মহাবিশ্ব UNIVERSE

নার্গিস রশিদ ১ জুলাই ২০২১, বৃহস্পতিবার, ০৩:০৮:০৭পূর্বাহ্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ১১ মন্তব্য

মহাবিশ্ব Universe

নার্গিস রশিদ

যুগ যুগ ধরে চিরকালের চিরাচরিত একটাই প্রশ্ন আমরা সবসময় করে থাকি; আর তা হলো, এই মহাবিশ্ব কী?  রাতের আকাশে যখন ঝাঁকে ঝাঁকে তারা আকাশে ফুটতে থাকে অবাক-বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি আর ভাবী, এত তারা কোথা থেকে এলো? কেমন করে সৃষ্টি হলো? কেমন করে জ্বলছে? এই আকাশের কি শেষ সীমা আছে?

এই মহাবিশ্ব এত ব্যাপক, এত বিস্তৃত তা জানার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমরা শুধুমাত্র জানার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের ব্রেনের ধারণ ক্ষমতা সেভাবে বানানো হয়নি বা বলতে পারি ব্রেনের হার্ডডিস্কে মেমোরি সেরকম শক্তিশালী নয় যে আমরা সব জানতে পারবো ।

তবে হ্যাঁ, বিজ্ঞানীরা অনেক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । এই মহাবিশ্বের কাছে আমরা অসম্ভব ক্ষুদ্র । অতি সম্প্রতি হাবল টেলিস্কোপের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু জানতে পারছি। হাবল টেলিস্কোপ এর মাধ্যমে যে ছবি আমরা পাচ্ছি দূর বিশ্বের তা থেকে অনেক কিছু দেখতে পারছি। 

ইউনিভার্স বা মহাবিশ্ব কী :

আমি, আপনি, আকাশ, বাতাস, গাছপালা, পাহাড়-পর্বত, গ্রহ-উপগ্রহ, সূর্য-চন্দ্র, মহাসমুদ্র, ধূমকেতু, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জি যা কিছু আমরা দেখতে পাই আর যা দেখতে পাই না সবই  এই ইউনিভার্সের অন্তর্ভুক্ত ।

আমরা যা কিছু দেখতে পাই তা হলো দৃশ্যমান বা Observable Universe । তবে তা মাত্র ৫% । আমরা দেখতে পাই না অনেক কিছু, আর তা হলো ৯৫% । Albert Einstein অনেক আগেই বলেছিলেন আমরা যাকে শূন্য মনে করি তা আসলে শূন্য নয়। তার মধ্যেও অনেক কিছু আছে। ইউনিভার্সের কোনো শেষ সীমা নেই। তাই বলা হয়, ইউনিভার্স অসীম (Infinite)।

কসমোলজিস্টরা হয়তো কোনোদিনও বলতে পারবে না এই ইউনিভার্স কত বড়ো। তবে বলা যেতে পারে ইউনিভার্স ক্রমাগতভাবে শুধু বিস্তৃতিই হচ্ছে। যাকে বলা হয় “Expanding”। আর এই বিস্তৃত ব্যাপারটা আরম্ভ হয়েছে সেই “Big Bang”-এর পর থেকে। 

Big Bang কীভাবে ইউনিভার্সের আরম্ভ :

১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে টাইম (Time), স্পেস (Space), শক্তি (Energy) এবং বস্তু (Matter) অস্তিত্বের মধ্যে আসে এই Big Bang এর মাধ্যমে। Big Bang এর আগে ইউনিভার্স ছিল অসম্ভব ঘন, চিন্তার বাইরে উত্তপ্ত এবং এতে ছিল প্রচুর এনার্জি । কিন্তু এক সেকেন্ডের কম সময়ের এই শক্তি থেকে প্রাথমিকভাবে Elements বা উপাদান উপস্থিত হয়। এই eliments হলো বস্তুর fandamental ম্যাটেরিয়াল, যা দ্বারা সব matter তৈরি হয়। যাকে আর ভাঙা যাবে না। যেমন কার্বন, অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন। তারপর ওইসব elements মিলে পার্টিকেলের উপস্থিত হতে থাকে। এর কয়েক শত  হাজার বছরে ইউনিভার্স ঠান্ডা হতে থাকে এবং এই পার্টিকেলগুলো “Atom” (অ্যাটম) এ পরিণত হয়। এই Big Bang কোনো explosion ছিল না, কিন্তু এটা স্পেসে Expansion অর্থাৎ মহাশূন্যে বিস্তৃতি ঘটাতে থাকে।

