ইতিহাসের বিষয়বস্তু হলো মানুষ, তার সমাজ, সভ্যতা ও জীবনধারা। ইতিহাস কেবলমাত্র কিছু ঘটনার সমষ্টি নয়।ঘটনার অন্তরালে যে তথ্য আছে তাকে উদ্ঘাটন করা হলো ইতিহাস রচয়িতার দায়িত্ব। যুগ – যুগান্তর থেকে মানুষ তার পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম করে এগিয়ে চলেছে। একসময় মানুষ ছিল গুহাবাসী। সভ্যতার সর্বনিন্ম স্তরে ছিল তার অধিষ্ঠান। সেই মানুষ তার বুদ্ধি দিয়ে প্রকৃতি এ পরিবেশের সঙ্গে নিরন্তর সংগ্রাম করে জীবনযাত্রাকে আরামদায়ক করেছে। যেমন,বিশালাকার হাতির তুলনায় আকারে ছোট মানুষ দিব্যি তার পিঠের উপর চড়ে প্রভুত্ব করছে। কিন্তু গায়ের জোর কিন্তু হাতিরই বেশী। হাতি মানুষের মতো চিন্তা করতে পারে না বলেই ছোট মাহুত হয়ে গেলো তার প্রভু আর বিরাট আকারের হাতি হয়ে রইলো তার অধীনস্ত সেবক।
মানুষ প্রকৃতির সাথে নিরন্তর যুদ্ধ করে গুহা থেকে সমাজ ও নগর গড়ে তুলেছে, খাদ্য উৎপাদন সংরক্ষণ করতে শিখেছে। পৃথিবীর সীমা ছাড়িয়ে চাঁদ ও বিভিন্ন গ্রহে পৌছেছে। বিজ্ঞান তাকে দিয়েছে প্রকৃতির রহস্য আবিষ্কারের চাবিকাঠি; সাহিত্য তাকে দিয়েছে তার ব্যাথা-বেদনা, আনন্দ প্রকাশের ক্ষমতা। শিল্প তাকে সুন্দরের সৃষ্টিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। মানুষের এই জয়যাত্রার কাহিনী, তার সাফলতা এবং বিফলতা সকল কিছুই ইতিহাসের উপজীব্য।
ভারতবর্ষের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে আদীযুগ থেকে ভারতবাসীর সভ্যতার অগ্রগতি, তার সমাজসংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় ভারতের ইতিহাসের বিষয়বস্তু। কিন্তু এই ইতিহাসও বিবর্তন হয়েছে বার বার। ঐতিহাসিকগণও তা স্বীকার করেন।
‘ভারত’ নামটি প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রে দেখা যায়। আমাদের এই ভারতবর্ষ ছিলো এক মহাশক্তিশালী দেশ-ধনী দেশ। রোঁমা রোঁলা বলেছেন,’যদি পৃথিবীপৃষ্ঠে এমন কোনো স্থান থাকে যেখানে আদিকালে মানুষ যে অস্তিত্বের স্বপ্ন দেখতে আরম্ভ করেছিল তার সমস্ত স্বপ্ন আশ্রয় পেয়েছে এই ভারতবর্ষে। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ব বক্তৃতায় এক বক্তা বলেছেন,’যদি সারা পৃথিবী খুঁজে দেখা হয় কোন দেশ সর্বাপেক্ষা অধিক ঐশ্বর্য, শক্তি, ও সৌন্দর্য দিয়ে সাজিয়েছে, কোথায় স্থানে স্থানে ভূপৃষ্ঠের স্বর্গের শোভা ফুটে উঠেছে, আমি ভারতবর্ষকে দেখিয়ে দিব।” প্রাচীন রাজা ভরতের সন্তান এই অর্থে ভারতের অধীবাসিরা ভারতবাসী এবং এই দেশের নাম ভারত। প্রাচীন পারসীক ও গ্রীকরা ভারতকে #হিন্দু নামে উল্লেখ করত। হিন্দ্ বা হিন্দু শব্দটি সিন্দু থেকে উদ্ভুত। পারসিকরা সিন্দুকে হিন্দু বলত। এই অর্থে ভারতবাসীর নাম হয় হিন্দু। তারমানে এই ভারতবর্ষের সবাই সেই অর্থে হিন্দু। আমি এখানে ধর্মীয় দিক নিয়ে বলছি না। আমি বলছি জাতিগত দিক থেকে। আমাদের এই ভারতবর্ষের প্রাচীন সাহিত্যে এই ‘হিন্দু’ শব্দটি পাওয়া যায় না। ভারতীয় পুস্তকের মধ্যে, খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর