বিরান মরুভূমির এককোনে বসে বিজারিত স্বপ্নে বিভোর তক্ষকের ক্ষণেক্ষণে রঙ বদলাবার দৃশ্যে যে ছবি মনে ভাসে তার সাথে তুলনা করার মত নিজের প্রেমোদগম স্মৃতিগুলি ধূসর থেকে ধূসর হতে চলেছে দিনকেদিন।

মরুর পথিক কত পথ পেরিয়েছে, কত নোনা অশ্রুর সমুদ্র বইয়েছে তার ইয়াত্তা নেই। মহাসাগরের গহীন অন্ধকার আর বেদুইনের হৃদয়ের কালো গহ্বর এ দু’য়ের মাঝে এখন খুব একটা পার্থক্য আর খুঁজে পায়না সে।

নিজের অনাসক্ত অবস্থায়ও সহজ জীবনের সহজ আনন্দটুকু উপভোগ করতে চেয়েছে চিরদিন। কখনো সুযোগ সুবিধার অপেক্ষায় বসে থাকেনি, দুরাকাঙ্ক্ষায় ছুটোছুটিও করেনি। জীবনে যতটুকু অর্জন ততটুকুতেই সুখী থাকতে চেয়েছে সে।

এই সহজ ভারমুক্ত জীবনের আনন্দে পথেঘাটে, মাঠে, বাটে, বালুচরে, নীলনদের কুল ঘেঁসে ঘুরে বেড়ানোতেই তার পরিপূর্ণ তৃপ্তি। জীবন সংসার বলতে কিছুই নেই, ঘোড়ার পিঠের সওয়ারি যেন ক্যাকটাসের ছায়াতেই খুঁজে ফিরে নীড়ের ঠিকানা।

শত ঝড় তুফানেও বেদুইন হতাশায় ডুবে যায়নি কিংবা কেউ এক-দু’জন তাকে ডুবতে দেয়নি। তাদের ভালোবাসার ঋণ যে শোধ হবার নয়। এ কারনেই বড্ড অভিমান হয় তার। ভালোবাসার প্রতিদান দেয়া যায়না কেন? এ কেমন নিয়ম, সারাজীবন ঋণী হয়ে থাকা!

বেদুইনের আবেগীয় অনুভূতির উত্থান-পতন নিয়ে লিখতে গেলে মোটা একটি বই রচিত হবে। সেখানে শুধু জমে থাকা অভিমানের পাহাড় দেখতে হবে সবাইকে। জীবনের অভিজ্ঞতা ইশারায় দেখিয়ে দেয়, প্রতিটি অভিমানী গল্পের শুরু থাকে শেষ থাকেনা।

কালের গহবরে বেদুইনের জীবনে আসা চরিত্রগুলি বিলীন হতে হতে মিশে যায় একসময়। শুধু ভালোবাসার রেশ তপ্ত মরুর বুকে বালুকণা হয়ে উড়ে যায় অসীমের শুন্যতায়।

[বাল্যবন্ধু সায়েমের অকাল মৃত্যুতে নেমে আসা শুন্যতা ধুলোয় মিশে যাক। মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকুক তার পরিবার এবং একমাত্র সন্তানটি]

‘সায়েম’ তুই ভালো থাকিস ওপারে বন্ধু
১৭৭জন ১৮জন
20 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য