মধ্যরাতের আর্ত- চিৎকার

জিসান শা ইকরাম ২৯ মার্চ ২০২০, রবিবার, ০৯:৩০:৩০অপরাহ্ন অণুগল্প ৩৬ মন্তব্য

বহু রঙয়ের সমাহারে এরা বেশ আটঘাট করে নেমেছে এই বিশ্বে। আপাতত চারশত এর বেশী রঙ ধারণ করেছে। এদের গোলগাল চেহারাটার সাথে কদম ফুলের বেশ মিল। তবে এদের কদম ফুলের মত এত কেশর নেই। এদেরকে প্রতিরোধ করার মত কোনো যুদ্ধাস্ত্র আবিষ্কৃত হয়নি এখনো। আর তাই আক্রমন নয়, প্রতিরক্ষা কৌশল অবলম্বন করে আছে মানবকুল। শত্রুর মোকাবেলায় পালিয়ে থেকে গর্তে লুকানোর কৌশল অবলম্বন করেছে মানবজাতি।

বড় বড় শহরে জনমানবহীন সড়ক, মাঝে মাঝে পুলিশ/ সেনাবাহিনীর এর সাইরেন  বাজানো গাড়ি ছুটে যায়। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেহ বাসার বাহিরে যাচ্ছে না। আমাদের ছোট শহরটা যেন বড় শহরগুলোকেও হার মানিয়েছে। আজ সকাল থেকে লোকজন বলতে গেলে নেইই সড়কে। সমস্ত দিনে একজন মানুষকে কেবল সাইকেল চালিয়ে যেতে দেখলাম।

রাত দশটায় বিদ্যুৎ চলে গেলো। অমাবস্যার রাতে বিদ্ঘুটে অন্ধকার। কুকুর গুলো ডাকছে কেমন এক বিজাতীয় ভয় মিশ্রিত শব্দে। কেন জানি কুকুরগুলো ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে পালালো। গভীর রাতে হঠাৎ সড়কে কেমন এক বিদঘুটে শব্দ। দুটো রাবারের নরম বলে যেমন ঘষা লাগলে খস খস শব্দ হয় তেমন। শব্দের পরিমান ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক সময় মনে হল রাস্তায় কেমন বিজাতীয় উল্লাস ধ্বনি। অন্ধকারের মধ্যেই জানালার একটি পাল্লা খুলে রাস্তার দিকে তাকালাম। একি, কি দেখছি এসব সড়ক জুড়ে! পুরো রাস্তা জুড়ে বিভিন্ন রঙের বল গড়িয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে। জোনাকির যেমন নিজস্ব আলো আছে, তেমনি আলো বের হচ্ছে এসবের গা থাকে। দেখে ভয়ে শরীরের সমস্ত লোম দাঁড়িয়ে গিয়েছে। দাঁতে দাঁত বাড়ি খাচ্ছে খট খট করে। এরা শহরটির দখল নিয়ে নিয়েছে। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ বলের গড়িয়ে চলা, শেষই হচ্ছে না- আসছে তো আসছেই। চিৎকার করার মত অবস্থাও নেই আমার। কে যেন গলা চেপে ধরে আছে।

কিভাবে এরা যেন মানুষের মত হয়ে গেলো। চিকন চিকন হাত পা ওয়ালা শরীরের উপর রঙিন গোল মাথা। সমস্ত সড়ক জুড়ে মিছিলের মত সামনে এগোচ্ছে। নিস্তব্ধ  কালো রাতে এদের এমন চলাচলে ঠক ঠক করে কাঁপছি।

হঠাৎ বাসার দরজায় জোড়ে করাঘাত, খটখট খটখট………

 

৮০৬জন ৫২৩জন
70 Shares

৩৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