গত পর্বে কথা দিয়েছিলাম শেষ পর্বটি হবে একটি আড্ডা পোষ্টের আদলে।সেই কথা অনুসারে শুরু করছি আজকের আড্ডা পোষ্ট।পোষ্টটিতে সবার সহযোগীতা চাচ্ছি যাতে গত হয়ে যাওয়া সোনেলা ব্লগ মিলন মেলায় যে আড্ডা বা আলোচনাগুলো হয়েছিলো তার অনুভব যেন ব্যাস্ততা বা বিশেষ কারনে মিলন মেলায় আসতে না পারার তাদের অনুভবটা যেন কিছুটা হলেও ঘোচাতে পারি।

অনুষ্ঠিত মিলন মেলায় ব্লগারদের পাশাপাশি এসেছিলেন ব্লগারদের বেশ কয়েকজন মেহমান বা সোনেলা ব্লগের গ্রুপের সদস্য এবং শুভাকাঙ্ক্ষি।ব্লগার বন্যা লিপির ছেলে সাকিন,নাজমুল আহসান এর এক বন্ধু…,সোনেলার গ্রুপের নতুন সদস্য রুবেল চান ব্যাপারী,জিসান ভাইজানের বন্ধু-সোনেলার অতি আপণজন জনাব মশিউর রহমান এবং আমার বন্ধু মোঃ গোলাম মোস্তফা যিনি এ পর্যন্ত সোনেলার তিনটি মিলন মেলায় অংশ গ্রহন করেন।এছাড়াও ব্লগার রেহানা বীথি’র হাসব্যান্ড।তাদের সম্পর্কে অজানা থাকায় বিস্তারীত লিখতে পারিনি বলে দুঃখিত তাই সবায়কে সোনেলা ব্লগের ব্লগারদের পক্ষ হতে শুভেচ্ছা এবং শুভ কামনা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

শেষ হয়েও হলো না শেষ।ছোট গল্পের মতই আমরাও বলতে পারি অনুষ্ঠানটির ধারাবাহিক পর্ব যেন শেষ হয়েও হলো না শেষ।তাইতো মনে পড়ল খুব সোনেলার আরেক ব্লগার উদিয়মান লেখক নৃ-মাসুদ রানা’র কথা।

নৃ-মাসুদ রানা -সর্বো ডানে

নৃ-মাসুদ রানা ঃ ব্লগার-সাহিত্যিক।তার ছোট ছোট অনুগল্পগুলো বেশ অর্থবহ হয়।সোনেলায় তার এমন অসংখ্য পোষ্ট আছে।এই সব ছোট ছোট অনু গল্প নিয়েই তিনি এবার বই মেলা ২০২০ এ হুমায়ুন হিমু নামে বই প্রকাশ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও বিধিবাম হন।তার এমন দুঃখ ভারাক্রান্ত মনের অনুভুতির সাথে মিলন মেলায় উপস্থিত ব্লগারাও সমবেদনা জানান।আমরা আশা রাখছি তার জীবনের প্রথম বইটি যেন তিনি প্রকাশ করেন।.

নাসির সারওয়ার ঃ সোনেলা ব্লগের আড্ডায় তার সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয় সম্ভবত ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক লাইব্রেরীর উঠোনে ।সে সময় আরো যাদের সাথে দেখা হয়েছিলো ব্লগার ভুমিহীন জমিদার,নীতেষ বড়ুয়া সহ আরো অনেকের সাথে।নাসির সারোয়ার বলা চলে সোনেলার আরেকটি প্রান।সোনেলাকে ভালবেসে এ যাবৎকাল সোনেলার প্রায় প্রত্যাকটি মিলন মেলায় সঙ্গ দিয়ে আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন।এই কবি ব্লগারকে  সোনেলার প্রতি ভালবাসা স্বরূপ সন্মাননার স্বারক্ষ ক্রেস্ট উপহার দিয়ে  সন্মানীত করেন জিসান শাহ ইকরাম।

মোঃ জিসান শাহ ইকরাম ঃ জগতের কিছু কিছু সৃষ্টি আছে যেগুলোর সৃষ্টির পিছনে ব্যাক্তি বিশেষের জন্ম হওয়া বেশ গুরুত্ব পায়  তেমনি জিসান-ভাইজান দ্বয়ের জন্ম না হলে হয়তো এমন একটি আন্তরিকতায় পূর্ণ ব্লগ সোনেলার জন্ম হত না।আমরা তাদের জন্মক্ষণকে জানাই অভিবাদন এবং শুভ কামনা।মিলন মেলার পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন তিনি।সব শেষে তিনি ব্লগ এডমিন সন্মাননা স্বারক ক্রেস্টটি ছাইরাছ হেলালের হাত হতে গ্রহন করে আমাদের ধন্য করেন।

