–” ভালবাসার সাত কাহন”– ——–***———***—————–

মেহেদী পাতা ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫, রবিবার, ১১:১৯:৩৬অপরাহ্ন বিবিধ ৪ মন্তব্য

— আকাশে বিদ্যুত্ চমকাচ্ছে একটু পর পর বাজ পরছে। জয় তার বন্ধু অর্কের সাথে একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হবে সেই সম্পর্কে কথা বলতে বলতে মোবাইলের অবশিষ্ট ব্যালেন্স শেষ । জয় একটি ছাতা মেলে বাসা থেকে রওনা দিলো রিচার্জের দোকানে মোবাইলের টাকা রিচার্জ করতে হবে।
বাহিরে মুষল ধারে বৃষ্টি নেমেছে । জয় হাটছে রাস্তার একপাশ দিয়ে । হঠাৎ একটি বাস এসে থামলো সামনের বাসস্টান্ডে । বাস থেকে একটি মেয়ে নেমে এলো হাতে একটি ব্যাগ ছাতা নেই। মেয়েটি দেখতে অপরূপ সুন্দরী যেন সর্গ থেকে এইমাত্র একটি অপ্সরী নেমে এলো। জয় থমকে দাড়ায় মেয়েটিকে দেখে। বাসস্টান্ডে কোনো ছাউনি না থাকায় মেয়েটি ভিজে যাচ্ছে এর সাথে ঠান্ডা হিম বাতাস বৈছে মেয়েটি থরথর করে কাপছে। তার চুল গুলো গালের সাথে লেপ্টে গেছে কি অপরূপ লাগছে দেখতে মেয়েটিকে।।.
মেয়েটি জয়কেই দেখে বলে উঠলো………
.
–এক্সকিউস মি ….!!!
—(একটু অপ্রস্তুত হয়ে)জ্বি আমাকে বলছেন ??
—পুরো রাস্তাটাই তো ফাকা আপনি আর আমি ছাড়া তো আর কেউ নাই । ।
—হ্যা বলুন …!!
—(অমুক বাড়ি অমুক ঠিকানা ) চিনেন আমি এখানে প্রথম এসেছি এখানকার রাস্তা ঘাট কিছুই চিনিনা !
—হ্যা চিনি তো এইটা তো আমাদের পাশের বাসা আপনার কি হয়??
—আমার মামার বাসা । আমি এখানে থেকে লেখাপড়া করতে এসেছি । আমি তোঁ চিনিনা আমাকে একটু এগিয়ে দিবেন প্লিজ ?
—(জয় আর রিজার্জের দোকানে যায়নি) কেন নই চলুন আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসি.. ও হে আমি জয় আর আপনি …..???
–আমি স্নিগ্ধা চলুন যাই ।
.
(জয় ছাতাটা স্নিগ্ধার মাথার উপর এলিয়ে দিয়ে হেটে চলছে দু’জনে জয় এর আগে কোনো মেয়ের সাথেই একসঙ্গে এইভাবে হাটেনি ! ভাবতেই অনেকটা আনন্দ লাগছে আবার অনেকটা নার্বাস ও ফিল করছিলো )হাটতে হাটতে দু’জুনের সম্পর্কে কথা হয় স্নিগ্ধা কিছুদিন আগে SSC পাশ করেছে আর এখন মামার বাসায় থেকে এখানকার একটি কলেজে এডমিশন নিবে ।
.
–এইত চলে এসেছি । এইটাই আপনার মামার বাসা সম্ভবত এটাই……
—আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ….বলেই একটি মুচকি হাসি দিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে যায় স্নিগ্ধা ।
পরের দিন বিকেলে পার্কে আবার দেখা হয়ে যায় স্নিগ্ধার সাথে …
–হাই স্নিগ্ধা এই পর্যন্ত বিকেলে পার্কে কি ব্যাপার?
— আরে তেমন কিছু না.. বাসায় বসে থেকে বোর হচ্ছিলাম , তাই একটু পার্কে হাঁটতে বের হলাম..।
— ও আচ্ছা ভালো হাঁটেন ( মাথা চুলকিয়ে)
–আপনি কি ? কিছু বলতে চান? আমি কিন্তু বুঝতে পেরেছি , একদম লুকোচুরি করবেন না !
— না ইয়ে মানে আপনার ফোন নাম্বার টা যদি দিতেন !
— ও মা ! এই কথা , এইটুকুতে এত লজ্জার কি আছে ? বাই দ্যা ওয়ে উই আর ফ্রেন্ড ।
স্নিগ্ধা ফিক করে হেসে দিলো , অতঃপর নাম্বার দেওয়া নেওয়া হয়, সেদিন রাতের বেলায় স্নিগ্ধার ফোন এলো …
.
