মন নেই মনের ভেতর…..//

বন্যা লিপি ১৪ অক্টোবর ২০২০, বুধবার, ০৯:০৩:৪৪অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৯ মন্তব্য

পরীক্ষার আগের দিন রাত-দিন টেবিল চেয়ার দখল করে গ্যাট হয়ে বসে পড়া মুখস্থ্য করেও হলে গিয়ে কলম চিবাতে হয়নি উত্তর লিখতে!  এমন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা খুব কম আছে বলে আমি বিশ্বাস করি।আমার মতো লবডঙ্কা মার্কা ছাত্রীর  তো কথাই নাই। গতরাত থেকে ভাবছি কিছু লিখব, অথচ শুরুটা করতে গেলেই শব্দাক্ষর পছন্দ হচ্ছে না মোটেই। সকাল থেকেই লিখছি আর কাটছি, কাটছি আর লিখছি।।

জানালার ওপারে বেয়ারা বাতাস সীমালঙ্ঘন করেই ঢুঁকে পড়ছে ইচ্ছে মতো। ইচ্ছে মতো অবাধ্যতায় বিরক্ত করেই যাচ্ছে কপালের কাছে চুল বিছিয়ে দিয়ে। কতবার চেষ্টায় হেরে গিয়েছি! কিছু লিখতে চাই বলে; একেকটা শব্দের হাত পা ধরে ধরে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি কেবল। নিউরোনে কিছু একটা হয়েছে নিশ্চই! কি হয়েছে? জবাব খুঁজে খুঁজে তিরিক্ষি হয়ে যাচ্ছি ক্রমশঃ। কপালের ডান-বাঁ পাশটা দপদপ করতেই থাকে চব্বিশ ঘন্টা। অগোছালো ঘরদুয়ারের দিকে চোখ মেলানো হয় না। হয় না সময়ের নিয়মমাফিক রুটিন বাঁধা চাবির গোছা সামলানো! ইদানীং কী সব স্বপ্ন দেখি! ওসব নিয়েও জবাব খুঁজি। কেন দেখি এসব? মস্তিষ্ক খুব বেশি আক্রান্ত হয়ে আছে অজানা রোগে? হতেও পারে:

ঘুমুতে চাই। ঘুম চাই খুব!

নেই নেই নেই…….

চেনা রাস্তা দিয়ে গিয়েছিলাম সেদিন হাসুর কাছে… অনেকদিন বাদে বেরিয়েছিলাম চেনা চেনা রাস্তা ধরে।  আগের মতো নয়। ভাড়া করা উবারে চড়ে,মাস্ক পড়া আর সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে, চেনা শহরের চেনা রাস্তা ধরে এগোতে এগোতে একটুও মন ছিলোনা,  সাথে থাকা মুক্তির কোনো কথা আমার কান পর্যন্ত পৌঁছুচ্ছে কিনা? ওইতো এখনো রাস্তার ধারের ফুটপথ দখল করা ঝুপরি গুলো দেখা যাচ্ছে, -দ্যাখ মুক্তি- এই এদের রোজকার সংসার, এভাবেও এরা এখানে ঘরসংসার করছে, ওই দ্যাখ চুলো জ্বলছে, চুলোয় হাড়িতে টগবগ করছে চাল। কাছেই বসে আছে অর্ধনগ্ন শিশু। ওদের আমাদের মত চাহিদা নেই। এটা নেই সেটা নেই। কোন ব্যাংকে ইন্টারেস্ট বেশি দিলো,  কোন ব্যাংকে কম! ঘরে কি কি আসবাব আছে কি নেই? পলিথিন দিয়ে ঘেরা এসব ছোট্ট ছোট্ট খুপরি দেখতে দেখতে ভাবি,  ওরা প্রতিটা সময় কী পরিমান যুদ্ধ করে যাচ্ছে, চাহিদার তুলনায় যৎসামান্য যোগান, চাহিদা কি জিনিস এরা তাই হয়ত বেমালুম পাশ কাটিয়ে রাস্তার ধারে ইটের চুলায় চুরি করা নয়তো ধার করা দেশলাইয়ের আগুন জ্বেলে পেটে ক্ষুধার চাহিদা মেটাতে উদগ্রীব থাকে বেশি। পরনের লজ্জা ঢাকা কাপড়টুকুও জোগাড়ে হয়ত চাহিদার প্রয়োজনে চুরি চামারি বা যাকাত পাবার অপেক্ষা করে বছরজুড়ে।