একখানি তান্ত্রিক গ্রন্থে এই শব্দের সর্বপ্রথম উল্লেখ দেখা যায়। সেখানে হিন্দু একটি জাতিকে বুঝিয়েছে, কোনো ধর্মালম্বী লোকসঙ্ঘকে নয়। যেমন, ইউরোপের অধীবাসিদের বলি ইউরোপীয়। ধর্মীয় ভেদাভেদ তো আসলো আরো পরে। ধর্ম বলতে সনাধারণত যা বোঝায় প্রকৃতপক্ষে এর অর্থ ব্যাপক। ধর্ম হলো, যে বিধানে তার অন্তবর্তী সত্তা সুসম্বন্ধ আছে, এ তাই। সেই আত্নপ্রতিতীকে ধর্ম বলা যায় যাতে নৈতিক বিধিনিষেধ, ন্যায়বোধ, ন্যায়নিষ্ঠা এবং মানুষের সকল কর্তব্যবোধ এবং দায়িত্বজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত হয়ে আছে। ভারতবর্ষে পরে অনেক জাতীর প্রবেশের ফলে ধর্মীয় ভেদাভেদে তাদের জাতিগত পরিচয়ের নাম পাল্টে ফেলে। হিন্দু জাতিটাই কেবল তাদের মূল জাতিগত পরিচয় টিকে থাকে। অর্থাৎ সনাতন ধর্মালম্বিদের আমরা হিন্দু বলেই জানি। আর ভারতবর্ষে সনাতন ধর্মই সব থেকে প্রাচীন ধর্ম। হ্যাঁ, এই অর্থে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মও প্রাচীনই বলা চলে ভারতবর্ষে। চীন পরিব্রাজক অবশ্য তার ভারতভ্রমণ বৃত্তান্তে লিখে গেছেন যে উত্তরখন্ডের অর্থাৎ মধ্য এশিয়ার লোকেরা ভারতবর্ষকে হিন্দু(সিন-টু) বলত এবং তিনি আরো বলেন এ নামটি সাধারণভাবে প্রচলিত নয়; ভারতবর্ষের যোগ্যতম নাম হলো ‘আর্যদেশ’। ভারতবর্ষের অধীবাসী যদি আমি নিজেকে দাবি করি তবে অবশ্যই আমরা সবাই হিন্দু। হ্যাঁ, ধর্মীয় বিশ্বাসমতে অবশ্যই আমি মুসলিম। যেমন আছে খ্রীস্টান ধর্মালম্বী, বৌদ্ধ ধর্মালম্বীর লোক। কিন্তু প্রত্যোকেই এই ভারতবর্ষের সংস্কৃতির সাথে মিল খাইয়ে নিত কিন্তু ধর্মমতে অপরিবর্তিত ভাবে খ্রিস্টান কি মুসলমানই থাকত। অর্থাৎ সে তখন নিজেকে ভারতীয় ভাবাপন্ন করে নিত এবং ধর্ম পরিবর্তন না করে ভারতীয় থাকতো। পশ্চিম এশিয়ার দেশ ইরান ও তুর্কি ইরাক ও আফগানিস্তান, মিশর এমনকি আমেরিকানরাও সকল ভারতীয়কে দেশভাগের পর পর্যন্তও ‘হিন্দু ‘ বলতো। ধর্মের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই একজন ভারতবাসী কি মুসলমান, কি খ্রিস্টান কি বৌদ্ধ সনাতন বর্তমানে(হিন্দু) সকলেই হিন্দী নামের সমান অধিকারী।
ভারতবর্ষ আয়তনে একটি মহাদেশের মতোই। ইউরোপ থেকে রাশিয়া বাদ দিলে যা আয়তন হয় ভারতবর্ষ প্রায় তার সমান। আমাদের এই ভারতবর্ষে পৃথিবীর সব থেকে উঁচু পর্বত চূড়া মাউন্ট এভারেস্ট, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী বারিপাতযুক্ত অঞ্চল চেরাপুন্জী, রাজস্থানের ধূ ধূ করা মরুভূমি, দন্ডকারণে গহন বন সুন্দরবন, হিমালয়ের আশির্বাদ ও দান হিসেবে সিন্ধু, যমুনা ও গঙ্গার বিশাল উর্বর সমতলভূমিকে করেছে সুজলা সুফলা। হিমালয় পর্বতমালা এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে ভারতকে বিচ্ছিন্ন করেছে ফলে ভারতে একটা স্বতন্ত্র সভ্যতা গড়ে উঠেছে।
উড়িষ্যার দিগন্ত বিস্তৃত চিল্কা হ্রদ প্রভৃতি ভারতের অসাধারণ ভৌগলিক বৈচিত্র এনেছে। এই ভৌগলিক বৈচিত্রতার কারণে ভারতকে উপমহাদেশ বলা হয়।
