ঘর ভর্তি আশে পাশের মানুষ কেউ বলছেন আহারে!কত ভালো মানুষ ছিল, কেউ কেদে দিয়েই বলছেন এইতো কিছুক্ষন আগেও না আমি কথা বলে গেলাম,হায়রে!মানুষের জীবন,কেউ আবার অট্ট্রেলিকা বসবাস রত ছেলেদের ভৎসনা করতেও ছাড়েন নি,,,কেমন ছেলেরা,ওদের কি আর কম আছে যে মাকে ছোট্র একটা টিনের ঘরে রাখবে!এর রকম জীবিত মানুষগুলোর কত যে আকুতি তার জন্য অথচ মৃত্যুর আগে এই কথাগুলোই কেউ বলে না।এ রকম বৃদ্ধাদের অবহেলায় বেলায় কেউ এগিয়ে আসেন না মনে হয় এটাই মানুষের চরিত্র।বড় ছেলে খবর পেয়ে বাড়ীর ভিতরে ঢুকে অবাক হন এত লোকজন দেখে সেও তো মানুষ তার উপর মায়ের বড় ছেলে, মৃত মায়ের প্রতি একটু দরদতো আসবেই।ছেলে মা মা বলে মায়ের কাছে গিয়ে বসে কাদঁছেন।মায়ের হাতটি ধরে যখন ছেলে অঝোরে কাদছেন তখন ছেলে আন্দাজ করতে পারেন তার মায়ের হাতের শিরায় রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে ছেলে সবাইকে চুপ করতে বলেন এবং ভিড় কমিয়ে ঘরের বাহিরে যেতে বলেন। মোবাইলটা হাতে নিয়ে ডাক্তারকে খবর দেন।ছোট বউ বড় বউ  সবাই হতভম্ভঃ....কি বলছেন ভাই জান আম্মা বেচে আছেন?ছোট বউয়ের প্রশ্ন।সবাই যেন আল্লাহ-রসূলের নাম জবতে শুরু করলেন।ডাক্তার সাহেব এসে মায়ের পাশে বসে খুব স্লোল ভাবে মায়ের কানের কাছে কথা বলছেন আর মায়ের চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে দিলেন।মা এবার ইশারায় অল্প অল্প করে কথা বললেন।

-যাক....ভালই হলো এই সুযোগে পৃথিবীর মানুষগুলোকে..চেনা হলো।বলেই আবারও চোখঁ বন্ধ করলেন।ডাক্তার সাহেব মাকে কিছু খাবার দেবার জন্য ছেলের বউদের বললেন।বললেন মা খুবই দূর্বল তাকে নিয়ম অনুযায়ী ভাল বিটামিন জাতীয় খাদ্য দিতে হবে।তৎক্ষনাত ছোট বউ কিছু ফল টল কেটে মাকে ডাকছেন।মা কয়েকবার ডাক দেবার পর জবাব দিলেন...আমি রোজাঁ রেখেছি।ডাক্তার সাহেব এবার ক্ষেপে যান।

-এ সময় কিসের রোজা রেখেছেন,আপনিতো অনেক দূর্বল।

-মরেতো যাইনি বাবা,ছেলেদের মঙ্গলার্থে কিছু নফল রোজা রাখছি তাই একটু ঝিমিয়ে ছিলাম।

এখানে মায়ের মমতার ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।যেখানে বন্ধু বান্ধব, স্ত্রী খালা বোনেরা যা ভাবেন না,সেই ভাবনা ছেলেদের মঙ্গলার্থে মৃত্যু পথ যাত্রী মায়ের আল্লহর দরবারে রোজাঁ রেখে ছেলেদের মঙ্গল চেয়ে যাচ্ছেন অথচ সে অবহেলিত।তাই বলা যায় অন্য সবার চেয়ে ব্যাথিক্রম মায়ের স্নেহ মায়া ভালবাসা।

গল্পের শুরুতে মধ্যবিত্ত গ্রাম্য নাছির সাহেবের মায়ের কথা বলা হয়েছিল  তার মা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে শুখি মানুষ প্যারালাইসেসে সর্বক্ষণ শুয়ে থেকে অন্যের সাহায্যে নিয়ে বেচে আছেন সেই মায়ের মুখে হসি যেন সর্বক্ষণ লেগেই থাকে তার অন্য সম বয়সী বান্ধবীরা হিংসায় পড়ে থাকেন।সেই নাছির সহেবের ছোট ভাইয়ের বউয়ের কারনে ছোট ভাইও ধীরে ধীরে মায়ের প্রতি যত্নের ভালবাসার ফাটল ধরতে শুরু করছিল এক বার সমান্য কটু কথাও মাকে বলে ফেলেন।নাছির সাহেব বুঝতে পেরে ছোট ভাইকে শাসায় এবং বুঝায়।ছোট ভাই বড় ভাইয়ের কোন কথারি প্রতিত্তোর দেননি বরং উল্টো বউকে শাসান।

-তোমার কি ইচ্ছে?

-আমিই কেবল খেটে যাবো?

