পাকভারত উপমহাদেশে ব্রিটেনের দুইশত বছরের  উপনিবেশ সময়কাল টিকে ‘কালো অন্ধকারময় অধ্যায়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিশিষ্ট লেখক শশী থারুর ( Shashi Tharoor) তার বিখ্যাত বই ‘এন এরা অব ডার্কনেস’  এ ।  

তার মতে ব্রিটেনের উপনিবেশবাদ পাক ভারত উপমহাদেশের মানুষ কে এক অন্ধরকার অধ্যায় ফেলে দিয়েছিল  এবং সেখান থেকে উঠে আসতে তাদের কে অনেক বেগ পেতে হয়েছে , অনেক কাল ক্ষেপণ করতে হয়েছে এবং অনেক দারিদ্র্যের কষাঘাত সহ্য করতে হয়েছে।  

দ্বিজাতিতত্ত্বের বিষাক্ত বীজ  

পাকভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশরা আসার আগে সব ধর্মের মানুষ এক সঙ্গে ভেদাভেদ ছাড়া বসবাস করত। কেউ কাউকে আলাদা ভেবে দূরে  সরিয়ে দিতনা।  দ্বিজাতিতত্ত্বের বিষাক্ত বীজ রোপণ করেছে তারা। মানুষের মধ্যে ভাগাভাগি সৃষ্টি করে মানুষে মানুষে মারামারির এবং ঝগড়া বিবাদের গড়া পত্তন করে তারা। 

ভারতীয়দের নিচু চোখে দেখেছে এবং নিজেদের আয়েশি জীবনের ব্যাবস্থা করেছে। 

ব্রিটিশরা বলতে চায় উপনিবেশের মাধ্যমে ভারতীয়রা অনেক উপকার পেয়েছে । যেমন গণতন্ত্র ,  মার্জিত ব্যাবহার এবং ইংরেজি ভাষা । শশী থারুর এক এক করে তার দাঁত ভাঙ্গা ব্যাখ্যা দিয়েছে তার বইয়ে। 

মার্জিত ব্যাবহার যা তাদের মোটেও ছিলোনা  

শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ কে অপমান করে বের করে দিচ্ছে ব্রিটিশ সেনা

‘রবার্ট ক্লাইভ’  যে রবার্ট ক্লাইভ বিখ্যাত হয়ে আছেন ‘ক্লাইভ অফ ইন্দিয়া’  হিসাবে । তিনি এসেছিলেন ১৭৪৪ সালে একজন ১৮ বছর বয়সের কেরানী হিসাবে। যে কিনা পরে  ছিল ইস্ট ইন্দিয়া কোম্পানির নিরাপত্তা কর্মী। সেই রবার্ট ক্লাইভ কুখ্যাত হয়ে আছে ভারতীয়দের কাছে একজন রুড, অত্যাচারী, দুরব্যাবহার কারী চণ্ডাল  হিসাবে। এই হল ‘ব্রিটিশ ভদ্রতার’ পরিচয়। তার মধ্যে ছিলনা ভদ্রতা জ্ঞান দেখানোর নুন্যতম ইচ্ছা বা  ভদ্র ব্যাবহার দেখানোর ছিটেফোটা জ্ঞান । 

মানুষকে কষ্টের মধ্যে ফেলে ‘দুঃখিত’ বলার কোন মানে হয়না।

 

তার মতে , ‘ Thank you’ ‘ Please’  ‘ sorry’ কথা গুলো মিন না করলে,  বলে কোন লাভ নাই। ‘Thank you’ বলাকে ভদ্রতা ও বলা যায় না। 

‘সবার থেকে শ্রেষ্ঠ’ এটা ভাবা তাদের মজ্জাগত মনোভাব  

  ‘ সবার  থেকে শ্রেষ্ঠ’  এই যে তাদের মানসিকতা তা দেখানোর জন্য তারা যে নস্টালজিয়াই  ভুগছে তা এখনো যায়নি । শশী থারুর মতে, আর তার জন্য তারা ইয়োরোপীয় ইওনিওনে থাকতে পারলো না । নিজেকে ‘বিশেষ যাত’  হিসাবে পরিচয় দেয়ার জন্য তারা ব্রেকসিট   থেকে বেরিয়ে আসলো । কারন এখনো তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠ ভাবার নস্টালজিয়ায় ভুগছে। 