প্রাচীনযুগে হিন্দু বিশ্বতত্ত্ববিদরা ভারতবর্ষের নাম দেন জম্বুদ্বীপ। ভারতে আর্য বসতি স্থাপতি হলে উত্তর ভারতকে আর্যাবর্ত এবং দক্ষিণকে দাক্ষিণাত্য বা দক্ষিণাপথ বলা হতো। কারণ ধারণা করা হয় আর্যরা উত্তর দিক থেকেই ভারতে প্রবেশ করে।
ভৌগলিক কারণ এবং আবহাওয়া বিভিন্ন জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করে। পরিবর্তন আনে ভাষা ও আচার আচরণে। তেমনি ভারতবর্ষে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রবেশের ফলে ভারতবর্ষের ভাষা, আচার আচরণেও এনেছে বৈচিত্র। কিন্তু ভারতীয় মূল ধারার সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে অনেকটা প্রাচীন।
উত্তর-পশ্চিমের খাইবার, বোলান, গোমাল, ও তোচি গিরিপথ দিয়ে বিভিন্ন যুগে বৈদেশিক জাতিগুলো ভারতে আসে। আর্য জাতিও সর্বপ্রথম এই পথে ভারতে প্রবেশ করে। ভারতের মাঝখানে বিন্ধ্যাপর্বত প্রায় মেরুদন্ডের মতো দাঁড়িয়ে আছে। বিন্ধ্যা পর্বতের অবস্থানের ফলে উত্তর ভারত থেকে দক্ষিণাত্যের সভ্যতা বিস্তার সম্ভব হয়নি। এর ফলে ভারতের আদীসন্তান দ্রাবিড় সভ্যতা আর্য সভ্যতার প্রভাব এড়িয়ে স্বতন্ত্রভাবে গড়ে উঠেছে।
আমরা জানি যে কোনো সভ্যতা গড়ে ওঠার পিছনে রয়েছে নদীর সম্পর্ক অর্থাৎ নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে নগর শহর জনপদ। তাই ধারণা করা হয় ভারতের সিন্ধু ও গঙ্গার পথ ধরে আর্যও তুর্কি বিজাতিরা আর্যাবর্তে প্রবেশ করে। এই সব এলাকার উর্বর সমতলভূমি দখল করার লোভেই অনেক বিজাতিরা বার বার ভারতে প্রবেশ করে।
কবির ভাষায় ভারতবর্ষ হলো,” মহামানবের সাগর”। বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন জাতি এই দেশে এসে বসবাস করেছে। এই আগন্তুক জাতিগুলি পরষ্পরের মধ্যে ভাব, ভাষা আদান প্রদানের মাধ্যমে মিলিত হয়ে ভারতীয় মহাজাতিতে পরিণত হয়েছে। ভারতের জনগোষ্ঠীতে আলাদাভাবে কোনো জাতিগোষ্ঠি খুজে বের করা শক্ত। উত্তর ভারতকে আর্য জাতির প্রধান আবাসস্থল বলে মনে করা হলেও খাঁটি আর্যজাতির অস্তিত্ব এখন ভারতে খুঁজে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির সঙ্গে মিলনের ফলে আর্যজাতির আদি বিশুদ্ধতা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
নৃতাত্ত্বিক পন্ডিতেরা চোয়ালের গঠন, মাথার খুলির গঠন ও অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের গঠনের ভিত্তিতে ভারতীয় জনগোষ্ঠীকে কয়েক ভাগে ভাগ করেন, যেমনঃ প্রোটো-অস্ট্রালয়েড, ভূমধ্যসাগরীয় বা মেডিটারেনিয়ান, আলপাইন এবং মোঙ্গোলীয়। প্রাক ঐতিহাসিক হরপ্পা-মহেন্জোদারো যুগ থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত ভারতের নানা স্থানে এই চারটি গোষ্ঠর লোক দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া দেহের গঠন ও ভাষার ভিত্তিতে ভারতীয় জনগোষ্ঠীকে আরো কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ আর্যগোষ্ঠীর লোকদের ভাষা সংস্কৃত ভাষা থেকে উদ্ভুত হয়েছে। বাংলা, হিন্দি, গুজরাটি, গুরুমুখী, মারাঠা প্রভৃতি ভাষাগুলি সংস্কৃত থেকেউদ্ভুত। এদের গায়ের রং ছিল গৌর, নাক ছিল উঁচু, চেহারা ছিল লম্বা চোখের গঠন ছিল আয়ত।