Neels Bohr (১৮৮৫ – ১৯৬২) একজন Danish পদার্থ বিজ্ঞানী প্রথম আবিষ্কার করেন ইলেকট্রন এটম এর মধ্যে চারদিকে অরবিট করে। নোবেল বিজয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী Louis De Broglie (১৮৯২ – ১৯৮৭) আবিষ্কার করেন প্রত্যেক ইলেকট্রন wave like propertie, অর্থাৎ ঢেউ যেভাবে চলে সেভাবে চলে।

কোনো পদার্থবিজ্ঞানী ব্যাখ্যা দিতে পারবে না কী হয়েছিল এই সময়টিতে, যখন সবকিছু এক বিন্দুতে ছিল। যেটাকে বলা হয় “Singularity at the start of time”। সোজা বাংলায় “সব মিলেমিশে এক ছিল”। George Gamow নামে একজন আমেরিকান পদার্থ বিজ্ঞানী (১৯০৪ – ১৯৬৮) এই “Big Bang” theory এর উতভাবক এবং গবেষক।  

 

Big    Bang এবং তার পরবর্তী অবস্থা

ইউনিভার্স যা দ্বারা তৈরি :

Matter বা বস্তু দিয়েই দৃশ্যমান ইউনিভার্স তৈরি, যা এই মহাশূন্যে আছে। যার আছে ভর, যা কোনো স্থান দখল করে থাকে, আছে আয়তন। তাকেই Matter বা বস্তু বলে। Matter বা বস্তু সলিড, লিকুইড এবং গ্যাস আকারে থাকতে পারে। প্রত্যেক বস্তুর মধ্যে forces বা শক্তি থাকে।  Mattar বা বস্তুর মধ্যে Attom বা অণু থাকে । প্রত্যেক এটম এ Electrons, Protons এবং Neutrons থাকে। একেক এটম  বিভিন্ন সংখ্যার ইলেকট্রন, নিউট্রন এবং প্রোটন এর সমন্বয়ে গঠিত।

পদার্থ বিজ্ঞানের প্রধান চারটি Forces, যা কিনা এই মহাবিশ্বে কাজ করে। তা হলো : 

১) Electromagnetic Force

2) Gravitational Force 

3) Strong nuclear Force

4) Weak Nuclear Force

Steven Weinberg নামক একজন নোবেল বিজয়ী  আমেরিকান পদার্থ বিজ্ঞানী (জন্ম ১৯৩৩) এই প্রধান চার Force এর বিশ্লেষক । 

 

 

এই মহাবিশ্বে আমরা যা যা দেখতে পাই :

(Celestial Objects or Astronomical Observable)

মহাবিশ্বে বা বাইরের মহাশূন্যে এস্ট্রোনমিরা যা যা দেখতে পায় তা হলো নক্ষত্র, নেবুলা, গুচ্ছ তারা, গ্রহ-উপগ্রহ, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি, পালসা, কমেট এবং asteroids ।

এই ইউনিভার্স এ যা কিছু আমরা দেখতে পাই তা হলো মহাশূন্য (Space), শক্তি (Energy) এবং বস্তু (Matter)। কিছু কিছু বস্তু শুধুমাত্র গ্যাস হিসাবে থাকে। কিছু কিছু বস্তু দ্বারা বিরাট বিরাট সূর্য তৈরি হয়। আবার সৃষ্টি হয় মেঘের মতো বস্তু সমেত গ্যালাক্সি। যার মধ্যে থাকে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহব্বর।

কসমোলজিস্টরা যেভাবে ইউনিভার্সের এক জিনিস থেকে আর এক জিনিসের মধ্যকার দূরত্ব মাপে :

আমাদের এই ইউনিভার্স এর সবকিছুই অন্য কিছুর চেয়ে হয় বড়ো, না হয় ছোটো। যেমন চাঁদ ছোটো পৃথিবীর চেয়ে। পৃথিবীর চেয়ে জুপিটার বা বৃহস্পতি গ্রহ আরও বড়ো। সূর্য তার চেয়েও বড়ো। যেহেতু এগুলো আমরা দেখতে পাই, তাই ছোটো বা বড়ো, কাছে বা দূরে  এগুলো বলতে পারি। কিন্তু সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র  (একেকটি তারা মানে একেকটি নক্ষত্র) বা সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রটি আমাদের এই সৌরজগৎ থেকে অকল্পনীয়ভাবে দূরে বা সবচেয়ে দূরের গ্যালাক্সি তার চেয়েও বিলিয়ন গুণ দূরে।

