বিশ্বে ভারত দক্ষিণ এশিয়ার একটি প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্র।ভৌগোলিক আয়তনের বিচারে এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রাষ্ট্র যার জনসংখ্যা ১৩০ কোটির উপরে যা জনসংখ্যার বিচারে এই দেশ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জন বহুল এবং পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। দেশটির মোট আয়তন ৩২,৮৭,২৬৩ বর্গ কিলোমিটার। এই বিশাল আয়াতনের দেশে রয়েছে অসংখ্য রহস্যাবৃত্ত স্থান ঘটনা যার অনেক স্থান এখনো রহস্যময় রয়ে গেছে।সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর ভারতের কিছু রহস্যময় স্থান এবং কিছু ঘটনা আজ আপনাদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

জমজদের গ্রাম ৴
জমজ মানে হল এক জনের ডুপ্লিকেট।ভারতের কেরালার কোদিনহি গ্রামের অধিবাসীদের দাবী তাদের গ্রামে যত জন জমজ আছেন পৃথিবীর আর কোথাও এমনটি নেই বলে তাদের বিশ্বাস।জরিপে দেখা গেছে এ গ্রামে প্রতি ১০০০জনের মধ্যে ৫/৬ জন জমজ সন্তান হয়ে থাকে।প্রায় দুই হাজার পরিবারের মধ্যে আড়াইশ থেকে তিন চারশ এর উপরে জমজ দেখা যায় তাই একটি গ্রামে তিন চারশ জমজ সংখ্যা রীতিমত বিষ্ময়কর ব্যাপার।হাজারে চার/পাচ জন জমজ এ সংখ্যা যেন সেখানে ক্রমেই বেড়ে চলছে।

নয় জন অচেনা পুরুষ ৴
অনুমান করা হয়২৭৩ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট অশোক এক যুদ্ধে প্রায় এক লক্ষ লোকের মৃত্যুর পর নয় জন বিশিষ্ট লোক নিয়ে একটি মহা শক্তিশালী দল গঠন করেছিলেন।ধারণা করা হয় এই নয় জন কিংবদন্তি লোকের নিকট এমন সব তথ্য ছিলো যা অন্য কারো হাতে পড়লে ভয়ংকর বিপদ নেমে আসত।আর এই নয়জন কিংবদন্তির মধ্যে অনেকের ধারনা দুইজন সদস্যের একজন হলেন দশম শতকের প্রভাবশালী পোপ সিলভেস্টার দ্বিতীয় এবং অন্য জন হলেন ভারতের স্পেস প্রগ্রাম প্রস্তুতকারী বিজ্ঞানী বিক্রম সারাভাই।


ভিন্ন মতাদর্শে তাজমহল ৴
নাম শুনেই মনে হবে কত চেনা কত পরিচিত কিন্তু এতো চেনা জানার মাঝেও যে বিষ্ময়কর তথ্যটি জানা যায় তা হল সম্রাট শাহজাহান জানা যায় তার প্রিয়তমা মমতাজকে ভালবাসার উপহার স্বরূপ তাজমহলটির সৃষ্টি কিন্তু এ তথ্যও জানা যায় যে প্রায় তিনশ বছর আগে বানানো তাজমহলটি প্রফেসর পিএনওক এর মতে এটা কোন ভালবাসার নির্দেষণ স্বরূপ কোন সমাধি সৌধ নয় এটি হিন্দুধর্মালম্বীদের একটি মন্দির ছিলো যার নাম ছিলো তেজো মহালয়া।দেবতা সিবার পূজা চলত সেখানে।

লাড়াকের চুম্বক পাহাড় ৴
লাড়াক গ্রাম।হিমালয়ে খুব কাছের একটি পাহাড়ী গ্রাম।সেখানে একটি পাহাড় আছে যাকে সেখানকার লোকেরা চুম্বক পাহাড় বলে থাকেন।পাহাড়টির সামনে যদি কোন গাড়ী থাকে তখন তা আপনা আপনি উপরের দিকে উঠতে থাকে।গতি প্রায় ঘন্টায় বিশ কিলোমিটার।আর এই অদ্ভুদ ব্যাপারটির জন্য সবায় তাকে “হিমালয়ান ওয়ান্ডার” বলে ডাকেন।


