খাদ্য দ্রব্য বা খাদ্য পণ্য সবকিছুই যে ভেজালে সয়লাব হয়ে গেছে তা সকলের জানা। পচনশীল ফলমূল, মাছসহ অনেককিছুতেই ফরমালিন ব্যবহারের তথ্য কারোই অজানা নয়। জানা আছে বিভিন্ন রঙ, কেমিক্যাল, সার, মোবিল, এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের খাদ্যে ব্যবহার সম্পর্কেও। ভেজাল ব্যাপারটা এখন মানুষের গা সওয়া হয়ে গেছে। বলা ভাল ভেজালের কাছে মানুষ অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে বা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছে। হালে যোগ হয়েছে ভেজাল ঔষধ, চিকিৎসা সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা। ভেজাল, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধের সাথে সাথে সন্ধান পাওয়া গেছে ভেজাল ঔষধ তৈরির কারখানাও। রোগ নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ, যথাযথ শিক্ষিত বা প্রশিক্ষিত ব্যক্তি ছাড়া এবং যথাযথ ক্যামিকেল, উপাদন ব্যবহার না করে দায়সারা ও যেনতেনভাবে রিপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি করোনাকালেও পরীক্ষা ছাড়াই নকল বা ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। যেখানে রিপোর্ট সঠিক নয় সেখানে চিকিৎসা কিভাবে সঠিক হবে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আজ হুমকির মুখে। চিকিৎসার জন্য বাঁচার জন্য অনেকেই ছুটছে বিদেশে কিন্তু বিদেশে চিকিৎসা করানোর জন্য সেই আর্থিক সংগতি বা সামর্থ্যও নেই অনেকের।

বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্ব এখন হিমসিম খাচ্ছে প্রাণঘাতী মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায়। সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা নকল ভেজাল ঔষধ, চিকিৎসা সুরক্ষা সরঞ্জামের রমরমা ব্যবসা জমিয়ে তুলেছে মানুষের করুণ ভয়াবহ মৃত্যুকে পুঁজি করে, আর্থ মানবতার সেবাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে। অক্সিজেন সিলিন্ডারেরও অপব্যবহার করে টুপাইস কামিয়ে নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। মানব চিকিৎসা কাজে ব্যবহার উপযোগী অক্সিজেনের পরিবর্তে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন বিক্রি করছে যা মানুষের জীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক এবং মানুষের অঙ্গহানি বা মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করতে পারে। পাশাপাশি আপনি জটিল কোন চিকিৎসা করতে যাবেন তার পূর্বে চাই করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট। কিন্তু এই নমুনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে মানুষকে প্রচুর হয়রানী, দুর্ভোগ, ভোগান্তি আর দুর্দশা পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ যেতে, চাকুরীতে পুনঃযোগ দিতে, হাসপাতালে ভর্তি হতে করোনাভাইরাসের নমুনা রিপোর্ট এখন অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে। করোনার দুঃসময়েও ভুয়া করোনা রিপোর্ট দিয়ে কিছু অসৎ অসাধু বিবেক নীতি মানবতা বিবর্জিত মানুষ অসাধু উপায়ে মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে। কোথায় পাবে ভরসা। “কথা ছিল বিনামূল্যে করোনার নমুনা নেয়া হবে বুথ থেকে। তবে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকায় বাড়ি ও অফিস থেকে নমুনা নিয়েছে জেকেজি হেলথ কেয়ার। তারপর সেই নমুনা ফেলে দিয়ে দেয়া হয়েছে মনগড়া রিপোর্ট। আর এভাবেই তারা হাতিয়ে নিয়েছে মাসে কোটি টাকা”{সূত্রঃ ইন্টারনেট}। তাছাড়া “স্যাম্পল সংগ্রহের সময় রোগীর বাহ্যিক উপসর্গ দেখে একটা ধারণা থেকে ফলাফল তৈরি করে। করোনার বাহ্যিক উপসর্গ দেখা দিলে, সেক্ষেত্রে তার পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ উল্লেখ করা হয়। কোনো উপসর্গ না দেখা দিলে রিপোর্টে নেগেটিভ উল্লেখ করা হয়। এরকম ভুয়া পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে বুকিং বিডি ও হেলথ কেয়ার নামের দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক হুমায়ুন কবীরসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত  ২৩ জুন সকালে বিমানবন্দর থানা এলাকার আশকোনার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হুমায়ুন কবীর ও তানজিনাকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ”। {সূত্রঃ ইন্টারনেট}। দেশের সবচেয়ে আলোচিত, চাঞ্চল্যকর বিষয় এবং টক অব দি কান্ট্রি হচ্ছে রিজেন্ট হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান। অভিযানে গিয়ে র‌্যাব দেখতে পায়, করোনা টেস্ট না করেই ভুয়া রিপোর্ট দিত রিজেন্টের উত্তরা শাখা। অভিযানে অসংখ্য ভুয়া করোনা রিপোর্টসহ নানা নথি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিলসহ নানা অভিযোগ জমা পড়েছে যার সত্যতাও মিলেছে। যেখানে রিজেন্ট হাসপাতাল হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক মনোনীত একটা হাসপাতাল যেখানে বিনামূল্যে করোনা নমুনা পরীক্ষা করা হয় অথচ “গত ০৭ জুলাই’২০ ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি প্রথম আলোকে জানান, তিনি সাত দিন রিজেন্ট হাসপাতালে ছিলেন। দুই দিন অক্সিজেন লেগেছিল। পরিশোধ করতে হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তাঁর পরিবারের সদস্যদের নমুনা পরীক্ষার নামে খরচ পড়েছে ৩০ হাজার টাকা। অধিদপ্তরের ঘোষণা শুনে তিনি ওই হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু এত টাকা দিতে হবে তিনি কল্পনাও করেননি”। {সূত্রঃ প্রথম আলো, ০৮ জুলাই’২০}। রিজেন্ট গ্রুপের দুইটি হাসপাতালকে র‍্যাব সীল্গালা করে দিয়েছে। এত ভেজালের এই দুনিয়ায় আল্লাহ্‌ আমাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। হ্যাঁ আমরা বেঁচে আছি ! তবে  বিবেক আর মনুষ্যত্ব লোভী দানবের কাছে, অশুভ শক্তির কাছে হেরে গেছে।   

 

১৭৩জন ৬০জন
0 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য