বোকা

আমির ইশতিয়াক ১ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার, ০৭:০৯:৫০অপরাহ্ন গল্প ১২ মন্তব্য
boka
সকাল বেলা ঘুম ভাঙ্গলো একটি মেয়ের মোবাইল ফোনের আওয়াজে। বেশ কয়েকবার মোবাইলে রিং বাজল। বিরক্ত হয়ে মোবাইল রিসিভ করলাম।
– হ্যালো…
– হ্যালো…
– হ্যালো কে বলছিলেন?
– আই আপনার বউ।
– কি বললে, আপনি আমার বউ! আমার বউতো আমার সাথেই ঘুমাচ্ছে।
– আপনার বউ আপনার সাথেই ঘুমাচ্ছে! এসব কিতা বলছেন আপনি?
– সত্যিইতো বলছি।
– আপনি না ঐদিন আ্যারে বিয়া কইরা গেছেন।- এসব কি আবোল তাবুল বলছেন আপনি?
– আইতো কিছুই বুঝিনি। আপনার বউ কয়টা?
– কেন? আমার বউ একটা।
– ঐদিন আপনি আ্যার মাথায় হাত রেখে বললেন আপনার কোন বউ নেই। আইজকা বলছেন আপনি বউয়ের সাথে ঘুমাচ্ছেন! সত্যি কইরা বলেনতো আপনার বউ কয়টা?
– আচ্ছা আপনি কোথায় ফোন করেছেন বলেনতো?
– আমিতো আ্যার জামাইরে ফোন দিয়েছি।
– তাতো বুঝলাম। আপনার জামাইর নাম কি?
– মাইয়া মাইনসের জামাইর নাম মুখে নিলে পাপ হয়। তাই কওবার পারুম না।
– আমার মনে হয় আপনি রং নাম্বারে ফোন করেছেন।
– জিনা আমি ঠিক নাম্বারেই ফোন করেছি।
– তাহলে বলুনতো এটা কোন জায়গা?
– আপনি বলুন কোন জায়গা?
– আমি কেন বলব? আপনি কাকে, কোন জায়গায় ফোন দিয়েছেন তাতো আপনিই ভালো বলতে পারেন।
– আমিতো আ্যার জামাইরে ফোন দিয়েছি এইডা প্রথমই বললাম।
– যতসব ফালতু প্যাচাল। আমি আপনাকে চিনি না। ফোন রাখুন আমি এখন ঘুমাচ্ছি।
এই বলেই আমি ফোন লাইনটি কেটে দিলাম। কিছুক্ষণ পর সে আবার ফোন দিল।
– এই আপনি আ্যার ফোন কেটে দিলেন কেন?
– আপনি আবার ফোন করেছেন কেন? আমি না বললাম আপনাকে চিনি না।
– কিন্তু আইতো আপনাকে চিনি।
– চিনলে পরিচয় দিচ্ছেন না কেন?
– বললাম না আই আপনার বউ।
– আচ্ছা আপনার মতলবটা কি বলুনতো? কেন আমাকে বিরক্ত করছেন?
– কোন মতলব নেই।
– আচ্ছা আপনি আমার ফোন নাম্বার পেলেন কোথায়?
– আপনিতো আ্যারে নাম্বার দিয়ে বলছেন ফোন করার জন্য।
– কবে কখন?
– হায় আল্লাহ আপনার দেহি কিচ্ছু মনে থাহেনা। হেদিন একলগে পার্কে ঘুরলাম। তারপর বিয়ে করলাম। বাসর হলো। পরে চলে আসলেন। আর বললেন মাঝে মাঝে ফোন দিও। কয়দিন পর আননে আ্যার সাথে দেখা করবেন। আহন দেহি কিচ্ছুই মনে নাই।
– আপনার নাম কি?
– বুজছি। আপনি নতুন বউ পাইয়া আ্যার নামও ভুইলা গেছেন!
– নতুন বউ! আমিতো ছয় বছর আগেই বিয়ে করছি। বউতো কবেই পুরানো হয়ে গেছে।
– হইছে আর মিছা কতা কইতে হবো নে। আননে যে আমারে ভুইলা গেছেন আজকা ফোন না দিলে বুজবার পারতাম না।
– আপনি আর ফোন দিয়ে আমাকে বিরক্ত করবেন না। আমার কোন দ্বিতীয় বউ নেই।
– ঠিক আছে এখন রাখছি। তয় পরে আবার ফোন দিব নে।
এই বলে মেয়েটি ফোন নিজেই রেখে দিলো।
স্ত্রী রাবেয়া আমাদের ফোনালাপ সবই শুনছে। মেয়েটি ফোন রেখে দেওয়ার পরই রাবেয়া বললো, এত সকাল বেলা তোমাকে কে ফোন দিল?
– কি জানি কে? চিনি না। মনে হয় রং নাম্বার।
– রং নাম্বারে এতক্ষণ কথা হয়! তার কথা শুনেতো বুঝতে পারলাম ও তোমার বিয়ে করা বউ।
– ওতো তাই বলল।
– কি বললে! তুমি আরেকটা বিয়ে করছ?
– কি যা তা বল। আমি বিয়ে করতে যাব কেন?
– তা না হলে ঐ মেয়ে তোমাকে এত সকালে ফোন করে বলবে কেন?