–ক্রিং ক্রিং ..রিং বেজেই চলেছে জয় ফোন উঠাচ্ছেনা..দুদিন পর জয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা তাই লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত ।
তৃতীয় বার ফোন করার পর ফোনটা রিসিভ করতে গিয়ে দেখলাম মোবাইল স্ক্রিনের উপর স্নিগ্ধার নাম। সাথে সাথে ফোনটা রিসিভ করেই বললাম ।
—স্যরি স্নিগ্ধা । আমি পড়ছিলাম তাই রিসিভ করতে পারিনি।।
—ও তাই ? আসলে আমি একা একা বোরিং ফিল করছিলাম তোঁ তাই আপনাকে নক করলাম যদি বিরক্তি বোধ করেন রেখে দেই ?
–আরে না কি যে বলেন না রাখবেন কেন? কথা বলেন অসুবিধে নেই , আমিও বোর হচ্ছিলাম ।
—এই যে মিস্টার এখন থেকে কিন্তু আমাকে আর আপনি বলতে পারবেনা তুমি করে বলবে ।বুঝেছ গাধা একটা? বন্ধুকে কেউ কখনও আপনি করে সম্বোধন করেনা ।
–(জয় কিছুক্ষণের জন্যে নিশ্চুপ হয়ে রইলো) আচ্ছা ঠিক আছে এখন থেকে তুমি করেই বলবো।
–হ্যা এবার ঠিক আছে । আচ্ছা তুমি আমাকে বেড়াতে নিয়ে যাবে? এখানে তোঁ তুমি আর আমার পরিচিত আর দুইটা কাজিন ছাড়া আর কেউ নেই। কালকে তোঁ শুক্রবার চলো না বেড়াতে যাই? হুম মেয়েটি ঠিক বাচ্চাদের মত বায়না ধরে ।
–(জয়ের স্নিগ্ধাকে অনেক ভাল লাগে আর তার কন্ঠে ও কেমন জানি একটা যাদু মাখা আছে একনাগারে শুনলে কেমন জানি নেশা ধরে যায় । আমি স্নিগ্ধাকে নিজের অজান্তেই ভালবেসে ফেলেছি ।বার বার শুধু বলতে চাই ভালবাসি কিন্তু কথাটা মুখে এসেই হাওয়া হয়ে যায়,, পারিনা বলতে ,
–হ্যা স্নিগ্ধা নিয়ে যাবো তুমি রেডি থেকো।
–ওকে ভালো থেকো শুভ রাত্রি …
পরেরদিন বিকেলে দু’জন ঘুরতে বের হলাম রিক্সা করে , রাস্তার একপাশে ফুচকার দোকান আর ফুচকা স্নিগ্ধার খুব পছন্দের তাই লোভ সামলাতে না পেরে আমাকে বলে বসলো।
–এই গাধা .. তুমি ফুচকা খাওনা .. আমার কিন্তু খুব পছন্দের প্লিজ চলো না খাই ।
…রিক্সা থামিয়ে আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল ফুচকা খাবে। স্নিগ্ধা হাসলে মনে হয় সর্গের কোনো পবিত্র একটা পরী হাসছে কত সুন্দর করে হাসে স্নিগ্ধা । ফুচকার দোকানের সামনের টুলটায় বসে দু প্লেট ঝাল করে ফুচকা অর্ডার দিলাম ,, আমি একটি ফুচকা প্লেট থেকে নিয়ে যখনই মুখে দিবো অমনি স্নিগ্ধা চট করে আমার হাতটা ধরে বললো …
— জয় কেমন আন রোমান্টিক তুমি , আমরা না হয় বন্ধু তাতে কি ? নিজের গার্ল ফ্রেন্ডের মত করে আমাকে কি খায়িয়ে দেওয়া যায়না ? দাওনা প্লিজ ।
–হুম পাগলি এই নাও ,, ( স্নিগ্ধা যথেষ্ট চঞ্চল আর হাসিমুখে থাকতে খুব পছন্দ করে ঠিক যেমনটি আমি চাইতাম) দিনে দিনে স্নিগ্ধা ও জয়ের প্রতি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে ,, মনের অজান্তেই ভালবেসে ফেলে জয়কে , আর এভাবেই চলছে তাদের নিরব নিশ্চুপ ভালবাসা … একবছর পর ১৪ ই ফেব্রুয়ারী ভালবাসা দিবসে জয় ঠিক করলো ঐ দিন সে প্রপোস করবে স্নিগ্ধাকে , স্নিগ্ধাকে ফোন দিয়ে বললাম….
— ১৪ ই ফেব্রুয়ারীতে পার্কে তোমার সাথে দেখা করতে চাই কিছু ইমপর্টেন্ট কথা আছে ।
–(স্নিগ্ধা নরম সুরে উত্তর দিলো) আচ্ছা ঠিকাছে জয় আমি আসবো ।
.
