ভালোবাসা আসে একবারই

রিমি রুম্মান ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শনিবার, ১২:১৬:৫২অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৫ মন্তব্য

কলেজের প্রথম দিন। সবার পরিচিতি পর্ব। এক একজন টিচার আসে। নাম ধরে ডাকে। আমরা একজন একজন “ইয়েস স্যার” বলে দাঁড়াই। বারবারই চোখ আটকে যায় এক সুদর্শনের দিকে। দেখতে ঠিক যেন সিনেমা’র হিরো ! মেয়েরা এক দিকে, ছেলেরা আরেকদিকে বসে। আমরা মুখোমুখি সবাইকে দেখতে পাই। বরাবরই হিরো বসে পিছনের বেঞ্চিতে। অনেকের ঘাড়, মাথা’র ফাঁক ফোঁকর গলিয়ে দৃষ্টি গিয়ে বিঁধে হিরো’র দিকে। কারনে অকারনে। কোন এক অদৃশ্য কারনে বারংবারই আমরা চোখাচোখি হই। ভেতরে ভেতরে প্রলয় বইতে থাকে। সেই প্রলয়ে ঘুরপাক খেতে খেতে অতলে হারাই। ভালোলাগা’র দুর্দান্ত এক অনুভূতি…

নায়কের নাম “কমল”। মাস খানেক বাদে কোচিং থেকে ফেরার পথে নায়কের পক্ষ হয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ দু’জন বন্ধু জানায়, কমল তোমাকে ভালোবাসে। আমি খুশীতে আত্মহারা। হৃদয় নেচে উঠে। চোখে মুখে উজ্জ্বল দ্যুতি খেলে যায়। নির্ঘুম রাত কাটে। ছাদের পড়ার রুমটিতে ক’দিন বিকেলে রোমান্টিক সব গান বাজতে থাকে। গুন্‌গুন্‌ করে গাইতে থাকি। পৃথিবীটাকে অসাধারন রকমের সুন্দর মনে হতে থাকে।

এক সপ্তাহ পর কমল আবারও তাঁর দু’জন বন্ধুকে পাঠায় মতামত জান্‌তে। এবার একটু ভাবনায় পরে যাই। সাতপাঁচ চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে। চিন্তাগুলোর মাঝে ঘুরপাক খেতে খেতে আবারও তলিয়ে যেতে থাকি অদ্ভুত এক বিষণ্ণতার অতলে। কেবলই মনে হতে থাকে… “ইস্‌ কমল’টা কেন যে অন্য ধর্মের হলো !” নেচে উঠা হৃদয় চূর্ণবিচূর্ণ হলো। সেই আহত হৃদয় নিয়ে দুখী দুখী মুখ করে ক’দিন বিকেলে ছাদে বিক্ষিপ্ত ভাবে হেঁটে বেড়াই। পড়ার রুম থেকে বিরহের গান ভেসে আসে। বেঁচে থাকাটাকে অনাবশ্যক, অহেতুক মনে হয়…

বছর না ঘুরতেই ব্যবসাপাতি গুটিয়ে কমল’রা সপরিবারে ইন্ডিয়া চলে যায়। শুনেছি সে কোলকাতায় অভিনয় করে…

এটি ছিল নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া জীবনের নিতান্তই এক ভালোলাগা’র গল্প।

## জীবনে ভালোলাগা আসে একাধিকবার। তবে, ভালোবাসা একবারই। সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো ধনী-গরীব, হিন্দু-মুসলমান বাছ বিচার করে না।

শুভ হোক ভালোবাসা দিবস।
শুভকামনা সকলকে…

 

৭৫৩জন ৭৫৫জন
0 Shares

২৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