মহৌষধ

নাজমুল হুদা ১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১১:০৫:২০পূর্বাহ্ন কবিতা ১২ মন্তব্য

আমি হাড়ভাঙা চাষী।
আজন্ম সংসারের গ্লানি টেনে
ক্লান্ত, জরাজীর্ণ ব্যর্থতা ঢাকতে
আমাকে পশলা সুখের সন্ধান দে- কবি

হে ক্লান্ত সংসারী
উর্ধ্বগতি নিঃশ্বাসে নিম্নমুখী প্রচন্ড বেগে
পৃথিবীর বিষাক্ত বাতাসে ছেড়ে দে- উফ্!

আমি ছয়’বছরের শিশু।
নির্জন দুপুরে মেলা থেকে আলতা কিনে বাড়ি ফিরি
হঠাৎ বুঝি বাঁশের ঝোপে শকুনের ঠোঁটে রক্তাক্ত আমি
আমার অবুঝ অক্ষত শৈশব ফিরিয়ে দে- কবি

হে ধর্ষিতা দেবশিশু
শত ক্ষোভ বুকে চেপে জ্বালাময়ী চিৎকারে
বহুরূপী সদস্য বিশিষ্ট তদন্তমূলক ফাইলে
নিষ্পাপ থুথু ছিটিয়ে বলে দে- উফ!

আমি বামপাঁজরের শেফালি।
তিলে তিলে তোদের সংসারে সুখের নকশীকাঁথা বুঁনি
মধ্যবর্তী এই যৌবনে এসে-
জাহেলিয়াতের রঙ্গীন যুগে ভালবাসাহীন পড়ে আছি
আমাকে এক শিশি বৈধ ঘুম ঘুমানোর পদ্ধতি দে- কবি

হে অসুখী রমণী
সদ্য হামাগুড়ি দেওয়া কামুকের ফসলের ঘ্রাণ শুঁকে
যৌবন সংসার কাটিয়ে দে জনপ্রিয় ঘুমের প্রতীক্ষায়
কচি শিশুর মুখ বুকে চেপে পৃথিবীকে জানিয়ে দে-উফ!

আমি এক কবি।
আমার কলম কখনো শিকলবন্দী,কখনো গৃহবন্দী
কখনো বা আমি গুম-খুনের অপবাদে করি সন্ধি
ওরা দিলো মুখরোচক উক্তি- ‘শালা চরম উগ্রপন্থী’
দিনে রাতে গড়া আমার-
মানবতার পাণ্ডুলিপি প্রসবের ছাড়পত্র দে- কবি

হে ফেরারী কবি
জানিস- আমিও এখন যুগের নবাগত কবি
ঝুলিতে রাখি শুধু একটি শব্দের মহৌষধ
সমস্বরে কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বলে দে- উফ!

আমি এক রাষ্ট্র ।
একটি তর্জনীর ইশারায় জনসমুদ্রে যার জন্ম
স্বৈরাচারীর লাগাম টেনে বহুদলীয় যার নীতি
আমাকে চিনো কবি ? চিনবে না ?
আমার আঁচলে আজ সেই সুখ নাই
বলিষ্ঠ কোনো জনতার ইতিহাস নাই

আঁচলের দুইপাশে আমার আছে শুধু আজ
মুখোশপরা মুখোমুখি বাবুদের খামছাখামছি
আমায় চিনো নাকি কবি ?
চিনে থাকলে,রক্ত শুকাবার ঔষধ দে- কবি!

চিনেছি চিনেছি তোমায়
৫৬ হাজার দেহাবিশিষ্ট হে আমার বঙ্গ প্রেয়সী
কবিরা, দুই টুকরো শব্দ ছাড়া দিবে আর কী?
যেমন দিয়েছিলো রবি ঠাকুর-
‘আমার সোনার বাংলা,আমি তোমায় ভালোবাসি’

আমিও ভালোবেসেই তোমাকে
ক্ষত চিহ্নে ক্ষত ভুলে থাকার মহৌষধ দিচ্ছি
আঁচলে রক্ত চুষে চিৎকারে বলে দে
বেঁচে আছি, বেঁচে থাকবো- উফ্…..!

নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ

১২৮জন ৪জন
44 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য