১৪ই ফেব্রুয়ারির দিন সকালে একটা সাদা পাঞ্জাবি পড়ে হাতে কিছু লাল গোলাপ নিয়ে জয় পার্কের একটি সিমেন্টের বেঞ্চে বসে স্নিগ্ধার জন্যে অপেক্ষা করছে । স্নিগ্ধা এলো এক ঘন্টা পর নীল রঙের একটি শাড়ী পড়ে নীল শাড়িতে স্নিগ্ধাকে বেশ মানিয়েছে ,, অসম্ভব রকম সুন্দর লাগছে ।
এক কথায় নীলপরী,,, স্নিগ্ধা জয়ের পাশে আস্তে করে বসে পড়লো ( জয় মুখ ঘোমরা করে নিশ্চুপ হয়ে বসে এদিকে স্নিগ্ধাও নিরব,, স্নিগ্ধাকে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছে ওর নাকের উপরে জমে থাকা ঘাম ই তার চাক্ষুস সাক্ষী ) হঠাৎ করেই আমি কথা বলা শুরু করলাম…..
–স্নিগ্ধা শুনো….
–হ্যা ,, জয় বলো…..
— আমি একটি মেয়েকে পছন্দ করি অনেক ভালবাসি মেয়েটিকে কিন্তু কিভাবে বলবো বুঝতে পারছিনা একটু হেল্প করোনা ?
এই কথা শুনে মনে হয় । মনে খুব আঘাত পেলো স্নিগ্ধা চোখ দুটো ছল ছল করছে ,, তবুও মুখে হাসি টেনে বললো ।
–আরে ধূরর গাধা এইটা কোনো ব্যাপার হলো ? আজই ঐ মেয়েটিকে আসতে বলো তারপর ওর সামনে গিয়ে দাড়িয়ে এই গোলাপ গুলো দিয়ে বলবে ভালবাসি তোমাকে অনেক ভালবাসি । আমাকে ফিরিয়ে দিওনা প্লিজ । আমার বিশ্বাস সে তোমাকে ফিরাবেনা ( স্নিগ্ধার চোখ থেকে অশ্র কণা গুলো গাল বেয়ে বেয়ে মাটিতে পড়ছে )
–এই তোমার চোখে কি হয়েছে কাঁদো কেনো?
–আরে না ধূরর কিছুই না..চোখে কি যেন একটা পরেছে। আমি তাহলে যাই কেমন পরে কথা হবে।
–যাই মানে অপেক্ষা কর আমার রাজকন্যা বাবুই সোনাটাকে আমি এক্ষুনি প্রপোজ করবো। ( আমি স্নিগ্ধার শিখিয়ে দেওয়া কথা মতো হাতে ফুল গুলো নিয়ে স্নিগ্ধার সামনে দাড়িয়ে হলিউড সিনেমা স্টাইলে হিরুদের মতো প্রপোস করে বসলাম ——
–প্লিজ স্নিগ্ধা সোনা এক্সেপ্ট মি আই ওয়ানা স্পেন্ড মাই লাইফ উইথ ইউ। আই লাভ ইউ সো মাচ ।
–স্নিগ্ধার কান্না আরও বেড়ে গেলো অতিমাত্রায় । আর বলতে লাগলো গাধা উল্লুক শয়তান,, তুই আমাকে এত্তক্ষণ কাঁদিয়েছিস কেন ? আগে কেন বলিসনি ? বলেই জয়কে জরিয়ে ধরলো স্নিগ্ধা আই লাভ ইউ টু গাধা বাবু ।
–আরে পাগলী তোমাকে একটু পরীক্ষা করছিলাম আমাকে ভালবাসো কিনা .. তুমি পরীক্ষায় সফল হয়েছ . এই কথা শুনে স্নিগ্ধা ইচ্ছে মত জয়কে কিল ঘুশি দিতে লাগলো ,, ওর যত মান অভিমান সব জয়ের উপর ঝারলো । আবার আচমকা’ই বাঁচ্চাদের মত হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলো পাগলিটা ।
.
পাশ থেকে জয়ের ডাক –কি হলো স্নিগ্ধা সোনা ঘুমোবেনা?
— ( জয়ের ডাকে বাস্তবে ফিরে এলো স্নিগ্ধা) হ্যা ঘুমুবো তোঁ ,, তোমার সেই ডায়রীটা পড়ছিলাম । এই তুমি এখনও আমাকে সোনা বলে কেন ডাকো ? আমাদের মেয়ে হৃদিমা যদি শুনতে পায় কি ভাববে বলো তোঁ?
— যাই ভাবুক ,, ও দেখুক ওর আম্মুকে আমি পাঁচ বছর আগে যেমনটি ভালবাসতাম ! আজ অবধি তার কোনো কমতি হয়নি ।
–ও মা তাই? বাবু হিঁহিঁহিঁ ।
–হ্যা তাই সোনা লাভ ইউ আগের মতই ….
–লাভ ইউ টু বাবু সেই আগের পাগলী মেয়েটির মতই…..

৩৬৮জন ৩৬৮জন
0 Shares

৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