বোধ

জিসান শা ইকরাম ৯ আগস্ট ২০১৬, মঙ্গলবার, ১২:৫৭:২৫পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৪০ মন্তব্য

২০১৪ তে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন যাবার পরদিন হেঁটে হেঁটে নগরের বেশ কিছু এলাকা দেখি আমি। ক্লান্তি অবসানে কিছুটা বিশ্রামের জন্য সবুজ লনের একটি বেঞ্চিতে বসে আছি। অনেক পাখি এলো আমার চারপাশে। পায়ের পাতার উপরে দাঁড়াল, দু একটা প্রায় কোল ঘেঁসে উড়েও বেড়াতে লাগল। আশেপাশের বেঞ্চিতে বসা/দাঁড়ান মানুষ জন পাখিকে খাবার দিচ্ছে, হাতে খাবার মেলে ধরছে, পাখি হাতে বসে খাচ্ছে। বুঝলাম আমার কাছে আসা পাখিরা খাবারের আসায় ঘুর ঘুর করছে। কিন্তু পূর্বে না জানার কারণে, কোন খাবার আমি নেইনি, বলে পাখিদের খাবার দিতে পারিনি।
IMG_8377
হঠাৎ মনে হল, আরে এই পাখিরা মানুষকে ভয় পায়না কেন? এরা এত কাছে, এমনকি হাতের উপর বসে খাবার খাচ্ছে, কোন ভয় ডর ব্যতিরেকেই। জানলাম যে, এখানে পাখি কেউ ধরে না, পাখি কেউ মারে না। মানুষের কাছে ধরা পরা এবং মরে যাবার কোন বোধই এদের নেই, এমন হতে পারে, এই ভাবনা পাখিদের মাঝেই নেই বলে এরা মানুষকে ভয় পায়না।

মেলবোর্নের একটি স্থান
মেলবোর্নের একটি স্থান

মেলবোর্ন বা সিডনিতে প্রচুর মানুষ হেঁটে , ট্রেন, গাড়িতে চলেন। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে প্রচুর মানুষের জটলা হয়। সিডনির অপেরা হাউজ দেখার জন্য সন্ধ্যার পরে এত বেশি ভিড় হয় যে গায়ে গায়ে মানুষ দাঁড়ান থাকে। মেলবোর্ন এর পরিচিত বাঙ্গালী এবং হোটেলের রিসিপশনিষ্ট মেয়েদের কাছে জিজ্ঞেস করেছি যে এই যে বিভিন্ন ফেস্টিভেল বা সাধারণ সময়ে মাঝে মাঝে এত ভিড়ের সুযোগে, বখাটে ছেলেরা মেয়েদের গায়ে হাত দেয় না? বাঙ্গালীরা বলেছেন, প্রশ্নই ওঠেনা। আর অস্ট্রেলীয় হোটেলের রিসিপশনিষ্ট মেয়ে দুজন প্রশ্নের অর্থই বুঝতে পারেনি, মানে গায় কেন হাত দিবে?