ছাইরাছ হেলাল ঃ কবিরাজ ! না ভাববার কোন অবকাশ নেই যে তিনি গ্রামগঞ্জের হাতুড়ীমার্কা কবিরাজ।তিনি হলেন কবিদের মহারাজ কবিরাজ।তবে কবিতায় তিনি বনাজী শব্দওষাধী প্রয়োগে বেশ পারদর্শী।সোনেলা ব্লগ এবং আমার পড়া এ কালের কবিদের মধ্য হতে সেরা লেখা লিখুয়ে কবি হলেন তিনি।মাঝে মাঝে বিভিন্ন ব্লগারদের ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নের সাবলিল ভাবে উত্তর দিয়ে অনুষ্ঠানটির পুরো হল রুমে ব্লগারদের তিনি একাই মাতিয়ে রাখেন।সোনেলা ব্লগের এডমিন হিসাবে সন্মাননার স্বারক ক্রেস্টটি সন্মানীত জিসান ভাই তার হাতে তুলে দিয়ে আমাদের কৃতার্থ করলেন।

সবশেষে মজাদার খবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সোনেলা ব্লগের এ যাবৎকালের একটি স্বরণীয় একটি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন অনুষ্টান সঞ্চালক-সভাপতি যথাক্রমে ব্লগার জিসান-হেলাল।

আলোচনা শুরু করছিলেন ব্লগার নাজমুল আহসান ঠিক সেই মুহুর্তে খাবার সরবাহ হচ্ছিল।নাজমুল আহসান আলোচনা চালিয়ে যাবার পর হঠাৎ বুঝতে পারলেন-খাবারের সময় কথা বলাটা সঠিক নয়।বিশেষ করে খাবারের যে মজাদার আইটেমগুলো একের পর এক সবার সামনে আসছিল তাতে মনে হয়না কারো জিবে জল আসার বাকী ছিলো।যাক সবায় আরাম করেই খেলাম।তবে বলা যাবে না খাবারের মজাদার মেনুগুলো কী কী ছিলো তাহলে আসতে না পারা অনেকের মনে আফসোস থেকে যাবে।

আলোচনা ঃ 

আলোচনাটা শুরু করেছিলেন ব্লগার এবং ব্লগের কারিগরি দিকটার দেখবাল নাজমুল আহসান।সোনেলা ব্লগটি সাইটটি আট বছর যাবৎ অনলাইনে বেশ দাপটের সাথেই চলে আসছে।দিন দিন এর গ্রহনযোগ্যতা বাড়ছে।গ্রহনযোগ্যতা বাড়ার সাথে সাথে এর ব্যায়টিও বাড়ছে।এই আটটি বছরের মাঝে বেশ কয়েক বার মিলন মেলাও হয়েছে ।প্রতিটি মিলন মেলায় কিছু না কিছু অর্থ খরচ হয় বা হয়েছে।এবারের মিলন মেলায়ও তার কোন ব্যাতিক্রম ঘটেনি বরং খরচাদির পরিমান আরো বেড়েছে।এ সব করতে গিয়ে একটি আনপ্রোফিটেবল ব্লগ সাইটটির যে খরচ হয়েছিলো তার সবই বহন করেন ব্লগ কর্তৃপক্ষ।কিন্তু কেন? সবিই সাহিত্য চর্চার প্রসার এবং একান্তই মনের শখ মেটাতে -ব্লগ কর্তৃপক্ষের অভিমত।

উপস্থিত ব্লগারদের মাঝে শামীম চৌধুরী সহ অন্যান্য ব্লগররা নাজমুল আহসানের এমন বক্তব্যে কিছুটা যোগ করে বলেন-আসছে সোনেলা ব্লগ এর যে কোন অনুষ্ঠানের ব্যায় বহন করবে সোনেলা ব্লগের আয় দিয়ে।আমরা লিখবো আমাদের মনের খোরাক মেটাতে  শুধু ব্লগ কর্তৃপক্ষ কেন শুধুমাত্র তার খরচাদির দায়ভার একাই বহন করবেন!!। চমৎকার আলোচনায় উঠে আসে তাহলে ?
সেটা কী ভাবে?
৴বিজ্ঞাপন প্রচারে?
৴ব্লগ ব্রাউজার সহ অন্য কোন উপায় হতে ?
৴ সোনেলা প্রকাশনী খোলা।