কসমোলজিস্টরা যারা কিনা এগুলো নিয়ে পড়াশুনা বা গবেষণা করেন তাঁরা এই দূরত্ব অঙ্কর  মাধ্যমে মাপার জন্য “আলোর গোতি“ ব্যবহার করেন। এই লাইট ইয়ার  বা আলোর গতি হলো এক বছরে আলো যত দূরে যায় সে হিসাবে দূরত্ব বের করা।

আলোর গতি এক সেকেন্ডে ১৮৬,০০০ মাইল এবং এক বছরে আলো ৯,৪৬১ বিলিয়ন কিলো মিটার অথবা ৫,৮৭৯ বিলিয়ন মাইল যেতে পারে।

উদাহরণ দিয়ে আমরা দূরত্ব এভাবে বলতে পারি। বাংলাদেশ, ভারত উপমহাদেশে, ভারত উপমহাদেশ এশিয়া মহাদেশে, এশিয়া মহাদেশ এই পৃথিবী নামক গ্রহে, পৃথিবী গ্রহটি সোলার সিস্টেমের মধ্যের মোট  আটটি গ্রহের তিন নম্বরেরটি। সৌর জগতের শেষে আছে একটা কাইপার বেল্ট নামক অতিকায় স্টোরয়েড বেল্ট । এবং সর্বশেষে আছে Ott cloud। আর এই সৌরজগতটি Milky Way নামক আমাদের এই হুইরপুল গ্যালাক্সির একটি ক্ষুদ্র স্থান দখল করা বিলিয়ন বিলিয়ন সৌরজগৎ এর মধ্যে একটি ছোট্ট সৌরজগৎ।

আমাদের সূর্যর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রটির নাম “Alpha Centauri” যা ৪.৩৭ লাইট ইয়ার দূরে । মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ডিস্কটি ১০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্রর  সমষ্টি দ্বারা গঠিত। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির এক মাথা থেকে আর এক মাথার দূরত্ব ১৫০,০০০ লাইট ইয়ারের চেয়েও বেশি লম্বা। সবচেয়ে দূরের গ্যালাক্সি যা কিনা হাবল টেলিস্কোপ দিয়ে দেখা যায়। যার নাম “Embryonic Galaxy”। যা ১৩.৩ বিলিয়ন লাইট এয়ার  দূরে।

কতগুলো গ্যালাক্সি এক সঙ্গে থেকে একটা লোকাল গ্রুপ বানায় । যাকে বলে “লোকাল গ্রুপ অফ গ্যালাক্সি” । যার এক সীমা থেকে আর এক সীমা ১০ বিলিওন লাইট ইয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত । আমাদের গ্যালাক্সির সবচেয়ে কাছের গ্যালাক্সির নাম “Andromeda Galaxi”। এটি এই লোকাল গ্রুপ অফ গ্যালাক্সির একটি । অন্যগুলো তুলনামূলকভাবে ছোটো ।

অনেকগুলো গ্রুপ অফ গ্যালাক্সি নিয়ে একটা বিরাট “সুপার ক্লাস্টার অব গ্যালাক্সি“ গঠিত হয়। এই রকম একটা সুপার গ্রুপ যার মধ্যে আমাদের গ্যালাক্সি আছে, তার নাম “Virgo Super Cluster”। এটার এক মাথা থেকে আর এক মাথা ১১০ বিলিয়ন লাইট ইয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত । এর মধ্যে আছে হাজার হাজার গ্যালাক্সি। এই হলো মহাবিশ্বে দূরত্ব মাপা এবং দূরত্ব দেখানোর ব্যাপারটা।

সূর্যর পরিবার :

কীভাবে সূর্যর সৃষ্টি :

৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে ভাবা হয় “সোলার নেবুলা” নামক এক অতিকায় গ্যাস জায়ান্ট যা কিনা ঘন গ্যাস এবং ধুলাবালির সংমিশ্রণে গঠিত, তা থেকে অতি দ্রুত ঘূর্ণায়মান পদ্ধতির মাধ্যমে একটা ডিস্ক এর সৃষ্টি হয়। যার কেন্দ্র ছিল আরও ঘন, আরও উত্তপ্ত এবং সূর্যর কোর  (core) বা কেন্দ্রে nuclear fusion তৈরি হলো এবং হাইড্রোজেন হিলিয়ামে রূপান্তর হয় এবং তা জলে ওঠে। পরে ক্রমাগতভাবে তা সূর্যর সার্ফেস এ আসে।   এভাবে সূর্য সৃষ্টি হয়।