দ্রাবিড় জনগোষ্ঠী যেমন তামিল, তেলেগু, মালয়ালী ও কানাড়ী ভাষা হলো দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর ভাষা। এদের গায়ের রং কালো, কপাল চওড়া, মাথার চুল অনেকসয় কোকড়ানো এদের উচ্চতা মাঝারি।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীঃ এদের ভাষা আর্য ও দ্রাবিড় জনগোষ্ঠী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এদের ভাষার কোনো লিপি নেই। সাঁওতাল, কোল, ভীল,মুন্ডা, হো প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠী। এদের গায়ের প্রায় সবারই নাক চ্যাপ্টা এরা পাহাড়ী অরণ্য অঞ্চলে বাস করতে ভালবাসে।
মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীঃ এরা সম্পূর্ণ আলাদা। এদের গায়ের রং হলুদ বা তামাটে, চোখ ছোট, দেহের উচ্চতা মাঝারি, নাক চাপা এরা পূর্ব ভারতে অর্থাৎ নাগা, লুসাই, আসাম ও হিমালয়ের তরাই অঞ্চলে বাস করে।
ভারতে আর্যরা ঠিক কবে প্রবেশ করে তা ঠিক করে বলা মুশকিল। একসময় এই তত্ত্ব প্রচার করা হত যে, প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতা আর্য সভ্যতা থেকে উদ্ভুত হয়েছে। সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কৃত হওয়ার ফলে আর্য সভ্যতা সম্পর্কে অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করার প্রবণতা কমে গেছে। এটাও স্বীকার করতে হয় যে, প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার ক্ষেত্রে বৈদিক জাতি অর্থাৎ আর্য ও বৈদিক সভ্যতার অবদান কম ছিল না।
‘আর্য’ শব্দটি বহু অর্থে ব্যবহার করা হয়। খাঁটি সংস্কৃত অর্থে ধরলে ‘আর্য’মানে সৎবংশজাত । আর্যদের আদি বাসস্থান কোথায় এটি একটি বিতর্কিত বিষয়। তবে পারসিক সম্রাট প্রথম দরায়ুস তার একটি শিলালিপিতে (৪৮৬ খ্রিস্টপূর্ব)নিজেকে “আর্য বংশসম্ভূত প্রধান আর্য” (An Aryan of Aryan descent)) বলে দাবী করেছেন। সুতরাং আর্য শব্দটি কোনোদিন জাতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হতো না এমন কথা বলা চলে না। সাধারণত তাই মনে করা হয়, আর্যরা ভারতের বাইরে থেকে এসে বসবাস করা শুরু করে। তবে এ সম্পর্কে বাস্তবিক কোনো শিলালিপি বা দলিল নেই। কেবলমাত্র ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণের সহায়তায় আর্যদের আদি বাসস্থান নির্ণেয়ের চেষ্টা পন্ডিতেরারা মনে করেন। যেমন, আর্য্যদের ইতিহাসকে ঋক-বৈদিক যুগ ও পরবর্তী বৈদিক যুগ এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। ঋগ্বেদ হল আর্যদের প্রাচীনতম সাহিত্য এবং প্রাচীন বৈদিক আর্যদের ইতিহাসের একমাত্র উপাদান।

চলবে…………
তথ্যসূত্র ‘দ্য ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া। জওহরলাল নেহরু, পৃথিবীর ইতিহাস, ভারত ইতিহাস পরিক্রমা লিখেছেন ড. শ্রী প্রভাতাংশু মাইতি।

৮৬৮জন ৮৬৫জন
28 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