সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

মরণ কখন আসিবে জানি না।

মোঃ মজিবর রহমান ২৪ আগস্ট ২০২১, মঙ্গলবার, ১১:৫১:৫৬পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৪ মন্তব্য

শুন মুসলমান!  মৃত্যু তোমার নিশ্চিত,  কবর তোমার নিশ্চিত, এটা নিশ্চয় মানো!

কবর কি খুব দূরে চোখ বন্ধ করে দেখুন। চোখের মনির ভিতরই আপনার কবর প্রস্তুত আপনাকে শোয়ানোর জন্য। বিশ্বাস হয় না,  আল্লাহকে। নাকের ও মুখ গহবর থেকে নিশ্বাস বন্ধ মাত্র দেরি, রেডি কবর। টাকা,  সম্পদ, ঘর বাড়ি বড় কথা, যাদের জন্য গড়ছেন অবৌধ্য সম্পদের পাহাড় একই সময়ে তারাই হতে পারে আপনার সহযাত্রী। সুতরাং মানূষকে কাদিয়ে, হত্যা করে, কারো ইজ্জতহানীতে এই স্ম্পদ কেহই ভোগ করিতে পারবে, না?   যাদের জন্য করেছ তারাও না।   পিপড়ায় খাবে বড় লোকের ধন।— একটি ছবির গান।

আপনার জন্য কবরই ঠাই। আর মহান রব্বুল আলামিন যদি আমার আপনার কপালে কবর না রাখে তাও জুটবেনা। এটা অবিশ্বাস্য না,  তাও  বিশ্বাস করতেও হবে।

কবরের শান্তি ও শাস্তি এটাও মানো!
তোবে শাস্তির কারণ নিশ্চয় জানো!
বেনামাজির শাস্তি তুমুল হবে এটাও জানো।
অন্যায়ের শাস্তি তাও মানো তবে কেন অন্যায়ভাবে অপরের অধিকার হরণ কর!
নিশ্চিত বলতে পারবে জোরপুর্বক হরণ করা সম্পদ অর্থ ভোগ করিতে পারবে?
না, তা কখনো না। মুহুর্তেই তোমার বিনাশ হতে পারে  এটাও নিশ্চিত জানো, তবে কেন জবর দস্তি করে সম্পদ্দের পাহাড় গড়।

জমি দখল: অন্যের সম্পদ দখল করা আর জাহান্নামের টিকিট বুকিং দেয়া এক জিনিস। রাসূল সা: বলেছেন, কারো এক বিঘত সম্পদ যদি কেউ আত্মসাৎ করে তাহলে কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তার গলায় সাত স্তবক জমিন ঝুলিয়ে দেবেন। ধসাতে থাকবেন তাকে। অন্য সাধারণ গুনাহ করলে বা আল্লাহর হকের সাথে জড়িত কোনো হুকুম লঙ্ঘন করলে এত বড় সমস্যা নেই যত বড় সমস্যা মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে দখল করলে রয়েছে। কারণ এটি বান্দার হক। আর বান্দার হক নষ্ট করলে সেটি আল্লাহ নিজে মাফ করবেন না। কিন্তু আল্লাহর হক নষ্ট করলে চাইলে আল্লাহ মাফও করতে পারেন, আবার শাস্তিও দিতে পারেন।

হযরত সাঃ ,”তোমরা কি জানো তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে অভাবী?’ সাহাবিরা বললেন, হে রাসূল! আমরা তো জানি যার সম্পদও নেই টাকাও নেই সে-ই অভাবী। রাসূল সা: বললেন, ‘না সে তো সাময়িক সময়ের অভাবী। অভাব দূর হয়ে যেকোনো সময় সে বড়লোক হয়ে যেতে পারে। আসল অভাবী হলো সেই ব্যক্তি যে অনেক নেক আমল করেছে কিন্তু অন্য বান্দার হক নষ্ট করেছে। কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ বলবেন, তোমার আমল থেকে দেনা পরিশোধ করো। পরিশোধ করতে করতে আমল শেষ হয়ে যাবে কিন্তু তার দেনা শোধ হবে না। তখন পাওনাদারের গোনাহ ওই সম্পদ আত্মসাৎকারীর ওপর দেয়া হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে দেয়া হবে।’

অবৈধ সম্পদ আহরণে তোমার যা পরিশ্রম সবই বিফল হাশরের ময়দানে বরঞ্চ এই গুলিই আমার আপনার চরম শাস্তির কারণ।

 

যে মানুষের এক নিশ্বাসের পরের নিশ্বাসের  নিশ্চয়তা নাই সেই আমরা এতো হানাহানি কিভাবে করার চেষ্টা করি!

১৫৮জন ২০জন
0 Shares

২৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য