-তুমি একা কই আমি,ভাইয়া,ভাবী ওরাতো খাটছেন যখন যে সময় পাচ্ছে মায়ের পাশে থাকছেন,তাছাড়া মা কে দেখাশুনা ছাড়াতো তোমার আর কোন কাজ নেই বাড়ীর বাকি সব কাজতো ভাবীই করছেন আবার সময় পেলে মায়ের দিকেও খেয়াল দিচ্ছে,কাজের মেয়েটি হঠাৎ চলে যাওয়াত তোমার একটু বেশী করতে হয়,এটাকে তুমি যদি কষ্ট মনে কর তাহলে তুমিও যেনে রাখো তোমারও একদিন মায়ের মতন এমন বয়স হবে তখন তুমিও তোমার কর্মের ফল পাবে তখন বুঝতে আমি তোমাকে কেনো মায়ের প্রতি যত্ন নিতে বলেছিলাম।ম এখন সেই আমাদের শিশু কালে ফিরে গেছেন আমাদেরকেও এক দিন এই অবস্হ্যায় যেতে হবে এ সময় যত্ন না নিলে আমরা স্রষ্টার কাছে কি জবাব দেবো বলো,যে আমাকে পৃথিবীর আলো দেখালো,যার জন্য আজ তুমি আমার হতে পেরেছো সেই তাকে অবহেলা!না তা হয় না,আমারও ভাইয়ার মতন পরিষ্কার কথা, যত দিন মা ভাই বেচে থাকবেন ততদিন তুমি আমার কোন কথার অবাধ্য হতে পারবে না বিশেষ করে মায়ের প্রতি যত্নের অবহেলা করতে পারবে না তাতে তুমি আমার সংসার করো আর নাই করো।......যাই মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে আসি তোমার ভ্যান ভ্যনানিতে মাকে কিছু মন্দ বলেছিলাম।

ছোট ভাই নিজের ভূল বুঝতে পেরেছিল,তাই সেও শক্ত হলো বউয়ের প্রতি।আসলে আমাদের সমাজে আমরা অযথাই পরিবারের বিচ্ছেদে সহজেই বউকে দোষী করে ফেলি এটা ঠিক নয় ছেলের মন ঠিক থাকলে,ইচ্ছে থাকলে আর ছেলের মায়ের দুধের কৃতজ্ঞতার কথা মনে থাকলে পরের মেয়ের বউয়ের কি সাধ্য আছে যে ছেলের মনে মা বাবার প্রতি বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করে।ছোট ভাই যখন উঠে যাচ্ছেন মায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে ঠিক তখনি ছোট বউ পেছন থেকে স্বামীর হাতটি ধরেন।

-কোথায় যাও?আমাকে নিবে না?আমিও যাবো মায়ের কাছে।

-চলো....

এতক্ষণ কথার মাঝেই দু'জনের চোখেরঁ পানি টলটল করছিল তা এখন আর ধরে রাখতে পরেননি।দুজনের চোখের পানি গাল বেয়ে মাটিতে পড়ছে এ যেন তাদের অন্তরের সূদ্ধির সূরা প্রবাহিত হলো।এমনি ভালবাসায় সিক্ত হয়ে নাছির সাহেবের মা দীর্ঘ চার বছর প্যারালাইসেসে বিছানায় শুয়ে শেষ নিঃষাস ত্যাগ করেন ফেব্রুয়ারী ২০১৩।

এবার আসা যাক মূল কথায় অবাঞ্চিত ব্যাতিক্রম মায়ের কাছে।কিছু মায়ের ভাগ্যে বিধাতা জম্ম থেকেই কষ্টের ঠিকানি দিয়ে দেন।তার ভূয়া মৃত্যুতে সবাই যখন ব্যাস্ত তার সম্পদ কব্জার করার তখন মায়ের মন থাকে একটু খানি ভালবাসা পাবার তৃঞ্চায় শুষ্ক মরুভূমি।সেই যাত্রায় মায়ের মৃত্যু না হলেও এ যাত্রায় সে আর বেচে নেই।সেই একাকিত্ত্ব জীবনে আরো প্রায় বছর খানেক বেচেছিল কিন্তু পাননি কারো আদর যত্ন ছেলেদের বিশাল অট্রেলিকার পাশেই লোকে মন্দ বলবে ভেবে একটি ছোট টিনের ঘরেই শেষ নিঃষাস ত্যাগ করেছিলেন বৃদ্ধ সংগ্রামী মা।মৃত্যুর সময় তার পাশে কেউ ছিলনা ছেলে,ছেলের বউ নাতি নাতনী কেউ ছিল না মৃ্ত্যুর মুহুর্তে মায়ের মুখে জল দিবে বলে। তবে হ্যা ছিল একজন, না কোন মানুষ নয় ছিল কুকুর নামের মায়ের পালিত প্রভু ভক্ত একটি বোবা জন্তু।মায়ের মৃত্যুর পর পর অথ্যাৎ ফজরের আজাঁনের পর হতেই কুুকুরটি এক বার মায়ের ঘরের ভিতর ঢুকে আবার বাহিরে এসে অট্রেলিকার উপরের দিকে চেয়ে ঘেউ ঘেউ করতে থাকে।এ ভাবে প্রভু ভক্ত কুকুরটি প্রায় আধ ঘন্টা যাবৎ ঘেউ ঘেউ করছে তাতেও কারো কোন সাড়া শব্দ নেই,অবহেলিত মায়ের ছোট ছেলের ঘরের নাতিন বিল্ডিংয়ের উপর থেকে কুকুরটি ঘেউ ঘেউ শব্দ পেয়ে মাকে বলল মা তেমন কোন গুরুত্ত্ব দেননি।এর পর সকালে দুধ দিতে আসা দুধওয়ালী ছেলেদের দুধ দিতে এসে কুকুরটির অস্বাভাবিক আচরণ তার সন্দেহ হলো সে মায়ের ঘরে ঢুকে মাকে কয়েক বার ডাক দিয়েও সাড়া না পেয়ে ছেলের বউদের বলেন।ছেলের বউয়েরা মায়ের কাছে এসে শিরা ধমনী পরীক্ষা করে দেখেন এবার মা সত্যিই পর পাড়ে চলে গেছেন।

স্বরণ করো প্রতি মুহুর্তে পৃথিবীর চির সত্য কথা "মৃত্যু " তোমার অবশ্যাম্ভী"

ব্যাতিক্রম মা ২য় পর্ব

0 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