সূর্য সৃষ্টির পর বাকি যে ধুলাবালি থেকে গেল তা গ্র্যাভিটিক্যাল শক্তির টানে এক হয়ে গ্রহ-উপগ্রহ সৃষ্টি হোল। Pierre Laplace (১৭৪৯ – ১৮২৭), একজন ফ্রেঞ্চ  অঙ্কবিদ (Mathematician) এই থিয়োরির আবিষ্কারক এবং বর্তমানে এই থিওরি সমস্ত পৃথিবীতে সবচেয়ে গ্রহণ যোগ্য । তারপরেও যা বাকি থাকলো তা দিয়ে Asteroids এবং কমেট গঠন হোল।

Johannes Kepler (১৫৭১ – ১৬৩০) একজন জার্মান অ্যাস্ট্রোনোমার প্রথম আবিষ্কার করেন “Laws Of Planetary Motion” । তিনি বলেন সূর্যর কাছের গ্রহগুলো সূর্যের চারদিকে ঘুরে দ্রুত গতিতে আর  দূরে থাকা  গ্রহগুলো যত দূরে থাকে ঘোরার গতিও ধীর গতির হয়।  

গ্রহউপগ্রহ :

সূর্যর আটটি গ্রহর মধ্যে প্রথম চারটি মাটি এবং পাথরের তৈরি। পরের চারটির দুটি গ্যাস জায়ান্ট, দুটি আইস এবং রক ।

বুধ বা mercury একটা রকি, প্রচুর আয়রণ সমৃদ্ধ, সূর্যর  সবচেয়ে কাছের এবং সবচেয়ে ছোটো গ্রহ, এতে কোনো অ্যাটমসফেয়ার বা আবহাওয়া নাই। উপরের তাপমাত্রা অসম্ভব হার্স । দিনে ৪৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড রাতে – ১৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড।

সূর্য থেকে দ্বিতীয় গ্রহটি শুক্র বা Venus, অ্যাটমসফেয়ারে প্রচুর কার্বন ডাইঅক্সাইড আছে। কোনো ওয়েদার নাই, কিছু নাইট্রোজেন আছে, পৃথিবীর মতো একই ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি।

Earth বা পৃথিবী সূর্য থেকে কাছের মধ্যে তিন নম্বরে। রকি বা পাথুরে চারটি গ্রহর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়ো।৪.৫৬ বিলিয়ন বছর আগে এর সৃষ্টি।

যদিও গঠনের দিক দিয়ে প্রতিবেশী গ্রহগুলোর মতোই, কিন্তু এটি সোলার পরিবারের মধ্যে একেবারেই অন্য রকম। এর আছে বিপুল পরিমাণে পানি, অক্সিজেন ভরা অ্যাটমসফেয়ার, আছে একটি ম্যাগনেটিক ফিল্ড যা কিনা সূর্যের গামা রশ্মি থেকে রক্ষা করে, আছে একটা ঘন অ্যাটমসফেয়ার যা কয়েকশো কিলোমিটার ঘন, আছে প্রাচীন ভল্কানো যা থেকে নির্গত গ্যাস অ্যাটমসফেয়ার তৈরি করে আর এই গ্যাসের মধ্যে আছে অক্সিজেন যা জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করে।

সূর্য থেকে খুব কাছে নয় যেসব পানি শুকিয়ে যাবে বা খুব দূরেও না যাতে পানি আইস হয়ে থাকবে। যাকে বলে “গোলডী লক জোন” । আছে একটা মুন।

মার্স বা মঙ্গল গ্রহে আছে কার্বন ডাই অক্সাইডের অ্যাটমসফেয়ার । একটা রকি বা পাথর বেষ্টিত, শুকনো লাল গ্রহ । একসময় পানি প্রবাহ ছিল । পৃথিবীর চেয়ে অর্ধেক সাইজ। সূর্য থেকে দূরে হওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়ে যায়। অতিতে  ভল্কানিক একটিভ ছিল । বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড বেশি, অল্প কিছু নাইট্রোজেন আছে। এর আছে দুটো মুন ১) phobos ২) Deimos