ছবি আর দেবো না, এটি ছবি ব্লগ নয়।

বিভিন্ন সময়ে আমি কানাডা, থাইল্যান্ড, চীন, উত্তর কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিন কোরিয়া ভ্রমণ করেছি। থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনের নারীরা সর্টস এবং টি সার্ট পরে চলাফেরা করে বেশি। পথে প্রচুর ভির থাকে। থাইল্যান্ড, চীন, দক্ষিন কোরিয়া, মালয়েশিয়ার ফুটপাথের মার্কেটগুলোতে ভিড় আমাদের দেশের তুলনায় অনেক বেশি। ট্রাম এবং ট্রেনে বসার সিটের চেয়ে দাঁড়ান যাত্রী  বেশি। উপরে ঝুলান হ্যান্ডেল ধরে যাত্রীরা যাতায়াত করেন। বিভিন্ন জনের সাথে আলাপ করে জেনেছি, এসব দেশে ভিড়ের মধ্যে নারীদের শরীরে হাত দেয়ার কোন ঘটনা নেই। সবচেয়ে বেশি ভ্রমন করেছি থাইল্যান্ডে, যেখানে নারীরা আমাদের দেশের মানুষদের ভাষায় ‘ রান বের করে হাঁটে ‘। আমি মাঝে মাঝে স্বল্প দূরত্বে মটর বাইকে যেতাম। জ্যাম এড়িয়ে অল্প সময়ে অল্প খরচে পৌছে যেতাম। শেষ বার যখন গেলাম, আমার হোটেলের সামনেই ছিল ভাড়ায় মটর বাইকের স্ট্যান্ড। দেখতাম মেয়েরা অনেক রাতেও ভাড়ার মটর বাইকে উঠে চলে যেতো। ছোট ভাই সম ব্যাংককের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে জিজ্ঞেস করে জেনেছি, ভিড়ের মধ্যে নারীদের বিভিন্ন স্থানে হাত দেয়ার কোন ঘটনা এখানে ঘটেনি কখনো । রাতে মেয়েরা ভাড়ার মটর বাইকে চলাফেরা করে নির্বিঘ্নেই।
কানাডার টরেন্টোতে দেখেছি গভীর রাতে নারীরা একা একাই চলাফেরা করেন। আমি যে বাসায় ছিলাম, সে বাসারই এক মেয়ে রাত ৪ টায় ট্রেন ধরার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে যেতো একা একা, দুই কিলোমিটারের বেশি সে একাই হেঁটে যেতো ট্রেন ষ্টেশনে।

সর্বশেষ গেলাম দক্ষিন কোরিয়ার শিউল। কিম আবদুল্লাহ ভাইর কাছে জানলাম ওখানকার মেয়েদের নিরাপদ জীবন। একটি সম্বর্ধনা সভায় আলাপ হল ফিলিপাইনের এক সমাজ কর্মী, অভিনেত্রী এবং টিভি সেলিব্রেটির সাথে (এনার কথা লিখবো ভবিষ্যতের এক লেখায় )। খুবই আলাপি ওনাকে জিজ্ঞেস করলাম তাদের দেশে ভিড়ের সুযোগে ছেলেরা মেয়েদের গায়ে হাত দেয় কিনা। চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করলো, কেন দেবে? কিছুটা বুঝিয়ে বলার পরে তিনি বললেন ‘ জিসান এমন ঘটনা আমাদের দেশে ঘটেনি কখনো, তাই আমার চিন্তার মাঝে এটি ছিলনা বলে আমি তোমার প্রশ্ন বুঝতে পারিনি।’

আমাদের দেশে কেন এসব ঘটে? আমি নিজে গাউছিয়ার ভিড়ে দেখেছি এমন ঘটনা ঘটতে। অসহায় মেয়ে কোন ভাবে দৌড়ে চলে গিয়ে নিজের শরীর বাঁচায়। ভারতের কলকাতায় বাসের মধ্যে নারীরা শারীরিক লাঞ্চনার শিকার হন, পরিচিতজনদের কাছে শুনেছি।  আমাদের দেশের মেয়েরা তো রান দেখিয়ে চলেন না, টি-সার্ট বা প্রায় স্যান্ডো গেঞ্জীর মত জামা গায়ে দেননা। যে সমস্ত দেশের মেয়েরা এমন ভাবে চলাফেরা করেন তারা তো এমন পরিস্থিতির শিকার হয়না।
আর আমাদের দেশের মেয়েরা সালোয়ার কামিজ ওড়না পরিধান করেও রেহাই পাচ্ছে না  পুরুষের লোলুপ কামনার হাত থেকে। থাইল্যান্ড, চীন, উত্তর কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিন কোরিয়া, কানাডার পুরুষদের এমন মনোভাব সৃষ্ট হল কিভাবে? কিভাবে এবং কারা এদের এমন আচরণে অভ্যস্থ করেছে?
আর আমরা এত ধর্মীয় অনুশাসনের মাঝে থেকেও কেন এমন হলাম? আমাদের এই আচরন কিভাবে পাল্টাবে? কবে পাল্টাবে?

