একজন ব্যক্তিকে মাদকের দিকে ঠেলে দেয়। তাই শৈশব থেকেই শিশুকে সঠিক মূল্যবোধ শিক্ষা দিন, সেগুলোর পরিচর্যা করুন যাতে শিশুটি শারীরিক এবং মানসিকভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চতর মূল্যবোধে শিক্ষিত হয়ে নিজের জীবন পরিচালনা করতে শেখে।

একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির সামগ্রিক সুস্থতার জন্য সঠিক মূল্যবোধ চর্চা করার বিকল্প নেই। মূল্যবোধ চর্চার ফলে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির জীবন যেসব গুনগুলো পরিলক্ষিত হয় তা হলো-

★ মাদক মুক্ত জীবনের জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে শেখে।
★ সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে।
★ ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নেয়।
★ ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।
★ চারিত্রিক দুর্বলতাগুলি (ঈর্ষা, হিংসা, লোভ,মিথ্যে প্রভৃতি) নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে।
★ ভদ্র ও বিনয়ী হতে শেখে।
★ নিজের বিবেককে জাগ্রত করতে শেখে।
★ সৃষ্টিকর্তার সাথে তার সংযোগ বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলে।
★ পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়ন করতে শেখে।

মনে রাখবেন আসক্তি বা মাদকাসক্তি একটি প্রক্রিয়া।

Addiction= Bio -> psycho -> Social-> Spiritual

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন আসক্ত ব্যক্তির মানসিক, শারীরিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষতি সাধিত হয়। সঠিক মূল্যবোধই পারে মাদকাসক্তির মতো ভয়াবহ একটি ব্যধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে।

মাদকাসক্তি প্রতিরোধে আমাদের করণীয়ঃ

মানুষের নৈতিক স্খলন হওয়ার কারণে মাদক এবং মাদকাসক্তি গোটা বিশ্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। একটি দেশের উন্নয়ন, সেই দেশের তরুণ সমাজের মেধাকে আমরা কিভাবে ব্যবহার করতে পারি তার উপরে অনেকখানি নির্ভর করে। মাদক বিলীন করে দিচ্ছে মানুষের মনুষ্যত্বকে, দেশ ও জাতি হয়ে পড়ছে মেধাশূন্য। প্রত্যেক মানুষই কিন্তু মেধা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। অথচ সেই মেধাকে ব্যবহারের কার্যপ্রণালীতে কালো প্রলেপ মেখে দিয়েছে ভয়াবহ মাদক। কাজেই স্বনির্ভরশীল বিশ্ব তথা বাংলাদেশকে উন্নয়নের মানদণ্ডে প্রথম সারিতে নিয়ে আসতে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার বিকল্প নেই।

আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দেশে সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছেন। মাদকের এই ভয়াবহতা কিন্তু একদিনে আসেনি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, কৃষ্টি-কালচার চর্চার প্রতিবন্ধক হিসেবে রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদক বিরাজ করছে। তাই মাদকাসক্তি প্রতিরোধে মানুষের নৈতিক শিক্ষা অতীব জরুরী। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক পাঠ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ পর্যন্ত নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষার জন্য আলাদা অধ্যায় ভিত্তিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা থাকলেও তার চর্চা হয় না বললেই চলে। এদিকে দায়িত্বশীল প্রত্যেকের সুদৃষ্টি রাখা একান্ত প্রয়োজন।

মাদকাসক্তি রোধে বাংলাদেশ সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে সাথে নিয়ে এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় দেশে মাদক নির্মূলের জন্য নানাবিধ সফল কর্মসূচি পালন করছে। বিভিন্ন জেলায় সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সমূহে নামমাত্র মূল্যে বা ফ্রী’তে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। তবে এদের সংখ্যাটা অতি নগন্য।

ইদানীংকালে ব্যক্তি পর্যায়ে পরিচালিত মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন সংস্থাগুলির ভূমিকাও অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নিজেকে এবং সমাজকে মাদকমুক্ত রাখার মহান ব্রত গ্রহণ করে ব্যক্তিগত পর্যায়ে উদ্যোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে এসব মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুর্নবাসন সংস্থাগুলিতে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে মাদকের প্রভাব থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা চাট্টিখানি কথা নয়। এজন্য প্রচুর মেধা, শ্রম এবং ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। নানাবিধ সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি সংস্থাই পেরেছে এ সফলতা অর্জন করতে। আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি দক্ষ জনবলের তীব্র সংকটের কারনে এসব বেসরকারি সংস্থাগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শারীরিক ও মানসিক সকল বাধা অতিক্রম করার কর্মপন্থা শেখানো হয়। যাতে মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদকমুক্ত হয়ে পরিবারের বোঝা না হয়ে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজের, পরিবারের, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।

