ব্লগার ও দায়বদ্ধতা—-

ব্লগার মানে কি ?? অনেক মূর্খরা এর অর্থই জানে না ; শুধু মূর্খরা নয় কিছু অর্ধ শিক্ষিত, শিক্ষা-পাপীরাও জানে না !! ব্লগ শব্দটি নিয়ে মৌলবাদীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে খুবই খারাপ ধারণা তৈরী করেছে !!প্রধান অস্ত্রই হচ্ছে ধর্মীয় কার্ড !! নানা ইস্যুতে সমাজে অশান্তি সৃষ্টির জন্য তাড়া এই কার্ড ব্যবহার করেন !!

##‪#‎এখন‬ একটু পরিস্কার ভাষায় বলে নেই ব্লগটা কি ???

তথ্যপ্রযুক্তির জগতে ব্লগ লেখা বলতে বোঝানো হয়, অনেকটা ব্যক্তিগত ডায়েরি লেখার মত।

আমরা কেউ যদি আমার ব্যক্তিগত ডায়েরিটি সবাইকে পড়তে দিতাম, তাহলে সেটা হতো অনেকটা ব্লগ লেখার মতো। কেউ যখন তার খাতায় বা নোট বইয়ে ডায়েরি লিখে, তখন সে ইচ্ছে করলেও এক সাথে অনেককে দেখাতে পারে না, কিন্তু ইন্টারনেটের জগতে সেটা পানির মতো সোজা।

একজন মানুষ ব্লগে কিছু একটা লিখে পৃথিবীর সবাইকে সেটা দেখার সুযোগ করে দিতে পারে। সারা পৃথিবীতে এই মুহূর্তে একজন দুজন নয়, হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষও নয়, আক্ষরিক অর্থে কোটি মানুষ ব্লগ লেখে, যার অর্থ এই পৃথিবীতে এখন কোটি কোটি ব্লগার!

দুঃখ জনক ভাবে আমাদের দেশের অসুস্থ মৌলবাদীরা ব্লগার দের গালাগালি করেন ???

একজন মানুষকে ‘এমএ পাস’ বলে গালি দিলে যে রকম হাস্যকর শোনায়, ব্লগার বলে গালি দিলেও সেটা একই রকম হাস্যকর শোনায়।

মনে রাখবেন,লেখতে হলে অনেক পড়তে হয় জানতে হয় !!আজকাল নাস্তিক এবং ব্লগার দুটো শব্দকে সমার্থক করে ফেলার জন্যে খুবই চেষ্টা করা হচ্ছে! অথচ মজার ব্যাপার হলো, যদি আমাদের কখনো ইসলাম ধর্ম (বা অন্য কোন ধর্ম) নিয়ে কোন জরুরী তথ্য বা বিশ্লেষণের দরকার হয়, তখন আমরা সেটা খুঁজে পাই কোন একজন ইসলামী চিন্তাবিদ ব্লগারের লেখা থেকে! যারা তাদের অপছন্দের মানুষদের ব্লগার বলে গালি দেন, তাদের জানা দরকার ইন্টারনেটে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের ওপরেই অসংখ্য ব্লগ আছে।

অসংখ্য খাঁটি মুসলমান ব্লগার আছেন।
সবার ব্লগই যে সাধারণ মানুষ আগ্রহ নিয়ে পড়ে, তা নয়। ইন্টারনেটে অসংখ্য অর্থহীন অপ্রয়োজনীয় ব্লগ রয়েছে। একটা খবরের কাগজ যখন প্রকাশিত হয়, তখন তার প্রকাশক আর সম্পাদকের কিছু দায়বদ্ধতা থাকে, তারা যেটা খুশি সেটা ছাপিয়ে ফেলতে পারেন না।

ইন্টারনেটের জগতে নিজের লেখা প্রকাশ করার প্রক্রিয়াটা এত সহজ করে ফেলা হয়েছে যে, এখানে যার যেটা ইচ্ছে সে সেটাই প্রকাশ করে ফেলতে পারে।

##‪#‎আমি‬ বিশ্বাস করি লেখা লেখি সমাজের জন্য এক ধরনের দায়বদ্ধতা আর একান্ত্ব নিজেস্ব দায়বদ্ধতা থেকেই একজন ফুল টাইম ব্যবসায়ী হয়েও সমসাময়িক বিষয়ে ব্লগে লেখি !!
ইনশা আল্লাহ এই লেখা-লেখি অব্যাহত থাকবে !!

ধন্যবাদ
আলমগীর হোসাইন
ম্যানচেস্টার
ইংল্যান্ড !!

৩৬৩জন ৩৬৩জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

  • অলিভার

    ব্লগের ব্যাখ্যাটাই আমাদের কাছে এসেছে বিতর্কিত ভাবে। শুরুতেই যখন আমরা সবাই একটা ভুল ধারণা নিয়ে এগিয়ে চলেছি তখন এতদিন পর এসে সেই ভুল ধারণা হুট করেই পরিবর্তন হবার নয়। আর সাথে যুক্ত হয়েছে হাল যুগের ‘নাস্তিক’ ট্যাগ।

    মৌলিক বিষয়টা আলোচনার মাঝে তুলে আনার জন্যে ধন্যবাদ।
    শুভ কামনা রইলো…

  • অনিকেত নন্দিনী

    “মজার ব্যাপার হলো, যদি আমাদের কখনো ইসলাম ধর্ম (বা অন্য কোন ধর্ম) নিয়ে কোন জরুরী তথ্য বা বিশ্লেষণের দরকার হয়, তখন আমরা সেটা খুঁজে পাই কোন একজন ইসলামী চিন্তাবিদ ব্লগারের লেখা থেকে! যারা তাদের অপছন্দের মানুষদের ব্লগার বলে গালি দেন, তাদের জানা দরকার ইন্টারনেটে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের ওপরেই অসংখ্য ব্লগ আছে।” – এই সহজ সত্যটা মৌলবাদীদের মাথায় ঢোকেনা। আসলে তারা এসব বুঝতেও চায় না। “কান নিয়েছে চিলে” বলে যে মিছিল তাতেই শামিল হবার ইচ্ছে মনে গেঁথে রেখেছে যে!

  • নীতেশ বড়ুয়া

    আমিও ব্লগিং এর মানে জানতাম না কারণ ব্লগার বলতে সবাই নিজেকে হোমরাচোমরা ভাবের কেউ ভাব ধরে (আশেপাশের অনেককে এমন দেখা থেকেই বলছি)

    কিন্তু আপনি নিজে ব্লগার হয়ে মুক্তমনা হয়ে যারা ব্লগিং বুঝে না বা জানে না তাঁদের গালি দিয়ে দিলেন শুরুতেই মূর্খ, অর্ধ-শিক্ষিত, শিক্ষিতপাপী বলে!

    অনেকেই ডায়েরী লিখেন আজো কিন্তু সেটা নেটে প্রকাশ করেন না আবার অনেকেই এই জগত নিয়ে থাকেন না। তাঁদের কাছে ব্লগিং জানার কথা নয়, তবে কি তারা সবাই মূর্খ? অর্ধ-শিক্ষিত? শিক্ষিতপাপী?

    আমার বাবা ব্লগিং বুঝেন না, কারণ তিনি কম্পিউটিং জগতের শুরু হতে নিজের চেষ্টায় নিজেই সব কিছু শিখেও এই ইন্টারনেটের সোশ্যাল ওয়ার্ল্ড নিয়ে থাকেন না। তাহলে কি তিনি মূর্খ, অর্ধশিক্ষিত বা শিক্ষিত-পাপী?

    এই অন্তর্জালের সামাজিকতার দায়বদ্ধতা যাদের নেই তারা ব্লগিং বুঝেনই না একরকম।

    আফসোস! এই কারণেই ব্লগারদের সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব আনে যারা বুঝে না। কারণ ব্লগাররা নিজেদের অনেক শিক্ষিত, ও জ্ঞানী মনে করেন।

    ব্যক্তিগত অনভূতি জানালাম, আর জেনে নিলাম ব্লগিং কি আপনার পোস্ট হতে। ধন্যবাদ। -{@

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