গণতন্ত্র তারা না আসলেও বিকাশ ঘটতো 

ব্রিটিশ দের ধারনা এবং তারা বলতে চায় , ‘তর্ক করা ভারতীয়’  দেরকে  উপনিবেশের ফলে  ভারত একটা  শ্রেষ্ঠ দেশ চালনার পদ্ধতি পেয়েছে । যাকে বলা হয় ‘গণতন্ত্র’ । থারুর মতে একটাই প্রশ্ন যে সব দেশ তাদের উপনিবেশ   ছিলনা সেখানেও  গণতন্ত্র চালু আছে। তার মতে গণতন্ত্র চালুর জন্য তাদের কলোনি করার কোন দরকার ছিলনা। কারন সে সময় ‘গণতন্ত্র’ কনসেপ্ট টি এমনিতেই ছড়িয়ে পড়েছিল। তারা গণতন্ত্র না দিলে এমনিতেই তা চলে আসতো । 

থারুর মতে ব্রিটিশ যদি এতোই গণতন্ত্র পছন্দ করে তবে কোথায় ছিল গণতন্ত্র গত দুইশত বছরে তাদের ভারত শাসন আমলে?  

বিধ্বংস আর লুণ্ঠন  

থারুর তার গবেষণায় দেখিয়েছেন কি ভাবে ব্রিটিশরা শতাব্দী কাল ধরে পাক ভারত উপমদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। 

১৭০০ সালের দিকে পাকভারতের অর্থনীতি গ্লোবাল GDPর ২৭% ছিল । ১৯৪৭ সালের দিকে যখন পাক ভারত যখন  স্বাধীনতা পেল  ব্রিটিশ দের কাছ থেকে তখন ভারত,  গ্লোবাল অর্থনীতির সবচেয়ে বেশি দরিদ্র এক দেশ। সে  সময় ভারত গ্লোবাল JDP র মাত্র ৩% অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল। 

পাক ভারতে  আগে থেকেই টেক্সটাইল, শিপ বিল্ডিং এবং ইস্পাত কারখানা ছিল। ব্রিটিশ তখন এমন কঠিন  নিয়ম নীতি  চালু করলো ইস্পাত রপ্তানির ব্যাপারে যা দিয়ে ভারত রপ্তানি করতে পারলো না। কঠিন রীতিনীতি দ্বারা তারা প্রমাণ করত ভারতের  ইস্পাত রপ্তানি যোগ্য উচ্চমানের নয়।

ভারত থেকে সস্তা দরে কাঁচামাল নিয়ে গিয়ে আবার তা ভারতীয়দের কাছে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করতো। যার  ফলে নিজেদের তাঁত একে একে  সব বন্ধ হয়ে গেল।  দেশ চালনার ঘুটি যদি থাকে তাদের হাতে তবে তা ব্যাবহার করে এখান কার কারখানা বন্ধ করা কোন ব্যাপার নয়। এই রীতিনীতি ছাড়াও ভায়লেন্স এবং ট্যাক্স প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের তাদের জিনিস কিনতে হতো । 

দুশো বছর ধরে এই অঞ্চলটিকে তারা শুধু দখলেই করিনি ধ্বংস করেছে একটি সভ্যতা 

একটি অতি লোভী বাণিজ্য সংঘটন , সংগঠিত হয়ে বেআইনি ভাবে,  ধ্বংস করেছে ভারতের অর্থনীতি। চুরি করেছে ভারতের ধন সম্পদ । হত্যা করেছে মানুষ, সুচতুর ভাবে নীতি নির্ধারণ করে ধ্বংস করেছে ভারতের নিজস্ব কলকারখানা। এবং উৎপাদিত পণ্য কি ভাবে বন্ধ করা যায় তা নির্ধারণ করেছে। আর ভারতীয়দের তা আসহায় ভাবে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে হয়েছে। কারন তাদের কিছুই করার ছিলনা। 

থারুর মতে ব্রিটেনের প্রস্পারিটি কি ভাবে হয়েছে? এই প্রস্পারিটির পেছনে আছে ভারত এবং আফ্রিকা থেকে নিয়ে যাওয়া বিপুল পরিমাণে সস্তা দরে কাঁচামাল । আর আছে ব্রিটিশদের হৃদয়হীন হয়ে  লাগামহীন ভাবে বেআইনি করে  ভারত থেকে নিয়ে যাওয়া বিপুল সম্পদের কাহিনী। 

ব্রিটিশ কলোম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ঊষা পাটনায়েক তার গবেষণায় দেখিয়েছেন ১৭৬৫-১৯৩৮ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যের আড়ালে ৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার তারা আত্মসাৎ করেছে। 