উপস্থিত ব্লগাররা আয়ের বিভিন্ন দিক আলোচনা করেন এবং জানা গেল যে,তা করা সম্ভব এবং যুক্তিযুক্ত।অনলাইন জগতে প্রায় সব ব্লগেই আয়ের পথ আছে কেবল সোনেলা ছাড়া।তবে অনেকে এর বিরূপ প্রতিক্রীয়াও ব্যাক্ত করেন ।এ ক্ষেত্রে তীর্থক আহসান রুবেল সহ উপস্থিত সবাই এ বিষয়ে সুন্দর সুন্দর মতামত দিয়েছিলেন।

আবারো অনুরোধ করব মিলন মেলায় উপস্থিত/অনুপস্থিত ব্লগাররা এ পোষ্টে মন্তব্যে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।আলোচনাটা এই কারনে জরুরী যে আসছে সেপ্টেম্বর মাসে সোনেলা ব্লগের প্রতিষ্ঠা বার্ষীকি।আমরা ব্লগাররা নিশ্চয় চাইবো স্বরণ কালের সেরা একটি প্রতিষ্ঠা বার্ষীকি পালন করতে-যেখানে সব ব্লগারদের অংশ গ্রহন নিশ্চিৎ থাকবে।


৴চলুন জেনে নিই- ছবিতে দেখা যাচ্ছে -সূপর্ণাদি ও যূথী আপুর মুখে হাসি তো এতো !!হাসির রহস্য কী?
৴ঐ…ইতো দেখা যাচ্ছে দুজন হ্যান্ডসাম বয়- সূপায়ন বড়ুয়া ও নাসির সারওয়ার মাঝে কী কথা হচ্ছিল তখন?

জেনে নেই,কী কথা হয়েছিলো সেই দিন যথাক্রমে ব্লগার বন্যালিপি ও সূরাইয়া আপু এবং ছাইরাছ হেলাল ও রুবেল ভাইদের মাঝে?


জেনে নেই, অনুষ্ঠান স্থলে প্রথম উপস্থিত হওয়া সুপায়ন বড়ুয়া- কী ভাবছিলেন সেই অসল সময়টিতে তিনি ?

জেনে নেই, বক্তা নিতাই দাদা সেদিন কী বলছিলেন যে উপস্থিত ব্লগার এডমিনরা মুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনছিলেন?

ব্লগার মাহবুবুল আলম,সুপায়ন বড়ুয়া এবং গোলাম মোস্তফার একটি বিশেষ মুহুর্ত।

এখানে কী ঘটেছিলো সেদিন! জাতি জানতে চায়?।

কবিরাজ মহারাজের এতো হাসির রহস্য কী ? জাতি জানবে কী কখনো ?

জেনে নিই ব্লগার অনন্য অর্ণব- পুরস্কার নিচ্ছেন জিসান ভাইজানের হাত হতে আর মধুর হাসি হেসে কথা বলছেন আরেক জন হেলাল ভাইজানের সাথে! তাহলে কী কথা হয়েছিলো তার সাথে ?


আলোচলার একটি বিশেষ মুহুর্ত।

ব্লগার সাহিত্যিক হালিম নজরুল কী বলছিলেন সেদিন ? বক্তৃতায় স্পষ্ট হয় জাতির দুলা ভাই।

একটি বিশেষ মুহুর্তে সুপায়ন বড়ুয়া,তীর্থক আহসান রুবেল এবং মশিউর রহমান।কী ভাবছিলেন সোনেলাকে নিয়ে?


সম্ভবত অনুষ্ঠানটির পুরোটাই আমাদের ইঞ্জা ভাই অক্লান্ত ভাবে এমনি করে মোবাইল ধরে রেখে ভিডিও করেছিলেন।এতো ধৈর্যের রহস্য কী ছিলো?।সে জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

সব শেষে ব্লগাররা সন্মেলিত ভাবে বই মেলায় গিয়ে সোনেলা ব্লগারদের প্রকাশিত বেশ কয়েকটি বই কিনেন বিশেষ করে সূরাইয়া আপুর  শেষ বিকেলের রোদ্দুর,রেহানা বীথির আলো ওখানেও আসে,প্রদীপ চক্রবর্তীর-পর্বত কন্যের ইতিকথা,মাহবুবুল আলম এর নামটি  মনে  নেই,হালিম নজরুলের ভুতের স্কুল সহ অন্যান্য সোনেলা ব্লগারদের বই।আশা ছিলো রুমন আশ্রাফের “গোলাপী জামা” বইটি কেনার যা তখনো প্রকাশিত হয়নি।

এতো ক্ষণ সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

গত পর্ব দেখুন

————————————–
ছবিঃ নিতাই বাবু ও নাসির সারওয়ার

৩৬৬জন ৩৭৩জন
92 Shares

৬৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