মার্স বা মঙ্গল গ্রহ এবং বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যে আছে একটা Asteroid belt। Franz Xaver Von Zach (১৭৫৪ – ১৮৩২), একজন হাঙ্গেরিয়ান আবিষ্কার করেন এই বেল্ট। একটা রকি বা পাথুরে গ্রহ হতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত হতে পারেনি এবং এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে শুকনো, ধূলিময় ছোটো ছোটো পাথরের পিণ্ড হয়ে। এ পর্যন্ত ২০০,০০০ পিণ্ড ডিসকভার হয়েছে।

বৃহস্পতি বা জুপিটার সূর্য পরিবারের সবচেয়ে বড়ো গ্রহ। এটি একটি বিরাট গ্যাস জায়ান্ট। এর ম্যাগনেটিক ফিল্ড পৃথিবী থেকে ২০,০০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। ১,৩০০টি পৃথিবী এর মধ্যে ফিট হবে। জুপিটারের ‘গ্রেট রেড স্পট’ এতই বড়ো যা পৃথিবীর আকারের চেয়েও বিরাট। অরবিটাল পিরিয়ড ১২ বছর। সেই রেড স্পটটি হলো একটা শক্তিশালী প্রেসার যুক্ত ঝড়। এর আছে ৪টি মুন।

শনি গ্রহ একটা গ্যাস জায়ান্ট। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ২৯ বছর লাগে। ৭৫% হাইড্রোজেন, ২৫% হেলিয়াম আছে। অক্সিজেন নাই। তাপমাত্রা – ১৮৫ c । শনির চারদিকে একটা রিং আছে । বেশিভাগ বরফের কণা । শনির আছে ৮২ মুন।

ইউরেনাস, নেপচুনের মতো আইস জায়ান্ট। এখানে আছে পানি, ammonia, মিথেন এবং হাইড্রকার্বন । এর একটা পাতলা রিং আছে।

নেপচুন সৌর জগতের আট নম্বরের গ্রহ এবং সব শেষের গ্রহ। পৃথিবীর চেয়ে ১৭গুণ বেশি ভর। সূর্য থেকে ৪.৪৯৫ বিলিয়ন কি. মি. দূরে। সূর্যের চারদিকে ঘুরতে ১৬৪.৮ বছর লাগে। অ্যাটমসফেয়ারে হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম আছে। কিছু হাইড্রকার্বন এবং সম্ভবত কিছু নাইট্রোজেন আছে। এর আছে ১৪টি মুন।  

Kuiper Belt:

নেপচুন এর পরে আছে একটা বিরাট বেল্ট যা হাজার হাজার বরফ দ্বারা গঠিত নানা সাইজের পিণ্ড, যা বৃত্তাকারে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। এগুলো সোলার সিস্টেম গঠনের পরে বাকি থাকা বস্তু। মনে করা হয় কমেটের উৎপত্তি স্থল। এখন ভালোভাবে এক্সপ্লোর করা হয়নি। এখনো অনেক জানার বাকি। এখানে অনেক বামন গ্রহ আছে এবং তাদের চাঁদও আছে। ডিম্বাকৃতি “Haumea” এর চার পাশে একটা শনির মতো রিং-ও আছে। Ice body প্লুটো  Kuiper বেল্টের মধ্যে পড়ে ।

Oort Cloud:

সর্বশেষ সীমায় মেঘের মতো গ্যাসের সমষ্টি । যাকে বলা হয় Oort Cloud। ১৯৫০ সালে Dutch অ্যাস্ট্রোনোমার Jan Oort এই মেঘের আবিষ্কারক। এই সৌর জগতের মতো আরও মিলিওন মিলিওন তারার জগৎ আছে।

Nebula : তারা বানানোর কারখানা।

এই মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিতে আমরা আর যা দেখতে পাই তার একটি হলো নেবুলা। নেবুলা ঘন ধুলোবালি (Dust) এবং গ্যাসের সমন্বয়ে তৈরি । যা মেঘের আকারে  গ্যালাক্সির  মাঝে ভাসতে থাকে। এই গ্যাসে থাকে Hudrogen এবং  Helium এর অ্যাটম। কিছু কিছু এই cloud এর dust এ সলিড পার্টিকেল থাকে। যেমন কার্বন অথবা সিলিকন।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ডার্ক নেবুলা। কসমোলজিস্টরা বলে থাকেন LDN 1622 । যা কিনা ঘন গ্যাস এবং ডাস্ট দিয়ে তৈরি । এর দূরত্ব হোল ৫০০ লাইট এয়ারস। আর একটা নেবুলা আমাদের এই গ্যালাক্সিতে, যা কিনা খালি চোখে দেখা যায় । তার নাম Carina Nebula । ঘন গ্যাসের দ্বারা গঠিত এবং তাপমাত্রার ভিন্নতার জন্য এর একেক স্থান একেক রকম রং ধারণ করে। কোনো অংশ খুব উজ্জ্বল, কোনো অংশ অন্ধকার  এবং কোনো অংশ হালকা উজ্জ্বল।