তাই মাদকাসক্তি প্রতিরোধে এসব সামাজিক সংস্থায় বিভিন্নভাবে আর্থিক সাহায্য প্রদান করে এবং মাদকমুক্ত ব্যক্তিকে দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের সরকার প্রধান সাহায্যকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।

ভাবতে অবাক লাগলেও অনেক উচ্চশিক্ষিত তরুণ তরুণী শুধুমাত্র মাদক গ্রহণ করার ফলে তার উচ্চশিক্ষাকে নিজের এবং দেশের কাজে নিয়োজিত করতে পারেনা। এসব শিক্ষিত যুবক যখন মাদকনির্ভরশীলতা দূরীকরণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলি থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরে আসে, অনেকক্ষেত্রে শুধুমাত্র কর্মের অভাবে তারা নিজেরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পরে পুনরায় মাদকের কাছে নিজেদের সঁপে দেয়। তাই একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে উচ্চতর মূল্যবোধের শিক্ষার পাশাপাশি তাকে উন্নত জীবনযাপনে সহায়তা করতে এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে যোগ্যতা অনুযায়ী যে কোন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেও কিন্তু সরকার ও বিভিন্ন সংস্থাগুলো অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

আপনার সন্তানকে মাদকাসক্তি হতে দূরে রাখতে আপনার করনীয়ঃ

=> তার শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করুন।
=> আপনার সন্তানের সম্পর্কে জানুন কোথায় যায়, কার সাথে মিশে লক্ষ্য রাখুন।
=> তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করুন।
=>তাকে মাদকের কুফল সম্পর্কে শিক্ষা দিন।
=> কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার নিজস্ব যোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করুন।
=> সন্তানকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলুন।
=> পারিবারিক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার নিজের সক্ষমতা বুঝতে সহায়তা করুন এবং উৎসাহ দিন।
=> অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করতে সাহায্য করুন।

পরিশিষ্টঃ

একজন সুস্থ সবল এবং উচ্চতর মুল্যবোধ সম্পন্ন সুনাগরিক সন্তানই আপনার নিজের, পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য মুল্যবান সম্পদ। আপনার শিশুকে আদর দিন অথবা শাসন করুন দুটোরই প্রয়োজন আছে। তবে তা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। সবার আগে আপনাকে আপনার নিজেকে চিনতে হবে। একজন অভিভাবক হিসেবে আপনি কেমন, আপনার মূল্যবোধ সঠিক কিনা তা জানুন এবং বুঝুন। আপনি যাই কিছু করছেন সে সবকিছুই কিন্তু শিশুরা অনুকরণ করে প্রতিনিয়ত। আপনি হয়তো মাদক গ্রহণ করেন না ঠিক আছে তবে আপনার অপ্রয়োজনীয় কিছু বদঅভ্যাস আর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই কিন্তু আপনার সন্তানকে মাদকের দিকে আকৃষ্ট করতে সাহায্য করে।

মনে রাখবেন, শিশুর চারিত্রিক মূল্যবোধ শিক্ষা প্রথম আসে তার পরিবার থেকে। তাই পরিবারের মানুষদের নিজেদেরকে আগে সচেতন হতে হবে। নিজের আচার-ব্যবহার, নৈতিকতা, চারিত্রিকতা, সৎ মন-মানসিকতা এসবের সঠিক গঠন এবং জীবনযাপন প্রণালীতে সেসবের বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আপনার সন্তানের মেধা আর মননশীলতা বিকশিত হয়।

তাই মাদক প্রতিরোধে ব্যক্তিজীবনে মূল্যবোধের গুরুত্ব সম্পর্কে জানুন এবং পরিবারে আপনার সন্তানকে উচ্চতর মূল্যবোধের শিক্ষা দিন। নিজে মাদককে না বলুন, অন্যকেও সচেতন করুন।

২৩২৪জন ২০৪৪জন
41 Shares

৪৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