৫০৬জন ৫০৬জন
0 Shares

৪০টি মন্তব্য

  • অনিকেত নন্দিনী

    সমস্যা আমাদের মনে। বাইরের দেশে শর্টস আর স্যান্ডো গেঞ্জি পরা মেয়েদের দিকে কেউ ফিরেও তাকায়না আর এদেশে? বাতাসে ওড়না একটুখানি সরে গেলেই প্রলয়লীলা হয়ে যায়।

  • প্রহেলিকা

    শেষে এসে ছুঁড়ে দেয়া প্রশ্নগুলোর জবাব আপনার লেখার শিরোনাম ”বোধ” .যদিও একবিংশ শতাব্দীতে এসেও ওই বোধ অনেকের মাঝেই অনুপস্থিত আবার কারো কারো কাছে অকেজো। আমরা যারা আধুনিক আধুনিক বলে মুখ দিয়ে লালা ঝড়াই তারা আধুনিক হয়েছি বটে কিন্তু শিক্ষা, মনন বা দৃষ্টিভঙ্গীর দিকে নয়। দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।

  • আবু খায়ের আনিছ

    আমাদের দেশ নয় শুধু উপমহাদেশের মানুষগুলো এমন আচরণ এর কিছু কারণ আছে। ভৌগলিক অবস্থান, পরিবেশ, অর্থনীতি, রাজনীতি, এবং পরিবার।
    তবু একটা কথা বলতেই হয়, ওরাও মানুষ আর আমরাও অথচ কত পার্থক্য আমাদের মাঝে। উপরোক্ত কারণগুলো সংশোধন করে দিলেও আমাদের উন্নতি হবে না যতক্ষণ না আমাদের এই বোধ জেগে না উঠে।

    একটা ইংরেজী প্রবাদ আছে না, যার বাংলা অর্থ করলে হয়, নিজেকে মোটিভেটিভ করাই সবচেয়ে উত্তম মোটিভেশন। আমরা নিজেদের যতক্ষণ মোটিভেশন করে এগুলো থেকে দূরে সরাতে না পারব ততদিন আমাদের উন্নতি হবে না।

  • আবু খায়ের আনিছ

    আরেকটা কথা, ওরা পরিবেশ রক্ষ করার জন্য যে ব্যায় করে তার দ্বিগুন ব্যায় আমরা করি পরিবেশ এর ক্ষতির জন্য। অনেক প্রজেক্টে দেখা যায় পরিবেশ এর ক্ষতির কথা উল্লেখ থাকে কিন্তু বাস্তবায়ণ কতটুকু হয় তা আমাদের চোখের সামনেই। পাখি আমাদের দেখে পালাবে না তো কি করবে? মানুষ মানুষ খাওয়া শুরু করেছে, আর পাখি। এমন সুযোগ যদি হতো পাখি ধরার তাহলে মানুষ যুদ্ধ শুরু করে দিতো।

  • নীলাঞ্জনা নীলা

    একটা প্রবাদ আছে, “কয়লা ধুইলেও ময়লা যায়না।” এ কথাটা কেন বললাম ভাবছো? এখানে যেসব বাঙালী আছে, তারা গায়ে হাত দিতে পারেনা। তবে চোখ দিয়ে পারলে গিলে খায়। দেশে তো ঢেকে রেখেও মেয়েরা নিরাপদে জীবন কাটাতে পারেনা। আর এখানে এসব টাইপ মানুষেরা নিজের বৌ-মেয়েকে ঢেকে রেখে নিজে অন্য শরীরের দিকে ভালোই চেয়ে দেখে। তাও একদিক থেকে আমরা নিরাপদেই আছি। অন্তত গায়ে হাত তো দেয়না।

    এখানে পাখীদের ছবি তুলতে দৌঁড়াতে হয়না। মানুষের চেয়েও অনেক নিরাপদ এই পাখীরা। শুধু কি পাখী? পথে কাঠবেড়ালি থাকলে যতো স্পিডেই থাকুক না গাড়ী, চেষ্টা করে বাঁচানোর।

    আমাদের বোধ কোনোদিনই হবে না। ধর্ম নিয়ে এতো বাড়াবাড়ি, নারী-পুরুষে এতো বৈষম্য, তাতে এ দেশের মতো নিরাপত্তা আশা কি করে করবে আমাদের দেশের নারীরা?