এটাকে বলা হয় “Star Forming Nebula”। এখানে ক্রমাগতভাবে তারার জন্ম হতে থাকে আবার তারার মৃত্যু হতে থাকে। তারার মৃত্যুতে গ্যাসের জন্ম হয় আবার সেই গ্যাস জমাট বেঁধে নতুন তারার জন্ম হয়। বলা যায় নেবুলা হলো তারা বানানোর কারখানা এবং একই সাথে তারার “Recycling Centre”। আরও অনেক নেবুলা আছে। যেমন : Omega Nebula, Cone Nebula, Calabash, Eta Carinae, Crab Nebula, Hourglass Nebula। তারার জন্ম-মৃত্যুর খেলা চলে এই সমস্ত  গ্যালাক্সির মাঝে। আমাদের Milky Way গ্যালাক্সিতে ১০০ বিলিয়ন স্টার আছে। 

নেবুলা 

 

গুচ্ছ তারা ( Star Clusters) :

গুচ্ছ তারা গ্যালাক্সির ডিস্ক থেকে দূরত্ব বজায় রেখে যে কোনো ধরনের interactions-কে দূরত্ব রেখে খুব অটুট বন্ধনের মাধ্যমে নিজেরাকে রাখে । আমাদের মিল্কি ওয়ে  ( Milky Way) গ্যালাক্সিতে ২,০০০ ক্লাস্টার স্টার বা গুচ্ছ তারার লিস্ট করা গেছে। ১০০ তারা থেকে ১০,০০,০০০ তারার সমষ্টি এগুলো। Omega Centauri হলো একটা Globular Star Cluster এর উদাহরণ। এতে আছে ১০ মিলিওন পুরানো তারা। আরও আছে Prominent, Southern, Butterfly, Hyades, Beehive, Hyades, Clusters in Taurus এবং আরও অনেক। 

Supergiant Star :

কসমোলজিস্ট এর নাম দিয়েছে “Betelgeuse” । আধুনিক টেলিস্কোপ দ্বারা দেখতে পাওয়া ৬৫০ লাইট এয়ারস দূরে আবস্থান। এতো বড় যে সহজেই দেখা যায়। আরও দেখা গেছে দুটি তারা একে অপরকে ঘিরে প্রদক্ষিণ করছে।

রগ প্ল্যানেট ( Extra galactic Exoplanet ) যে প্ল্যানেট  কোনো সূর্য ছাড়া একলা একলা বিচরণ করে।

Black Hole এবং Neutron Star:

বেশিভাগ তারা Collapse হবার পর Black Hole এ পরিণত হয়। কৃষ্ণ গহব্বর এতই শক্তিশালী যে এর ভেতরে আলো প্রবেশ করলেও আর বেরিয়ে আসে না।  কিন্তু কিছু কিছু তারা collapes হলেও মধ্যের কিছু অংশ খুব ঘন একটা বস্তুতে পরিণত হয়। যাকে বলা হয় “Neutron Star” । 

গ্যালাক্সি :

মাত্র একশত বছর আগেও আমরা জানতাম না যে, এই মহাবিশ্বে আরও গ্যালাক্সি আছে। এই Milky Way গ্যালাক্সিকেই আমরা মনে করতাম ইউনিভার্স (Univarse) । হাবল টেলিস্কোপ এর মাধ্যমে আপাতত যতদূর দেখতে পাই তার মধ্যে প্রায় এক ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি আছে । তার মধ্যে কিছু বামন গ্যালাক্সি যার তারার সংখ্যা হয়তো ১০০ মিলিওন। আবার  ১০০ ট্রিলিয়ন তারা-সহ আছে বিরাট বিরাট গ্যালাক্সি। প্রত্যেকটি গ্যালাক্সি ডার্ক ম্যাটার, তারা, গ্যাস, এবং ধূলিকণা-সহ সবকিছুকেগ্র্যাভিটি শক্তি দ্বারা শক্তভাবে ধরে রাখে। Isaac Newton (1642 – 1727) একজন ইংলিশ ম্যাথেম্যাটেসিয়ান গ্রাভেটিকাল বা মধ্যাকর্ষণ শক্তির আবিষ্কারক।

