“ভয়ংকর বাংলা ভুউউউউউউউত”

বায়রনিক শুভ্র ১৪ নভেম্বর ২০১৩, বৃহস্পতিবার, ০৭:৪৮:১৯অপরাহ্ন বিবিধ ১২ মন্তব্য

                                                                                                                            ১

দুই ভাই সকালরাতে বিলে মাছ ধরছে । সামনে বড় ভাই ফুলকুচি দিয়ে মাছ ধরছে আর নৌকায় রাখছে আর ছোট ভাই পিছনে বসে লগি ঠেলছে । এত মাছ উঠছে যে বড় ভাইয়ের পিছনের দিকে তাকানোর ফুসরত নেই । আলো ফোটার পর বড় ভাই যখন পিছনে তাকাল তখন দেখল নৌকায় মাছ আছে চার পাঁচটা । বাকি মাছ গায়েব । এবং ছোট ভাইয়ের মুখে রক্ত লেগে আছে । এই দেখেই বড় ভাই বুঝে গেল  ভুতে ছোট ভাইকে মেরে ছোট ভাইয়ের রূপ ধরে নৌকায় বসে সব মাছ সাবাড় করে দিয়েছে । তারপর বড় ভাই করল কি বক বক বক বক বক বক বক বক বক বক বক  …………………………………………

                                                                                                                              ২

আমার আপন মামার খালাতো ভাইয়ের চাচা শ্বশুরের জামাইয়ের বিয়াই একবার পয়সার হাটে গিয়েছিল । ফেরার পথে রাত হয়ে যায় । ফাকা বিলের মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলে । এদিকে রাত বাড়তেই থাকে । হঠাৎ সে দেখে দূরে একবাড়িতে আলো জ্বলছে । রাতের আশ্রয়ের জন্য সে সেই বাড়ি গেল । বাড়ি গিয়ে দেখে শত শত মানুষ । বিশাল খাওয়া দাওয়া , গান বাজনা চলছে । সে গিয়ে আশ্রয় চাইল এবং বাড়ির কর্তা তাকে খুব খাতির যত্ন করে খাওয়ালো , ঘুমানোর জন্য আলিশান ব্যাবস্থা করে দিল । কিন্তু সকাল বেলা সে দেখে বাড়ি ঘর কিছু নেই । শুয়ে আছে মাটির উপর এবং মাথার নিচে পোড়া কাঠ কয়লা । এবং যে জায়গায় আছে সেটা এলাকার বিখ্যাত একটা শ্মশান ।  তারপর বক বক বক বক বক বক বক বক বক বক বক  …………………………………………

                                                                                                                       ৩

শোন একদিন কাজ টাজ সেরে ডাঙা থেকে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেল । সেদিন আবার আমাবশ্যা । এমন অন্ধরাক যে কিছুই দেখা যায় না । হেটে হেটে ফিরছি । তিন কুয়ার মাঝখানে যখন আসলাম(এখানে বড় বট গাছ হতে পারে,সাত রাস্তার মোড় হতে পারে বা শ্মশান বা গোরস্থানও হতে পারে) তখন হঠাৎ দেখি একটা ঘোড়া ছুটতে ছুটতে আসছে । একটু পর ঘোড়া হয়ে গেল হাতি এরপর গরু এরপর বিড়াল । আমি তো ভয়ে শেষ । তারপর বক বক বক বক বক বক বক বক বক বক বক  …………………………………………

                                                                                                                              ৪

গত বছর ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছি । এমনিতেই রাত হয়ে গেছে তারপর আবার আমাবশ্যা । কিচ্ছু দেখা যায় না । স্টেশনে এসে দেখি কোন ভ্যান নেই (রিকশা বা নৌকাও হতে পারে) । কি আর করা হেটেই রওয়ানা হলাম । যেই বিশ্বাসদের পুরানো গোলা ঘর পর্যন্ত এসেছি অমনি মনে হল কে যেন পিছন পিছন হাঁটছে । আমি ভাবলাম মাইজা ভাই মনে হয় । ডাক দিলাম কিন্তু কেউ সাড়া দেয় না । পিছনে তাকালাম দেখি কেউ নাই । মনের ভুল ভেবে আবার হাটা শুরু করলাম । যেই হাটা শুরু করছি অমনি শুনি পিছনে কার জানি পায়ের শব্দ । আবার পিছনে তাকালাম দেখি কেউ নাই । আমি তো এইবার ভয়ে শেষ । দৌড় দিলাম সাথে সাথে । পিছনে শব্দ শুনলাম কে জানি দৌড়ে আমাকে ধরার চেষ্টা করছে । তারপর বক বক বক বক বক বক বক বক বক বক বক  …………………………………………

                                                                                                                                    ৫

তুই জানিস আমাদের এই বাড়ির মাটি কারা কাটছে ????