থারুর একজন আমেরিকান ইতিহাসবীদ এবং দার্শনিক ‘Will-Durant’এর  কোট ব্যাবহার করেছেন । যিনি ১৯৩০ সালে ভারতবর্ষ ভিজিট করতে এসেছিলেন এবং সবকিছু অবলোকন করে লিখে গেছেন “ ব্রিটিশ একটা লোভী ট্রেডিং কোম্পানির মাধ্যমে আর যে কোম্পানির না ছিল কোন নীতি জ্ঞান, না ছিল মানবিকতা, তারা ভারতে এসে নিষ্ঠুরতার সাথে বেআইনী ভাবে,দরকার মতো হত্যা কাণ্ড চালিয়ে ধূর্ততার সাথে নীতি নির্ধারন করে,দমন নীতি পীড়ন নীতি চালিয়ে পুরো ভারতবাসীকে একটা দরিদ্র জাতীতে পরিণত করেছে। অথচ ভারতের সভ্যতা আগে থেকেই তাদের চেয়ে বেশি ছিল এবং তাদের চেয়ে অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল।” 

রাশিয়ার লেখক ‘লেভ তলস্তয়’ মহাত্মা গান্ধী কে একটা চিঠিতে লিখেছিলেন ‘কিভাবে একটা বাণিজ্য প্রথিসটান ব্যাবসা করতে এসে লুটপাট এবং শোষণে জড়িয়ে গেল’   

মানুষ হত্যাঃ 

বাংলার দুর্ভিক্ষ1943/44

থারুর মতে আজকের পাকভারত আরও অনেক আগে ধনী হতো যদি এই কলোনির খপ্পরে পড়তে না হতো । ১৯৪৩/৪৪ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষে ৩৫ লক্ষ মানুষ মারা গেছে। দুর্ভিক্ষের কারন ছিল বাংলা  থেকে শস্য ব্রিটেনে নেয়া হয়েছিলো তাদের দেশের শস্য ভাণ্ডার পুর্ন করার জন্য। যাতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী খাবার অভাবে না থাকে। যখন বাঙ্গালি না খেয়ে মারা যাচ্ছিলো তখন চার্চিল বলেছিল ‘ Why hasm’t Gandhi died yet’ ?

 শশী থারুর তার বইয়ে চার্চিলকে হিটলার, মাও এবং স্তালিন কে এক কাতারে ফেলেছেন। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যা কাণ্ড যা  ঘটেছিলো ১৯১৯ সালের  ১৩ইএপ্রিল।  যখন কিনা কমপক্ষে ৪০০ মানুষ   মারা যায় এবং ১০০০ মানুষ  আহত হয়।এই  আদেশ দিয়েছিলো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল 

Reginald Dyer ।

১৮৭০ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত ভারতীয়দের গড় আয়ু কমে এক পঞ্চমাংশ হয়েছিলো 

 গত দুইশত বছরের শাষন ছিল শোষণ এবং অত্যাচারে ভরা একটা সময়। এটাকেই বলা হয় হিপক্র্যাসী অর্থাৎ মুখে এক ভিতরে আর এক নীতি । 

 

ব্রিটিশ উপনিবেশ এবং মুঘল সাম্রাজ্যের মধ্যে পার্থক্যঃ 

ব্রিটিশ উপনিবেশ এবং মুঘল সাম্রাজ্যর মধ্যে পার্থক্য হল মুঘলরা এসে রাজ্য গড়েছে। তারা নিজেরাকে ভারতীয় ভেবেছে। এখানে থেকে গেছে এবং এখানকার সম্পদ পার করেনি। দেশের মধ্যে ধর্মে ধর্মে ভেদাভেদ করে উস্কানি দিয়ে ঝগড়া বাধানোর  চেষ্টা করেনি।সব ধর্মের মানুষ একসাথে বসবাস করতো এবং সব ধর্মের মানুষকেই রাজকার্য চালানোর জন্য নিয়োগ দেয়া হতো । সব ধর্মের মানুষ কিভাবে এক সাথে বসবাস করা যায় তার চেষ্টা করে গেছে। নিজেরাকে উঁচু ভাবেনি। সবায়কে সমান ভাবে মূল্যায়ন করেছে। 

ব্রিটিশ  নিজেদের কে উঁচু ভেবেছে। ভারতীয়দের সাথে মিলে যেতে  পারিনি এবং মিলে যাওয়ার ইচ্ছাও ছিলনা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভারত থেকে সম্পদ আহরণ করে  নিজ দেশে  নিয়ে  যাওয়া।  ধর্মে ধর্মে ভেদাভেদ সৃষ্টি করেছে ধূর্ততার সঙ্গে। 