Andromeda Galaxy হলো milky way গ্যালাক্সি এর সবচেয়ে কাছের গ্যালাক্সি এর ক্যাটালগ নাম্বার M 31, NGC 224, দূরত্ব ২.৫ মিলিওন লাইট ইয়ার দূরে, তার ডায়ামিটার ২,২০,০০০ লাইট ইয়ার। এর ডিস্ক আমাদের গ্যালাক্সির চেয়ে দ্বিগুণ চওড়া। Edwin Hubble 20th সেঞ্চুরিতে এই M31 কী ধরনের তা বের করতে থাকেন। কতদুরে, কী ধরনের সবকিছু বের করেন। M31 এর আবিষ্কার হলো এমন একটি আবিষ্কার যা কিনা আমাদেরকে এই গ্যালাক্সি ছাড়া যে আরও গ্যালাক্সি আছে তার দুয়ার খুলে দেয়া এবং এরপর থেকেই ক্রমাগতভাবে আরও গ্যালাক্সির জগৎ আবিষ্কার হতে থাকে।

কতগুলো গ্যালাক্সি নিয়ে একটা লোকাল গ্রুপ থাকে। Milky Way গ্যালাক্সি Andromeda galaxy এবং Triangulam গ্যালাক্সি । যাকে বলা হয় M৩৩১ । এটা  M31 এর চেয়েও কিছুটা বড়ো এবং উজ্জ্বল।

কতগুলো লোকাল গ্রুপ মিলে আবার একটা সুপার গ্রুপ তৈরি হয়।

প্রত্যেকটি সুপার গ্রুপ মিলে জালের মতো নেটওয়ার্ক এর মতো থাকে। কসমোলজিস্টরা তাকে গ্যালাক্টিক্যাল ম্যাপ বলে।

গ্যালাক্সির মধ্যে ব্ল্যাক হল প্রথম থেকেই আছে কিনা এটা এখনো জানা যায়নি। ভাবা হয়, প্রথম অবস্থাতে তারা-সহ ছোটখাটো একটা মেঘ ঘূর্ণায়ন অবস্থাতে থাকে। আশেপাশের গ্যাসের মেঘ মধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে একটা বড়ো ঘূর্ণায়ন প্যাকের সৃষ্টি হয়।

আকার ভেদে নানা রকমের গ্যালাক্সি আছে। 

১)  Elliptical

২) Spiral 

3) Barred 

4) Intermediate 

5) Lenticular

Lenticular Galaxy এর তারা, গ্যাস এবং ডাস্ট গোছানো  ভাবে বৃত্তাকারে অরবিট করে । NGC 2781 এরকম একটা গ্যালাক্সি ।

Elliptical গ্যালাক্সি তারা-সহ ডাস্ট এবং গ্যাস কোনো নিদ্রিষ্ট ডাইরেকসনে অরবিট হয় না।

Intermediate গ্যালাক্সি এখনো কোনো আকার ধারণ করেনি। Barred গ্যালাক্সি এর মাঝে চতুষ্কোণ দণ্ড থাকে। 

সবচেয়ে দূরবর্তী গ্যালাক্সি :

হাবল টেলিস্কোপ এবং spitzer স্পেস টেলিস্কোপ দ্বারা সবচেয়ে দূরবর্তী যে গ্যালাক্সি দেখা গেছে তার নাম Embryonic গ্যালাক্সি (এম্ব্রয়ানিক গ্যালাক্সি) বা SPTO 615 – JD আর এটাই হল টেলিস্কোপ এর মাধ্যমে দেখতে পাওয়া সবচেয়ে দূরের গ্যালাক্সি । এখান থেকে আসা আলো পৃথিবীতে আসতে 13.3 বিলিয়ন ইয়ার সময় লাগে। এর পরে কী আছে তা ভবিষ্যৎ বলে দিবে হয়তো কোনো দিন।

সবচেয়ে দূরের ক্লাস্টার অব গ্যালাক্সির নাম হল Abell – 2218 , যা পৃথিবী থেকে ২ বিলিয়ন দূরে। লক্ষ লক্ষ গ্রুপ অব গ্যালাক্সির সমন্বয়ে “ক্লাস্টার অব গ্যালাক্সি” গঠন হয়ে থাকে এরকম একটা গ্যালাক্সির নাম “Virgo Supar Cluster” যার এক সীমা থেকে আর এক সীমা ১১০ মিলিওন লাইট ইয়ার । কিছু গ্যালাক্সি পুরানো লাল এবং হলুদ তারার সমষ্টি এবং কিছু গ্যালাক্সি অল্প বয়সী নীল আর সাদা তারার কারখানা ।