আচ্ছা!!! ওরা ঐ খুপরি ঘরে কতজন থাকে? পরিবারে সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী  কে কেমন করে ঘুমায়? আচ্ছা ওরা কি সকালে ঘুম ভেঙে উঠে পেষ্ট নেই বলে চিৎকার চেঁচামেচি করে? সকালে কি নাস্তা খাবে সে নিয়ে হাউকাউ করে? এটা খাবো না, সেটা খাবো না বলে রাগ ঝাড়ে? বাচ্চাগুলো কি বায়না ধরে -‘ আজো মাছ- মাংস কিছু নেই?” দ্যাখ মুক্তি, ১০০ টাকা কেজি পেঁয়াজ তাও আমরা কিনে খাই, আলুর দাম বেড়ে গেলো ধারনার অতীত, ওদের কি হবে? কি করে ওদের জীবন চলছে”?

ড্রাইভার সাহেবের এ দরদ পছন্দ হলো না —” আপা,  এরা সবচে বড় বদমাঈশ! চমকে উঠলাম কি বলে?  কেন বললো?  খিঁলগাও ওভার ব্রিজে ওঠার আগে রাস্তার ধারঘেসে ঝুপড়ি গুলো আরো একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নিচ্ছিলাম। উবারের ড্রাইভারটা ২৫/২৬ বছরের যুবক। এই শ্রেনীর যুবকেরা চিন্তায় এবং বলায় বেশ দৃঢ়তার ছাপ রেখে কথা বলে। আমি মনোযোগ নিবেশ করলাম ছেলেটার কথায়। চলন্ত গাড়ির বিশ্রী কিছু যান্ত্রিক শব্দে আওয়াজ কিছুটা ভাইব্রেট করছিলো। আগা থেকে মাঝবরাবর কিছু কথা উদ্ধার করে করে জোড়া লাগিয়ে নেই পূর্ণ বক্তব্যের শরীর। ড্রাইভারের ভাষ্যমতে– এগুলা সবচে বড় বদমাঈশ আপা, পাশেই হাসপাতালটা দেখছেন? মহা সুবিধা এগুলার। হাসপাতালের আশেপাশে সন্ধ্যা হলেই ঘুরঘুর করে, সুযোগ বুঝেই দালালী করে কেউ কেউ। কেউ কেউ করে মাদকের হাতবদল। বড় লোকের পোলাপান আসে সন্ধ্যাপার অন্ধকারের সুযোগ নিয়া, ওগো কাছে একদল মাদক বেচে আরেক দল আসে ওদের কাছ থেকে কিনতে। এগুলার প্রতি মায়া দরদ সব ফাও। আমি এ লাইনে গাড়ি চালাই বহুদিন ধইরা,  সব দেখা আছে।’

বুঝলাম, যা চোখে দেখা যায়, তা সবসময় সত্য নয়। আবার যা দেখা যায়না, তাও মিথ্যা নয়। চলতি পথে কতকিছুই তো চোখে পড়ে, কটা দৃশ্য মনে দাগ কাটে আর ক’টা দৃশ্য চোখে পড়ে চোখে পড়ার মতো?

*****************

গুছিয়ে লিখতে চাই,অথচ মনের মতো না হলে আমার লিখতেই ইচ্ছে করে না। এ লেখাও হলো না মনের মত। তবু লিখলাম।লেখার মধ্যে থাকতে চাই বলে। তারওপর আছে আমার মাথার উপরে ছড়ি ঘোরাবার মতো একজন প্রাণের সখী ময়না।তিনি আমাকে কোনোকিছুতে ছাড় দিতেই চাননা,….. আজ তুমি লেখা দেবে’ : কি লেখা দেবো? লিখতেই পারছিনা কিছুদিন ধরে!

–এগুলাই লিখবা,

লেখা আসেনা, কেন আসে না, কেন মন মনের ভিতরে নেই!

:কেন যে আসে না লেখা,  সেটা যদি লিখতে পারতাম!

–আমি এত কথা বুঝি না। লিখতে বলেছি লিখবে 😡😡

: আচ্ছা, চেষ্টা করছি কিছু একটা লেখার।

মন….

মন নেই মনের ভেতরে, কেন যে নেই! যদি লিখতে পারতাম, তাহলে বেঁচে যেতাম।

২১৩জন ২জন
0 Shares

১৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য