ভাষা এবং কালচার চাপিয়ে দেয়া মানে সেই দেশের ভাষা এবং কালচারকে নিকৃষ্ট ভাবা  

ব্রিটেন বলে ভারত বাসীর জন্য তাদের আর একটি উপকার আর সেটা  হল  তারা ভারতবাসী কে ইংরেজি ভাষা দিয়ে গেছে। থারুর মতে ইংরেজি ভাষা তা জানা দরকার নেই দেশের উন্নয়নের জন্য। অনেক দেশের মানুষ ইংরেজি ভাষা জানেনা এমনকি ব্রিটেনের পাশে দেশ স্পেন, ফ্রান্স এরাও ইংরেজি ভাষা বলেনা এবং  বলা টিকে তারা কোন গুরুত্বও দেয়না। চীন জাপান ইংরেজি ভাষা বলেনা কিন্তু তারা আজ অনেক উন্নত। 

দেশের উপোকারের জন্য তারা ইংরেজি ভাষা চাপিয়ে  দায়নি। মাত্র ১০% ভারতীয় ইংরেজি ভাষা শিখেছিল । সেটা তারা করেছিল ভারতকে কন্ট্রোল করার জন্য।  কারন ব্রিটিশদের কোন উদ্দেশ্য ছিলনা ভারতীয়রা শিক্ষিত হোক। 

তার কারন ছিল ভারতীয়রা শিক্ষিত হলেই তাদেরকে সরানোর বুদ্ধি আসবে এবং আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে। তারা বুঝতে শিখবে কি ভাবে তারাকে  ঠকানো হচ্ছে। 

তবে তার ফল হয়েছে উল্টো । ভালো মতো ইংরেজি শিখে এলিট  শ্রেণী নিজেকে শিক্ষিত করেছে এবং এই শিক্ষা ইন্সট্রুমেনট হিসাবে ব্যাবহার করে নিজেদের স্বাধীনতার জন্য উদজীবিত হয়েছিলো। আর এর ক্রেডিট পাবে ভারতীয়রা ব্রিটিশরা নয়। 

থারুর মতে আমাদের মধ্যে একটি কলোনিয়ান মনোভাব থেকে গেছে আর তা হল ইংরেজি দিয়ে কথা বলাকে ক্রেডিট মনে করা । তার মতে এই কলোনিয়াল মনোভাব থেকে বের হয়ে আসা সহজে সম্ভব নয়। 

তখনকার সময়ে ব্রিটেনের মতো ছোট দরিদ্র দেশ কি ভাবে পাকভারত উপমহাদেশের মতো এতো বড় একটি দেশকে দখল করেছিলোঃ 

ব্রিটেন সেসময়ে ছিল ছোট্ট একটা গরীব দেশ। তার পক্ষে কি ভাবে সম্ভব হল পাকভারতের মতো এত বিরাট একটি দেশকে দখলে আনা? 

প্রথমতঃ যখন ইস্ট ইন্দিয়া কোম্পানী ভারতে আসে তখন মুঘল আমল দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং ছোট ছোট অনেক স্থানীয় রাজ্য শক্তিশালী উঠছিল ক্ষমতা নেয়ার জন্য। 

দ্বিতীয়তোঃ নিজেদের মধ্যে কোন একতা নিয়ে আসতে পারিনি যা দ্বারা একতাবদ্ধ হয়ে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে লড়বে। 

তৃতীয়তঃ ভারতীয়দের মধ্যে  একতা  না থাকার জন্য ব্রিটেন লোকাল গ্রুপ গুলোকে ঘুষ দিয়ে নিজেদেরকে সাপোর্টের জন্য ব্যাবহার করে। 

  

চতুর্থতোঃ  ব্রিটেন কোন সময়ই ভারতকে শাসন করতে পারতো না যদিনা ভারতীয়দের complicity অর্থাৎ ক্ষমতা নেয়ার জন্য নিজেদের একতা নষ্ট করার ব্যাপারটিকে ব্যাবহার করতো। 

পঞ্চমতঃ ব্রিটিশদের ছিল সুপিরিয়র মিলিটারি টেকনোলজি । 

ডীভাইড  এন্ড রুল পলিশীঃ 

ভারতীয়দের মধ্যে একতা না এনে ব্রিটেন আরও ভাঙ্গার চেষ্টা করেছে। আর এই পলিসি দ্বারা ভারতীয়দের মধ্যে মনমালিন্য,দূরত্ব, ভাগাভাগির মনোভাব সৃষ্টি করেছে। মুঘল আমলে সব ধর্মের মানুষ একসাথে বসবাস করতো। এই ভেদাভেদ সৃষ্টি করে ব্রিটিশ । থারুর মতে পুরো ভারতবর্ষ কে এক করে রাখা তো দূরের কথা তারা চেষ্টা করেছে কিভাবে তাদের একতা নষ্ট করা যায়। 