অ্যাস্ট্রোনোমার গোন সবেমাত্র গ্যালাক্সি সম্বন্ধে জানতে  পেরেছে। সবকিছু এখনও জানা যায়নি । তবে যেটুকু জেনেছে তাই নিয়ে মোটামুটি একটা ধারণা আমাদেরকে দিতে চেষ্টা করছে। সবকিছু জানার মধ্যে অনেক গ্যাপ থেকে গেছে  অ্যাস্ট্রোনোমারদের মধ্যে। অনেক ক্লু এখনও অজানা । 

ক্লাস্টার অব গ্যালাক্সির নেটওয়ার্ক ম্যাপ 

Dark Matter :

যা দেখা যায় আর যা দেখা যায় না সবকিছু নিয়েই এই ইউনিভার্স । না দেখা জিনিসের মধ্যে পড়ে ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জি । ডার্ক ম্যাটার দেখা যায় না কিন্তু উপলব্ধি করা যায়। কোনো জিনিসের উপরে এর প্রভাব আমরা সরাসরি দেখতে পাই। ডার্ক ম্যাটার সব জায়গায় আছে। আমাদের ডানে বামে, মহাশূন্যে সর্বস্থানে । ডার্ক ম্যাটার এখনো রহস্য ময়। 

Dark Energy :

১৯৯০ সালে অ্যাস্ট্রোনোমার প্রমাণসহ বুঝতে পারলেন গ্রাভ্যাটিকাল শক্তির টানে গ্যালাক্সিগুলো ক্রমাগত কাছে আসার  পরিবর্তে  তা ক্রমাগত দূরে সরে যাচ্ছে । তার মানে এমন একটি শক্তি আছে যা এই বিস্তৃতি ঘটাতে সাহায্য করছে। প্রকিতির অজানা সামথিংক এই শক্তিটি হলো “Dark Energy”। ১৯৯৮ সালে দুই অ্যাস্ট্রোনোমার আমেরিকান অ্যাডাম সি. এস  এবং অস্ট্রেলিয়ান Brian Schmidt এটা  খুঁজে পেলেন।

অনেক আগে অ্যাইন্যাস্টাইন বলেছিলেন, যাকে আমরা শূন্য বলে মনে করি তা শূন্য নয়, অজানা কিছু একটা আছে। যাকে বলে “মিসিং কম্পোনেন্ট” বা  “cosmological Constant” কিছু আছে।

১৯১৭ সালে Albert Einstine (১৮৭৯ – ১৯৫৫)  ম্যাথেম্যাটেসিয়ান এবং পদার্থ বিজ্ঞানী “Special Relativity” থিওরির মাধ্যমে জানা যায় Time, Space, Mass, Energy এবং Gravity সব স্থানে একই নীতি পালন করেনা অবস্থা ভেদে এই নীতির পরিবর্তন হয়।  এই নীতির ধরা বাধা কোন ফ্রেম নাই ।   

ইউনিভার্স কীভাবে শেষ হয়ে যাবে :

( End Of Universe )

Big Bang এর থিওরিকে মডেল হিসাবে ধরলে বলা যায় যেভাবে ব্যাল্যান্স এর উপরে নির্ভর করে ইউনিভার্সের সৃষ্টি ঠিক সেভাবেই সব শেষ হবে। Big Bang থিওরি পর্যালোচনা করলে অনুধাবন করা যায় গ্র্যাভিটি এবং ডার্ক এনার্জির সমতার উপরে নির্ভর করে কীভাবে ইউনিভার্স শেষ হতে পারে। যখন সমতা না থাকবে তখনেই ধরে নেওয়া যেতে পারে ইউনিভার্স বিপর্যায় এর দিকে ধাবিত।

সব শেষে Robert Frost কথা দিয়ে শেষ করছি আর তা  হলো, “Some say the world will end in fire, some say in ice”. 

গ্রন্থ সূত্র :

Universe The Definitive Visual Guide,  Martin Rees (General Editor)

Robert Dinwiddie , What is the Universe

 

ফোটো ক্রেডিটঃ  উইকিপেডিয়া 

৫১৪জন ২২৭জন
0 Shares

১১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