মনিপুরী শাড়ি

আরজু মুক্তা ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, শুক্রবার, ০৪:১৮:২৮অপরাহ্ন অন্যান্য ২৬ মন্তব্য

ঋতুর পালাবদলে প্রকৃতিতে বইছে ফাগুনের মনমাতানো বাতাস। সেইসাথে পোশাকেও আসবে পরিবর্তন। গরম কাপড় শোভা পাবে আলমারিতে। না গরম না ঠাণ্ডা, এমন আবহাওয়ায় দরকার আরামদায়ক পোশাক। কদর বাড়বে তাঁত কাপড়ের। বিশেষ করে এক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে মনিপুরী তাঁত।

মনিপুরীদের আদিবাস ভারতের মনিপুর রাজ্যে। তবে, আঠারোশ শতক থেকে সিলেট এলাকায় এদের বাস করতে দেখা যায়। শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের প্রায় ৬০ টি গ্রাম বিখ্যাত মনিপুরী তাঁত শিল্পের জন্য মনিপুরী মেয়েরা বাড়িতে বসেই নিজের হাতে বুনে থাকে অসাধারণ সব শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, শাল, ওড়না, ব্লাউজ পিস ইত্যাদি। এইভাবেই ব্যবসায়িক উৎপাদন শুরু হয়।

মনিপুরীদের বুননে রং আর নকশায় রয়েছে অপূর্ব  সমন্বয়।  বৈচিত্র্য থাকার কারণে এক নজরেই সবাই পছন্দ করে মনিপুরী তাঁঁতেের পণ্যসামগ্রী।  মনিপুুুরী এলাকার বাড়িতেে বাড়িতে ঘুুরলে প্রতি চার বাড়িতে অন্তত একটি কাপড় বোনার হস্তচালিত মেশিন দেখতে পাওয়া যায়। এই শাড়ির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পাড়টি হবে গাঢ় রং এর। নকশাটি হবে ত্রিভুজাকৃৃৃতির আর শাড়ির ভেতরে থাকে হালকা সুতায় বোনা লতাপাতা। ত্রিভুজাকৃতির ডিজাইনটি হলো মৈরাং। এর মাধ্যমে ওদের ধর্মীয় দিক প্রকাশ পায়।

মনিপুরি শাড়ি গায়ে হলুদ, মেহেদী লাগানোর উৎসব, পহেলা বৈশাখ কিংবা পহেলা ফাল্গুনে, ফেয়ার ওয়েলে পরার জন্য উপযুক্ত।

ঢাকার শুক্রাবাদ আছে মনিপুরী হস্তশিল্পের একটি শোরুম। নাম: মনিপুরী এম্পোরিয়াম। তবে মনিপুরীদদের বাড়ি থেকে একটু কম দামে কিনতে পাওয়া যাবে। শাড়ি ৫৫০ থেকে ৯৯৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

নিজস্ব বুননশৈলী এবং সুতার জন্য মনিপুরী শাড়ি দেশের গণ্ডি ছেড়ে এখন অনন্য সারা বিশ্বে। মানগতদিক থেকে তাদের উৎপাদিত জিনিসগুলো যেমন সুন্দর, তেমনি ব্যবহার করেও আরাম। আবার এটা ব্যবহারে দেশিয় সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতাও হয়।

★★ আসুন ১লা ফাল্গুন এবং ভালোবাসা দিবসে একটি হলেও মনিপুরী শাড়ি কিনি।

১০৬৫জন ২জন
113 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য