  • মিষ্টি জিন

    সিংগাপুরে অফিস টাইমে বাসে বা মেট্রতে খুব ভীড হয় অথচ কখনই কোন ছেলেরা গায়ে হাত দেয়া তো দুরের কথা ,ভুলে যদি একটু ছোয়া লাগে সরি সরি বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলে।
    গভীর রাতে বোন মেঁয়েদের নিয়ে শপিং করে অন্ধকার রাস্তা দিয়ে হেটে হেটে বাসায় এসেছি কখন ই ইনসিকিউরিটি ঁফিল করিনি।
    ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড মুসলিম দেশ হলেও মেয়েদের কাপড় চোপর চলা ফেরা থাইলেন্ডিদের মত। কোন দিন শুনি নাই কোন বাসে বা ট্রেনে ছেলেরা ইচ্ছা কৃত মেয়েদের গায়ে হাত দিয়েছে।
    আসল সমস্যা হচ্ছে শিক্ষিত মানুষিকতা এবং সঠিক আইন প্রয়োগের অভাব।বই পডে আমরা পাশ করছি কিন্তু মানুষিক ভাবে শিক্ষিত হচ্ছি না।
    খুব ভাল একটা পোষ্ট
    ধন্যবাদ ভাইয়া।

    • জিসান শা ইকরাম

      আপনিও অনেক দেশ দেখেছেন,
      আমি গিয়েছি ভ্রমনে স্বল্প সময়ের জন্য,
      আপনি দীর্ঘ দিন অবস্থান করেছেন এক একটি দেশে,
      আপনি আরো ভাল ভাবে দেখেছেন ওখানকার নারীর প্রতি পুরুষের আচরন,
      আপনিই সবচেয়ে ভাল বলতে পারবেন এ বিষয়ে।

      ‘ শিক্ষিত মানুষিকতা এবং সঠিক আইন প্রয়োগের অভাব।বই পডে আমরা পাশ করছি কিন্তু মানুষিক ভাবে শিক্ষিত হচ্ছি না।’ — একমত আপনার সাথে।

  • মনির হোসেন মমি(মা মাটি দেশ)

    আপনিতো দেখছি পুরো পৃথিবী ঘুড়ে ফেলেছেন । সিঙ্গাপুর যখন থেকেছি তখন সেরাঙ্গনে একটি স্থানে ঝাকে ঝাকে কবুতর বসত কেউ খাবার দিলে তা লুফে নিত মানুষের চলাচলে ভয় পেত না ঐযে বললেন ওদের মেরে ফেলার ভয় নেই হয়তো তাই।স্ভবতঃ আমাদের এই উপমহাদেশ ছাড়া ভিড়ে পৃথিবীর আর কোথায় এমন আচরণ করেন বলে মনে হয় না যদি কখনো স্পর্শ হয় তখন বিনয়ের সাথে উভয় সরি বলেন। -{@

  • অপার্থিব

    আসলে সমাজে যদি নারী পুরুষের ইন্টার একশন সুস্থ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় না ঘটে তাহলে এই ধরনের ঘটনা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব। আমাদের সমাজে সামাজিক , রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক দিক দিয়ে নারীর অবস্থান অনেক নিচে। অধিকাংশ নারীই ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থাকে , বাইরের দুনিয়ার সাথে তাদের খুব একটা যোগাযোগ ঘটে না, ফলে অধিকাংশ পুরুষের বাইরের নারীর সঙ্গে কোন সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে উঠে না। শ্রদ্ধার সম্পর্ক না থাকায় তার কাছে নারী হয় শুধু সেক্স অবজেক্ট। পাশাপাশি আছে যৌন শিক্ষার অভাব তথা অশিক্ষা , কুশিক্ষা ।

  • আজিম

    আমাদের দেশের প্রচুর লোকসংখ্যা এবং এখানে মানুষের আয়-রোজগারের কোনো নিশ্চয়তা না থাকাটা একটা কারন হতে পারে। এজন্য সম্ভবত: পারিবারিক মূল্যবোধও গড়ে উঠছেনা, মানে পারিবারিক গন্ডী থেকেও যুবকেরা এবং এসমস্ত অসভ্যতা যারা করে, তারা শিক্ষা পায়না।
    আমাদের পরিবারগুলোতে দেখা যায় ঝগড়া-কলহ লেগেই আছে অহরহ, যার প্রধান কারনই হচ্ছে আমাদের আয়-রোজগারের অনিশ্চয়তা। কোনো কারনই অবশ্য এই জঘন্যতাকে যৌক্তিকতা দিতে পারেনা, দেওয়ার কোনো সুযোগও নেই। তবুও ঐসমস্ত দেশের মানুষের সাথে আমাদের পার্থক্যটা হতে পারে আমাদের এখানকার অতিমাত্রার ঘণবসতি আর আয়-রোজগারের অনিশ্চয়তার কারনে।
    ইতিমধ্যেই অনেক দেশ ঘুরে ফেলা আর সুন্দর এই পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।

  • মৌনতা রিতু

    আমি এই বিষয়টা নিয়ে নিজের উপলব্দিতে একান্ত আমকর যে ডায়রি তাতে লিখেছিলাম।
    সামান্য বলছি, এটা অবশ্য একান্ত আমার অনুভূতি তাই প্লিজ কেউ অন্যভাবে নিবেন না।
    এটা লিখেছিলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড়ের মধ্যে মেয়েদের লাঞ্ছনার ঘটনা ও ভারতে পর পর কিছু ঘটনা নিয়ে।
    আমি আবারও বলছি কেউ ভুল বুঝবেন না।
    আসলে ভারত বর্ষ হলো জারজের দেশ। এখানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপমহাদেশের শাষকরা এসে অসভ্য ভাবে অনেক কু সন্তান জন্ম দিয়ে গেছে। তারা যে বীজ বুনে গেছে তা ছিল হিংস্রতায় ভরা। নারীদের তারা শুধুমাত্র ভোগ্য পন্যই মনে করেছে। ভালোবেসে শ্রদ্ধায় তারা দৈহিক মিলনে যায় নি। ভারততে একটা প্রদেশে অর্থাৎ কেরালায় এখনো এই প্রথা আছে। যদিও আইন করে সরকার তা বন্ধ করেছে তবুও চলে আসছে এখনো। এই প্রথা অনুযায়ী, সৌদি থেকে আগে ওখানকার বণিকরা কেরালা প্রদেশে আসত মশলার জন্য। ওরা এই ব্যবসা বানিজ্যের জন্য দিনের পর দিন থাকত। তো ওরক ধর্মের দোহাই দিয়ে এবং গরীব মানুষের গরীবির সুযোগ নিয়ে টাকার বিনিময়ে একটা চুক্তি বিয়ে করত। পরে যখন এই বনিকরা ফিরে যেতো ঐ মেয়েকে তালাক দিয়ে যেতো। যাই হোক, জন্মেরও কিন্তু একটা ইচ্ছে অনিচ্ছে আছে। আছে জিনগত সমস্যা। বীজ যা বুনবে তাই তো ফলবে! আমরা ইতিহাস ঘাটলেই দেখতে পাই এই মহাদেশের রাজা, বাদশারা কিভাবে নারী ব্যবহার করেছে। সেই আর্য জাতি থেকে শুরু করে ইংরেজ পর্যন্ত। পাকিস্তানের বর্বরতা আমরা যুদ্ধেও দেখেছি। আমাদের এই মহা দেশের অধিকাংশ জন্মই হয় অনিচ্ছা ভাবে। কারণ এখানে নারী পুরুষের মিলনে নারীদের ইচ্ছে অনিচ্ছার কোনো দামই দেওয়া হয় না। নারী সারাদিন ঘরে বাইরে কাজে ব্যস্ত থেকে ক্লান্ত শরীরে কতোটকুই বা বিছানায় প্রানবন্ত!
    যে জন্ম ভালবেসে হয়, সেই জন্মে হিংস্রতা থাকে না।
    আমার একান্ত গোপন ডায়রির অল্প কিছু কথা। যা একমাত্র বড় আপা ও ভাবি জানে।
    মন্তব্যে ভুল হলে ক্ষমা প্রার্থী।

  • মৌনতা রিতু

    আমার পাখি ও কবুতর আয় আয় করে ডাকলেই কাছে চলে আসে। আসলে ভালবাসার অনেক শক্তি।
    প্রানি ও পাখিরা ও বোঝে কিন্তু মানুষই বোঝে না।
    ভ্রমনের এমন গল্প আরো শুনতে চাই।

  • ইলিয়াস মাসুদ

    সময় লাগবে তবে বিশ্বাস করি মনে প্রানে আমরাও/আমাদের দেশ টাও এমনি একদিন হবে…।
    খুব সুন্দর একটা পোষ্ট, এসব কথা, আনুভব গুলো আজ কত কাল যে মনের ভেতর নিয়ে ঘুরে বাড়ায়,আপনার লেখাটাতে সেসবের দারুণ প্রকাশ দেখে খুব ভাল লাগছে

  • শুন্য শুন্যালয়

    পাখির সাথে মিলিয়ে কতো সুন্দর করে বোধ তুলে ধরলেন। যেখানে নারীর গায়ে হাত তুললে, নারী লজ্জায় পালিয়ে বাঁচে, নারী রেপ হলে, তার চলাফেরার দোষ তুলে পোস্টারিং হয়, পুরুষের চোখ সংযত না করে, নারীকেই পর্দা দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়, সেখানে এর চাইতে ভালো বোধ হতে সময় লাগবে যুগ যুগ। সবার উপরে বিচারব্যবস্থা, তাহলেই সব ঠিক থাকতো।
    হুম্ম হুম, আমার দেশের পাখিরা বেজায় সাহসী, হাতে, পায়ের উপরে নির্ভয়ে চলে আসে, এখানে ওদের মৃত্যুর ভয় নেই। আর বাইরে দেশে নারী শুধু শরীর নয়, সব স্থানে পুরুষ নারী একসাথে পাল্লা দিয়ে তাদের যোগ্য স্থান করে নিচ্ছে, নারীদের জন্য আলাদা বাস লাগেনা কিংবা আলাদা কোঠাও লাগেনা।
    সবার আগে আমাদের দেশ, কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশের নারীদের বোধকে উদয় করতে হবে, গায়ে হাত দিলে ঘুরে চটকানা দিয়ে রাস্তায় ফেলে জুতাইলে সব সাইজ হয়ে যাবে।
    এমন একটি লেখার জন্য আপনাকে সহস্র ধন্যবাদ জানাই ভাইয়া। বোধ এভাবেই হবে একদিন আমাদের সবার এই বিশ্বাস আছে।

    • জিসান শা ইকরাম

      সিটিজেনশিপ হয়ে গিয়েছে বুঝি?
      যেভাবে আমাদের দেশের পাখিরা বললেন 🙂
      আপনাদের দেশের পাখি আসলেউ সুন্দর আর ভাল। একটা পাখি এসে তো তো আমাকে তার লাল ঠোট, আলতা মাখা পা দেখিয়ে গেলো নেচে নেচে। পাখির ছবিটা দিয়েছিলাম সোনেলায়।

      কঠিন আইনের শাসন এই ব্যাধিকে দূর করতে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, প্রায় সমস্ত পুরুষকুলের গভীরে এই মানসিকতা আছে। কে কাকে শাসন করবে?
      বোধ জাগ্রত হোক- স্বপ্ন দেখি সুদিনের।

      • শুন্য শুন্যালয়

        ইয়ে তাইতো ভুলে বলে ফেলেছি, এত ধরতে হয়না। 🙂
        হুম, সেই পাখির ছবি মনে আছে এখনো, কি সুন্দর লাল ঠোঁট আর আলতা দেয়া পা ছিলো! বাই দ্যা ওয়ে, “প্রিয় পাখিটা-আমার প্রান পাখিটা” কোথায় গেলো? পাখি কী কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে? নাকি এখন সব কথা চুপিসারেই সেরে ফেলেন আপনারা? মিস করি কিন্তু লেখাটা।
        কথা সত্যি পুরুষকুলের গভীরেই এই মানসিকতা, তবে একজন নারী প্রধান সরকারের কাছ থেকে আমরা আরো ব্যক্তিত্ববান পদক্ষেপ আশা করি।
        স্বপ্ন দেখি তবু সুদিনের, হ্যাঁ। এটুকুই তো আশার।

  • মেহেরী তাজ

    দাদা ভালো জিনিস শিখতে অনেক সময় লাগে। খারাপ শিকতে সময় লাগে কম। আমাদের দেশে পরিবর্তন আসবে কি না জানি না তবে ওসব দেশে আমাদের মত হয়ে যেকোন মুহূর্তে……

  • ব্লগার সজীব

    ভাইয়া কঠিন আইনই পারে আমাদের দেশে এই বোধ জাগ্রত করতে। ‘ তেরে মেরে ডান্ডা করে দেবো ঠান্ডা’ এমন শাসক চাই দেশে। লেখাটি খুবই ভাল লেগেছে।

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