জাতিঙ্গা, আসাম ৴
আসামে এ এক অদ্ভুদ আচরণের গ্রাম। এখানে প্রতি বছর অগণিত পরিজাই পাখি উড়ে আসে এবং আত্ম হত্যা করে।জানা যায় প্রতি বছর অতিথী পাখিরা এখানে উড়ে আসার সময় বাসা বাড়ী এবং বৃক্ষে ধাক্কা খেয়ে নিজেরা প্রান বিসর্জন দেয়।কেন এমন হয় এর রহস্য এখনো জানা যায়নি।
কোন কোন বিজ্ঞানী এ সব ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে বলেন,গ্রামের আলো পাখিদের দৃষ্টি ভ্রম ঘটায় পাখিরা উড়ার সময় কোন শক্ত বস্তুতে ধাক্কা খেয়ে মৃত্যু বরণ করে।অনেক গ্রামবাসীর মতে এটি কোন এক অদৃশ্য শক্তি যা কেবল এর প্রবনতা বেশী দেখা যায় নভেম্ভর থেকে ডিসেম্ভর মাসে রাত আটটা থেকে রাত নয়টার মধ্যে ঘটনাগুলো ঘটে।

কংকা লা পাস ইউএফও বেজ ৴
এই স্থানটি ভারত ও চীনের অত্যান্ত সংরক্ষিত এলাকা যা হিমালয়ের ভিতরে ভারত ও চীনের সীমান্তের বিতর্কিত স্থানে অবস্থিত।কিছু অংশ ভারতের ভিতর কিছু অংশ চীনের ভিতর।এটা উভয় দেশের কমবেশ নো ম্যান্স ল্যান্ডের মধ্যে পড়ে।এ এলাকাটিতে দুদেশের কড়া নজর থাকলেও কেউ এটাকে শাসনে বা দখলে যান না।স্থানটি অত্যান্ত ঠান্ডা এবং দুর্গম স্থান হওয়ায় সেখানে কেউ বসবাস করেন না।চীনের অধিকৃত অংশকে এক্সাই এবং ভারতের অধিকৃত অংশকে লাদাখা নামে পরিচিত।এর আশপাশে বসবাস কারীদের মতে বা তাদের ধারণা সেখানে একটি ভূমিগত এলিয়েন বেস রয়েছে  যা দুদেশের সরকারই জানেন।তারা আরো বলেন ঐ অঞ্চলে তারা UFO দেখেছেন যা দু দেশের সবাই জানেন।এ এক অপার রহস্যে ঘেরা স্থান।


নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ৴
ভারতে এ এক মহান বাঙ্গালী নেতা যার স্বপ্ন ছিলো বৃটিসবিরোধী ভারত স্বাধীনতার।তার মৃত্যু নিয়েও এখনো চলছে টালবাহানা। নিশ্চিৎ ভাবে বলা যাবে না যে তিনিঁ কি ভাবে মারা গেলেন।তার মৃত্যুর এমন রহস্যে ভিন্ন জনে ভিন্ন মত দেন।কেউ বলেন-সন্যাসী হয়ে গেছেন,কেউ কেউ বলেছেন ১৯৪৫ সালে ১৮ আগষ্ট তাইওয়ানের এক বিমান দূর্ঘটনা তিনি মারা যান আবার অনেকে বলেন এ ঘটনা পুরোই সাজানো তাকে পলানোর সাহায্য মাত্র।আবার অনেকে বলেন বিমান দূর্ঘটনা নয় ১৯৮৫ সালে নেতাজীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিলো।নেতজীকে নিয়ে বই প্রকাশ করা অনূজ ধর এর মতে ১৯৪৫ সালে নেতাজী রাশিয়ায় ছিলেন সব তথ্যই ঠিক আছে কিন্তু সে বলেন অন্য কথা-তিনি বলেন নেতাজীর এ ফাইল প্রকাশ্যে এলে জওহরাল নেহরুর সন্মান ক্ষুন্ন হবে তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন নেতাজীর গতিবিধির উপর নজর রাখতেন মহাত্মা গান্ধী এবং সর্দার প্যাটেল তারা তার আসল ঘটনা জানেন।অনেকের মতে নেতাজীর মৃত্যুর রহস্য প্রকাশ পেলে বিশ্বে রাষ্ট্রের বহু ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে তাই তার মৃত্যুর রহস্য রহস্যই থেকে গেল।তাইতো নেতাজী সম্পর্কে ৬৪টি ফাইল কলকাতার গোপন সেলে বন্দী আছে।আবার অনেকের মতে নেতাজীর প্রতি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে নেতাজীর অন্তধার্নের নথিপত্র সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে।