– কি জানি। আমিতো ঐ মেয়েকে চিনি না। আর সে বললেই কি আমি তার স্বামী হয়ে যাব?
– সামথিং রং। তুমি ডুবে ডুবে জল খাচ্ছ আর আমি জানি না।
– তুমি কি আমাকে সন্দেহ কর?
– এত দিন সন্দেহ করিনি। কিন্তু এখন করছি।
– কেন সন্দেহ কর?
– বিয়ে না করলে কোন মেয়ে ফোন করে বলতে পারে না ‘আমি তোমার বউ।’
– ভালো মেয়েরা একথা বলে না। কিন্তু ফালতু মেয়েরা ঠিকই শয়তানি করে বলে। এই নিয়ে কেন শুধু শুধু সন্দেহ করছো?
– কোন স্ত্রীই একথা শুনার পর ঠিক থাকতে পারে না।
– তুমি কেন অযথা মাথা ঘামাচ্ছো। এটাতো একটা ফানও হতে পারে। হতে পারে কোন পরিচিত বান্ধবী আমার সাথে দুষ্টুমির ছলে এ কথা বলছে। আবার অপিরিচিত দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরাও ছেলেদেরকে এভাবে ব্ল্যাকমেইল করে প্রেমের ফাঁদে ফালানোর জন্য বলতে পারে। দেখ বাজে চিন্তা করে সংসারে অশান্তি ডেকে আনবে না। আমি তোমারই আছি তোমারই থাকব।
– ঠিক আছে ঐ মেয়ে যদি ফের আবার তোমাকে ফোন দেয় তাহলে কিন্তু খবর আছে।
– ঐ মেয়ে যদি আবার আমাকে ফোন দেয় তাহলে আমি কি করতে পারি। আমিতো তাকে বাঁধা দিয়ে রাখতে পারব না। পারব মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিতে।
– প্রয়োজনে তাই করবে।
এই বলেই আজকের মতো রাবেয়ার সাথে মিমাংসা হয়ে গেল। ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়ে যেত যদি না ঐ মেয়েটি রাত বারটার পর ফোন না দিত।
একটি মাত্র মেয়ে হঠাৎ করে আমার সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করছে। এবার রাগের সহিত ফোনটি রিসিভ করে বললাম, এই আপনাকে ফোন করতে নিষেধ করছি। তারপরও কেন আবার ফোন করলেন?
– আপনার নিষেধতো আর আই মানিনি। আর মানবই বা ক্যান? বউ তার জামাইর কাছে ফোন করবে এতে নিষেধাজ্ঞার কি আছে?
– আপনি কিন্তু সীমালঙ্গন করছেন। রাত বারটার পর ফোন দিয়ে আমাকে ডিস্টাব করছেন। ভদ্র পরিবারের কোন মেয়ে এত রাতে ফোন করে কোন বিবাহিত পুরুষকে ডিস্টাব করতে পারে না। অভদ্র কোথাকার। ফোন রাখুন।
– এই আপনি কিন্তু আ্যার পরিবারকে নিয়ে গালাগালি করছেন। তা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না। আপনিতো ভদ্র ছেলে তাহলে আ্যার সাথে অভদ্র ব্যবহার করছেন কেন?
– শুধু আপনার কারণে এখন অভদ্র হচ্ছি। আপনি আমার পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করছেন।
– আই আপনার পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করছি!
– হ্যাঁ শুধু আপনার কারনে সকালে আমার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয়েছে।
– আমি জানি আপনার কোন বউ নেই। আর আমিই আপনার একমাত্র বউ।
– আমার কিন্তু ধৈর্য্যরে বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে। আর ফের যদি আপনি আমাকে ডিস্টাব করেন তাহলে আপনাকে আমি পুলিশে দিব।
– পারবেন না।
আমার ফোনে চেচামেচিতে রাবেয়ার ঘুম ভেঙ্গে গেছে।
– এই কি হয়েছে তোমার। আবার কার সাথে কথা বলছো?
– আর বল না। ঐ ফালতু মেয়েটা আবার ফোন করে যা তা বলছে।
– ফোনটা দাওতো আমার কাছে দেখি কার মেয়ের এত বুকের পাঠা আমার স্বামীর সাথে পিরিতের আলাপ করে।
আমি ফোনটা লাউড স্পিকার দিয়ে রাবেয়ার হাতে দিলাম।
– হ্যালো… কে আপনি?
– আপু আমি তোমার ছোট বোন ঋতু।
– ঋতু তুই!
– হ্যাঁ আপু।
– তুই আমার স্বামীর সাথে এসব বলছিস কেন?
– আরে আপু। দুলাভাইয়ের সাথে একটু দুষ্টুমি করলাম। কণ্ঠ ও ভাষা পরিবর্তন করে কথা বলায় বেচারা আমাকে চিনতেই পারল না। দেখলাম আমার আদরের বোন জামাই আমার বোনকে কতটুকু ভালোবাসে। না আপু দুলাভাইকে পটানো সম্ভব নয়। আমি কয়েকবার ফোন দিলাম দুলাভাইতো একবারও আমাকে ফোন দিল না।
এই কথা শুনে দুবোন খিল খিল করে হাসতে লাগল।
আর আমি তাদের কথা শুনে বোকা বনে গেলাম।
৬২৭জন ৬৩২জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