মহালয়া কি?

প্রদীপ চক্রবর্তী ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ০২:৫৩:০৭অপরাহ্ন বিবিধ ৩৪ মন্তব্য

মন্ত্রমুগ্ধ স্তোত্রপাঠে,
আজি বাজলো বেণু ঐ শারদপ্রাতে।

কেন এই মহালয়া?
মহালয়া কি গুরুত্ব ধারন বা পালন করে!

শুভ মহালয়া ❤🙏
কিন্তু কেন এই মহালয়া !

সবাই নিশ্চিত মহালয়া মানে দূর্গাপূজার দিন গোনা।
আকাশে আকাশে সাদা মেঘের ভেলা।
নদীর তীর জুড়ে শুভ্র কাশফুলের সমারোহ।
আর আগমনী গানে শিউলি ঝরা ভোরে ফুল কুড়ানো।
মহালয়ার ৬ দিন পর মহাসপ্তমি, তাই দেবিকে আমন্ত্রণ ইত্যাদি।
কিন্তু এইবার ব্যতিক্রম।
কেননা আশ্বিনমাস মলমাস। এ মাসে সাধারণত কোন শুভকাজ বা পূজা হয়ে থাকেনা।
তাই মহালয়ার ১ মাস পর হবে দুর্গাপূজা।
পঞ্জিকা বলছে,
আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে দুর্গাপূজোয় মহালয়ার ঠিক ১ মাস পর আয়োজিত হতে চলেছে দুর্গাপূজো। কারণ, আগামী বছর দুটি অমাবস্যা একমাসে পড়ছে। আর তার জন্যই পূজো একমাস  পিছিয়ে আশ্বিনের জায়গায় কার্তিকে হবে।

মহালয়ার গুরুত্ব।
.
ত্রেতা যুগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র অকালে দেবিকে আরাধনা করেছিলেন লঙ্কা জয় করে সীতাকে উদ্ধারের জন্য।
আসল দূর্গা পূজা হলো বসন্তে,সেটাকে বাসন্তি পূজা বলা হয় । শ্রীরামচন্দ্র অকালে-অসময়ে পূজা করেছিলেন বলে এই শরতের পূজাকে দেবির অকাল-বোধন বলা হয় ।
.
সনাতন ধর্মে কোন শুভ কাজ করতে গেলে, বিবাহ করতে গেলে প্রয়াত পূর্বপুরুষরা, যাদের পিতা-মাতা তাদের পিতা-মাতার জন্য, সাথে সমগ্র জীব-জগতের জন্য তর্পণ করতে হয়, কার্যাদি-অঞ্জলিপ্রদান করতে হয় । তর্পণ মানে খুশি করা ।
ভগবান শ্রীরাম লঙ্কা বিজয়ের আগে এইদিনে এমনই করেছিলেন ।
সেই অনুসারে এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তারা তাদের পূর্বপূরূষের স্মরন করে। পূর্বপূরুষের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন । সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিনে প্রয়াত আত্মাদের মর্তলোকে পাঠিয়ে দেয়া হয়,।
প্রয়াত আত্নার যে সমাবেশ হয় তাহাকে মহালয় বলা হয়। মহালয় থেকে মহালয়া ।
পিতৃপক্ষের ও শেষদিন এটি ।
তারপর শুরু হয় দেবীপক্ষ বা মাতৃপক্ষ।
.
সনাতন ধর্ম অনুসারে বছরে একবার প্রয়াত পিতা-মাতার উদ্দেশ্যে পিন্ড দান করতে হয়, সেই তিথিতে করতে হয় যে তিথিতে উনারা প্রয়াত হয়েছেন ।
সনাতন ধর্মের কার্যাদি কোন তারিখ অনুসারে করা হয় না । তিথি অনুসারে হয়ে থাকে।
.
মহালয়াতে যারা গঙ্গায় অঞ্জলি প্রদান করেন পূর্বদের আত্নার শান্তি কামনার জন্য, তাহারা শুধু পূর্বদের নয়।
বরং পৃথিবীর সমগ্র কিছুর জন্য প্রার্থনা ও অঞ্জলি প্রদান করেন ।
.
পুরোহিত দর্পণে বলা হয়েছে।
যে-অবান্ধবা বান্ধবা বা যেন্যজন্মনি বান্ধবা।
অর্থাৎঃ  যারা বন্ধু নন, অথবা আমার বন্ধু, যারা জন্ম  জন্মজন্মান্তরে আমার আত্নীয় ও বন্ধু ছিলেন তারা সকলেই আজ আমার অঞ্জলি গ্রহন করুন।

যাদের পুত্র নেই, যাদের কেউ নেই আজ স্মরন করার তাদের জন্যও অঞ্জলী প্রদান করা হয়।

যেযাং, ন মাতা, ন পিতা, ন বন্ধু –
অর্থাৎ যাদের মাতা-পিতা-বন্ধুকেউ নেই আজ স্মরন করার তাদেরকে ও স্মরন করছি ও প্রার্থনা করছি তাঁদের আত্মা তৃপ্তিলাভ করুক।
.
আজকের এই বিশেষ তিথিতে বিশেষ দিন তর্পন করলে পিতৃপুরুষেরা আমাদের আশীর্বাদ করেন।
এ ছাড়াও এদিনে দেবী দুর্গার বোধন করা হয়।
বোধন অর্থ জাগরণ।
তাই মহালয়ার প্রচারিত।
.
বাংলাদেশের রাজশাহীতে প্রথম দুর্গা পূজার প্রচলন হয়। বাংলাদেশে প্রথম কবে দুর্গা পূজা শুরু হয়,তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। কারো কারো মতে, পঞ্চদশ শতকে শ্রীহট্টের (বর্তমান সিলেট) রাজা গণেশ প্রথম দুর্গা পূজা শুরু করেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে কিছু জানা যায় না। তবে বিভিন্ন গবেষকের লেখা থেকে জানা যায়, ১৫৮৩ খ্রিস্টাব্দে রাজশাহীর তাহেরপুর এলাকার রাজা কংস নারায়ণ প্রথম দুর্গা পূজার প্রবর্তন করেন। রাজা কংস নারায়ণ ছিলেন বাংলার বারো ভূঁইঞার এক ভূঁইঞা।
.
ঔঁ সর্বে ভবন্তু সুখিন:,
সর্বে সন্তু নিরাময়া:,
সর্বে ভদ্রানি পশ্যন্তু,মা কশ্চিদ দুঃখ মাপ্নুয়াত,
ঔঁ শান্তি শান্তি শান্তি।

অর্থাৎঃ সবাই যেন সুখী হয়,সকলে যেন নিরাময় হয়, সকল মানুষ পরম শান্তি লাভ করুক,কখনো যেন কেহ দুঃখ বোধ না করেন।
সকলে শান্তি লাভ করুক।
..
দেবীপক্ষের সূচনালগ্নেঃ সবাইকে জানাই শুভ মহালয়ার প্রীতি,শুভেচ্ছা ও অভিন্দন।।

সংক্ষিপ্ত।

৪৪৩জন ৯৩জন
0 Shares

৩৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য