ভুল ভুলাইয়া ৴
নামটা বেশ সুন্দর,ভুল ভুলাইয়া।এ নাম নিয়ে বোম্বে অক্ষয়ের একটি সিনেমাও করা হয়েছিলো।সিনেমাটির নামকরণ করা হয়েছিল ভারতের লক্ষ্মৌ রাজ্যের বড় ইমাম বাড়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি গোলক ধাঁধা ভুল ভুলাইয়ার নাম অনুসারে। এই গোলক ধাঁধাঁটি কাবাব এবং নবাবদের শহর  লক্ষ্ণৌয়ের ঐতিহাসিক দিক দিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।হাজারো অলিগলি দিয়ে ঘেরা এই গোলক ধাঁধাঁটি প্রায় দু’শ বছরের ইতিহাস ধরে রেখেছে।১৭৮৪ সালে দুর্ভিক্ষের সময় অযোধ্যার নবাব আসাফ-উদ-দৌলা সাধারণ মানুষদের থাকার জন্য বড় ইমাম বাড়া তৈরী করেছিলেন।দুর্ভিক্ষ পরবর্তী সময়ে নবাবরা তাদের বিবিদের সাথে লুকোচুরি খেলতে ইমাম বাড়ার অভ্যন্তরে তৈরি করেন এই গোলক ধাঁধার জটিল রাজ্যটি।গাইড ছাড়া অনেকে এ গোলক ধাঁধাঁয় একবার ঢুকলে বেরিয়ে আসার পথ হারিয়ে ফেলতে পারেন।


বান্নি ঘাসের ময়দান৴
এটি গুজরাটের কচ্ছেরানের দক্ষিন দিকে অবস্থিত একটি জলাভূমি।বর্ষায় বৃষ্টির কারনে এখানে প্রকৃতি সাজেঁ মনোরম সাজেঁ।সেই সময় রাতের বেলায় এখানে আপেলের ন্যায় এক অদ্ভুদ আলো দেখা যায়।গ্রামবাসীদের এ আলোটি বহু বার দৌড়ে তাদের অনেকের পিছু নিলেও কোন ক্ষতি করেনি।আলোটি প্যারা ল্যাম্পের ন্যায় উজ্জ্বল এবং সব সময় তার নিজের রং পরিবর্তন করে অনেকটা জোনাকী পোকার আলোর ন্যায়।এই রহস্যময় আলোটিকে তারা চিরবাত্তি নামে ডাকেন।এই আলোটি সচল আবার স্থির ভাবেও দেখা যায়।

রূপকুন্ড ঝিল বা কঙ্কাল ঝিল৴
হিমালয়ের পাদদেশ হতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।অজানা এক রহস্য ঘেরা শত শত নর কঙ্কালের মাথার খুলির এ ঝিলে কি ভাবে আসে তা আজও রহস্যময়।১৯৪৫ সালে এ অঞ্চলের বনকর্মীরা একবার এখানে শত শত কঙ্কাল মাটি খুরে পান।ইউরোপীয় বিজ্ঞানী এর রহস্য উম্মোচনে চেষ্টা করেন তাদের মতে এগুলো দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে এখানে জাপানী সৈন্যদের আটকে পরা কঙ্কাল আবার অনেকে বলেন কাষ্মীরের জেনারেল যোধাবর সিং এর সৈন্যদের নরকঙ্কাল।আবার কার্বন ডেটিং পরীক্ষায় জানা যায় এই নরকঙ্কালগুল ১২ এবং ১৫ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়কার ঘটনা কিন্তু সঠিক কি ভাবে এখানে এসেছিলো তা কেউ জানেননা।

কোত্তায়াম-”ইদ্দুকি ৴
কেরালায় ২০০১ সালের ২৫ জুলাই হতে ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখ পর্যন্ত সেখানে এক অদ্ভুদ প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটেছিলো যা ১৯৮৬ এবং সর্বোশেষ ২০১২ সালেও দেখা যায়।ঘটনাটি ছিলো সে সময়টায় সেখানে লালচে পানির বৃষ্টি হয়েছিল।

পুনের ভূতবিল্লি ৴
পুনের বেশ কয়েকটি শহরে বেশ দাপটের সহিত দাপিয়ে বেড়াত ভূতবিল্লি নামক একটি ভৌতিক যন্তু ।যারা এটা দেখেছেন তাদের ভয়ার্ত অনুভুতি যেন আর কাটতে চায় না।তাদের মতে এটা নাকি স্বর্গ থেকে নেমে আসে অনেকটা দেখতে বিড়াল কুকুর কিংবা নেউলে ব্রিড এর মতন।প্রত্যাক্ষ দেখা অনেকের মতে এর মোটা তাজা বিশাল একটি লেজ আছে।

(আজ এই পর্যন্ত আবারো আসবো ফিরে)

(লেখাটি কোন কপি পেষ্ট নয় তথ্যের ভিত্তিতে নিজস্ব ভাষায় লেখা)
তথ্য ও ছবি কৃতজ্ঞতায়
৴উইকিপিয়া
Kolkata24*7
bangali.oneindia.com
Dailyhunt
স্পিকিং ট্রি

২৫৯জন ৪২জন
37 Shares

৩১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য