কারা ??

ভুতে ।

ইস ভুতে আবার মাটি কাটে নাকি ???

তাইলে শোন আসল ঘটনা ——-

আমার দাদুরা ছিল দুই ভাই । দুই ভাইয়ের গায়ে অনেক শক্তি । দাদুর বাবা যখন এই জমি কিনল তখন এই জায়গা অনেক নিচু ছিল । তাই বাড়ি বানানোর জন্য আমার দুই দাদু প্রতিদিন সকাল রাত্রে উঠে মাটি কাটত । একদিন শনি মঙ্গল বার (শনি না মঙ্গলবার পরিস্কার না) আমার দাদু ছোট দাদুকে বলেছে “আজকে একটু তাড়াতাড়ি উঠিস উত্তর পাশ আজকে ভরাট করে ফেলতে হবে” । যাই হোক ছোট দাদু তো ঘুমিয়ে পড়েছে । হঠাৎ রাত দুপুরে অবিকল বড় দাদুর মত গলায় ছোট দাদুকে কেউ একজন ডাকল । ছোট দাদু উঠে দেখে বড় দাদু তাকে ডাকছে । কিন্তু তখনও অনেক রাত । এত রাত্রে যেতে ছোট দাদু আপত্তি করলেও বড় দাদু জোর করে ছোট দাদুকে মাটি কাটতে নিয়ে গেল । কিন্তু বড় দাদু কোদাল ধরে না । কোদালে লোহা আছে তো , ভুতে আবার লোহা ছোয় না । যা হোক ছোট দাদু মাটি কাটছে আর বড় দাদু টুকরিতে করে মাটি ফেলছে । কিন্তু মাটি ভরতে দেরি আছে মাটি ফেলতে সময় লাগে না । দাদু পিছনে ফিরে দেখে ২০ হাত দূরে দূরে পা ফেলে খেজুর গাছের মত লম্বা কে যেন মাটি ফেলছে । এই দেখেই তো দাদু বুঝে গেল বড় দাদুর রূপ ধরে ভুত এসেছে । তারপর বক বক বক বক বক বক বক বক বক বক বক  …………………………………………

এগুলো আমাদের অঞ্চলের খুবই জনপ্রিয় ভুত বা জীনের গল্পের মধ্যে কয়েকটি । এমন কোন গ্রাম খুজে পাবেন না যে গ্রামে এই গল্পের মত ঘটনা ঘটে নি । এবং এগুলো বলার জন্য উৎসাহী কথকও খুজে পাবেন, যারা মুল নায়কের মুখে নিজ কানে শুনেছে ।  শুধু গ্রাম ভেদে পাত্র বা পাত্রী বা স্থানের পরিবর্তন ঘটতে পারে । কিন্তু ঘটনা একই । ছোট বেলায়  শীত কালে মামাবাড়ি গিয়ে এই গল্প গুলো শুনতাম রাতের বেলা । কখনও মামা বা কখনও দাদু বা দিদাদের মুখ থেকে এগুলো শুনতাম । খুব ভয় করত তখন । গল্প শুনে জড় সড় হয়ে থাকতাম, অন্ধকারের দিকে তাকাতাম না। কিন্তু এখন শুধুই হাসি পায় । এখনও মধ্যবয়স্ক কারো কাছে এই গল্প গুলো জিগ্যাস করলে খুব উৎসাহ নিয়ে বলে ।   আমার এক মামা আছেন নাম “টেক্কা” তার জীবনে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যার সাথে ভৌতিক কিছু জড়িত নেই । আমার ছোট কাকি এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ভুত দেখেনি (তিনি শিক্ষিত এবং চাকরিজীবী) । আরেকজনকে চিনি যে কিনা সব জায়গায় ভুতের অস্তিত্ব খুজে পেতে খুব পছন্দ করে । বাস্তবে না থাকলেও এই ধরনের মানুষের মধ্যে আজীবন বেঁচে থাকবে বাংলার ঐতিজ্যবাহী ভুত ।

২৬২জন ২৬২জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য