ব্রিটেন যখন আর্মি গঠন করে তখন সব ধর্মের মানুষ ছিল। তাদের ধারনা ছিল যে কোন সময় তারা একত্রিত হয়ে বিরোধিতা করতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে এই আর্মি যাতে একত্রিত না হতে পারে তাই তারা রটিয়ে দায় হিন্দুরা মুসলমানদের মাংসে শূকরের মাংস মিশিয়ে দিয়েছে। এই ভাবে রিউমার  ছড়িয়ে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। 

প্রথম যখন ন্যাসানাল কংগ্রেস গঠন হয় তখন তার মধ্যে ছিল হিন্দু,মুসলমান, শিখ, খ্রিস্টান এবং পার্সিয়ান। তখন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লবি করে ইচ্ছাকৃত ভাবে ভারতকে ভাগ করার জন্য ধর্মকে ব্যাবহার করে, এবং ব্রিটিশ অর্থ সাহায্য দিয়ে ‘মুসলিম লীগ’ বানায়। ঠিক এই ভাবেই ১৯০৫ সালে বঙ্গ ভঙ্গ হয়। 

থারুর মতে ভারতীয়দের মধ্যে এখনো এই কলোনিজাইসন  মাইন্ড ( colonisation mind ) থেকে গেছে এবং এটা থেকে বের হওয়া কঠিন ব্যাপার। 

থারুর মতে ব্রিটেনের  স্কুল গুলোতে কলনিয়ান হিস্ট্রি পড়ানো হয়না। পড়ানো হয় তারা গর্বিত,  কতো বড় সাম্র্যাজ্য তাদের ছিল। কি ভাবে তারা অত্যাচার চালিয়েছে তা তুলে ধরা হয়না। অনেক ইয়ং ব্রিটিশ অদ্ভুত ভাবে গর্ব দেখাতে পছন্দ করে ‘আবার তারা তাদের সাম্রাজ্য ফিরে আনবে।’ 

তিনি বলেন ব্রিটেনে হাজার হাজার মিউজিয়াম আছে কিন্তু ব্রিটিশ কলোনির কোন  মিউজিয়াম নাই। 

থারুর বলেছেন,  ব্রিটেনের   কলোনি না হয়ে থাকলে ভারত অনেক আগে আরও ধনী হতো এবং ব্রিটেন ছাড়াই শিক্ষিত একটি জাতী হতো । 

থারুর বলেন ব্রিটিশ টিভি তে দেখানো হয়, ‘Indian summers’ ‘Far Pavillirus’ এবং ‘The jewel in the  crown’ । এই ফিল্ম গুলোতে ভারতীয়দের সাফারিং এর কোন কথা থাকেনা । থাকে ব্রিটিশ দের জীবন এবং তারা যে ধন সম্পদ এবং বিলাসিতার জন্য গিয়েছিলো তার প্রতিচ্ছবি । আর এই জন্যই তাদের সেখানে যাওয়া । 

 

  

‘শশী থারুর লেখার সমালোচনা করার কোন রাস্তা নাই। কারন থারুর এমন সব ইনফরমেসান দিয়েছেন যা এসেছে সন্মানিত সব সর্স ( sources)  থেকে। যাকে ডিনাই করার কোন পথ নাই। যদি থারুর  নিজস্ব মতামত ব্যাবহার করেছে কিন্তু তার অর্ধেকও যদি সত্যি হয়,  তবে এটা ব্রিটিশ ইতিহাসের জন্য সত্যিকারের একটা লজ্জাজনক  অধ্যায়’  বলেছেন জোন ওয়েস্ট নামে একজন ব্রিটিশ  পাঠক তার রিভিউতে ।  

শশী থারুর মনে করেন ব্রিটেনের উচিৎ অতীতের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা  চাওয়া এবং বিষয়টি বর্তমান ব্রিটেন নীতিগত ভাবে মেনে নিলেই যথেষ্ট এবং জোন ওয়েস্ট ও মনে করেন ক্ষমা চাওয়া ব্যাপারটিকে বাস্তবায়ন করা উচিৎ।

তথ্য সূত্রঃ Inglorious Empire,What The British Did to India, Shashi Tharoor

An era of darkness

জন ওয়েস্ট রিভিউ

ফটো ক্রেডিটঃ উইকিপেডিয়া

 

 

৪৩০জন ১২৪জন
0 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