মতিন মিয়া (০৪)

রাফি আরাফাত ৪ মে ২০১৯, শনিবার, ১১:৪৯:৪৬পূর্বাহ্ন গল্প ১৬ মন্তব্য

মনটা ভালো নেই আজ। আচ্ছা মতিন মিয়ার কাছে গেলে হয়তো মনটা ভালো হয়ে যাবে। যাই মতিন মিয়ার কাছে যাই। এইতো মতিন মিয়া পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে। মতিন মিয়া কি করেন? দেখতেছি! কি দেখেন? জানিনা। মানে? পানিতে দেখেন সাজু ভাই। কি দেখবো? কি দেখলেন? পানিতে আবার কি দেখবো? পানিতে তো পানি ছাড়া আবার কি দেখবো। কিন্তু আমি তো কচুরিপানা দেখলাম। মানে? মতিন মিয়া চুপ করে থাকে। আচ্ছা মতিন মিয়া মানুষের মন খারাপ হয় কেন? মানুষের মন খারাপ হয়না। তাহলে আমার কেন আজ মন খারাপ হইলো? মানুষ যখন কোন কিছুতে মন দিতে পারে না,যখন কোন কাজ ঠিক মতো করতে পারে না,তখন নিজে নিজেই মুখ থেকে একটা কথা বানিয়ে আমাদের শুনায় যে,ভাই আমার মন খারাপ হয়েছে। কিন্তু এটার যুক্তিকতা কি,মতিন মিয়া? মন খারাপ বলে কিছু থাকলে মন খারাপের ঔষধ এতোদিন আবিষ্কার হইতো। আছে কি ঔষধ, সাজু ভাই?


আচ্ছা মতিন মিয়া আপনার কখনো খারাপ বা একা একা লাগেনা? মতিন মিয়া কিছু না বলে একা একা হাঠতে থাকে। আমি তার পিছু নেই। কি হলো বললেন না যে মতিন মিয়া? আবার চুপ করে থাকে মতিন মিয়া। কি বুঝবো আমি? মতিন মিয়ারও খারাপ লাগে,তারও একা একা লাগে। নাকি অন্য কিছু। কিন্তু মতিন মিয়া তো চুপ করে থাকার কথা না। তাহলে নিশ্চয়ই বড় কোন রহস্য আছে এর মাঝে। আমাকে জানতেই হবে।।

মতিন মিয়া চুপ করেই থাকবেন? এবারো কোন উত্তর মিলে না। মনে মনে আমি বলছি ( মতিন মিয়ার পরিবারকে কি তাকে বের করে দিয়েছে? তাকে কি তার পরিবার ভুল বুজেছে? নাকি তার আচরণে সবাই তাকে পাগল ভেবে বের করে দিয়েছে। হয়তো সে তার পরিবারের তার জন্য হাসির পাত্র হয়েছে,যার কারনে তাকে তাদের কাছ থেকে দূরে রেখেছে। হয়তো তারাও আমার মতো তার রহস্যের কারন জানতে না পেরে তাকে ঘরছাড়া করেছে)।

কিন্তু এতোদিন তাই বলে কেউ দেখা করতে আসবে না? কেউ একবার খোজ নিতেও আসবে না? কেউ একটা বার জানতেও আসবে না এই অদ্ভুত মানুষটা কেমন আছে? তাহলে কেন আসলো না? আবার আমি মনে মনে বলি ( তাহলে কি মতিন মিয়া কোন মেয়েকে খুব ভালোবেসে বাসা থেকে বের হয়ে চলে এসেছে? নাকি সেই মেয়ে তাকে আসবে বলে ধোকা দিয়ে চলে গেছে,তাই লজ্জায় সে আর বাসা ফিরে যায়নি। নাকি তার ভালবাসা মরে গেছে,যেই শোকে সে এমন রহস্যময় মতিন মিয়া হয়ে গেছে)।

কিন্তু একটা মানুষ এমন কেন হবে? তার তো কেউ একজন থাকার কথা। আর সে উত্তর দিচ্ছে না কেন? এভাবে তো মতিন মিয়া চুপ করে থাকে না। তাহলে কি এমন লুকিয়ে আছে এই প্রশ্নের মধ্যে? আছে কি এমন কোন গভীর রহস্য যা শুনলে আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে যাবে। আমার চোখ বড় হয়ে যাবে,আমার অজান্তেই আমার চোখ লাল হয়ে যাবে। আছে কি এমন কিছু?

মতিন মিয়া এভাবে চুপ করেই কি থাকবেন? নাকি কিছু বলবেন? সাজু ভাই এতক্ষণে অনেক কিছু ভাবছেন আমাকে নিয়ে তাই না। আমি কিছু বললাম না। সাজু ভাই দুনিয়াটা অনেক রহস্যময়। কেন? আমি যদি কিছু বলি,তাহলে পাগলের মতো বলি,আবার যদি কিছু না বলে চুপ করে থাকি,তাহলে হয়তো বিশাল কোন এক রহস্য আছে। রহস্য আমাদের ছাড়ে না।

জানিনা মতিন মিয়ার এই চুপ করে থাকা কি বুঝিয়েছে। হয়তো নতুন কোন রহস্য। আজ যাই। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আরেকদিন আসবো।

চলবে—–

২৩০জন ৯৬জন
8 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য